ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
3570
কুমিল্লায় ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে কিশোর গ্যাং কালচার
একমাসের মধ্যেই দুই শিক্ষার্থী খুন----
Published : Wednesday, 15 May, 2019 at 12:00 AM, Update: 15.05.2019 1:18:44 AM
কুমিল্লায় ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে কিশোর গ্যাং কালচারনিজস্ব প্রতিবেদক: গ্যাং কালচারের নামে দিন দিন ভয়ংকর হয়ে উঠছে কুমিল্লার কিশোরদের একটি অংশ। ছিনতাই, মাদক ব্যবসা, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একের পর এক হামলা-সংঘর্ষের ঘটনা ঘটচে। এসব কিশোর অপরাধীদের হাতে একমধ্যেই দু’টি হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটেছে। যার সর্বশেষ শিকার হয়েছে কুমিল্লা মডার্ন হাইস্কুল থেকে এবছর এসএসসি পাশ করা শিক্ষার্থী আজনাইন আদিল (১৭)।
সোমবার দিনগত রাত ৯টার দিকে নগরীর মোগলটুলী এলাকার কর্ণফুলী পেপার হাউজের সামনে ছুরিকাঘাতে আহত হওয়ার পর কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায় সে। আদিল কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মহিচাইল এলাকার আব্দুস সাত্তারের একমাত্র ছেলে। তার পরিবার কুমিল্লা মহানগরীর ঝাউতলা এলাকার রেজামঞ্জিলে ভাড়ায় বসবাস করে বলে জানা গেছে। এর আগে গত ২১ এপ্রিল পবিত্র সবে বরাতের রাতে সহপাঠীদের ছুরিকাঘাতে প্রাণ হরায় মডার্ণ হাই স্কুলের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র মোন্তাহিন ইসলাম মিরণ। মূলত মিরন হত্যাকা-ের পরই আলোচনায় উঠে আসে কিশোরদের গ্যাং গ্রুপ গড়ে তোলার বিষয়টি।
জানা গেছে, কুমিল্লা শহরের নজরুল এভিনিউ রোডে এই কিশোররা গড়ে তুলেছে কয়েকটি গ্যাং গ্রুপ। যাদের কোনটির নাম ‘ঈগল’ ‘র‌্যাক্স’, ‘এক্স সিএমএইচএস’, ‘এলআরএন’, ‘মডার্ণ স্কুল ওয়ান’ ও ‘মডার্ণ স্কুল টু’। এই গ্রুপ গুলোর কাজ মূলত বখাটেপনা, হর্ণ বাজিয়ে মোটর সাইকেল চালানো, মেয়েদের উত্যক্ত করা এবং নিজেদের মধ্যে সংঘাতে জড়িয়ে পরা।
‘তুই’ সম্বোধনের জের ধরে সহপাঠীদের ছুরিকাঘাতে মিরনের মৃত্যুর পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আটক করে হত্যায় অংশ নেয়া তিন কিশোরকে। তাদের দেয়া জবানবন্দী থেকে বের হয়ে আসে ভয়ঙ্কর সব তথ্য। ওঠে আসে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠা অন্তত ১০টি গ্যাং গ্রুপের নাম। এরপর থেকেই নগরজুড়ে আলোচনায় আসে ‘ঈগল’-‘র‌্যাক্স’সহ ভয়ঙ্কর হয়ে উঠা কিশোর গ্যাং গ্রুপগুলোর নাম। সাঁড়াশি অভিযানে নামে জেলা ও পুলিশ প্রশাসন। সে হত্যাকা-ের একদিন পর একজন নির্বাহি ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন গ্যাং গ্রুপের অন্তত ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করে এবং শহরের এসবি প্লাজার তিনটি দোকান থেকে অন্তত সাত শ’ আধুনিক ছোরা ও চাপাতি উদ্ধার করেছে। আটককৃত ৩০ জন কুমিল্লা শহরের বিভিন্ন স্কুলের ছাত্র। তাদের বেশির ভাগই ৭ম ও ৮ম শ্রেণির ছাত্র। পরে অভিভাবকদের অবহিত করে তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে আটককৃতদের ছেড়ে দেয়া হয়।
বিভিন্ন সূত্রে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব গ্যাং গ্রুপের সদস্য কিশোরদের বিষয়ে তাদের পরিবার যেমন উদাসীন তেমনি উদাসীন আইন শৃংখলা বাহিনীও। যে কারণে তারা প্রায়ই বেপরোয়া আচরণ করেই যাচ্ছে।
