ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
184
কবি সুকান্তের যুগ মানস
Published : Monday, 13 May, 2019 at 12:00 AM
কবি সুকান্তের যুগ মানসএহ্তেশাম  হায়দার  চৌধুরী ||
বাংলা সাহিত্যে মার্ক্সবাদী ভাবধারার কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট গোপাল গঞ্জের কোটালী পাড়ায় জন্ম গ্রহণ করেন। মাত্র ২১ বয়ষে ১৯৪৭ সালের ১৩ মে দুরারোগ্য যক্ষা রোগে এ প্রতিভাবান কবি মারা যান। তার উল্ল্যেযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হচ্ছেÑ ছাড়পত্র , পূর্বাভাস,মিঠেকড়া অভিযান, ঘুম নেই, হরতাল ইত্যাদি। মার্ক্সবাদীয় দর্শন ও গণমানুষের প্রতি গভীর মমত্ববোধ তাঁর কাব্যের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়।
মহাযুদ্ধের হিংস্র নখরাঘাতে পৃথিবীর ক্ষত বিক্ষত মানচিত্রে এদেশের শ্যামল প্রেক্ষাপট  যখোন দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাসে মৃত্যু আর  ধ্বংসের তা-বতায় বিবর্ণ,  হতাশা আর নৈরাশ্যের চড়াই উৎরাই পেরিয়ে  দরিদ্রপীড়িত মানুষের মন যখোন রক্তাক্ত,স্বাধীনতার স্বপ্নবিভোর পরাধীন ভারতবাসীর প্রত্যাশিত সূর্যোদয় য়খোন দ্বারপ্রান্তে -  বিংশ শতাব্দির ঠিক এমনি এক ক্রান্তি লগ্নে বাংলা সাহিত্যের অঙ্গনে সুকান্তের আর্বিভাব। নজরুলের সার্থক উত্তরসূরী এ তরুন কবি অন্যায় অবিচার, শোষণ বঞ্চনার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ও সংগ্রামের আহবান করেন এবং বিপ্লব ও মুক্তির পক্ষে সংগ্রামে একাত্মতা ঘোষনা করেন অগ্রজের  মতোই। পরাধীন দেশের নির্যাতিত মানুষের প্রতি গভীর মমত্ববোধ ছিলো তাঁর বুকে আর  যুগচেতনায় শানিত অনাগত স্বপ্নের ঝিলিক ছিলো তাঁর চোখে । জাগরন প্রভাতেই কন্ঠে তুলে নেন শপথদৃপ্ত অঙ্গীকার । Ñ
চলে যাব- তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ
প্রাণপনে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল ,
এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য ক’রে যাব আমি-
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ অঙ্গীকার ।   (ছাড়পত্র)
যুগসন্ধিকালের  কবি সুকান্ত। কৈশোর থেকে যৌবনে উত্তীর্ন হবার আগেই তিনি দেখেছেন একদিকে পঞ্চাশের মন্বন্তর  আর মহাযুদ্ধের বিভীষিকা ,অন্যদিকে বিদেশী শাসনের অন্তিম প্রহরে সাম্রাজ্যবাদের কুটিল চক্রান্তে উৎক্ষিপ্ত হিন্দু-মুসলমানের ভ্রাতৃদ্রোহী রক্তপাতে কলুষিত ভারতবর্ষের রাজপথ। সমকালীন এ যুগযন্ত্রনা কবির কিশোর বুকে সৃষ্টি করেছে রক্তক্ষত বেদনায় এক জলাশয়। বেদনায় এ সমুদ্র মন্থন করে কবি সুকান্ত সৃষ্টি করেন এক অনুপম কাব্যের নির্যাস । “ ইতিমধ্যে হীরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়  ও আবু সাঈদ আইয়ুব সম্পাদিত ‘আধুনিক বাংলা কবিতার’ সংকলনটি হাতে এসেছিল  সুকান্তের । এটি তিনি গভীর আগ্রহের সঙ্গে পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে পড়েছিলেন । তা ছাড়া পাঠ নিয়েছিলেন সুধীন্দ্রনাথ দত্ত,বিষ্ণুদে,সমরসেন ও সুভাষ মুখোপাধ্যায় বিভিন্ন কবিতা থেকে । এদের কবিতায় মধ্যবিত্ত মানুষের গ্লানি ও অক্ষমতার প্রতি যে নিষ্ঠুর কষাঘাত বর্ষিত হয়েছিলো এবং নতুন এক মূল্যবোধকে স্বীকৃতি দেবার যে চেষ্টা চলছিলো তা অতি ঘনিষ্টভাবেই লক্ষ্য করেছিলেন তিনি । বিশেষ করে সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের কবিতায় যেন সুকান্ত দেখেছিলেন নিজের মনেরই ব্যক্তরুপ । সেদিন পদাতিকের কবির বিশ্বাসের সঙ্গে নিজের বিশ্বাসকে যুক্ত করে দিতে এগিয়ে এসছিলেন তিনি। এ যেন‘ লাল উল্কিতে পরস্পরকে চেনা।”  
 যুগচেতনার এ উত্তাপে উত্তপ্ত কবি সুকান্তের যাত্রা হলো শুরু। নতুনদিনের মানুষের জন্য নতুন সমাচারবাহী বিঘœসংকুল  পথের অভিযাত্রী সে । মার্ক্সবাদী চিন্তার একনিষ্ঠ সেবক ,কমিউনিস্ট পার্টির এক কনিষ্টতম সদস্য ,জীবনযুদ্ধের এক সৈনিক  সুকান্ত। মহাযুদ্ধের তা-বতা আর মৃত্যুতাড়িত পরিবেশ তাঁকে করেছে আতঙ্কিত। যদিও ভারতবর্ষে তখোন যুদ্ধ শুরু হয়নি । কিন্তু সুকান্তের কবি মানস মায়াবতী পৃথিবীর ভবিষ্যত কল্পনায় শংকিত। তাঁর  এ মানসিক অস্থিরতা  ধরা পড়ে বন্ধু অরুনাচল বসুকে লেখা চিঠি ও তাঁর বিভিন্ন কবিতায় Ñ
                                                      দুর পূর্বাকাশে   
বিহব্বল বিষাণ উঠে বেজে
মরনের শিরায় শিরায়
মুমূুর্ষ বিবর্ণ যত রক্তহীন প্রান
বিস্ফোরিত হিংস্র বেদনায়
অসংখ্য স্পন্দনে চলে মৃত্যু অভিযান
লৌহের দুয়ারে পড়ে কুটিল আঘাত ।” (পুর্বাভাস)
ফ্যাসিষ্টদের পৈচাশিক তা-বতায় সুকান্তের মন ছিলো অস্থির,চঞ্চল। দেশে দেশে ফ্যাসিবাদের উন্মত্ত রাহুর দাঁতের তলায় পিষ্ঠ হচ্ছে মানবতা । কিন্তু মানবতার প্রতি আস্থাশীল কবি হতাশার অন্ধকারে জ্বালেন আশার আলো Ñ
পণ কর, দৈত্যের অঙ্গে
হানবো বজ্রাঘাত ,  মিলবে সবাই এক সঙ্গে ;
সংগ্রাম শুরু করো মুক্তির
দিন নেই তর্ক ও যুক্তির
                          আজকে শপথ কর সকলে বাঁচাবো আমার দেশ. যাবেনা শত্রুর দখলে ;
তাই আজ ফেলে দিয়ে  তুলি ও লেখনী
                                               একতা বদ্ধ হও এখনি ।            (জাগবার দিন আজ )
জাপানিদের বোমা হামলায় চট্্রগ্রাম আক্রান্ত হলে সুকান্তের শিরায় উপশিরায় জ্বলে ওঠে সংগ্রামের লেলিহান । সূর্যসেন  প্রীতিলতার লালনভূমি চট্রগ্রামকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন Ñ
চট্রগ্রাম : বীর চট্রগ্রাম !
এখনও নিঃস্তব্দ তুমি
তাই আজো পাশবিকতার
দ:সহ মহড়া চলে
                              তাই আজোও শত্রুরা সাহসী।         (চট্রগ্রাম ঃ১৯৪৩)

