ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
79
ঐতিহ্যের কুমিল্লা
Published : Tuesday, 14 May, 2019 at 12:00 AM
ঐতিহ্যের কুমিল্লাআহসানুল কবীর ||
সংস্কৃতি একটি ব্যাপকতর শব্দ এর ব্যাপ্তি, পরিসর, বিশালতা মহাসমুদ্রের মতই অসীম। সাধারণ মতে আমরা যদি সংস্কৃতিকে সংজ্ঞায়িত করতে যাই তাহলে সংস্কৃতি হলো মানুষের জীবনধারা। এ জীবন ধারায় অন্তর্ভুক্ত হল মানুষের সমগ্র সৃষ্টি যেমন ভাষা, কলা, সাহিত্য, জ্ঞান-বিজ্ঞান, আইন, দর্শন, রাষ্ট্র, নৈতিকতা, ধর্ম, ঐতিহ্য, রীতিনীতি, মূল্যবোধ, প্রা ইত্যাদি। সমাজ হল মানবীয় সম্পর্কের কতগুলো ব্যবস্থার সমষ্টি। আর এসব সম্পর্ক নির্ধারই করে সংস্কৃতি। সমাজে মানুষ সংস্কৃতির মাধ্যমেই নিজেদের মাঝে ঐক্য ও সংহতি গড়ে তোলে যাতে করে এর সদস্যরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অর্জন করতে শেখে। আবার প্রয়োজনে কিংবা অভিলাষের প্রেরণায় পারস্পরিক ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ায় আপন মর্যাদা ও ভুমিকা দিয়ে সংস্কৃতির রূপায়ন ও পরিবর্তন ঘটায়।
ঐতিহ্য আর ইতিহাস পাশাপাশি হাত ধরে চলে। ইতিহাস ঐতিহ্যকে নির্মাণ করে। সঠিক ইতিহাস যদি জনগনের কাছে পৌছাঁনো না যায় তাহলে ঐতিহ্য তখন নিছক গালগল্পে পরিণত হতে বাধ্য। তাই ঐতিহ্যকে জানত হলে ইতিহাসের শুদ্ধচর্চা করা অতীব জরুরি। ইতিহাসের মৌল উপাদান হলো মানুষ ও তার চারপাশের ঘটনাপ্রবাহের দলিল দস্তাবেজ ইত্যাদি। কিন্তু এর বাইরেও একটি উপাদান আছে তা হচ্ছে ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সুপ্ত মনের বাসনা। এখানেই একই বিষয়ে দুজন লেখকের পার্থক্য হয়ে যায়। এখানে লেখকের দৃষ্টিভঙ্গি একটি বড় বিষয়। একজন মানুষ ইতিহাস ও ঐতিহ্য সৃষ্টি করবেন অন্যেরা তা লিখবেন এটাই স্বাভাবিক। আমাদের দেশে ইতিহাস চর্চার একটি বড় সমস্যা হচ্ছে নির্মোহ হয়ে উঠতে না পারা। যে ঘটনাগুলো আমাদের জীবদ্দশায় সংগঠিত হয়েছে আথবা আমাদের পুর্বপুরুষদের সময়ে ঘটেছে সে ঘটনার সাথে আমরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে জড়িয়ে আছি। ফলে সে ঘটনাগুলোকে নিয়ে যখন আমরা বলি বা লিখি স্বাভাবিক ভাবেই ঘৃণা বা ভালোবাসা দ্বারা তাড়িত হই। বঙ্কিম চন্দ্রের চিন্তা চেতনা, মতবাদ নিয়ে পাঠক সমাজে মতভেদ থাকতে পারে, তার সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি সর্বজনবিদিত। তবে তার মেধা নিয়ে বোধ করি কারো মধ্যেই কোনো দ্বিধা নেই। সেই বঙ্কিম বলেছেন “বাঙ্গালার ইতিহাস নাই, যাহা আছে তাহা ইতিহাস নয়, তাহা কতক উপন্যাস, কতক বাঙ্গালার বিদেশি পরপীড়কদের জীবনচরিত্র মাত্র। বাঙ্গালার ইতিহাস চাই, নহিলে বাঙ্গালার ভরসা নাই। কে লিখিবে? তুমি লিখিবে, আমি লিখিব আমরা সকলেই লিখিব। যে বাঙ্গালী তাহাকেই লিখিতে হইবে। মা যদি মরিয়া যায় মার গল্প করিতে কত আনন্দ ! আর এই আমাদিগের সর্বসাধারণের মা জন্মভূমি বাঙ্গালাদেশ, ইহার গল্প করিতে কি আমাদের আনন্দ নাই? আইস আমরা সকলে মিলিয়া বাংলার ইতিহাসের অনুসন্ধান করি। যাহার যতদূর সাধ্য, সে ততদূর করুক। ক্ষুদ্রকীট যোজনব্যাপি দ্বীপ নির্মাণ করে। একের কাজ নয় সকলে মিলিয়া করিতে হইবে।”
