ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
92
কোল্লা পাথরের ঘটনা এবং দেশপ্রেম
Published : Monday, 10 June, 2019 at 12:00 AM
কোল্লা পাথরের ঘটনা এবং দেশপ্রেম প্রবীর বিকাশ সরকার ||
গতকাল (৮.৬.২০১৯) যুগপৎ দেশাত্মবোধক দুটি ঘটনা ঘটে দুপুরবেলা। আমি যুগপৎ বিস্মিত ও ব্যথিত হই। গতকাল শনিবার দুপুর ১:৩০ মিনিট থেকে ২:৪৫ মিনিট পর্যন্ত একটি চলচ্চিত্র দেখার আমন্ত্রণ ছিল। আমন্ত্রণ করেছেন আমার জাপানি বন্ধু এবং ‘এশিয়ান সোলিডারিটি ফর ফ্রিডম অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’ সংস্থার কর্মসচিব মিউরা কোতারোও। রবীন্দ্রনাথ, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ভক্ত এবং বাঙালির শুভাকাঙ্খী মিউরা সান এই চলচ্চিত্রটির ব্যাখ্যাকারী এবং মূল ভাষ্যকার।
চলচ্চিত্রটির নাম ‘আই তো চিকাহি’ অর্থাৎ ‘ভালোবাসা এবং প্রতীজ্ঞা’, সাধারণ কোনো প্রেমজ চলচ্চিত্র নয়। একটি নিখাদ দেশপ্রেম এবং যুদ্ধের চলচ্চিত্রায়ন। চলচ্চিত্রটির যৌথ পরিচালক যথাক্রমে ইমাই তাদাশি এবং চে.ইন.গিউ, জাপানি ও কোরিয়ান। ১৯৪৫ সালে নির্মিত। তখন অবিভক্ত কোরিয়াকে চোওছেন হানতোও বা চোওছেন উপত্যকা বলা হত। ১৯১০ সালে জাপানের অন্তর্ভুক্ত হয় চোওছেন। ১৯৪৫ সাল তথা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়া পর্যন্ত জাপানের উপনিবেশ ছিল কোরিয়া।
চলচ্চিত্রটির নির্মাণকাল দেখে বোঝাই যাচ্ছে ৭৪ বছর আগেকার পুরনো। জাপানি ভাষায় সবাক চলচ্চিত্র। ১৯৪১ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের জড়িয়ে যাওয়ার পর কোরিয়ার রাজধানী সিউলের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তিলাভ করে। এরকম যুদ্ধভিক্তিক চলচ্চিত্র আরও নির্মিত হয়েছিল বলে মিউরা সানের ভাষ্য থেকে জানা যায়, যার অধিকাংশই বিলুপ্ত হয়ে গেছে, টিকে আছে কিছু সংখ্যক। তারই অন্যতম হচ্ছে ‘আই তো চিকাহি’ চলচ্চিত্রটি। এটা আবিষ্কার করেছেন জাপানের অন্যতম প্রধান দৈনিক সংবাদপত্র মাইনিচিশিম্বুন পত্রিকার সিউল ব্যুরোপ্রধান সাংবাদিক শিমোকাওয়া মাসাহারু, বর্তমানে তিনি অবসরপ্রাপ্ত। তিনি নিক্কান তথা জাপান-কোরিয়া যৌথভাবে নির্মিত যুদ্ধপূর্ব সময়কার চলচ্চিত্র, প্রামাণ্যচিত্রসহ নানা দলিলপত্র সংগ্রহ এবং গবেষণা করছেন। সম্প্রতি একটি গ্রন্থও লিখেছেন, ‘নিহোন তোওজি শিতা চোওছেন সিনেমা গুনযোও’ অর্থাৎ ‘জাপানের শাসনাধীনে কোরিয়ার চলচ্চিত্রসমূহ’ নামে। পিকিং ও মস্কো মহানগরের সংগ্রহশালায় একাধিক চলচ্চিত্র আবিষ্কার করেছেন তিনি বিগত বছরগুলোতে।
আলোচ্যমান চলচ্চিত্রটি অনেকটাই বিধ্বস্ত। জাপানে এনে আধুনিক কারিগরির মাধ্যমে প্রদর্শনযোগ্য করে ডিভিডিতে রূপান্তরিত করা হয়। শিমোনাকা সানের আপন প্রদেশ আকিতা-প্রিফেকচারে এটা প্রদর্শনের আয়োজন করা হয় ২০১০ সালে। এবার হচ্ছে খোদ রাজধানী টোকিওতে যদিওবা স্বল্প পরিসরে। মূল উদ্দেশ্য জাপান-কোরিয়ার ঐতিহাসিক নানা ঘটনার ইতিহাস ও জাপানের মূল ভূমিকা অনুসন্ধান। আরও পরিষ্কার করে বললে, জাপানিদের জাতীয়তাবোধ ও জাপানি জাতির গুণাগুণ-অবদানকে পুনরায় বর্তমান প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা শান্তির লক্ষ্যে।