জন্মভূমির বুকে শত্রুর দা¤িভক পদশব্দে বেদনার্ত সুকান্ত আহবান জানালেন দেশবাসীকে           
                                       
                               “দুভিক্ষপীড়িত দেশে অতর্কিতে শত্রুরা পদচিহ্ন রাখে
                এখনও শত্রুকে ক্ষমা ? শত্রু কি করেছে ক্ষমা বিধ্বস্ত বাংলাকে  ?
মহাযুদ্ধের প্রলয়ঙ্করী ধংশলীলা ও ফ্যাসিষ্টদের উলঙ্গ আস্পালনের বিরুদ্ধে সুকান্তের কবি কণ্ঠ ছিলো সোচ্চার ,ইস্পাতকঠিন শপথদৃপ্ত। পঞ্চাশের মন্বন্তরে এদেশের মানুষের জীবনে নেমে এসেছিলো মহা দুর্যোগের ঘনঘটা । ক্ষুধাতাড়িত ভুখা নাঙ্গা  মানুষ এসে ভীড় জমায় শহরে । ঁছুড়ে ফেলা খাদ্যের উচ্ছিষ্ট নিয়ে  লড়াই চলে কংকালসার মানুষ আর কুকুরের মধ্যে।  পথে প্রান্তরে পড়ে থাকে অসংখ্য মানুষের লাশ । মানবতার এ অপমৃত্যু স্বচক্ষে দেখলেন সুকান্ত । মনে মনে কষ্ট পেলেন । তাঁ সদ্যস্ফুট অন্তর হলো বিদীর্ণ। তাই সেদিন চিরাচরিত অলংকারের নীতি বর্জন করে লিখলেন ‘বিবৃতি’। অধ্যাপক জগদীশ ভট্রাচার্যের মতো অরাজনৈতিক সমালোচকের কাছে সুকান্তের এ ‘বিবৃতি’ কাব্য বলে অভিনন্দিত হলোÑ
    
আমি এক  দুভিক্ষের কবি
প্রত্যহ দু:স্বপ্ন দেখি, মৃত্যুর সুস্পষ্ট প্রতিচ্ছবি
আমার বসন্তকাটে খাদ্যের সারিতে প্রতীক্ষায়,
আমার বিনিদ্র রাতে সতর্ক সাইরেন ডেকে যায়,
আমার রোমাঞ্চ লাগে অযথা নিষ্ঠুর রক্তপাতে
আমার বিস্ময় জাগে নিষ্ঠুর শৃঙ্খল দুই হাতে ।(রবীন্দ্রনাথের প্রতি)

অথবা             আমার সোনার দেশে অবশেষে মম্বন্তর নামে
         জমে ভীড় ভ্রষ্টনীড় নগরে ও গ্রামে
দুর্ভিক্ষের জীবন্ত মিছিল ,
                     প্রত্যহ নিরন্ন প্রানে বয়ে আনে অনিবার্য মিল ।
রবীন্দ্রনাথের প্রতি ,বোধন, ফসলের ডাক ,এ নবান্নে ,-এ সব কবিতায় দুর্ভিক্ষপীড়িত সুকান্তের বেদনার্ত কবি মানস বিধৃত । এ দুর্ভিক্ষ কবিকে বিপর্যস্থ করেছিলো, কিন্তু আশাহীন করেনি । আবার সোনালি ফসলের সম্ভারে ফসলের মাঠ ভরে ওঠলে কবির মুখে শোনা যায় নবজীবনের গান
                                                      