সেই চেষ্টার অংশ হিসেবেই আমি কুমিল্লার ঐতিহ্য নিয়ে লেখার চেষ্টা করি। সেগুলি আদৌ লেখা হয়ে উঠে কিনা কিংবা পাঠযোগ্য কিনা তার বিচারের ভার পাঠকের উপরেই ছেড়ে দিলাম।
আমি দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করি এখানে আমি সহ আমরা যারা উপস্থিত রয়েছি আমরা সকলেই কুমিল্লাবাসী হিসাবে গর্ব অনুভব করি। কুমিল্লা আমাদের গর্ব আর ভালবাসার স্থান। এ ভূমির উৎপত্তি আজ থেকে আনুমানিক তিন থেকে সাড়ে তিন কোটি বছর পূর্বে। কুমিল্লা জেলার প্রাচীনতম শিলাভূমি লালমাই পাহাড়ে মায়োসিন যুগের শিলার সন্ধান পাওয়া গেছে। কুমিল্লার জনপদের মধ্যে কুমিল্লা শহরকে আমরা নবীনতম হিসেবে ধরে নিতে পারি। যদিও সমতটের রাজধানী ছিল কুমিল্লা কিংবা দেব বংশের শাষণের কেন্দ্রবিন্দু ছিল কুমিল্লা। খড়গ বংশের রাজধানী ছিল কুমিল্লা। কিন্তু এর কোনটিই শহর কুমিল্লা নয় এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চল সমুহ। যাক সে কথা আমরা সবাই কুমিল্লা কে পথিকৃৎ বলি। কিন্তু কেন পথিকৃৎ সেটা বলার চেষ্টা করি না। কুমিল্লা পথিকৃৎ হচ্ছে বিদ্যার জন্য। আমরা সবাই জানি উপমহাদেশের প্রথম বিদ্যাপিঠ হচ্ছে বিহারের নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়। আজ থেকে দেড় হাজার বছর পূর্বে যেই বিদ্যাপিঠের কর্ণধার ছিলেন কুমিল্লারই কীর্তিমান পুরুষ পন্ডিত শীলভদ্র। তার কিছুকাল পরে রাজা ভবদেবের সময় নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে কোটবাড়ি এলাকায় এক বিশাল শিক্ষালয় গড়ে তোলা হয়। যার কিছু অংশ এখন দৃশ্যমান, কিছু অংশ অনাবিস্কৃত, কিছু অংশ সম্পদ লোভীদের লোভের কারণে ধ্বংস হয়ে গেছে। যদিও এর পূর্বেই আনুমানিক ৫০৭-৫০৮ সনের দিকে দেবীদ্বারের গুনাইঘর বা তার নিকটবর্তী স্থানে “আশ্রম বিহার” ও “রাজবিহার” নামে দুইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল। যার শিক্ষাগুরু ছিলেন যথাক্রমে আচার্য শান্তিদেব এবং আচার্য জিত সেন। এতো গেল প্রাচীন আমলের কথা। হাল আমলের কথা যদি আমরা বলি তাহলে কি দেখি? আধুনিক শিক্ষার প্রসারের লক্ষ্যে বৃটিশ সরকার ১৮৩৫ সনে রবার্ট মেকলের নেতৃত্বে একটি কমিশন গঠন করেন। এ কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল বাংলাদেশের প্রথম আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তারপরেই ১৮৩৭ সনে প্রতিষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী কুমিল্লা জিলা স্কুল। যদিও তার পূর্বেও কুমিল্লা শহরে আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব ছিলো। মরিস বুকানন তার ভ্রমণ কাহিনীতে লিখেছেন “১৭৭০ সনে তিনি যখন ঢাকা থেকে কুমিল্লার উপর দিয়ে চট্টগ্রাম গমন করেন তখন কুমিল্লা শহরের রাজগঞ্জ এলাকায় গিরিধারী স্কুল নামে একটি বিদ্যাপীঠের সন্ধান পান। গিরিধারী বিদ্যাপীঠ কবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো তা আজও উদঘাটিত হয়নি। বেগম রোকেয়ার জন্মের ৭ বছর পূর্বে ১৮৭৩ সনে নারী শিক্ষার জন্য নবাব ফয়জুন্নেসা কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হল ফয়জুন্নেসা বালিকা বিদ্যালয়। এই মানের আরেকটি বালিকা বিদ্যালয় তখন