ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন অ্যাপস কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
নগরে অতিথি:
কুমিল্লার মানুষের আতিথেয়তায় মুগ্ধ জার্মান নাগরিক ভালদিস্লাভ
নিজস্ব প্রতিবেদক
Published : Thursday, 12 January, 2017 at 9:00 PM
কুমিল্লার মানুষের আতিথেয়তায় মুগ্ধ জার্মান নাগরিক ভালদিস্লাভকুমিল্লার মানুষের পরম আতিথেয়তায় মুগ্ধ জার্মানী নাগারিক ভালদিস্লাভ। কেবল তাই নয়, সাংবাদিকদের উষ্ণ ভালোবাসায় বিমোহিত হয়েছেন ওই জার্মান নাগরিক। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে পা রেখে কুমিল্লায় বেড়াতে এসে ঐতিহাসিক স্থান, নিদর্শন ও এখানকার মানুষের ভালোবাসা, সহযোগিতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত দৈনিক কুমিল্লার কাগজ কার্যালয়ে সম্পাদক আবুল কাশেম হৃদয়ের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতের এক পর্যায়ে কুমিল্লার সৌন্দর্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেন জার্মান নাগরিক ভালদিস্লাভ।
একজন বিদেশি নাগরিক হিসেবে প্রথমবার কুমিল্লায় এসে কেমন লাগছে এমন প্রশ্নের জবাবে ভালদিস্লাভ বলেন, ‘কুমিল্লা অনেক সুন্দর শহর। এখানকার মানুষের ভালোবাসা, আতিথেয়তা পেয়ে আমি মুগ্ধ। আমি যেখানে গিয়েছি সেখানেই আমাকে সম্মানিত করেছে। কুমিল্লার মানুষ অনেক উদার। তারা নিজেদের সময় নষ্ট করে আমাকে সময় দিয়েছে। এমনটি আমি আমার দেশেও কখনো দেখিনি। আমি জার্মানি হাউজ নামের যে বাড়িতে উঠেছি এটি গোমতী নদীর তীরে। এটি বড় নদী, কিন্তু শান্ত। আমার এখানকার বন্ধুরা আমাকে একটি অনেক বড় নদীর তীরে নিয়ে গেছে। এটির নামও গোমতী। সেখানের গ্রাম, প্রাকৃতিক দৃশ্য অনেক সুন্দর। অনেক সবজি ক্ষেত আমি দেখেছি। ক্ষেতে হলুদ ফুল দেখেছি। এটাকে সরিষা বলে জেনেছি। ওই ফুলে এক ধরণের গন্ধ অনুভূত হয়েছে। বেশ ভাল লেগেছে। এখানকার শিশু পার্ক খুব সুন্দর। অনেক মানুষ এখানে ছোট শিশু নিয়ে ঘুরছে। এটি আমাকে অনেক আনন্দ দিয়েছে। একটি বড় দিঘীও দেখেছি। আমার বন্ধুদের মধ্যে ছোট্ট মামু, সাদিক মামুন, রতন ভাই, কবির, তাজু মামু, আব্রু, লিটু আমাকে কুমিল্লার সব ঘুরিয়ে দেখিয়েছে।’
জার্মান নাগরিক ভালদিস্লাভ বলেন, ‘আমার বন্ধুরা আমাকে নিয়ে কুমিল্লা টাউনের একটি ছোট খাবার হোটেলে ভাত খেয়েছে। চমৎকার রান্না। ওখানে আমি শুটকি ভর্তা খেয়েছি। অনেক টেষ্টি। আমি টাউনহলে এসেছি। এখানে অনেক বড় অনুষ্ঠান হচ্ছিল। অনেক ভাল লেগেছে। একটি পত্রিকার (কালেরকণ্ঠ) অনুষ্ঠানে সাংবাদিকরা আমাকে অনেক সম্মান দেখিয়েছে। কুমিল্লার কাগজ পত্রিকায় আমার ছবি ছেপেছে। আমি বেশ আনন্দিত হয়েছি। পত্রিকাটি অনেক সুন্দর। কুমিল্লা প্রেসক্লাবে আমাকে অনেক সম্মান দিয়েছে সাংবাদিক বন্ধুরা। জামার্নি ফুটবল দলের কুমিল্লার সমর্থক মি. তাপস আমাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছে। আমি বলে বুঝাতে পারবো না যে, কুমিল্লার সাংবাদিকরা আমাকে কতোটা আপন করে নিয়েছে। সাংবাদিক বন্ধুরা আমাকে প্রেসক্লাবের কাছেই ক্যাথলিক গীর্জায় নিয়ে গেছে। সেখানে আমি প্রার্থনা করেছি।’ ভালদিস্লাভ বলেন, ‘আমার কুমিল্লার বন্ধুরা আমাকে কোটবাড়ি নিয়ে গেছে। সেখানের একজন কর্মকর্তা আমাকে শালবন বিহার ও জাদুঘরের ইতিহাস শুনিয়েছে। আমি জায়গাটি দেখে মুগ্ধ হয়ে গেছি। জামার্নির অন্যতম দর্শনীয় স্থান হলো কোলনডোম। এখানেও অনেক মানুষ আসে। কুমিল্লার শালবন বিহারেও অনেক মানুষ দেখেছি। ভালদিস্লাভ বলেন, ‘আমাকে কুমিল্লা ইউনিভার্সিটিতে নেয়া হয়েছে। আমি অনেক উঁচুতে হেঁটে উঠেছি। ষ্টুডেন্টরা আমার সাথে ছবি তুলেছে। অনেক সুন্দর ইউনিভার্সিটি। পাহাড়ের উঁচুতে এমন ইউনিভার্সিটি আমি আর দেখিনি। চারিদিকে ছোট-বড় পাহাড়, গাছপালা। অপূর্ব সবকিছু। আমি ইউনিভার্সিটির ভিসি স্যারের সাথে দেখা করেছি। তিনি খুব ভাল। আমাকে আপ্যায়িত করেছেন। আরও কয়েকজন কর্মকর্তা ছিলেন। সবাই আমাকে সম্মান দেখিয়েছেন। ওনারা অনেক উঁচু মাপের ব্যক্তি। আমি তেমন সম্মানি ব্যক্তি নই- কিন্তু আমার মতো একজন ট্যুরিষ্টকে ওনারা যে সম্মান দেখিয়েছেন তা আমার মনে থাকবে। আমি কৃতজ্ঞ।’     
কুমিল্লায় এয়ারপোর্ট থাকা খুব দরকার বলে উল্লেখ করে ভালদিস্লাভ বলেন, ‘কুমিল্লা অনেক সুন্দর জায়গা। অনেক মানুষ এখানে বেড়াতে আসে। ঢাকা থেকে এখানে উড়োজাহাজে আসতে পারলে ভাল হতো। এখানে এয়ারপোর্ট থাকা দরকার। আবার আমি কক্সবাজার গিয়েছি। এখান থেকে গাড়ীতে চড়ে। কক্সবাজার অনেক সুন্দর। সমুদ্র, বীচ, সবকিছু দারুণ লেগেছে। কিন্তু কক্সবাজারেও ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট নেই। আমি কুমিল্লায় রিকশা, অটো চড়েছি। বেশ মজা লেগেছে। কুমিল্লার বিভিন্ন জায়গার প্রায় তিন হাজারের বেশি ছবি আমি তুলেছি। আমি ৩ জানুয়ারি কুমিল্লা এসেছি। ১৫ জানুয়ারি আমার দেশ জার্মানি ফিরে যাবো। কিন্তু আবার আসবো। কুমিল্লা আমাকে অনেক ভালোবাসা দিয়েছে। আমাকে আপন করে নিয়েছে। প্রতিবছর ছুটির সময় আসলে অন্য দেশে নয়, বাংলাদেশে আসবো, কুমিল্লায় আসবো। কুমিল্লার মানুষের ভালোবাসা ঈশ্বরের দান। কুমিল্লার মানুষ আমার আপনজন হয়ে গেছে। আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ যে, আমার ভ্রমণ কুমিল্লাকে ঘিরে সার্থক হয়েছে।’




সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৬
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
কার্যালয়: কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশন, তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়,কুমিল্লা-৩৫০০, বাংলাদেশ
ফোন: +৮৮০ ৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২৪৪৩, +৮৮০ ১৭১৮০৮৯৩০২
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশান।
তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};