                                                               “ কাস্তে দাও আমার হাতে
                সোনালী সমুদ্র সামনে, ঝাঁপ দেব তাতে!
..................................................................
                           আমার পুরনো কাস্তে পুড়ে গেছে ক্ষুধার আগুনে
               তাই দাও দীপ্ত কাস্তে চৈতন্যে প্রখর-
                    যে কস্তে ঝলসাবে নিত্য উগ্র দেশপ্রেমে ।
জাতির ইতিহাসে এমন কিছু পরম মুহুর্ত আসে যার সদ্ব্যবহার করতে পারলে সৃষ্টি হয় নতুন ইতিহাস , উন্মোচিত হয় নবদিগন্তের দ্বার । দুর্ভিক্ষের ক্ষুধার আগুনে পুড়ে সব মানুষ এক কাতারে এলে  সুকান্তের চোখে ভাসে নতুন স্বপ্ন Ñ
একদা দুভিক্ষ এলো
    ক্ষুধার ক্ষমাহীন তাড়নায়
                             পাশাপাশি ঘেঁষাঁেঘষি সবাই দাঁড়ালে এক লাইনে
             ইতর -ভদ্র ,হিন্দু আর মুসলমান                              
      একই বাতাসে নিলে নি:শ্বাস
       চাল, চিনি, কয়লা, কেরোসিন ?
               এ সব দু®প্রাপ্য জিনিষের জন্য চাই লাইন!
          কিন্তু বুঝলে না মুক্তিও দুর্লভ আর দুর্মুল্য
                   তারো জন্য চাই চল্লিশকোটির দীর্ঘ, অবিছিন্ন  এক লাইন ।(ঐতিহাসিক)

বিশ্বরাজনীতির সীমাহীন অস্থিরতার ঝড় সুকান্তের চিত্তকেও আলোড়িত করে । বিশ্বের একমাত্র সমাজতান্ত্রিক দেশ রাশিয়া সুকান্তের আদর্শ । লেলিন মার্কস এঙ্গেলস তাঁর স্বপ্নের পুরুষ । তাই তাঁর কণ্ঠে প্রত্যয়দৃপ্ত উচ্চারণ-...“বিপ্লব স্পন্দিত বুকে,মনে হয় আমিই লেলিন !”ইন্দোনেশিয় ,যুগোশ্লভিয়া ,রুশ চীনের বিপ্লব বিদ্রোহ কৃষক শ্রমিক তথা সর্বহার শ্রেণীর জয় সুকান্তের অনুপ্রেরণা ।এই অনুপ্রেরণার উত্তাপে ভারতের স্বাধীনতা সম্পর্কে কবি তাই প্রত্যয়ের ভাষা ব্যক্ত করেছেন দৃঢ়তার সাথে । ‘খবর’ কবিতায় তাঁর উচ্চ কণ্ঠের আহবান -
                                             পৃথিবী মুক্ত- জনগন চুড়ান্ত সংগ্রামে জয়ী
        তোমার ঘরে আছে অন্ধকার ,চোখে আজো স্বপ্ন
কিন্তু  জানি একদিন সে সকল আসবেই
   যেদিন এ খবর পাবে প্রত্যেকের চোখে মুখে
        সকালের আলোয় , ঘাসে ঘাসে পাতায় পাতায়।
                                   আজ তোমরা এখনো ঘুমে ।
         
        চুড়ান্ত সংগ্রামে অবতীর্ণ স্বদেশবাসীকে দুর্জয় প্রতিরোধের মন্ত্রে উজ্জীবিত করেছেনÑ
“ বন্ধু তোমার ছাড়ো উদ্বেগ, সুতীক্ষè  করো চিত্ত
বাংলার মাটি দুর্জয় ঘাঁটি বুঝে নিক দুবৃত্ত ।
             মূঢ় শত্রুকে হানো স্রোত রুখে তন্দ্রাকে করো ছিন্ন
একাগ্র দেশে শত্রুরা  এসে হয়ে যাক নিশ্চিহ্ন ।(উদ্যোগ)

