ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
518
ভারতের হার নিয়ে উঠছে যেসব প্রশ্ন
Published : Monday, 1 July, 2019 at 1:56 PM
ভারতের হার নিয়ে উঠছে যেসব প্রশ্ন চলতি বিশ্বকাপের নানান হিসাব-নিকাশের ম্যাচে বিশ্বকাপ আসরের প্রথম পরাজয়ের স্বাদ পেলো ভারত। এ হারে ক্ষতি হয়ে গেল বাংলাদেশের। অন্যদিকে সেমির স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখলো ইংল্যান্ড। ভারতকে ৩১ রানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে টিকে রইল ইংলিশরা। তবে ভারতের এমন পরাজয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে তুমুল সমালোচনার ঝড়। উঠেছে নানা প্রশ্ন।

ম্যাচে হার্দিক ফেরার পরে কী কারণে ৪৫ নম্বর ওভার থেকেই হঠাৎই সিঙ্গলস নেওয়ার রাস্তায় চলে গেলেন ধোনি আর কেদার, তার ব্যাখ্যা ম্যাচ শেষ হওয়ার পরেও গোটা দেশের মতো খুঁজছে এজবাস্টনের গ্যালারি। হার-জিতের তফাৎ মাত্র ৩১ রানের বলেই প্রশ্নটা কোটি টাকার। এই প্রথম একটা ৩শ’ প্লাস স্কোর তাড়া করতে হল আর সেখানেই মুখ থুবড়ে পড়ল টিম। সেমিফাইনালের টিকিট এখনও এল না ভারতের, অন্যদিকে ভারত ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালের দৌঁড়ে ফিরে এল মরগানের ইংল্যান্ড।

হার্দিক ফেরার পরে পাঁচ ওভারে দরকার ছিল ৭১। ক্রিজে ধোনি, সঙ্গে আইপিএলে তার চেন্নাই সুপার কিংসে খেলা টিমমেট কেদার যাদব। আইপিএলের যুগে পাঁচ ওভারে ৭১ আকছার হয়ে থাকে। সেখানে রান তাড়া করে ফিনিশ দূরের কথা, বিগ শটই বেরোল না ধোনির ব্যাট থেকে। একই দোষে দোষী কেদারও। একটা ম্যাচে হারতেই পারে টিম, কিন্তু শেষ দিকে বিগ শট মারা অনীহায় বিরক্ত গ্যালারি আওয়াজ তুলল, ‘হায় হায় ধোনি!’ ক্রমাগত সিঙ্গলস নিয়ে নিয়ে ম্যাচকে মেরে ফেলার অর্থ কী, সেই প্রশ্নে উত্তাল সোশ্যাল মিডিয়া।

তাহলে কি হার্দিক ফিরতেই ধোনি-কেদার ধরে নিয়েছিলেন, আর জেতার চেষ্টা করারই দরকার নেই? এজবাস্টনের ছোট মাঠে ইংল্যান্ড ইনিংসে আছে ১৩টা ছক্কা, সেখানে ভারতের ৫০ ওভারে মাত্র একটা! সেটাও ম্যাচ একেবারে মরে যাওয়ার পরে শেষ ওভারে মেরেছেন ধোনি।

পরিস্থিতি যা-ই হোক না কেন, জেতার চেষ্টাটা থাকবে না কেন? হার্দিক (৩৩ বলে ৪৫) যতক্ষণ ছিলেন, ম্যাচে ভালো ভাবেই ছিল ভারত। কিন্তু তার পরেই ধোনি-কেদার জুটির ব্যাখ্যাহীন স্লো ব্যাটিং।

রোহিত ফেরার পরে ঝিমিয়ে পড়া এজবাস্টন গ্যালারি হঠাৎ তেতে যায় হার্দিক নামতেই। জীবনের প্রথম বিশ্বকাপে ঋষভের ২৯ বলে ৩২-এ চমক আছে, কিন্তু একবারও মাঠ পার করতে পারেননি ঋষভ। ফলে বিজয় শঙ্করের বদলে তাকে খেলানোর অঙ্কটা শেষ পর্যন্ত ক্লিক করেনি। হার্দিকের মধ্যে চেষ্টা ছিল, তিনি যথাসাধ্য করেছেন। কিন্তু গেমচেঞ্জার হতে পারেননি।

