ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
6160
পারুয়ারা আবদুল মতিন খসরু বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ  প্রত্যন্ত এলাকার আলোকিত বিদ্যাপীঠ
Published : Wednesday, 22 May, 2019 at 12:00 AM, Update: 22.05.2019 2:04:15 AM
পারুয়ারা আবদুল মতিন খসরু বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ  প্রত্যন্ত এলাকার আলোকিত বিদ্যাপীঠকুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের কোল ঘেঁষা এক প্রত্যন্ত জনপদÑ পারুয়ারা। জেলা শহরের সুদূর সীমানায়, উপজেলা সদর থেকে অনেকখানি দূরের এই সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় গড়ে উঠেছে অনন্য এক বিদ্যাপীঠ ‘পারুয়ারা আবদুল মতিন খসরু বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ’। প্রত্যন্ত এলাকায় আলোকিত মানুষ তৈরীর প্রত্যয়ে এগিয়ে চলা প্রতিষ্ঠানটি ইতিমধ্যে অর্জন করেছে কুমিল্লা বোর্ডের অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি। “কেবল দরিদ্র হবার কারণে কেউ শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে না” এই ভাবনা থেকে  ১৯৯৯ সালে কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন একজন বিদ্যানুরাগী জনপ্রতিনিধিÑ আলহাজ্ব মো. আবদুর রহমান রব চেয়ারম্যান।
দৃষ্টিনন্দন ও মনোমুগ্ধকর পরিবেশে সাজানো হয়েছে কলেজ ক্যাম্পাস। প্রয়োজনীয় সকল অবকাঠামো সুপরিকল্পিতভাবে বিন্যাস করা হয়েছে বিস্তৃত এলাকা নিয়ে। আধুনিক মানের শ্রেণীকক্ষের পাশাপাশি রয়েছে বিজ্ঞানাগার, কম্পিউটার ল্যাব। রয়েছে পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যক্রম সহায়ক নানা বিষয়ের বই-পত্রে সমৃদ্ধ একটি লাইব্রেরী। প্রশস্ত কমনরুম ও  বিশাল মিলনায়তন যেমন শিক্ষার্থীদের মুক্ত প্রাণে বেড়ে উঠা নিশ্চিত করে তেমনি সার্বক্ষনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিঃসন্দেহে প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীকে প্রেরণা জোগায় দৃপ্ত সাহসে পথচলার।
আবদুল মতিন খসরু কলেজের শিক্ষা কার্যক্রমে একাদশ শ্রেণির পাঠ্যক্রমকে ৪ সেমিষ্টার এবং দ্বাদশ শ্রেণির পাঠ্যক্রমকে ৩ সেমিস্টারে ভাগ করা হয়েছে। সম্মিলিত টিউটোরিয়াল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়ে প্রতি মাসেই, ৩ মাস পর পর অনুষ্ঠিত হয় সেমিষ্টার পরীক্ষা। বোর্ড পরীক্ষায় ভাল ফলাফলের লক্ষ্যে নির্বাচনী পরীক্ষার পর বিষয়ভিত্তিক স্পেশাল কাস ও মডেল টেস্ট পরীক্ষা নেয়া হয়। শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য প্রস্তুত করতে গাইড এন্ড মোটিভেশন কাসের ব্যবস্থা হয়। এসকল পরীক্ষার ফলাফল ও ছাত্র-ছাত্রীদের মানোন্নয়ন নিয়ে স্টাফ কাউন্সিলে শিক্ষকদের সাথে কলেজ অধ্যক্ষের পর্যালোচনা, অভিভাবক সমাবেশের মাধ্যমে অভিভাবকদের অবহিত করা হয়ে থাকে।
শিক্ষার্থীদের সার্বিক মানোন্নয়নে কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি নিবিড় পর্যবেক্ষন করে থাকেন। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়নে অভিভাবকদের সাথে ব্যক্তিগত পর্যায়েও যোগাযোগ রক্ষা করে থাকেন কলেজের শিক্ষকমন্ডলী। এলাকার শিক্ষানুরাগী, সমাজ হিতৈষী এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নিয়ে নিয়মিত শিক্ষা সেমিনারের আয়োজন করে থাকে প্রতিষ্ঠানটি।
শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটিতে দেশী-বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে চালু রয়েছে কাব কার্যক্রম। কাবগুলো হলো, বাচিক শিল্প (উচ্চারন, আবৃত্তি ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা), সায়েন্সকাব (বিজ্ঞান মেলা গণিত ও পদার্থ অলিম্পিয়াড, আইসিটি প্রজেক্ট), উদ্যম (বিএনসিসি, স্কাউটস্), স্পোর্টস এন্ড গেইমস (দাবা, কেরাম, ব্যাডমিন্টন, সাতার, ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, গৌড়, জাম্প, গোলক ও টেনিস বল নিক্ষেপ, এথলেটিক্স) পি সি শিল্পী গোষ্ঠি (আধুনিক গান, পল্লী গীতি, দেশাত্ববোধক গান, জারিগান, ভাটিয়ালী, নজরুল সঙ্গীত, রবীন্দ্র সঙ্গীত, পল্লী গীতি, প্যারোডি গান), স্পোকেন কাব (ধারাবাহিক গল্প বলা, প্রবন্ধ, বক্তব্য বাংলা-ইংরেজী, স্পোকেন ইংলিশ), প্রজন্ম থিয়েটার (নৃত্য, নাটক, অভিনয়, কৌতুক, ডিসপ্লে, যেমন খুশি তেমন সাজো), মেধা যাচাই (সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ ও কুইজ প্রতিযোগিতা)।