এই দেশে ছিল কিনা আমার জানা নেই। রায় বাহাদুর আনন্দচন্দ্র রায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ শুধু চট্টগ্রাম বিভাগে নয় বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপিঠ একথা সর্বজন স্বীকৃত। কুমিল্লা জিলা স্কুল, ফয়জুন্নেসা স্কুল, ভিক্টোরিয়া কলেজ এখনো সগৌরবে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে। তবে এটাও সত্য যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পর কুমিল্লায় ২য় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সকল সম্ভাবনা থাকা সত্বেও কুমিল্লার রাজনৈতিক নেতৃত্বের ব্যর্থতার কারণে সেটি চট্টগ্রামে চলে গেছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে কুমিল্লার একচেটিয়া অবস্থানও এখন আর নেই। কুমিল্লার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য মানে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। যার বেশিরভাগই এই ব্রাহ্মণবাড়ীয়া থেকে উৎসরিত। প্রগতির সাথে আধ্যাত্মিকতার এক অপুর্ব মেলবন্ধন মলয়া সঙ্গীত। এ ভূমির সন্তান মনোমোহন দত্ত, লবচন্দ্রপাল, ও ফকির আফতাব উদ্দিন এই ত্রয়ীর সৃষ্টি মলয়া সঙ্গীত আজ চর্চার অভাবে লুপ্ত হবার পথে। কুমিল্লাবাসী তথা ব্রাহ্মণবাড়ীয়াবাসী এটিকে বাঁচিয়ে রাখার কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে আমার জানা নেই। সুর স¤্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ বৃহত্তর কুমিল্লা কেন আমি বলব বিশ্ব সংস্কৃতির সম্পদ। আমরা রবি শংকরের কথা বলি অথচ যিনি না হলে রবি শংকর হতেন না সেই আলাউদ্দিন খাঁর নাম বলি না। আমরা সাধক বলতে পীর দরবেশ মুণি ঋষিদের বুঝে থাকি। ধর্ম বলতে আচরিক প্রাকেই ভেবে থাকি। অথচ সুরের মাঝেও যে ¯্রষ্টার সন্ধান পাওয়া যায় ওস্তাদ আয়েত আলী খাঁ কে জানলেই তা দিবালোকের মত উদ্ভাসিত হবে। কি তার সাধনা ! কি তার ত্যাগ ! আহ ভাবতেই অবাক লাগে। এই ব্রাহ্মণবাড়ীয়া মঈনপুরের সন্তান ওস্তাদ মোহাম্মদ হোসেন খসরু আজ এক বিস্মৃত নাম। কামরুদ্দিন আহমেদ এবং মোঃ ফয়েজুল্লাহর লেখায় পড়েছি শুধুমাত্র পান খাইয়ে তাকে দিয়ে সারা রাত গাওয়ানো যেত। তারা কোন সময় অর্থের চিন্তা করেননি। মানুষকে সমাজকে দেবার চিন্তা করেছেন। অথচ আজ এই ব্রাহ্মণবাড়ীয়াতে ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর স্মৃতিগুলো আক্রান্ত হচ্ছে বারবার। এসব কিসের আলামত। আমরা ভুলতে বসেছি ওস্তাদ রওশন আরা বেগমকে রবি শংকর যাকে অন্নপূর্না নামে ডাকতেন, ওস্তাদ আলী আকবর, ওস্তাদ বাহাদুর হোসেন খাঁন, ওস্তাদ খাদেম হোসেন খান, ওস্তাদ মীর কাশেম খান, ওস্তাদ আবেদ খান, ওস্তাদ কিরীট খানদের যে পরম্পরা তা মোবারক হোসেন খান আর শেখ সাদী খানের পরে এক জায়গায় থমকে আছে। রাজ দরবার থেকে হাটে, মাঠে ঘাটে যিনি কুমিল্লার ভাষাকে তুলে ধরেছেন তিনিই সুরের রাজকুমার শচীন দেববর্মন। তার সুরের ইন্দ্রজাল এখনো আমাদের মোহবিষ্ট করে। দুঃখজনক হলেও সত্য তার বাড়িটি দীর্ঘদিন মুরগীর খামার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। একজন হাসানুজ্জামান কল্লোল চেষ্টা করেছেন শচীন কর্তার স্মৃতি