আসলে বিরাট আর রোহিতের উইকেট তুলে নেওয়ার পরে সব সময়েই ম্যাচে এগিয়ে ছিল ইংল্যান্ড। বিশ্বের সব দেশেই এক নিয়ম। বিরাটের উইকেট মানেই প্রতিপক্ষের উল্লাসে লাফিয়ে ওঠা। এজবাস্টনের প্রেসবক্সও ব্যতিক্রম হয়নি। হঠাৎ পাওয়া অক্সিজেন ধরা পড়ছিল ব্রিটিশ মিডিয়ার চোখে-মুখে।

বিরাট যখন ফেরেন, ২৯ ওভারে ভারত ১৪৬-২। এখান থেকে ৩৩৬ তাড়া করতে হলে অন্তত দু’টো জুটি দরকার ছিল। মাত্র ৪ রানে ক্যাচ দিয়ে বেঁচে যাওয়ার পরে টুনার্মেন্টে নিজের তিন নম্বর সেঞ্চুরিটাও করে এসেছিলেন রোহিত। যে কোনও ওয়ান ডে ম্যাচে সেঞ্চুরির পর ৩৫ থেকে ৪৫ ওভারেই যে রোহিত বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক, ম্যাচের আগের দিন প্রেস কনফারেন্সে বলেছিলেন বিরাট। ভারতের কপাল খারাপ, ঠিক যখন মনে হচ্ছে, সেঞ্চুরির পর আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবেন রোহিত, (১০২) তখনই মিসহিটে তাঁর উইকেট। সেঞ্চুরি করলে সাধারণত অধিকাংশ সময়ে ম্যাচ ফিনিশ করে ফেরেন রোহিত। এই ম্যাচ ব্যতিক্রম।

এই বিশ্বকাপে ছ’টা ম্যাচ খেলে ফেলল ভারত। তার মধ্যে একটাও সেঞ্চুরি নেই বিরাটের। আছে টানা পাঁচটা হাফ সেঞ্চুরি। ২০১৫ বিশ্বকাপের পর থেকে হিসেব নিলে হাফ সেঞ্চুরি করার পরে ২০টা ইনিংসের মধ্যে ১৪টা ইনিংসে সেঞ্চুরি করে ফিরেছেন বিরাট। রান তাড়া করার ক্ষেত্রে এটাই তাঁর বিশেষত্ব। অথচ এ দিন টিমের প্রয়োজনের সময় একটা লুজ শটে তাঁর উইকেট দিয়ে আসা। আরও ১০টা ওভার তিনি ক্রিজে থাকলে ম্যাচ ইংল্যান্ড পেত না।

যে কোনও টিমের পক্ষেই ৩৩৬ তাড়া করে ম্যাচ বের করা সব সময় কঠিন। বিশেষ করে বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে চাপটা সব সময় বেশি থাকে। সেখানে ভারত শুরুতেই ধাক্কা খায় রাহুল (০) কিছুই করতে না পারায়। শুরুর ধাক্কা সামলাতেই কয়েকটা ওভার যায় রোহিত-বিরাটদের। দু’জনের কাউকে শেষ অবধি থাকতে হত। সেটা হয়নি এবং মিডল অর্ডার বাকি কাজটা করতে পারেনি।

