ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
94
রোজাদার মুমিনদের হৃদয় জুড়ে ঈদ
Published : Tuesday, 4 June, 2019 at 12:00 AM
গাজী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জাবির ||

সারা বিশ্বের ১৫০ কোটি মুসলমানের হৃদয় জুড়ে ঈদ আসে প্রতিবছর। ঈদের আনন্দ অনুভব করে মুসলিম সমাজের প্রতিটি সদস্য। ঈদ ধনী-গরীব, সাদা-কালো সকল মুসলমানের জন্যই সমান। আরব আজম তথা এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা, আমেরিকা, অষ্ট্রেলিয়া যেখানেই আছে মুসলিম, সেখানেই আছে ঈদ। ভৌগোলিক সীমানার সাথে নেই এর কোন সম্পর্ক। মুসলমান কোন ভৌগোলিক জাতি নয়, ভাষা কেন্দিক জাতি নয়, নয় নিরেট কোন ধর্মীয় জাতি। মুসলমান একটি আদর্শিক জাতির নাম। তাই সারা বিশ্বের মুসলমান একই বিশ্বাস ও বিধানের অনুসারী। একই সাংস্কৃতিক মূলধারার অধিকারী তারা। কারণ তাদের সভ্যতা সংস্কৃতিতো তাদের আদর্শ প্রসূত। সারাবিশ্বের মুসলমান এক আলাহতে বিশ্বাসী, রিসালাতের বিশ্বাসী, আখিরাতে বিশ্বাসী, আল কোরআনের তারা অনুসারী, হযরত মুহাম্মদ সালালাহু আলাইহি ওয়া সালামের তারা অনুগামী। এক আলাহর সন্তুষ্টি ও তার পুরস্কারের তারা আকাংখী। তারা সকলেই আলাহর শাস্তি থেকে আত্মরক্ষায় সচেষ্ট সুতরাং গোটা বিশ্বের সমস্ত মুসলিম এক মুখী। সারা বিশ্বের মুসলমান রমজান মাসে রোজা রাখে। রোজার শেষেই আসে তাদের ঈদ। সারা বিশ্বের সকল মুসলমান ঈদের আনন্দে শরীক হয়। আর সে ঈদ ছড়িয়ে পড়ে সারা বিশ্বময়। মুসলমানদের ঈদ মূলত; বিশ্ব ঈদ। অর্থাৎ ঈদের দিনটি বিশ্বজনীন খুশি ও আনন্দের দিন। পৃথিবীর সব জাতিরই আনন্দ উৎসবের দিন আছে। কিন্তু মুসলমানের ঈদ অন্য সব লোকদের আনন্দ উৎসবের চাইতে ভিন্ন ও স্বতন্ত্র বৈশিষ্টের অধিকারী। ঈদের এ স্বাতন্ত্র্যতার অন্তর এবং অঙ্গ উভয় দিকেই। এ স্বাতন্ত্র্যের কারণে ইসলামের ঈদ শুধু খুশি আর আনন্দই বিলায় না, বরং সেই সাথে মানবতাবোধ এবং মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলিও বিতরন করে।
ঈদের বয়স সাড়ে চৌদ্দশ বছরেরও অধিক। মক্কা থেকে হিযরত করে মদীনায় এসে রাসুলে করীম সালালাহু আলাইহি ওয়া সালাম দেখতে পান, এখানকার লোকেরা বছরে দুইটি উৎসব পালন করে। তিনি তাদের জিজ্ঞেস করেন, তোমাদের এ দুটি দিন কি রকম? তারা বললোঃ সেই জাহেলি আমলে আমাদের মধ্যে এ দুটি দিন পালনের ধারা চলে আসছে। আমরা এ দুদিন খেল-তামাশা করে কাটাই। অতঃপর আলাহর রাসুল (দঃ) তাদের বললেন, শুনো, আলাহ জাহেলি যুগের সেই দুটি দিনের চাইতে উত্তম দুটি দিন তোমাদের উপহার দিয়েছেন, একটি ঈদুল ফিতর অপরটি ঈদুল আযহা। এখন থেকে খুশি ও আনন্দের দিন হিসেবে এ দুটি দিন উদযাপন করো। সেই থেকে বিগত চৌদ্দশত বছরের অধিক দিন ধরে মুসলিম উম্মাহ দুই ঈদ উদ্যাপন করে আসছে। রাসুলের যুগে রাসুলে করিম (দঃ) ঈদের সূচনা করতেন দু’রাকাত নামাজ আদায় এবং একটি ভাষণদানের মাধ্যমে। তিনি ঈদগাহে যেতেন এক পথে আর ফিরে আসতেন অপর পথে। পথিমধ্যে উচ্ছস্বরে তকবীর পড়তেন। সালাম কালাম এবং মুসাফা ও করতেন। দরিদ্রের খোঁজ খবর নিতেন দান-সদকা করতেন। সকলকে ঈদের আনন্দে শরীক করতেন। এভাবে রাসুল (দঃ) এবং সাহাবাগন আলাহর প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনের মাধ্যমে সূচনা করতেন ঈদের। তারপর মানুষের কল্যাণ ও সেবা করার মাধ্যমে খুশি ও আনন্দ ছড়িয়ে দিতেন ঘরে ঘরে, প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে হৃদয়ে।
বাংলাদেশ দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশ। এখানে ঈদ আসে মহাসমারোহে ঈদ উদযাপনের জন্য এখানে প্রস্তুতি শুরু হযে যায় মাস আগে থেকে আবার ঈদ চলে যাবার পরও এর আমেজ থাকে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে। আমাদের সামনে উপস্থিত হয়েছে ঈদুল ফিতর। রাসূল করিম (দঃ) এই ঈদকে সার্বজনীন করার জন্য এক অনুপম ব্যবস্থা দিয়ে গেছেন। সমাজে যারা দারিদ্র, অর্থের অভাবে ঈদের খুশিতে শরীক হতে পারে না, তারা যেনো ঈদের খুশিতে শরীক হতে পারেন, সে জন্যে রাসুলে করীম (দঃ) বিত্তবানদের উপর একটি নিদিষ্ট পরিমান খাদ্য সামগ্রী বা তার মূল্য দরিদ্র মুসলমানদের দান করার নির্দেশ দিয়েছেন। তা যেনো ঈদ শুরু হবার আগেই দেওয়া হয়, সে নির্দেশ ও দিয়েছেন। এই দিনটির নাম সদকাতুল ফিতর বা ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দান। ঈদ উপলক্ষে সার্বজনীন মেহমানদারির রেওয়াজও প্রচলন করা হয়েছে। আত্মীয় স্বজন, পাড়া প্রতিবেশী, বন্ধু-বান্ধব এবং যে কোনো মুসলমান, যে কোনো মুসলমানের বাড়িতে মেহমান হতে পারে। মেহমানদারি করা এবং মেহমান হওয়া ঈদের অনিবার্য অংশ। সামর্থবান ব্যক্তিরা আগে থেকেই মেহমানদারি করার প্রস্তুতি নেন। এমন কি দরিদ্র মুসলমানরাও ঈদের দিন কিছুনা কিছু মেহমানদারি করার প্রস্তুতি নেন। প্রত্যেকেই নিজ নিজ সামর্থ অনুযায়ি মেহমানদারি করেন। আমন্ত্রন, আপ্যায়ন ও মেহমানদারির এই ধারাবাহিকতা ঈদের পরেও কয়েকদিন চলতে থাকে। ঈদুল ফিতরে ঈদের নামাজ পড়ার পরই শুরু হয় বেড়াবার এবং মেহমানদারি করার পালা। ঈদের দিন বাংলাদেশের রাস্তা-ঘাট, ঘর-বাড়ি ঈদময় হয়ে উঠে। সবাই নতুন নতুন জামা-কাপড় পরে দলে দলে যাওয়া আসা করে। ফলে ঈদের দিন সৃষ্টি হয় এক মনমুগ্ধকর দৃশ্য ও পরিবেশ। ঈদগাহে, রাস্তা-ঘাট, ঘরে ঘরে, বাড়িতে বাড়িতে অবতারনা ঘটে আরেকটি মন মাতানো দৃশ্যের। সেটি হলো সালাম আদান প্রদানের, হাতে হাত মিলানোর, বুকে বুক মিলানোর দৃশ্য। কী মনোরম দৃশ্যঃ যেনো এ সমাজের প্রত্যেকে আপনজন।