যাহোক, সাদাকালো এই চলচ্চিত্রটির আয়োজক টোকিওর ‘সোয়োকাজে’ নামে একটি ডানপন্থী মহিলা সংস্থা। মিউরা সানের সঙ্গে এই সংস্থার জানাজানি গভীর। যেহেতু আমি রবীন্দ্রনাথ-জাপান, জাপানি-বাঙালি ও জাপান-বাংলা সম্পর্ক নিয়ে কাজ করছি সেই সুবাদে আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সেটাই দেখার জন্য গিয়েছিলাম দেড়ঘণ্টা আগেই।
টোকিওর কুদানশিতা শহরে অবস্থিত টিকেপি সেমিনার কক্ষে চলচ্চিত্রটি প্রদর্শিত হবে। কুদানশিতা সাবওয়ে স্টেশনে   নেমেই দেখলাম দুপুর ১২টা বেজে গেছে, মধ্যাহ্নভোজের সময়। তাই স্টেশন ও প্রদর্শনীস্থলের কাছেই ম্যাক- ডোনাল্ড’স-এ গিয়ে বসলাম। তখনই আইফোন খুলে ফেইসবুকে দেখতে পেলাম অনুজপ্রতিম বন্ধু, দৈনিক কুমিল্লার কাগজ পত্রিকার সম্পাদক আবুল কাশেম হৃদয়ের একটি পোস্ট মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত শহীদ সমাধি কোল্লা পাথর নিয়ে। অনেক তরুণ-তরুণী মুক্তিযোদ্ধাদের সমাধিতে বসে আড্ডা দিচ্ছে, খাওয়াদাওয়া করছে তারই কয়েকটি ছবিসহ একটি অনভিপ্রেত ঘটনার পোস্ট, যা হৃদয়কে রক্তাক্ত করে দিল আমার! কারণ সেখানে ২০১৩ সালে ঠাকুর জিয়াউদ্দিন আহমদ তথা জিয়াকাকা, ডাঃ ইকবাল আনোয়ার, সাপ্তাহিক আমোদ সম্পাদক রাকীন রাব্বি এবং আরও দুজনসহ মোট ছয় জন পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। মনোরম পরিবেশে নির্মিত সমাধির পাশেই রয়েছে এর রক্ষণাবেক্ষকের ভবন। সেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধের দুর্লভ আলোকচিত্র ও দলিলপত্র সংরক্ষিত হচ্ছে। একজন প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধা কোল্লা পাথরের রক্ষাণাবেক্ষণ করছেন অনেকদিন ধরে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রক্তক্ষয়ী শালদা নদী যুদ্ধে নিহত শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সারিবদ্ধ কবর ও তালিকা খোদিত আছে এখানে। এই পবিত্র শহীদস্মৃতি সমাধি যে আড্ডা দেয়ার জায়গা নয়, খাওয়াদাওয়া করার বাজার নয়ÑÑশ্রদ্ধা প্রদর্শনের পবিত্রস্থান এই সাধারণজ্ঞানটুকুও এইসব তরুণ প্রজন্মের নেই ভেবে তাজ্জব বনে গেছি! একজন-দুজন নয় অসংখ্যক! কী পড়ছে তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, কী শিখছে তারা স্থানীয় অভিভাবকদের কাছে, কী জানছে তারা নিজ পরিবারেÑÑএই প্রশ্নগুলো আমার মাথাকে গুলিয়ে দিল! অথচ কিছুক্ষণ পরেই যে চলচ্চিত্রটি আমি দেখব তাতে এমনই বয়সি এক কোরিয়ান গৃহহীন তরুণ দেশাত্মবোধে আপ্লুত হয়ে শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার শপথ নিয়ে জাপানের সামরিক বাহিনীতে যোগদান করতে যায়! আমি হৃদয়ের পোস্টটি সঙ্গেসঙ্গে আমার টাইম লাইনে শেয়ার করলাম। তারপর ভারাক্রান্ত মনে সময় হলে পরে প্রদর্শনীস্থলে চলে যাই। সেখানে গিয়ে মিউরা সানসহ আরও অনেক জাপানি বন্ধুদের পেয়ে নানা কথাবার্তা বলার পরও মন থেকে কোল্লা পাথরের ঘটনাটি মুছে গেল না।
