ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন অ্যাপস কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
907
প্রসঙ্গ: কুমিল্লার সংস্কৃতি অঙ্গন
মোতাহার হোসেন মাহবুব
Published : Monday, 7 August, 2017 at 1:05 AM
প্রসঙ্গ: কুমিল্লার সংস্কৃতি অঙ্গনসংস্কৃতিচর্চা মানুষের অবসর বিনোদনের উপকরণ- এমন কথা কেউ কেউ বলে থাকলেও প্রকৃত অর্থে সংস্কৃতিচর্চা মানব সমাজে অপরিহার্য অঙ্গ। সংস্কৃতি চর্চার মান যত উন্নত হবে মানুষের জীবনযাত্রা পদ্ধতির মানও তত উন্নত হবে। সাহিত্যচর্চা, সঙ্গীতচর্চা, নাট্যাভিনয়, চিত্রাঙ্কন, কারু ও চারু শিল্প, নিত্যদিনের ব্যবহার উপযোগী তৈজস ও আসবাবপত্র- এমন কী গৃহ নির্মাণ কৌশল পর্যন্ত সংস্কৃতি চর্চার অঙ্গীভূত। বলার অপেক্ষা রাখেনা সুষ্ঠু রাজনৈতিক জীবনাচারও সংস্কৃতির চর্চার সাথে ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত। সংস্কৃত চর্চা বিবর্জিত রাজনীতি কোনো সুস্থ ধারার রাজনীতি হতে পারে না। সংস্কৃতি চর্চার ইতিহাস ও ঐতিহ্যিক ধারা উপস্থাপন করা বিশাল কাজ। ওদিকে না গিয়ে কুমিল্লার সংস্কৃতি চর্চার বিষয়াদি তথা এর অতীত, বর্তমান পরিস্থিতি এবং উত্তরণের দিক নির্দেশনা নিবন্ধাকারে উপস্থাপন এ মুহূর্তের প্রয়াস।
শিক্ষা ও সংস্কৃতির পাদপীঠ কুমিল্লার সাংস্কৃতিক ইতিহাসও অত্যন্ত সমৃদ্ধ। কুমিল্লা বলতে একসময়ের বৃহত্তর কুমিল্লার কুমিল্লা, চাঁদপুর ও ব্রা‎হ্মণবাড়িয়া সাংস্কৃতিক ইতিহাস উপস্থাপন না করে শুধুমাত্র কুমিল্লা মহানগর এলাকার সাংস্কৃতিক ইতিহাস ও ঐতিহ্যের কিছু কথা উপস্থাপনই এ নিবন্ধের মূল উদ্দেশ্য।
ইতিহাসের আলোকে জানা যায়, তৎকালীন কুমিল্লা শহরের (বর্তমানে মহানগর) দক্ষিণ, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে এবং উত্তরাঞ্চলের দু’একটি মহল্লায় মুসলমান সমাজের বাস ছিল। বাকি সারা শহরে বাস করতো হিন্দুরা। সে-সময় হিন্দুদের মধ্যে সঙ্গীতচর্চা ছিল। বিশেষত মেয়েদের সঙ্গীত শিক্ষা দেয়া হতো। প্রায় প্রতিটি হিন্দু বাড়িতেই সন্ধ্যা হওয়ার পরপরই ভজন গাইতো মেয়েরা। সে-সময় মাত্র ২-৩ টি পরিবার ছাড়া মুসলমান পরিবারে সঙ্গীতচর্চা ছিল না। যেসব পরিবারে ছিল এ চর্চা ছিল সেসব পরিবারে কেবল পুরুষদের মধ্যে সঙ্গীতচর্চা ছিল। এসব পরিবারের মধ্যে ওস্তাদ মোহাম্মদ হোসেন খসরু পরিবারের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও সৈয়দ বাড়ি পরিবার, জানু মিয়ার বাড়ি পরিবার নাম উল্লেখযোগ্য। হিন্দু পরিবারগুলোর মধ্যে শৈল দেবী পরিবার ও সুরেন দাসের পরিবারের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। রাজ রাজেশ্বরী কালীবাড়ির সামনে বর্তমানে স্টুডিও চিত্ররেখায় ছিল রামচক্রবর্তীর সঙ্গীত শিক্ষাদানের প্রতিষ্ঠান ‘সুরলোক’। এখানে উপমহাদেশের বিশিষ্ট সঙ্গীতজ্ঞ শচীন দেব বর্মণও সঙ্গীত শিক্ষা দিতেন। দেশের গণসঙ্গীতের রাজা বলে স্বীকৃত সুখেন্দ চক্রবর্তী ছিলেন রামচক্রবর্তীর ছোটভাই। এ পরিবারটির গ্রামের বাড়ি চান্দিনা উপজেলা আড়িখলা হলেও সঙ্গীতাঙ্গনে তাদের দৃপ্তচারণ কুমিল্লা সঙ্গীতাঙ্গনকে সমৃদ্ধ করেছে। সুখেন্দ্র চক্রবর্তী কুমিল্লায় খোকাদা নামে সুপরিচিত ছিলেন।