চিহ্নটিকে ধরে রাখতে। কিন্তু সুরসাগর হিমাংশু দত্তের কুমিল্লা শহরের ঝাউতলার বাড়িটি দখলদারদের কবলে পড়ে আজ মসজিদে রূপান্তরিত হয়েছে। দখলকৃত জায়গায় মসজিদ বানানো ইসলাম ধর্মে জায়েজ কিনা তা আপনারাই জানেন। সুরের মহান সাধক মির্জা হোসেন আলীর নাম এ প্রজন্ম জানেই না। সঙ্গীতের জগতে কুমিল্লার সমৃদ্ধ ধারাটি এখনো বহন করে চলেছেন গাজী মাজহারুল আনোয়ার এবং শেখ সাদী খান। যিনি “জয় বাংলা, বাংলার জয়” এর মত কালজয়ী সঙ্গীত রচনা করেছেন, বিবিসির শত বর্ষের শ্রেষ্ঠ বাংলা গান শ্রোতা জরীপে যার সর্বাধিক গান নির্বাচিত হয়েছে সেই গাজী মাজহারুল আনোয়ার রাজনৈতিক বিবেচনার কারণে নিজ শহরে আজ অপাংক্তেয়। কি আমাদের হীনমন্যতা, ইতিহাস চর্চা না থাকায় সুগায়ক ও গীতিকার ভূবনচন্দ্র রায়, ওস্তাদ গুল মোহাম্মদ খান, সুরেনদাশ এর নাম এক রকম বিস্মৃতির অতলেই চলে গেছে।
বোদ্ধাদের বাইরে সূধীন দাস ও পরিমল দত্তের নাম ক’জনই বা মনে রেখেছে। আল মাহমুদকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের সাহিত্যের ইতিহাস রচনা শুধু অসম্ভব নয় অকল্পনীয় বটে। যিনি লিখেছেন- “ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখ দুপুর বেলার অক্ত/বৃষ্টি নামে বৃষ্টি কোথায় বরকতেরই রক্ত”। আমরা কি পেরেছি আল মাহামুদের সঠিক মূল্যায়ন করতে? তাঁর মৃতদেহ আমরা শহীদ মিনারে নিতে পারিনি এই দৈন্যতা কার? অজয় ভট্টাচার্য হারিয়ে গেছে, গাজী মাজহারুল আনোয়ারকেও হয়তো আমরা ভুলে যাবো। কিন্তু ইতিহাস তাদের ঠিকই মনে রাখবে। ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না।
বাংলাদেশের নাট্যচর্চায় কুমিল্লা টাউনহল মঞ্চ এবং ভার্নাল থিয়েটারের অবদান অপরিসীম। যদিও ১৯০৮ সালে ভার্নাল থিয়েটার প্রতিষ্ঠিত হবার পূর্বেও বিচ্ছিন্নভাবে নাট্যচর্চা হতো। বাঙ্গালী কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত প্রথম নাট্যদল হল ১৮৩১ সনে প্রসন্ন কুমার এর “হিন্দু থিয়েটার”। ১৮৮৫ সনে কুমিল্লা টাউনহল প্রতিষ্ঠিত হলে ১৯০৮ সনে প্রবোধচন্দ্র রায় সহ শহরের আরও কয়েকজন সংস্কৃতমনা ব্যক্তি ভার্নাল থিয়েটার প্রতিষ্ঠা করেন। কুমিল্লা টাউনহলের মঞ্চটি মূলত ভার্নাল থিয়েটার এর ই করা। সে সময় টাউন হলের এক দিনের ভাড়া ছিল ১৫ টাকা তার মধ্যে ১০ টাকা পেত টাউনহল আর ৫ টাকা পেত ভার্নাল থিয়েটার। নাট্যজন ওবায়দুল হকের মতে কুমিল্লা টাউন হলের মত স্থায়ী মঞ্চ সে আমলে কলকাতাতেও ছিল না। সে সময়ে মুন্সিবাড়ীর নাসির উদ্দিনের উদ্যোগে টাউন হল মঞ্চে মঞ্চস্থ হয় শেক্সপিয়ার এর মার্চেন্ট অব ভেনিস নাটকটি। কুশীলবদের বিশুদ্ধ ইংরেজি উচ্চারণে এখানকার ইংরেজ কর্মচারীরা পর্যন্ত মুগ্ধ হয়েছিলেন। এই মঞ্চে অভিনয় করেছেন সুলতান মাহমুদ মজুমদার, দাগু বর্ধন, পুতুল বর্ধন, ওবায়দুল হক, প্রতীতি দত্ত, জীতেন্দ্রনাথ দত্ত, সালাউদ্দিন, রুহুল আমীন, সালেহা থেকে শুরু করে হাল আমলের প্রয়াত মন্ত্রী আকবর হোসেন পর্যন্ত। ভার্নাল থিয়েটার এর হয়ে টাউন হল মঞ্চে অভিনয় করা পুতুল বর্ধন প্রথম নারী যিনি এই দেশে প্রথম নারী চরিত্রে নারী হিসেবে অভিনয় করেছেন। তারপূর্বে নারী চরিত্রে পুরুষরাই অভিনয় করত। পাকিস্তান