যথাসময়ে, আবিষ্কৃত দুর্লভ চলচ্চিত্রটির ব্যাখ্যাসম্বলিত বক্তব্য রাখলেন মিউরা সান। তারপর প্রদর্শনী শুরু হল। দেখলাম চলচ্চিত্রটি নির্মাণে তৎকালীন জাপানের নৌবাহিনী দপ্তর, চোওছেন গভর্নর সরকার সহযোগিতা করেছে। আরও সহযোগিতা করেছে জাপানের বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা সংস্থা তোওহোও কোম্পানি। কাহিনীটি এরকম:
তৎকালীন অভিভক্ত কোরিয়ার রাজধানী সিউল শহরে অবস্থিত ‘কেইজোও শিনপোও’ নামে একটি দৈনিক সংবাদপত্র দপ্তর। সেখানে ব্যুরোপ্রধান হিসেবে কাজ করেন জাপানি শিরাইশি। একসময় তিনি চরম দরিদ্র ছিলেন, ছিলেন প্রায় গৃহহীন অবস্থায়, সেই চেতনাবোধ থেকে সিউল শহরের একটি অনাথ চোওছেন কিশোর কিম.এই.রিউকে তুলে এনে নিজ বাড়িতে আশ্রয় দিয়ে লালনপালন করেন। সে পত্রিকার ছাপাখানায় এটসেটা কাজ করে। একদিন শিরাইশির অফিসে আসেন তার এক বন্ধু ঘনিষ্ঠ চোওছেন-নাগরিক কিন্তু জাপানি ইম্পেরিয়াল নৌবাহিনীর তরুণ অফিসার, মুরাই শোওই, শোওই শব্দের অর্থ সেকেন্ড লেফটেনেন্ট। তিনি নৌবাহিনীর বিশেষ আক্রমণ-দলের সদস্য তথা ‘তোক্কোও বুতাই’ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তাই বিদায় নিতে এসেছেন। বিদায় উপলক্ষে শিরাইশি মুরাইয়ের একাধিক স্মারকচিত্র ক্যামেরায় ধারণ করেন। সেই সময় কিম.এই.রিউ সেখানে হাজির হয়। শিরাইশি লাজুক এবং স্বল্পভাষী কিমকে পরিচয় করিয়ে দেন মুরাই শোওই’র সঙ্গে। মুরাই কিমকে আদর করেন, হেসে হেসে কথা বলেন এবং একসঙ্গে ছবিও তোলেন। স্বল্প এই সময়ের মধ্যে কিম মুরাইয়ের প্রতি গভীরভাবে আকৃষ্ট হয়ে পড়ে। স্মারক ছবিটি মূল্যবান রতেœর মতো যতœ করে নিজের কাছে রেখে দেয়। নৌ অফিসার মুরাইকে তার একজন আদর্শ বীর সৈনিক বলে মনে হয়।
তারপর যুদ্ধে আমেরিকার একটি যুদ্ধজাহাজে একা বোমারুবিমান নিয়ে আক্রমণ করে মারা যায় অর্থাৎ শহীদ হয় মুরাই শোওই। তার পিতা একটি দুর্গম পাহাড়ি গ্রাম্য অঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তিনি তাঁর একমাত্র সন্তান শহীদ হয়েছে বলে বিশ্বাস করেন না। তাঁর ছেলে বেঁচে আছে পৃথিবীতে, জাপানি নৌবাহিনীর অন্যান্য সেনাদের সঙ্গে আছে সবসময় বলে বিশ্বাস করেন। একদিন শিরাইশি মুরাইয়ের পিতা, বিধবা স্ত্রী ও নবজাতক শিশুকে দেখতে যান। মুরাই শৈশবে পিতার বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেছে, সেখানকার ছাত্রছাত্রীদের সামনে মুরাই শোওইকে চেনে কিনা জিজ্ঞেস করেন এবং মুরাই সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন। মুরাইয়ের পিতা ও বিধবা স্ত্রীর হাতে সেই স্মারক ছবিগুলো তুলে দেন। বেদনাদায়ক বিচ্ছেদের ঘটনা হলেও দেশাত্মবোধের কারণে আবেগতাড়িত হন তারা, কিন্তু ভেঙ্গে পড়েন না।