সঙ্গীতশিল্পী কুলেন্দু দাস শৈল দেবীর কাছে গান শিখেছেন। শৈলদেবী ছিলেন কুলেন্দু দাসের বড় বোন। শৈলদেবী গান শিখেছেন সঙ্গীতজ্ঞ হরিহর রায়, সমরেন্দ্র পাল, ওস্তাদ মোহাম্মদ হোসেন খসরু, শ্যামচারণ দত্ত, সুরসাগর হিমাংশু দত্ত, সঙ্গীত আচার্য ভীষ্মদেব এবং কলকাতায় গিরিজ চক্রবর্তীর সহায়তায় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কাছ থেকে।
প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী এবং নজরুল গীতির গবেষক সুধীন দাস তার বড় ভাই সুরেন দাসের কাছেই গান শিখেছিলেন। ‘সুরমন্দির’ নামে সুধীন দাসের একটি সঙ্গীত শিক্ষাদান প্রতিষ্ঠান ছিল। সুরেন দাসের কন্যা অলকা দাশ বর্তমানে সেরা রাগ সঙ্গীতশিল্পী।
কুমিল্লার প্রখ্যাত সৈয়দ পরিবারের সৈয়দ আবদুল্লা চমৎকার রাগ সঙ্গীতশিল্পী ছিলেন। তাঁর মেঝো ছেলে ফজলে নিজামী বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী ছিলেন।
কুমিল্লার সঙ্গীতাঙ্গনে ওস্তাদ মোহাম্মদ হোসেন খসরু, শচীন দেব বর্মণ, সুরসাগর হিমাংশু দত্ত, রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী পরিমল দত্ত, মন্টু সিংহ, পরবর্তীতে দুলাল চৌধুরী, নাছির আহমেদ, মানস দাস, অভিজিৎ সাহা পিনাক, মিন্টু সিনহা, দীপা সিনহা, মিতা পাল, মানসী সাধুসহ অনেকের নাম বলা যাবে। নাট্যাঙ্গনে সুলতান মাহমুদ মজুমদার, দাগু বর্ধন, পুতুল বর্ধন, রমেশ রায় চৌধুরী, হাফিজুর রহমান গেদু, শরীফুল আবেদীন হারুন, মো: হাসিম আপ্পু, সুজিতগুহ চাঁনসহ অনেকের কথা বলা যাবে।
নৃত্যে মনিবর্ধন, জি এ মান্নান, সুবল দাশ গুপ্ত, তপন দাশ গুপ্তা, অমল দাশের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
প-িত রামমোহন চক্রবর্তী, সংস্কৃতিতাত্ত্বিক মোতাহের হোসেন চৌধুরীকে নিয়েও কুমিল্লাবাসীর গর্বের অন্ত নেই।
প্রকৃত অর্থে কুমিল্লার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের যে-ধারা তা কোন পর্যায়ে এসে ধারাবাহিকতা হারিয়েছে, তা খুঁজে বের করে উপস্থাপন সোজা কাজ নয়। শিক্ষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে কুমিল্লার ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধশালী। উনিশ শতকে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিতে উচ্চমার্গে যাদের অবস্থান রয়েছে তারা হলেন কবি অজয় ভট্টাচার্য, সঞ্জয় ভট্টাচার্য ও সুভাষপাল। সঙ্গীতে ওস্তাদ মোহাম্মদ হোসেন খসরু, শচীন দেব বর্মণ, সুরসাগর হিমাংশু দত্ত, শৈল দেবী। রবীন্দ্রসঙ্গীতে পরিমল দত্ত, মন্টু সিংহ, সুরেন দাশ, সুধীন দাশ ও তাঁর স্ত্রী নীলিমা দাশ। রাগসঙ্গীতে সুরেন দাশের কন্যা অলকা দাশ, পুত্র মানস দাশ, নজরুল সঙ্গীতশিল্পী অভিজিৎ সাহা পিনাক, গণসঙ্গীত শিল্পী মিন্টু সিনহা, আধুনিক গানের শিল্পী দীপা সিনহা, সঙ্গীত শিল্পী মিতা পাল, গুরুদাশ ভট্টচার্য, এ আর মজুমদার শফি, কাইয়ুম খানের অবদান অনস্বীকার্য।
নাট্যাঙ্গনে সুলতান মাহমুদ মজুমদার, দাগু বর্ধন, রমেশ রায় চৌধুরী, মকসুদ আলী মজুমদার, হরিদাশ সাহা, হাফিজুর রহমান গেদু, হাবিবুর রহমান রতন, কল্যাণী সাহা, চলচ্চিত্র পরিচালক ও অভিনেতা সুশীল মজুমদার, আরতি মজুমদার, নাটক ও নৃত্যে সত্যরঞ্জন মজুমদার, নৃত্যে জি এ মান্নান, সুবল দাশ গুপ্ত, তপন দাশ গুপ্তা, অমল দাশের অবদান অনস্বীকার্য।
ষাটের দশকে কুমিল্লা শহরে বর্তমান মহানগরে রবীন্দ্র জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে পাড়ায় পাড়ায় উদযাপন কমিটি গঠিত হয়েছিল। প্রায় বাড়িতে গানের চর্চা হতো। টাউন হল ও মহেশাঙ্গন ছিল অন্যতম অনুষ্ঠান স্কুল। তবে মহেশাঙ্গনেই বেশিরভাগ অনুষ্ঠান হতো। টাউন হলে ভাড়ার বিষয় ছিল। কিন্তু মহেশাঙ্গন উন্মুক্ত ছিল। সে-সময় পরিমল দত্ত ও মন্টু সিংহকে রবীন্দ্রসঙ্গীতের তালিম দিতে দেখা যায়। পরিমল দত্তের শিষ্য ছিলেন বাশরী দত্ত, সুনন্দা সেন, সুনন্দা সিনহা, শামছুদ্দিন আহমেদ ভুলু, নছির আহমেদ, জ্যো¯œা সাহা, আরতি সাহা প্রমুখ।
ষাট শতকে ৬২-র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬-র ছয় দফা, ৬৯-র গণঅভ্যূত্থান, ৭০-র নির্বাচন এবং ৭১- এ স্বাধীনতা লাভ- এসব ঘটনা ঘটেছে। বলা যায়, সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চার ক্ষেত্রে ষাট-সত্তর শতক কুমিল্লার জন্য স্বর্ণযুগ ছিল। সে-সময় ভিক্টোরিয়া কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন বদরুল হাসান। তিনি ছিলেন প্রখ্যাত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। তখন প্রতিটি সাংস্কৃতিক আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। তাঁরই সৃষ্টি গীতা পাল, স্বপ্না রায়, ড. আলী হোসেন চৌধুরী, অধ্যক্ষ মো: আবদুর রউফ, নাজমুল হাসান পাখী, আনোয়ারুল হক প্রমুখ।
তখন রবীন্দ্র-নজরুল এর অনুষ্ঠান করতে সরকারি অনুমতি দেয়া হতো না। ছাত্ররা রবীন্দ্রনাথ, সুকান্ত ও নজরুল আদ্যাক্ষর দিয়ে ‘রসুন’ নামে একটি সংগঠনের সৃষ্টি করে। এবং এ সংগঠনের ব্যানারে রবীন্দ্র-নজরুল-সুকান্ত এর জন্মবার্ষিকী ও বিভিন্ন অনুষ্ঠান করতে শুরু করে। এখন আলাদা আলাদাভাবে রবীন্দ্র, নজরুল ও সুকান্তে জন্মবার্ষিকী পালিত হয়। তখন জহিরুল হক দুলাল চমৎকার ছড়া লিখতেন। ইউসুফ বহুমুখী