আবার মুক্তো স্বদেশের নিশ্চয়তা বর্ণনা  করেছেন বলিষ্টতার সঙ্গে Ñ
বন্ধু আজকে বিদায় !
দেখছো  উঠলো যে হাওয়া ঝড়ো
                                       ঠকানা রইল,
এবার মুক্ত স্বদেশেই দেখা করো ।
 সুকান্তের কবিতায় জীবন আছে ,জ্বালা আছে ,আছে যন্ত্রনার আলেখ্য আর আছে সে সব কিছুকে সংগ্রামের অনুপ্রেরণায় ,জীবনযুদ্ধের এক সিদ্ধান্ত ঘোষনায় উপনীত করার প্রয়াস । তাই “রানার’ নতুন খবর আনার দায়িত্বে অঙ্গীকারাবদ্ধ ,যেখানে আলোর স্পর্শে দুঃখের কাল দুরীভূত হবার সহজ সত্য বিধৃত।
সুকান্তের অনুভবে বোম্বায়ের নৌসেনারা ধর্মঘট দিয়ে নয়া ইতিহাস লেখে, কবি ঠিকানা খুঁজে পান জালালাবাদের রক্তাক্ত স্মৃতিতে । জালিয়ানওয়ালা আর জালালাবাদের হত্যাকা- মানবতাকে পদদলিত করে সৃষ্টি করেছে এক কলংকজনক অধ্যায়
জালিয়ানওয়ালায় যে পথের শুরু
সে পথে আমাকে পাবে ,
জালালাবাদের পথ ধ’রে ভাই
ধর্মতলার পরে ।
দেখবে ঠিকানা লেখা প্রত্যেক ঘরে
ক্ষুব্দ এদেশে রক্ত অক্ষরে ।(ঠিকানা)

জীবনের এক সন্ধিক্ষনে মার্কসবাদী দর্শনের সংস্পর্শে এসেছিলেন সুকান্ত। উনিশ বিয়াল্লিশ সালের কথা। ছাত্র আন্দোলনের সংগে জড়িত অগ্রজের পথ ধরে অনেক যুক্তি-তর্ক বোঝাপড়ার শেষে সুকান্তের কিশোর মন জড়িযে গেলো কমনিস্ট রাজনীতির সঙ্গে। বাম রাজনীতির পথ বড় বিপদজ্জনক। সুকান্ত তাঁর অপরিনত মনের আবেগে সে বিপদসংকুল বন্ধুর পথকে জীবনে আষ্টেপৃষ্টে বেঁধে নিয়েছিলেন । দিন  রাত অমানুষিক পরিশ্রম আর অনেক ত্যাগ তিতিক্ষার বিনিময়ে
সুকান্ত একসময় অর্জন করেছিলেন ভারতে কমনিষ্ট পার্টির সদস্য পদ। যতদুর জানা যায , সে সময় তিনিই ছিলেন পার্টির তরুনতম সদস্য । তার বিভিন্ন কবিতায় মার্ক্সবাদের আগুনে পোড়া  কবি মানসের প্রতিফলন দেখা য়ায় । শ্রেনী বৈষম্য, শ্রেণী সংগ্রাম,বুর্জোয়া , সামান্তবাদী শক্তি, মজুতদার, দেশী  দালাল  ইত্যাদি শব্দগুলো কবির কবিতায় এসেছে কখনো সরাসরি ,কখনো বিভিন্ন প্রতীকের আড়ালে । তাছাড়া সর্বহারার কথা ,দিন মুজুরের কথা,ধর্মঘট,
মিছিল শ্লোগান   ইত্যাদি সমকালীন জীবন থেকে নেয়া প্রতিটি শব্দ অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে তুলে ধরেছেন তাঁর কব্যে।
মাটি ও মানুষের মমতারসে  সিক্ত কবি সুকান্ত সমসাময়িক জীবনের বৈরি পরিবেশে কখনো অস্থির ,কখনো আশাবাদী ,আবার কখনো প্রতিবাদী । অগ্নিগিরির বিস্ফোরণের মতো অদম্য আক্রোশ বুকে পুষে  কখনো দিয়েছেন সংগ্রামের ডাক Ñ
শোনরে মালিক,শোনরে মজুতদার!
               তোদের প্রাসাদে জমা হল কত মৃত মানুষের হাড়Ñ
হিসাব কি দিবি তার ?
প্রিয়াকে আমার কেড়েছিস তোরা
                        ভেঙ্গেছিস ঘরবাড়ি ,
সে কথা কি আমি জীবনে মরনে
                         কখনো  ভুলিতে পারি ?
আদিম হিংস্র মানবিকতার যদি আমি কেউ হই
স্বজন হারানো শ্মশানে তোদের
                                চিতা আমি তুলবই । (বোধন)
সুকান্ত আশাবাদী কবি । এতো বিপ্লব-বিদ্রোহ,এতো উত্থান-পতনের মাঝেও তিনি সুন্দরের প্রতিধ্বনি শুনতে পান । ‘গভীর রাত্রির বৃন্ত থেকে ছিঁড়ে আনা ফুটন্ত সকালের ’তিনি স্বপ্ন  দেখেন । বিপ্লবে পর  সূর্য কে তিনি প্রত্যাশা করেন । যে সূর্যের প্রচ- দাবদাহে জ্বলে পুড়ে নিঃশেষ হয়ে যাবে যতো অনিয়ম,অন্যায় । যতো পাপ-তাপ-বৈষম্য । কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে সে ফুটন্ত সকাল তিনি দেখে যেতে পারেননি।মুমূুর্ষ পৃথিবীর দুর্গন্ধময় আর্বজনা সরিয়ে নিষ্পাপ শিশুর বাসযোগ্য আবাস সৃষ্টি করে অঙ্গীকার পুরনের আগেই অকাল মৃত্যু এসে তাঁকে গ্রাস করে । দুরারোগ্য যক্ষায় যাদবপুর হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয় । বয়স তখোন মাত্র একুশ বছর । উনিশ ছাব্বিশ থেকে সাতচল্লিশ - অস্থির যুগের মানসপুত্র সুকান্ত জীবন ও জগতকে কঠিন বাস্তবের কস্টিপাথরে পরোখ করেছিলেন । এ জন্যই তিনি বলতে পেরেছেন-
                                                      হে মহাজীবন ,আর এ কাব্য নয়
এবার কঠিন কঠোর গদ্য আনো
পদ-লালিত্যে ঝংকার মুছে যাক
  গদ্যের কড়া হাতুড়িকে আজ হানো
     কবিতা তোমাায় দিলাম আজকে ছুটি,
ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়ঃ
                        পুর্ণিমা চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি। (হে মহা জীবন )