জানা গেছে, কুমিল্লা শহরের কান্দিরপাড় নজরুল এভিনিউ রোডের কর ভবন, মডার্ণ হাই স্কুলের সামনে, আড়ং য়ের সামনে এবং লিপি ডিজিটালের সামনে এসব গ্যাং গ্রুপের আড্ডা। স্কুল শুরুর সময় থেকে দুপুর পর্যন্ত এবং বিকাল থেকে রাত ৮/৯ টা পর্যন্ত এই গ্যাং গ্রুপের সদস্যরা আড্ডা মারে। প্রতি গ্রুপে ২০ থেকে ৩০ জন সদস্য রয়েছে। এই গ্রুপগুলোর সদস্যরা শহরের বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করে। এদের বেশির ভাগই স্কুলের ছাত্র। কোন কোনটির নেতা আবার স্কুল ছেড়ে যাওয়া বড় ভাই।
স্থানীয় লোকজন জানান, এ সব গ্রুপগুলোর সদস্যরা প্রায়ই হর্ণ বাজিয়ে মোটর সাইকেল চালায়। নানা অজুহাতে এক গ্রুপ আরেক গ্রুপের সাথে বিবাদে জড়িয়ে পড়ে, মেয়েদের ইভটিজিং করে। সর্বশেষ মডার্ণ স্কুলের একটি অনুষ্ঠানে বসা নিয়ে ‘মডার্ণ স্কুল ওয়ান’ ও ‘মডার্ণ স্কুল টু’ বিরোধে জড়ায়। শবে বরাতের রাতে কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড় এলাকায় সহপাঠীদের ছুরিকাঘাতে মোন্তাহিন ইসলাম মিরন নামে অষ্টম শ্রেণীর এক স্কুলছাত্র নিহত হয়। একইভাবে সোমবার রাতে মোটরসাইকেলে করে ঘুরতে বের হয়েছিলো আদিলসহ তার বন্ধুরা। এরপরই হঠাৎ করে রাত ৯টার দিকে মোগলটুলি এলাকায় ‘ঈগল গ্রুপের’ সদস্যরা আদিলকে দা দিয়ে কুপিয়ে রাস্তার পাশে ফেলে যায়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নগরীর ঝাউতলার আক্তার হোসেনের ছেলে সাইদুল ইসলাম জানান, রাত ৯টার দিকে তাকে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি। সেখান থেকে প্রথমে কুমিল্লা সদর হাসপাতালে ও পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
এ বিষয়ে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানভীর সালেহীন ইমন বলেন, সোমবার রাত ৮টা/ সাড়ে ৮টার দিকে ৩/৪টি মোটরসাইকেলে চড়ে কিশোরেরা ঘুরে বেড়াচ্ছিল। পরে এক পর্যায়ে কয়েকজনের সাথে মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগে। এ নিয়েই মূলত ঘটনার সূত্রপাত। এরপর কিছুদূর যাওয়ার পর তাদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা হয় এবং একটা দা দিয়ে আদিলকে মারাত্মকভাবে কুপিয়ে আহত করা হয়। পরে হাসপাতালে মারা যায় সে।
এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুতই খোঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে জানিয়ে ইমন বলেন, মিরন হত্যায় জড়িতরা যেমন ছাড় পায়নি। আদিল হত্যাকারীদেরও ছাড় দেয়া হবে না।
এদিকে অপরাধে জড়িয়ে পড়া কিশোর-তরুণদের সঠিক পথে ফিরে আসার আহবান জানিয়েছেন কুমিল্লা সদর আসনের এমপি ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার। তিনি বলেন, শান্তির কুমিল্লায় কাউকে অশান্তি সৃষ্টি করতে দেয়া হবে না। ‘র‌্যাক্স-ঈগলের’ (কিশোর গ্যাং গ্রুপ) জায়গা কুমিল্লায় হবে না। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই আমাদের নজরদারি আছে। আগামী প্রজন্মকে আমরা কিছুতেই ধ্বংস হতে দেবো না। প্রশাসনের সতর্কাবস্থার পাশাপাশি কিশোর সন্তানদের পিতা-মাতাদের সন্তানের প্রতি যতœশীল হওয়ার আহবান জানান তিনি।







সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};