আমলের বিখ্যাত রূপবান ছবির প্রযোজক কামালউদ্দিন পরিচালক সালাউদ্দিন তাজেল কন্যা খ্যাত চন্দনা কিংবা ঋত্বিক ঘটকের যমজ বোন শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের পুত্রবধু প্রতীতি দেবীর অভিনয়ের হাতেখড়ি কিন্তু এই ভার্নাল থিয়েটারেই। নাট্যগুরু সাইদ আহমেদ তার জীবনের সাতরং বইয়ে লিখেছেন ১৯৫০ সনে তিনি তার দল নিয়ে ঢাকা থেকে এসে তিনদিনব্যাপি কুমিল্লা টাউন হল মঞ্চে মার্চেন্ট অব ভেনিস নাটকটি মঞ্চস্থ করেছিলেন দর্শনীর বিনিময়ে, ভাবতে অবাক লাগে সেই ১৯৫০ সনে দর্শনীর বিনিময়ে কুমিল্লা শহরে হল উপচেপড়া দর্শক নাটক উপভোগ করত। অথচ এখন টাউন হল মঞ্চে বিনে পয়সায় নাটক মঞ্চস্থ করেও দর্শক খুঁজে পাওয়া যায়না। কুমিল্লার নাট্যচর্চাকে পৃষ্ঠপোষকতা করার ক্ষেত্রে একটি পরিবারের অবদান কখনও সেভাবে আলোচনায় আসেনি তা হচ্ছে ডেলনী পরিবার। ঢাকা কিংবা কলকাতা থেকে কোন নাটকের দল আসলে তাদের কে ডেলনী পরিবারের আতিথেয়তা গ্রহণ করতে হতো। নাট্যগুরু সাইদ আহমেদ তার জীবনের সাতরং বই এ একথা উল্লেখ করেছেন। এমনকি ডেলনী পরিবারের উপর কাজ করতে যেয়ে আমি তাদের বাসা থেকে দুটো নাট্য অনুষ্ঠানের দাওয়াত কার্ড উদ্ধার করেছি যে নাটকগুলো মঞ্চস্থ হয়েছিল ডেলনীদের বাড়িতে। যার একটি ১৮৯০ সনের অপরটি ১৮৯৫ সনের। অর্থাৎ টাউন হল মঞ্চ প্রতিষ্ঠিত হবার পূর্বে। এখানে প্রসঙ্গত একটি কথা বলতে ভুলে গেছি তা হচ্ছে কুমিল্লা অভয় আশ্রমের প্রাণপুরুষ ডা. সুরেশচন্দ্র বন্দোপাধ্যয়ের আমন্ত্রণে ১৯২৬ সনের ১৯ ফেব্রুয়ারি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সদলবলে কুমিল্লা আসেন। তখন সুরেশ বাবুর রচিত গৌরাঙ্গ নাটকটি পুরানো অভয় আশ্রম প্রাঙ্গণে ভার্নাল এর শিল্পীদের দ্বারা মঞ্চস্থ হয়। রবি ঠাকুর ভার্নালের শিল্পীদের অভিনয় শৈলীর ভুয়সী প্রশংসা করেন।
কুমিল্লার সাথে কবি গুরু রবি ঠাকুর, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বাংলাদেশে কাজী নজরুলের স্মৃতি কুমিল্লাতেই সবচেয়ে বেশি। ময়মনসিংহের দড়িরামপুরেতো শুধু বালক দুখুমিয়ার স্মৃতি। কবির প্রেথম, পরিণয়, বিরহ, কারাবরণ সবই কুমিল্লায়। হেমপ্রভা মজুমদার, বসন্ত কুমার মজুমদারদের সাথে কুমিল্লাতে তিনিও স্বদেশী আন্দোলনের সাথে জড়িয়ে পড়েন তুমুলভাবে। ওস্তাদ জানে আলম, ওস্তাদ মোহাম্মদ খসরু, শচীন কর্তার বাড়িতে তিনি নিয়মিত বসাতেন আড্ডার আসর। নজরুলের বিখ্যাত লিচুচোর কবিতার লিচুগাছও নেই তাল পুকুরও নেই। প্রথমীলাদের বাড়িতে কবেই তৈরি হয়েছে সুবিশাল অট্টালিকা। দৌলতপুরে নার্গিসদের বাড়ির কি অবস্থা তা মুরাদনগরবাসীই ভালো জানেন। নজরুলের ‘পদ্মার ঢেউরে’ আর ‘চোখ গেলো’ গানটি যখন শচীন কর্তার কন্ঠে শুনি মনে হয় আহা কি অসাধারণ যুগলবন্দী। মনে হয় শচীন কর্তার জন্যই এই গান দুটির সৃষ্টি। ত্রিপুরা রাজ পরিবার এবং রবিঠাকুর অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। প্রমে বীরচন্দ্র মানিক্য বাহাদুর পরবর্তীতে তদীয় পুত্র রাধাকিশোর মানিক্য বাহাদুরের সাথে রবিঠাকুরের ছিল নিবিড় স্মৃতি।