টস যে এই ম্যাচে সবচেয়ে জরুরি হতে যাচ্ছে, জানাই ছিল। তার সঙ্গে যদি যোগ হয় সৌভাগ্য, তা হলে সেটা সোনায় সোহাগা হয়ে দাঁড়ায়। ইনিংসের শুরুতেই চাইনিজ কাট মেরে প্লেড-অন হতে হতে সামির বলে অল্পের জন্য বেঁচে যান বেয়ারস্টো। ওই বেঁচে যাওয়াতে ছিল অশুভ ইঙ্গিত। তার পরে পান্ডিয়ার বলে জেসন রয় নিশ্চত কট বিহাইন্ড হওয়া সত্ত্বেও আম্পায়ারের আউট না দেওয়া। এবং ধোনির পরামর্শে বিরাটের রিভিউ না করার সিদ্ধান্ত। এই বিশ্বকাপে এই নিয়ে তিনবার ধোনির সিদ্ধান্ত ভুল প্রমাণিত। ওই সময় রিভিউ ভারতের পক্ষে গেলে ম্যাচ অন্যরকম হতেও পারত।

প্রথম পাওয়ার প্লে-তে ১০ ওভারে ৪৭, তখনও ম্যাচ ছিল বিরাটের নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু উইকেটের আশায় চাহলকে আনতেই ‘তেড়ে মেরে ডান্ডা’-র অঙ্কে চলে যান বেয়ারস্টো-রয় জুটি। একে এজবাস্টনের মাঠ ছোট, তার উপর আউটফিল্ড যথেষ্ট দ্রুতগতির। কুলদীপকে এনেও লাভ হয়নি বিরাটের। কখনও স্টেপ আউট করে মারা ছক্কা, শর্ট পড়লেই পুল আর সুযোগ পেলেই নিয়ন্ত্রিত রিভার্স সুইপে মারা বাউন্ডারি। ২২ ওভারে ১৬০, তখন স্কোর প্রেডিক্টর দেখাচ্ছিল ৪০০ প্লাসও করে ফেলতে পারে ইংল্যান্ড। রয় (৫৭ বলে ৬৬) যে ভাবে ব্যাট করছিলেন, লংয়ে ঝাঁপিয়ে নেওয়া জাডেজার ওই অসামান্য ক্যাচটাই হয়ে যায় ভারতের পরিত্রাতা।

বেয়ারস্টো (১০৯ বলে ১১) যখন ফেরেন, ইংল্যান্ড ৩২ ওভারে ২০৫-২। এখান থেকে স্কোর ৩৫০ প্লাস প্রত্যাশিত ছিল। কিন্তু যখন রান রেটটা বাড়ানোর দরকার ছিল, তখন সামির ছোট স্পেলটা (৩-১-৩-২) ইংল্যান্ডকে থমকে দেয়। বেন স্টোকস ৫৪ বলে ৭৯ রানের ইনিংসটা খেলেছিলেন বটে, কিন্তু অন্য দিকে সে ভাবে স্ট্রাইক রেটটা বাড়াতে ব্যর্থ জো রুট (৫৪ বলে ৪৪)।

নক আউটের আগে ভারতের দুই রিস্ট স্পিনারের পারফরম্যান্স নিয়ে খচখচানি থাকছে। কুড়ি ওভারে দুই স্পিনার দিয়েছেন ১৬০, উইকেট মাত্র একটা! সামি (৫-৬৯) জীবনে প্রথমবার ওয়ান ডে-তে পাঁচ উইকেট পেলেও ডেথ-এ বেন স্টোকস ও বাটলারের সামনে তাঁকে বিভ্রান্ত লেগেছে। সেখানে যথারীতি ইয়র্কারের পর ইয়র্কারে সেট হওয়া স্টোকসকেও মারতে দেননি বুমরা। শেষ ওভারে তাঁর উইকেটটাও তুলেছেন। এই ফ্ল্যাট উইকেটে টিমের সবাই যখন মার খাচ্ছে, সেখানে বুমরার বোলিং স্পেল ১০-১-৪৪-১। শুধু এই বোলিং গড় দেখে বোঝা যাবে না, ডেথ-এ কী বোলিংটা করেছেন বুমরা।

কী দাঁড়াল? কাল বাংলাদেশ ম্যাচ না জিতলে সেমিফাইনালের রাস্তা ফের দুর্গম দেখাবে। 





© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};