যে চাঁদ প্রেয়সীর মুখের উপমা,চিরন্তন রোমান্টিকতার প্রতীক,আদিরসের উদ্দীপন বিভাব- সে চাঁদ সুকান্তের দৃষ্টিতে ‘ঝলসানো রুটি’।যুগযন্ত্রনার শিল্পরুপ সুকান্তের কবিতায় যথাযথভাবে প্রতিভাত হয়েছে ্ কিন্তু যে প্রশ্ন বিদগ্ধ পাঠককে আজো নাড়া দেয়, তা হলো, এতো অল্প বয়সে কি করে সুকান্তের এতো গভীর অনুভূতির সৃষ্টি হয়েছিলো ? সত্যি অবাক করার মতো। বেঁচে থাকলে হয়তো যুগের এ বিস্ফোরন বাংলা সাহিত্যের ভা-ারকে নব নব সৃষ্টির সম্ভারে ভরে দিতেন। রবীন্দ্র-নজরুলের সার্থক  উত্তোরাধিকারের বিপ্লবী রুপান্তর  সুকান্ত, নব চেতনায় আলোকে বাংলাসাহিত্যকে অভিষিক্ত করতে চেয়েছিলেন । ‘রবীন্দ্রনাথ মূঢ়-ম্লান-মূক মুখে ভাষা দেয়ার আর্তি প্রকাশ করেছিলেন ,নজরুল উৎপীড়িতের ক্রোন্দলরোল অবসান ঘটানোর জন্য বিদ্রোহী হয়েছিলেন ,আর সুকান্ত প্রাণপণে পৃথিবীর জঞ্জাল সরানোর শপথ নিয়েছিলেন ।’
লেখক পরিচিতিঃ সাবেক অধ্যক্ষ ও কথাসাহিত্যিক





© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};