কারিগরি উচ্চ বিদ্যালয়ে অধ্যায়নের শেষ পর্যায়ে তিনি আমার শিক্ষকও ছিলেন। সত্তরের দশকে কবি ও লেখক তিতাশ চৌধুরী, কবি আলী হোসেন চৌধুরী, সাংবাদিক আবুল হাসানাত বাবুল, ছড়াকার নীতিশ সাহা, সংগঠক মনজুর হোসেন স্বপনসহ অনেকের সান্নিধ্য পেয়েছি। সে-সময় মনোরঞ্জন দাশের সম্পাদনায় ‘সন্দীপন’ নামের একটি উন্নতমানের সাহিত্য সংকলন বের হয়েছিল। তিনি তাঁর জমি বিক্রি করে এ সংকলনটি বের করেছিলেন। বিষয়টি ভাবতেই অবাক লাগে।
স্বাধীনতার আগে কুমিল্লার সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো সংস্কৃতি মনস্ক লোক দ্বারা পরিচালিত হতো। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ছিল না। কোনো ধণাঢ্য ব্যক্তি পরোক্ষে এসব সংগঠনগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা করতেন। সংগঠনের সাথে সংগঠনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। প্রতিযোগিতা ছিল, প্রতিহিংসা ছিল না। যন্ত্রশিল্পীরা সব সংগঠনে যেতেন। কিছু কিছু ব্যক্তি- ব্যক্তি উদ্যোগে সংস্কৃতিচর্চা করতেন। সে-সময় সুরেন দাশ নিজ উদ্যোগেই একটি সঙ্গীতচর্চার প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেন। কুলেন্দু দাশ ফরিদা বিদ্যায়তনে সঙ্গীতচর্চার জন্য একটি সংগঠন গড়ে তুলেন।
স্বাধীনতা-উত্তরকালে ধর্মসাগরপাড়ে কুমিল্লা মহিলা কলেজে কুলেন্দু দাশের নেতৃত্বে সঙ্গীতচর্চার জন্য একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেন। অভয় আশ্রমে পরিমল দত্ত রবীন্দ্রসঙ্গীত শেখাতেন। সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়েদের বাসায় বাসায় গিয়ে সঙ্গীত শিক্ষা দিতেন অসিত চৌধুরী, মন্টু সিংহ, দুলাল চৌধুরী প্রমুখ।
লেখালেখি করতেন অধ্যাপক মোবাশ্বের আলী, মোহাম্মদ আবদুল কুদ্দুস, আতিকুর রহমান প্রমুখ। আতিকুর রহমান পরে ঢাকায় চলে গেলেন।
ষাট দশকে যে যেই সৃজনশীল চর্চাই করুন না কেন, প্রত্যেকের মাঝেই আত্মপ্রত্যয়ী মনোভাব ছিল। স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার জন্য সংস্কৃতি কর্মীরা বেগবান ছিলেন। স্বাধীনতা- উত্তরকালে সংস্কৃতি কর্মীদের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের প্রভাব একপেশী ছিল আবার কোনো ক্ষেত্রে বৈচিত্রপূর্ণও ছিল। পঁচাত্তরে পট পরিবর্তনের পর ক্ষমতায় যারা এসেছেন তারা স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি ছিল। ফলে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বিভাজনের সৃষ্টি হয়। সুবিধাবাদীরা ক্ষমতাসীনদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করেছেন। স্বাধীনতা বিরোধীরা সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে থাকেন। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সংগঠনগুলো কোনঠাসা হয়ে যায়। ৭২-র সংবিধান বদলে ফেলা হয়। সামরিক শাসক ও স্বাধীনতা বিরোধী চক্র একসাথে মিলিত  হওয়ায় শুদ্ধ সংস্কৃতিচর্চার পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। বহুদলীয় রাজনীতির নামে মৌলবাদ প্রতিষ্ঠিত হতে থাকে। কুমিল্লা সংস্কৃতি অঙ্গনেও এর আঁচড় লাগে।