শিরাইশি ব্যুরোপ্রধান সিউলে তাঁর কর্মস্থালে ফিরে যান। ফিরে এসে সিদ্ধান্ত নেন কিমকে মুরাইয়ের বাড়িতে পাঠাবেন শহীদ যোদ্ধা মুরাইকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন লেখার জন্য। ইতিমধ্যে কিম কিশোর থেকে তরুণে পরিণত হয়েছে। সে তার আশ্রয়দাতা শিরাইশিদ্বারা আদিষ্ট হয়ে মুরাইয়ের গ্রামের বাড়িতে যায় বাসে চড়ে। সেখানে মুরাইয়ের পিতা ও বিধবা স্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নানা বিষয়ে জানতে পারে। সেই স্মারক ছবিটিও তাঁদেরকে দেখায়। মুরাইয়ের বিধবা স্ত্রীর মনে হয় কিম যেন তাঁর হারানো স্বামীর ছোটভাই! এই ঘটনার কিছুদিন আগে শহীদ মুরাইয়ের শেষ বার্তা ধারণকৃত একটি রেকর্ড বাড়িতে পৌঁছায়। সেই রেকর্ডে মুরাই তাঁর পিতা, স্ত্রী ও শিশুপুত্রকে উদ্দেশ করে তাঁর বিদায়লগ্নের অনুভূতি জানায়, শিশুপুত্র যাতে বড় মানুষ হতে পারে সেই আশা ব্যক্ত করে। সেই বার্তা কিমের হৃদয়কে গভীরভাবে নাড়া দেয়। সে এই পরিবারে থেকে যেতে চায় তাই একরাতে বাসগাড়ির তেল তুলে নিয়ে ফেলে দেয়। বাসগাড়ি আর চলে না। অথচ এই গ্রামের তরুণরা সেনাবাহিনীতে যোগদান করার জন্য সিউলের উদ্দেশ্যে যাত্রা করতে পারছে না। সবাই উত্তেজিত হয়ে বাসচালককে অভিযুক্ত করে। এই অন্যায় কাজ করার জন্য কিম কেঁদে-কেঁদে মুরাইয়ের বিধবা স্ত্রীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে।
যাহোক, শেষে কিম সব তরুণকে নেতৃত্ব দেয় দৌড়ে পাহাড়ি পথ দিয়ে সিউলে যাওয়ার জন্য কারণ সংক্ষিপ্ত পথ সে ভালো চেনে। সিউলে ফিরে অনেক চেষ্টা করেও প্রতিবেদনটি লিখতে পারে না মনের মতো করে। লিখে আর দলাপাকিয়ে রেখে দেয়। শিরাইশির স্ত্রী এই দৃশ্য দেখে কিমের অবর্তমানে সেই দলাকৃত কাগজগুলো খুলে পাঠ করে অবাক হয়ে যান! লেখাগুলো অসাধারণ হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। স্বামী ফিরে এলে সেগুলো তাকে দেখান। শিরাইশি লেখাগুলো পাঠ করে বিস্মিত হন! কিমের প্রশংসা করেন এবং পত্রিকায় প্রকাশ করলে পরে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এই ঘটনার পর কিম নিজেই একদিন শিরাইশিকে বলে, আমিও যুদ্ধে যেতে চাই। আমাকে জাপানি সেনাবাহিনীতে নিয়োগদানের ব্যবস্থা করুন। শিরাইশি বুঝতে পারেন, শহীদ যোদ্ধা মুরাই শোওই এর দেশপ্রেম তাকে উদ্বুদ্ধ করেছে।
ছবির শেষ দৃশ্যে দেখা যায়, শিরাইশির স্ত্রী এবং শহীদ মুরাইয়ের বিধবা স্ত্রী কিমকে কুসুমাচ্ছাদিত পথে ফুল দিয়ে সাজিয়ে বিদায় জানাচ্ছে।
ছবিটি দেখার পর আমি থ হয়ে কিছুক্ষণ বসে রইলাম। এই হচ্ছে স্বদেশপ্রেম, জাতিপ্রেম। এভাবে শহীদ যোদ্ধারা পরবর্তী প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করে। এর চেয়ে দেশাত্ববোধের শিক্ষা আর কী হতে পারে!
চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর পর একটি আলোচনার আয়োজন করা হয়। তাতে প্রধান আলোচক ছিলেন জাপানে জন্ম চোওছেন পিতা-মাতার বংশধর জাপানের ইম্পেরিয়াল বিমান বাহিনীর প্রাক্তন কর্নেল, বর্তমানে কোরিয়ান সমালোচক ও কোরিয়া বিমান বাহিনী একাডেমীর প্রফেসর এমিরেটাস সাম য়ুন। জাপানে তিনি সাই সেনসেই বা সাই স্যার হিসেবে সুপরিচিত। চলচ্চিত্রটি দেখে তিনি বলেন, ছবিতে যা দেখানো হয়েছে সবই বাস্তব। জাপানের অধীনে থাকার সময় চোওছেন নাগরিকরা জাপানি রাজকীয় সেনাবাহিনীতে বড় বড় পদে চাকরি করতেন। সেখানে কোনো প্রকার বৈষম্য ছিল না। জাপানিরা যেভাবে দেশপ্রেম, দেশাত্ববোধ জাগিয়ে তুলেছিলেন কোরিয়ায় তাতে করে বহু চোওছেন তরুণ জাপানি সেনাবাহিনীতে স্বেচ্ছায় যোগদান করতে চেয়েছিল তার উদাহরণ খুঁজে পাওয়া যায় না। জাপানের সেনাবাহিনী কোনোকিছুই ধ্বংস করেনি, কোরিয়ার সবকিছু ধ্বংস হয়েছিল ১৯৫০ সালে সংঘটিত দুই কোরিয়ার যুদ্ধে। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী জাপানি সেনাবাহিনীর শিক্ষাগুণ, দেশাত্ববোধ আর জাতীয়তাবাদী চেতনা দিয়ে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল।
চলচ্চিত্র প্রদর্শন ও আলোচনা শেষে ছিল কোনশিনকাই তথা প্রীতিসমাবেশ, সেখানে ৪০ জনের অধিক পানশালায় আমরা অংশগ্রহণ করি। জাপান-কোরিয়া সম্পর্ক ছাড়াও এশিয়ার ভারত, বাংলাদেশ, চীন, ভিয়েতনাম; রবীন্দ্রনাথ, নেতাজি থেকে শুরু করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব, মহান মুক্তিযুদ্ধে জাপানিদের অবদান বিষয়ে তুমুল আলোচনা হয় দুই ঘণ্টাবাপী। এই কোনশিনকাই জাপানের একটি সামাজিক রীতি। ইতিহাস নিয়ে তর্কাতর্কি, আলোচনা-সমালোচনা যা-ই হোক প্রীতিসমাবেশে এসে সবাই মিলেমিশে বন্ধু হয়ে যায়। অনেক কিছু শেখা যায়, জানা যায়, ঋদ্ধ হওয়া যায়।
ফেরার পথে ট্রেনে বসে বসে ভাবছিলাম, দুর্বল শাসনব্যবস্থা দুর্বল শিক্ষা ব্যবস্থাই গড়ে তোলে। দুর্বল শিক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল নাগরিক তৈরি করে। কোল্লা পাথরের পবিত্র শহীদস্মৃতিসমাধিকে যেসকল তরুণ-তরুণী কলুষিত করেছে তারা বর্তমান দুর্বল শাসন ও শিক্ষা ব্যবস্থার শিকার মাত্র। সেই শিক্ষা ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের মহান স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান অবহেলিত।
লেখক: শিশুসাহিত্যিক, কথাসাহিত্যিক ও গবেষক







© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};