আমাদের প্রতিটি দিনই যদি ঈদের দিনের মত হতো! আমাদের দেশের গ্রামাঞ্চলে ঈদের আরেকটি বড় আনন্দ আছে। সেটা হলো, যারা শহরে চাকুরী করে, ব্যবসা করে, পড়ালেখা করে, ঈদ উপলক্ষে তারা গ্রামে ফিরে। গ্রামের বাড়িতে বাবা-মা, স্ত্রী, পুত্র-কন্যা, ভাই বোন এবং অন্যান্য আত্মীয় স্বজনের জন্য তারা সামর্থ অনুযায়ী জামা-কাপড় কেনা কাটা করেন। এ সময় বাড়ি যাবার কষ্ট সীমাহীন যানবাহনে ঠাঁই নাই। বাস ট্রেনের ছাদে উঠে এবং দরজায় ঝুলে জীবন বাজি রেখে রওয়ানা করেন অনেকে। বাড়ির আপনজনরা অপেক্ষমান থাকেন-কখন এসে পৌঁছবে তার কলিজার টুকরা। মা ছেলের পথ চেয়ে থাকে, স্ত্রী স্বামীর পথ চেয়ে থাকে, সন্তানেরা বাবার পথ চেয়ে থাকে। শেষ মেশ আপনজনরা নিদারুন কষ্টের পথ পাড়ি দিয়ে বাড়ি এসে পৌঁছায় আর ভুলে যায় পথের সমস্ত কষ্টের কথা।
আসলে ঈদ ইসলামী উম্মাহর এক অনন্য সংস্কৃতি। ঈদ ইসলামী সমাজে বয়ে আনে ঐক্য ও একতার বারতা। ঈদ ইসলামী সমাজকে উদ্বুদ্ধ করে ভ্রাতৃত্ববোধে, সহমর্মিতায়। ঈদ মিলনের ও আপনত্বের বার্তা বয়ে আনে। ঈদ দূর করে দেয় জীবনের সব গানি, হৃদয়ের সব কালিমা। ঈদের দিনের খোলা হৃদয়, মিষ্টি হাসি আর ঐক্য ও একতার এই অনুপম আবেশ বর্তমান ঘুনে ধরা মুসলিম সমাজকে গড়ে তুলতে পারে উন্নত ও শ্রেষ্ঠতম জাতি হিসেবে। তাই আমাদেরকে ঈদের শিক্ষা গ্রহণে এগিয়ে আসতে হবে। একমাস সিয়াম সাধনার পর আমাদের সামনে সমাগত ঈদুল ফিতর। মূলতঃ রোজা ভাংগার খুশির দিন। মাসব্যাপী মহান আলাহর গোলামী ও তাবেদারিতে নিজেকে নিবেদিত করতে পারার খুশির দিন। একজন মুসলমান যে সততা, সত্য, নিষ্ঠা ও আলাহ ভীতির পরিচয় দিয়েছে, সারা বছর সেটাই তার জীবনাদর্শ হওয়া উচিত।
আত্মা সংযম, সততা, সত্যনিষ্ঠা, আলাহ ভীতি, আলাহর গোলামী ও আনুগত্য এবং নিয়মানুবর্তিতা ও সময়ানুবর্তিতার যে অনুশীলন ও প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠান। এই এক মাসের প্রশিক্ষণের ভিত্তিতে যদি বাকি এগার মাস দক্ষতার সাথে জীবনের সমস্ত কাজ পরিচালনা করা হয়, তবেই মুসলিম জাতি হিসেবে আমরা ফিরে পেতে পারি আমাদের সেই হারানো গৌরব।
লেখক: ইসলামী চিন্তাবিদ,কলামিষ্ট, সাংবাদিক।








© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};