সহ-শিক্ষা কার্যক্রমের অধীনে বার্ষিক ক্রীড়া, দোয়া ও বিদায় অনুষ্ঠান, নবীনবরণ, কৃতি ছাত্র-ছাত্রী সংবর্ধণা, সাংস্কৃতিক সপ্তাহ, শিক্ষা সফর, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, মাসিক সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতাগুলো সাড়ম্বরেই উদযাপিত হয়। জাতীয় দিবসসমূহ পালন করা হয় যথাযোগ্য আনুষ্ঠানিকতায়। সহ-শিক্ষা কার্যক্রমের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক কলেজ সাময়িকীর প্রকাশনা। এবছর এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় উপলক্ষে প্রকাশিত হয়েছে “সতীর্থ-২০১৯” নামে একটি স্মরণিকা। বিশেষ দিবসে বের করা হয় দেয়াল পত্রিকা।  
মেধাবী ও দূরবর্তী ছাত্রদের লেখাপড়ার জন্য কলেজের খুব কাছেই কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের পাশে সোহেল স্মৃতি ছাত্রাবাস। একজন হল সুপার ও একজন সহকারী হল সুপারের মাধ্যমে পরিচালিত ছাত্রাবাসটিতে ছাত্রদের ধর্মীয় আচার পালনসহ খেলাধুলা, বিনোদন ও পাঠাগারের ব্যবস্থা রয়েছে।
কলেজের প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব মো. আবদুর রহমান রব চেয়ারম্যানের কনিষ্ঠ পুত্র প্রয়াত মো. জাহিদুল ইসলাম সোহেলের নামে “সোহেল স্মৃতি শিক্ষাবৃত্তি ফাউন্ডেশন”এর মাধ্যমে গরিব, মেধাবী এবং এ+ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের বৃত্তি পেয়ে থাকে।
কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ আবু ইউছুফ ভূঞা জানান, ২০১৪ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় আমাদের পাশের হার ছিল ৯৯% এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৩ জন। ২০১৫ সালে পাশের হার ৯৯.০৭% এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩০ জন। ২০১৬ সালের পাশের হার ৮৭%, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৬ জন, ২০১৭ সালের পাশের হার ৮৭%, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন, এবং ২০১৮ সালে পাশের হার ৯৭.৫৬%, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫০ জন।
কলেজ অধ্যক্ষ আরও জানান, সবশেষ ২০১৮ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ৩৫ জন শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছে। এরমধ্যে নোয়াখালী মেডিকেল কলেজে ১ জন, দিনাজপুর মেডিকেল কলেজে ১ জন, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে ১ জন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬ জন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ জন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ জন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫ জন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ জন, সিলেট বিজ্ঞান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ জন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬ জন, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫ জন, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ জন এবং মেরিন একাডেমী চট্টগ্রামে ২ জন।
কলেজের প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব মো. আবদুর রহমান রব চেয়ারম্যান বলেন, আমি যখন কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে রজনীগন্ধা লোকাল বাসে ঝুলে কিংবা ছাদে করে দেবিদ্বার সুজাত আলী সরকারি কলেজে যাতায়াত করতাম, তখন থেকে আমি চিন্তা করেছি যদি আমাদের ভারেল্লার কংশনগর এলাকায় একটি কলেজ প্রতিষ্ঠিত  করা যায় তাহলে এ এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ছেলে-মেয়েরা শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে না। সেই চিন্তা ধারা থেকেই ১৯৯৯ সালে তৎকালীন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী এ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু’র নামে “পারুয়ারা আবদুল মতিন খসরু কলেজ” প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেই।
তিনি বলেন, ১৯৯৯ ইং সালে প্রতিষ্ঠত হওয়ার পর থেকেই কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসাবে নিজেদেরকে প্রমান করতে আমরা সক্ষম হয়েছি। আমাদের রয়েছে মেধাবী শিক্ষকমন্ডলী। যাদের অকান্ত পরিশ্রমে কলেজটি এ পর্যায়ে এসেছে।
কলেজের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এ অঞ্চলে উচ্চ শিক্ষা প্রসারের জন্য ২০১৫-২০১৬ শিক্ষাবর্ষে ৩টি বিষয়ে অনার্স ও ডিগ্রি কোর্স চালু করা হয়েছে বলে জানান তিনি।  








সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};