অভয় আশ্রমে তিনি একাধিকবার এসেছেন, সভাপতিত্ব করেছেন অভয় আশ্রমের অনুষ্ঠানে, টাউন হলে বক্তব্য রেখেছেন কুমিল্লার সূধী সমাজের উদ্দেশ্যে, রাত্রি যাপন করেছেন রাণী কুটিরে। আগত শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে উত্তরের বারান্দায় বসে স্বকন্ঠে গেয়েছেন “যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে” গানটি। আপ্যায়িত হয়েছেন নবাব হোচ্ছাম হায়দারের বাড়ি এবং ব্যাংকার ইন্দুভূষণ দত্তের কৈলাশ ভবনে। এখানে কুমিল্লা মহিলা সমিতির নেত্রীরা তাকে মানপত্র প্রদান করে। সেই কৈলাশ ভবন বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলের লুটেরা দ্বারা লুন্ঠিত হয়েছে। বিপ্লবী অতীন রায় রবিঠাকুর কে এত বেশি প্রভাবিত করেছিল তিনি অতীন রায় কে নিয়ে একটি চরিত্রও সৃষ্টি করেছিলেন। প্রসঙ্গক্রমে বলার লোভ সামলাতে পারছিনা প্রখ্যাত সাহিত্যিক তারা শংকর বন্দোপাধ্যায়ের ‘গণদেবতা’ উপন্যাসটি মূলত বিপ্লবী অতীন্দ্র মোহন রায়কে নিয়েই লেখা বা উপন্যাসের নায়ক যতীন এর মাঝেই তিনি অতীন রায় কে ফুটিয়ে তুলেছেন।
আমরা ইতিহাস বিস্মৃত জাতি, কুমিল্লাতে এ সমস্যা আরও প্রকট। কুমিল্লার অতীত ঐতিহ্য ও ইতিহাস কে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেবার কার্যকর কোন উদ্যোগ নেই। সবাই বর্তমান নিয়ে ব্যস্ত। অত্যান্ত দুঃখজনক হলেও সত্য এ প্রজন্ম অতীশ দিপংকরের নাম জানে কিন্তু জ্ঞান তাপস মহাস্থবির পন্ডিত শীলভদ্রের নাম জানে না। আমরা নারী জাগরণের কথা বললে বেগম রোকেয়ার কথা বলি অথচ নারী শিক্ষা তথা সমাজ সেবায় ফয়জুন্নেসার অবদান জানার চেষ্টাই করিনা। বেগম রোকেয়ার সাহিত্য প্রতিভার কথা বলি অথচ নবাব ফয়জুন্নেসা যে রহিমুন্নেসার পরে বাংলা সাহিত্যে দ্বিতীয় মহিলা সাহিত্যিক সে কথা বলিনা। আমরা ক্ষুদিরামকে নিয়ে রচিত সঙ্গীত সাধনা করে নিজেদের বিপ্লবী চেতনা কে শাণিত করি অথচ আমাদের শান্তি সুনীতির সফল অপারেশন এর কথা বলিনা। আমরা ভুলে যাই উল্লাসকর দত্ত নামে কেউ এদেশে ছিলেন। আমরা মাষ্টারদা সূর্যসেনের নেতৃত্বে অস্ত্রাগার লুন্ঠনের কথা বলি। কিন্তু এ লড়াই এ শহীদ হওয়া কুমিল্লা শহরের ত্রিপুরা সেনগুপ্ত এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার লেসিয়ারার বিধুভূষণ ভট্টাচার্যের নাম মুখেই আনি না। মাষ্টার দার নির্দেশে ১৯৩২ সনে কুমিল্লার ভারপ্রাপ্ত এসপি এলিসন কে হত্যা করেন বিপ্লবী শৈলেশ রায়। সেই শৈলেশ রায়ের পরিচয় খুঁজে বের করতে আমাদের কে ৮৬ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। পলাশীর প্রান্তরে ভিনদেশী নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ে আমরা এখনও অশ্রু বারিপাত করি অথচ এই ভূমির সন্তান ত্রিপুরাধিকারী শমশের গাজী কে শমশের ডাকাত বলি। কি বিচিত্র আমাদের মানসিকতা। এ জেলার প্রথম গ্র্যাজুয়েট সরাইল পরগণার মোহিনী মোহন বর্ধণ। তার বসত ভিটা বংশধর কিছুই আর এ শহরে অবশিষ্ট নেই। কেন নেই একথা কি আমরা একবারও জানার চেষ্টা করেছি। ঢাকা কলেজ (১৮৩৫ সনে প্রতিষ্ঠিত ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল) এবং চট্রগ্রাম বিভাগের প্রথম মুসলমান গ্র্যাজুয়েট নবীনগর পেয়ারাকান্দির নবাব সিরাজুল ইসলাম। কুমিল্লা শহরে তাদের বাগানবাড়িটিই এখন