বর্তমানে কুমিল্লা সংস্কৃতি অঙ্গনে যে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে এর উত্তর খুজঁতে দেখা যায় প্রথমত বর্তমানে জেলা প্রশাসনের পৃষ্ঠপোষকতায় যেসব সংগঠনগুলো চলছে প্রকৃত অর্থে ওইসব সংগঠনের নেতাকর্মীদের অধিকাংশই সংস্কৃতিকর্মী নন। দ্বিতীয়ত সংস্কৃতি কর্মীদের লেবাসে যারা সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারাও ক্ষমতাসীনদের আজ্ঞাবাহী। এমন কি জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ব্যয় বহুল যে ক’টি গ্রন্থ বেরিয়েছি এসব গ্রন্থের মান নিয়েও প্রশ্ন ওঠেছে। ফলে শুদ্ধ সাংস্কৃতিক চর্চা করার সুযোগ কুমিল্লায় অনেকটা কমে গেছে। সংগঠনগুলোও কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। নতুবা কুমিল্লায় সাংস্কৃতিক জোট বলতে দুটি সংগঠন থাকবে কেন? সবারই পদবীর প্রতি লোভ রয়েছে, কেউ কর্মী হতে চায় না। পদবীতে অধিষ্ঠিত হয়েও অনেকে পদবীকে মর্যাদাকর স্থানে নিতে পারেন না।
একসময় সংস্কৃতিচর্চার নেপথ্যে ত্যাগী মনোভাবের অভিভাবক ছিলেন। এখনও কেউ কেউ আছেন। তবে তারা সক্রিয় নন। সংগঠনকে ক্ষমতার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করায় প্রকৃত সংস্কৃতিকর্মীরা ক্রমে অবহেলিত হয়ে পড়ছেন। সংস্কৃতি অঙ্গনে ক্রমে দখলদারিত্ব বেড়েছে বেনিয়া গোষ্ঠীর। যে যে অঙ্গনের তাদের যদি সে অঙ্গনের দায়িত্ব দেয়া হয় তাহলে সংস্কৃতিচর্চার ক্ষেত্রটি প্রসারিত হতে পারে। গতিশীল হতে পারে। কুমিল্লার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পূর্ব ঐতিহ্য ফিরে পাওয়ায় সম্ভাবনা সৃষ্টি হতে পারে। আত্মসমালোচনা  করার পথ রুদ্ধ করে কিংবা এড়িয়ে গিয়ে নেতৃত্বের মোহে পা বাড়ানো মানে আগামী ইতিহাসকে কলঙ্কিত করা। আমাদের সবার মাঝে সত্য ও সুন্দরের দীপ শিখা প্রোজ্জ্বল হোক- এ প্রত্যাশা করছি।




© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৬
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
কার্যালয়: কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশন, তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়,কুমিল্লা-৩৫০০, বাংলাদেশ
ফোন: +৮৮০ ৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২৪৪৩, +৮৮০ ১৭১৮০৮৯৩০২
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশান।
তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};