ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
388
ফণীর ছোবলে নিহত ৯ বিধ্বস্ত সহস্রাধিক ঘর
Published : Sunday, 5 May, 2019 at 12:00 AM, Update: 05.05.2019 2:22:27 AM
ফণীর ছোবলে নিহত ৯ বিধ্বস্ত সহস্রাধিক ঘরবিডি নিউজ:
অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশে দুর্বল হয়ে ঢোকার পরও বিভিন্ন জেলায় গাছ ভেঙে ও ঘরচাপা পড়ে অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। নোয়াখালীতে দুই শিশু, বরগুনায় দাদি ও নাতি, ভোলায় এক নারী, লক্ষ্মীপুরে এক বৃদ্ধ, পটুয়াখালীতে এক তরুণ ও সিরাজগঞ্জে নানা-নাতনি নিহত হয়েছেন। এছাড়া এসব জেলায় সহস্রাধিক ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে।
জানা গেছে, নোয়াখালীতে ঝড়ে নিহত হয়েছে দুই শিশু হয়েছে। এছাড়া তিগ্রস্ত হয়েছে পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি। তার মধ্যে চার শতাধিক ঘর পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে। সুবর্ণচর উপজেলা নিয়ন্ত্রণক থেকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইকবাল হাসান জানান, ভোরের দিকে ঘরচাপা পড়ে চরওয়াপদা ইউনিয়নের চর আমিনুল হক গ্রামের আবদুর রহমানের ছেলে মো. ইসমাইল (২) নিহত হয়। একই সময় চরজব্বর ইউনিয়নে অন্তত ৩০ জন আহত হন। তাদের নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এছাড়া চরওয়াপদা ও চরজব্বর ইউনিয়নে ঝড়ে গাছপালা ও শতাধিক কাঁচা ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ জানান, সকাল ৯টার দিকে গাছের ঢাল পড়ে কাঁকড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আবু হানিফের মেয়ে নাজমুন নাহার (১২) নিহত হয়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা হামিদুর রহমান বলেন, ঝড়ে চার শতাধিক ঘর পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে। আংশিক তিগ্রস্ত হয়েছে আড়াই শ ঘর।
ভোলায় ঘরচাপা পড়ে এক নারী নিহত হয়েছেন। আর শুধু সদর উপজেলায় দুই শতাধিক বাড়িঘর বিধস্ত হয়েছে।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামাল হোসেন জানান, শনিবার সকালে দণি দিঘলদি এলাকায় ঝড়ে ঘর ভেঙে পড়লে রানী বেগম (৪৫) নামে এই নারী চাপা পড়ে নিহত হন।
রানী দণি দিঘলদি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার সামসুল হকের স্ত্রী। বঙ্গোপসাগরের দ্বীপজেলা ভোলায় শুক্রবার রাত থেকে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টিতে মাটি নরম হওয়ায় ঝড়ো হাওয়ায় এসব ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ে। ভোলার জেলা প্রশাসক মাসুদ আলম সিদ্দিক বলেন, তারা সার্বণিক খোঁজখবর নিচ্ছেন। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের য়তির খবর পাননি।
লক্ষ্মীপুরে নিহত হয়েছেন এক বৃদ্ধ। আহত হয়েছে ১০ জন। বিধ্বস্ত হয়েছে তিন শতাধিক ঘরবাড়ি। রামগতি উপজেলা র্নিবাহী র্কমর্কতা (ইউএনও) রফিকুল হক বলেন, ঘরচাপায় চরআলগী ইউনিয়নের নেয়ামতপুর এলাকায় বেয়াইবাড়ি বেড়াতে এসে আনোয়ারা বেগম (৭৫) নামের এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন। ঝড়ে রায়পুর ও রামগতিসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে শতাধিক গাছ-পালা উপড়ে পড়েছে। মেঘনার পানির উচ্চতা চার-পাঁচ ফুট বেড়ে যাওয়ায় জেলার রামগতি, কমলনগর, সদর ও রায়পুর উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। শুক্রবার দুপুর থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
পটুয়াখালীতে এক তরুণ নিহত হয়েছেন। পটুয়াখালীর কুয়াকাটার মনসাতলী এলাকায় গাছের ডাল ভেঙে পড়ে আহত হন মোটরসাইকেল আরোহী হাবিবুর রহমান মুসুল্লি (২৫) নামে এই তরুণ। কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তানভীর রহমান বলেন, গাছের ডাল ভেঙে পড়ে আহত হলে হাবিবকে শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১১টার দিকে তিনি মারা যান।
হাবিব কুয়াকাটা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের ওরকা পল্লীর বাসিন্দা হারুন মুসুল্লির। এ দুর্ঘটনায় আরও দুই জন আহত হয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। কুয়াকাটা পৌরমেয়র আব্দুল বারেক মোল্লা বলেন, হাবিব মোটরসাইকেলে করে যাত্রী বহন করেন। যাত্রী নিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ বাতাসের তীব্রতায় একটি রেইনট্রির ডাল ভেঙে পড়লে তারা আহত হন।
চাঁদপুরে দেড় শতাধিক ঘর তিগ্রস্ত হয়েছে বলে বিভিন্ন এলাকার জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন। রাজরাজেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হযরত আলী বলেন, শিলারচর, খাসকান্দি, মান্দের বাজার গ্রামের অর্ধশতাধিক মানুষের ঘর তিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া বহু গাছ-পালা তিগ্রস্ত হয়েছে। এ সময় পাঁচজন আহত হলেও তাদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। হানারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস ছাত্তার রাঢ়ী জানান, তার ইউনিয়নে চার-পাঁচজন ঘর ভেঙে আহত হয়েছেন।
হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফেরদৌসী বেগম জানান, হাইমচর ইউনিয়নের প্রায় ১৫টি বসতঘর তিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ফসলি জমি তিগ্রস্ত হয়েছে। মতলব উত্তর উপজেলার এখলাছপুর ইউনিয়নের চরউম্মেদসহ কয়েকটি চরাঞ্চলে প্রায় ৪০টি বসতঘর ল-ভ- হয়ে গেছে জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন।
বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় ঘরচাপা পড়ে দাদি ও নাতি নিহত হয়েছে। শুক্রবার রাত ৩টার দিক ঘূর্ণিঝড় চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন চরদুয়ানী ইউনিয়নের দণি চরদুয়ানী বান্ধাকাঠি গ্রামের আব্দুল বারেক মোল্লার স্ত্রী নূরজাহান বেগম (৬০) ও তার নাতি জাহিদুল ইসলাম (৮)।
জাহিদুলের বাবা ইব্রাহিম জানান, তারা রাতে চারজন ঘরে ঘুমিয়েছিলেন। রাত ৩টার দিকে ঘূর্ণিঝড় ফণীর আঘাতে একটি গাছ ভেঙে তাদের ঘরের উপর পড়ে। “এ সময় ঘর চাপা পড়ে আমার মা ও ছেলে ঘটনাস্থলে নিহত হয়।” ইব্রাহিম ও তার স্ত্রী কোনোরকমে বের হয়ে আসেন বলে জানান। বরগুনার জেলা প্রশাসক কবির মাহমুদ বলেন, নিহতের পরিবারকে জেলা প্রশাসনের প থেকে ২০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হবে।

 







© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};