বাগিচাগাঁও নামে খ্যাত। সিরাজুল ইসলামের কন্যা পাদশা বেগমের সাথে নবাব হোচ্ছাম হায়দার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। সিরাজুল ইসলাম সম্পর্কে আমরা কতটুকু জানি? আমরা কথায় কথায় বলি ব্যাংক এবং ট্যাংক এর শহর কুমিল্লা। কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেক্টরের জনক নরেনদত্তের নাম কয়টা মানুষ জানে। আমরা আমাদের পাঠ্য বইয়ে রবার্ট ব্রুসের অধ্যবসায় এর গল্প পড়াই কিন্তু আমাদের শ্রীকাইল এর ক্যাপ্টেন নরেন্দ্রনাথ দত্তের সংগ্রাম মুখর জীবনের কথা নিজেরাই জানিনা। তিনি কিভাবে বেড়ে উঠেছেন, লেখাপড়া শেষ করেছেন তা প্রতিটি শিশু কিশোর কে জানানো উচিত। কে নেবে সেই উদ্যেগ। আমরা দানবীর হাজী মুহাম্মদ মহসীনের কথা বলি অথচ দানবীর মহেষচন্দ্র ভট্টাচার্যের নামই জানিনা। আজকের বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভিত স্থাপন কিন্তু আমাদের টাইগার গণির হাত ধরেই সম্পন্ন হয়েছিল। আমরা রামের লংকা বিজয়ের খবর রাখি কিন্তু আমাদের বীর পুরুষ শমশের গাজীর ত্রিপুরা জয়ের খবর রাখিনা। চট্রগ্রামের কদম মোবারক মসজিদ এবং ঢাকার হোসেনী দালানের সাথেও জড়িয়ে আছে শমশের গাজীর স্মৃতি। ভারতআচার্য প্রসন্নকুমার আচার্যের নাম জানি কিন্তু একথা জানিনা তিনি কুমিল্লার সন্তান, কুমিল্লা জিলা স্কুলের ছাত্র। প্রয়াত বেলাল চৌধুরী লিখেছেন রবিঠাকুর শান্তি নিকেতন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রথমে বর্তমান কুমিল্লা সেনানিবাস অঞ্চলটিকে বেছে নিয়েছিলেন। পরে অজ্ঞাত কারণে যেটি আর এগোয়নি।
এটি খুবই সম্ভব এজন্য যে পাট্বিকারা পরগণার জমিদারি কিছুদিনের জন্য জোড়াসাকোর ঠাকুর পরিবারের হাতে ছিল। এই কুমিল্লার সন্তান রমেন চক্রবর্তী শান্তি নিকেতনে চারুকলার শিক্ষক ছিলেন। পরে তিনি ১৯৪৮ সনে কলকাতা আর্ট ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন। আমাদের চারুকলা শিল্পীদের কখনও শুনিনি রমেন চক্রবর্তীর নাম উচ্চারণ করতে।
বাংলা ভাষার কথা বললেই ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের নাম সবার আগে এসে যায়। আবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের কথা বললে স্বভাবিকভাবেই কুমিল্লার আরেক সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলামের নাম আসতো কিন্তু যেটি আমরা বলিনা সেটি হচ্ছে আদালত প্রতিষ্ঠার পর ফার্সি ভাষায় আদালতের সওয়াল জবাব অনুষ্ঠিত হত। কুমিল্লা বারে সর্বপ্রথম মোহীনি মোহন বর্ধণের উদ্যেগে বাংলা ভাষার সওয়াল জবাব শুরু হয়। উল্লেখ্য, কলকাতা বারের পরেই কুমিল্লা বারের জন্ম। এরপরে ঢাকা বারের প্রতিষ্ঠা।
এখানে একটি কথা না বললেই নয় আজকে শহর কুমিল্লা বা নগর কুমিল্লার যে বিকাশ সমৃদ্ধি তার পেছনে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার অবদান অনেক। কুমিল্লা শহরে আমি এমন কোন পরিবার খুজে পাইনি যারা ৫০০ বছর ধরে কুমিল্লায় বসবাস করেন। কুমিল্লাকে যারা ঋদ্ধ করেছেন যাদের কারণে কুমিল্লা গর্ব অনুভব করে তাদের একটা বড় অংশই ব্রাহ্মণবাড়ীয়া থেকে কুমিল্লায় আবাস গড়েছেন। কুমিল্লা শহরের প্রতিষ্ঠিত পরিবার গুলোর মাঝে নবাব বাড়ির বশরত উল্লা কসবা শাহপুর থেকে নবাব কেজিএম ফারুকীর দাদা আফতাব উদ্দিন ও দারোগা বাড়ির প্রতিষ্ঠাতা দেওয়ান রেয়াজ উদ্দিন নবীনগর রতনপুর থেকে কুমিল্লার ব্রাহ্ম সমাজের প্রতিষ্ঠাতা আনন্দ স্বামী ও ব্যাংকার নরেনদত্ত সরাইলের কালিকচ্ছ থেকে পন্ডিত দ্বিজদাস দত্ত কালিকচ্ছেরই সন্তান। ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত রামরাইল থেকে, মোহিনী মোহন বর্ধণ সরাইলের গৌতম পাড়া থেকে, দানবীর মহেশ ভট্টাচার্য্য বাহ্মণবাড়ীয়ার বীটঘর থেকে, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড যার ভূমির উপর দাঁড়িয়ে আছে সেই অখিল দত্ত কসবা চারগাছ থেকে, রাজনীতিবিদ হাবিবুর রহমান কসবা গোপীনাথপুর থেকে, ওস্তাদ মোহাম্মদ হোসেন খসরুর পিতা জয়নুল হোসেন কসবা মঈনপুর থেকে, ওস্তাদ আয়েত আলী খাঁ শিবপুর থেকে, খানবাহাদুর ফরিদ উদ্দীন পৈরতলা থেকে, নবাব সিরাজুল ইসলাম নবীনগর পেয়ারকান্দি থেকে, অনঙ্গ নাহা নবীনগর থেকে এসে কুমিল্লা শহরে বসত স্থাপন করেন। মি. কামিং এর প্রতিবেদন অনুযায়ী কুমিল্লা ১৮৬৫ সনে মাত্র ২৪টি এবং ত্রিশ বছর পর ১৮৯৫ সনে মাত্র ৫৫টি পাকাবাড়ী ছিল। ১৮৮১ তে কুমিল্লার জনসংখ্যা ১৩,৩৭২ এবং ১৮৯১ সনে ১৪,৬৮০ ছিল। সুতরাং আজকে কুমিল্লা নগরের যে সমৃদ্ধি তা উপরে উল্লেখিত ব্যাক্তিদের হাত ধরেই। কুমিল্লা আজ বিভিন্নভাবে বঞ্চনার শিকার। এই বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হলে উন্নবয়নের চাকা ও প্রগতির চাকাকে গতিময় করতে হলে কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়ীয়াবাসীর ঐক্যের কোন বিকল্প নেই। গোমতী পাড়ের মানুষের সাথে মেঘনা তিতাসের মেলবন্ধন এখন সময়ের দাবি। তাই আসুন আমরা সবাই মিলে জাগিয়ে তুলব কুমিল্লার এই তন্দ্রাবিভূত আত্মাকে। বইয়ে দেব রাগ রূপ রস আর কর্মযোগের সেই অমৃতময়ী অলকানন্দ ধারা। যার সঞ্জীবনি রসে সমৃদ্ধ হয়ে গীতে নৃত্যে, কাব্যে, ন্যায় প্রতিষ্ঠায়, রম্যে, শিল্পকলায়, নাট্যে আর ক্রীড়ায় উজ্জীবিত হয়ে আবার পরিপূর্ণ হয়ে উঠবে নিঃশেষিত বিশুষ্ক প্রায় কুমিল্লার আপামর জনসাধারণের মানসলোক। তাই আমরা সবাই মিলে গড়ে তুলব অলকানন্দার উৎসস্থল কুমিল্লা কে। এই স্বপ্নগুলো কি আদৌ বাস্তবায়িত হবে? নাকি অতীতের মতই কর্তৃত্ববাদী নেতৃত্বের রোষানলে পড়ে সংকীর্ণমনা দেউলিয়া রাজনীতির থাবায় হারিয়ে যাবে। আর আমার মত কল্পনাবিলাসীরা চিরকালই অলস চিন্তার রঙ্গীন স্বন্নজাল বুনে এবং কন্টকিত কাল্পনিক নিবন্ধ লিখে দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাতে থাকব। আমাদের কথাগুলো কি অরণ্যে রোদন হয়েই থাকবে? এর জবাব উত্তরকালের জন্য জমা রইল।
[ব্রাহ্মণবাড়ীয়া সাহিত্য একাডেমী কর্তৃক আয়োজিত শহরের শহীদ ধীরেন্দ্র দত্ত চত্বরে ৭ দিনব্যাপি ঐতিহ্যবাহী বৈশাখি উৎসবের ২য় দিন ১৫ এপ্রিল এর অনুষ্ঠানে পঠিত প্রবন্ধ। আয়োজনে কুমিল্লা থেকে এছাড়াও লেখক এডভোকেট গোলাম ফারুক, অনুসন্ধানী পাঠক ঠাকুর জিয়াউদ্দিন আহামদ, সাংস্কৃতিক সংগঠক নিজামউদ্দিন রাব্বী যোগদান করেন]
লেখক পরিচিতি ঃ সংগঠক, গবেষক, সংস্কৃতি কর্মী।










© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};