ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
222
দেবীদ্বারে নিহতদের দাফন সম্পন্ন
Published : Friday, 12 July, 2019 at 12:00 AM
থানায় পৃথক ২টি মামলা------
এবিএম আতিকুর রহমান বাশার ঃ
দেবীদ্বারে এক রিক্সা চালক কর্তৃক দা’ দিয়ে এলোপাথারী কুপিয়ে ভয়ঙ্কর রক্তের হলি খেলায় প্রকাশ্যে মা- ছেলে সহ ৩ জনকে হত্যা সহ আরো ৭ জন মারাত্মক আহত এবং গণপিটুনিতে ঘাতক নিহত হওয়ার ঘটনায় দেবীদ্বার থানায় পৃথক দু’টি মামলা হয়েছে।
বুধবার রাতে নিহত নাজমা বেগম(৪০)’র ছোট ভাই উপজেলার জাফরাবাদ(মনিপুর) গ্রামের মোঃ তমিজ উদ্দিন ফকির’র পুত্র মোঃ রুবেল (২৪) বাদী হয়ে উপজেলার রাধানগর গ্রামের মোঃ মুর্তুজ আলীর পুত্র ঘাতক মৃত: মোখলেছুর রহমান(৪৫)কে এক মাত্র আসামী করে দেবীদ্বার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। অপরদিকে গণপিটুনিতে নিহত ঘাতক রিক্সা চালক মোখলেছুর রহমান(৪৫)’র স্ত্রী মোসাঃ রাবিয়া বেগম(৩০) বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ১০০০/১৫০০ জন আসামী করে মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে রাধানগর গ্রামের মুর্তুজ আলীর ছেলে রিক্সা চালক মোখলেছুর রহমান একটি ধারালো দা ক্রয় করে বাড়ীতে এসে আকস্মিক লোকজন এলোপাতারি কোপাতে থাকে। এতে রক্তাক্ত লোকজন বিকৃত অবস্থায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে মাটিতে পড় থাকতে দেখা যায়। এ সময় প্রতিবেশী নুরুল ইসলামের স্ত্রী নাজমা আক্তার (৪০), মৃত শাহ আলমের ছেলে আবু হানিফ (১০) এবং স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (৪৫) ঘটনাস্থলেই মারা যান। ওই সময় ঘাতক মোখলেছের দায়ের কুপে আব্দুল লতিফ(৪৫), মাজেদা বেগম(৬৫), নুরুল ইসলাম(৫০), রাবেয়া বেগম(৪০), ফাহিমা(১০), জাহানারা বেগম(৫০) সহ আরো ৬জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে মাজেদা বেগম ও জাহানারা বেগমের অবস্থা আশংকা জনক বলে জানা যায়। এ সময় ঘাতকের রক্ত খেলার তান্ডব লীলা দেখে স্থানীয় লোকজন মসজিদের মাইকে ঘোষণা করলে বিপুল সংখ্যক জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাকে আটক করে গণপিটুনী দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই ঘাতক মোখলেছ মারা যায়।
নিহতদের লাশ দাফন ঃ
এদিকে বৃহস্পতিবার বিকালে ঘাতক মোখলেছুর রহমান সহ নিহত চার জনের লাশ ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের সদস্যদের নিকট হস্তান্তর করে থানা পুলিশ। এ সময় ঘাতক মোখলেছের লাশ হস্তান্তর করতে তার পরিবারের কোন সদস্যকে পাওয়া যায়নি। পরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে কয়েকজন লাশ গ্রহন করেন। বৃহস্পতিবার বিকালেই জানাযা শেষে নিহত আনোয়ারা বেগম ও তার ছেলে আবু হানিফকে তালতলা আদর্শ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশ্বে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। নাজমা আক্তার ও ঘাতক মোখলেছুর রহমানের লাশ দাফন করা হয় রাধানগর গ্রামের গণকবরস্থানে।
সুলতানপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ সফিকুল ইসলাম জানান, ঘাতক মোখলেছুর রহমানের লাশ দাফন না করতে এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে যায়। আমি এলাকাবাসীকে বুঝিয়ে শান্ত করি এবং লাশ দাফন করার ব্যবস্থা করি।
এ বিষয়ে দেবীদ্বার থানার ওসি মোঃ জহিরুল আনোয়ার জানান, উপজেলার রাধানগর গ্রামের ৪ হত্যাকান্ডের ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোন কারণ আছে কিনা সে বিষয়টি আমরা গভীরভাবে খতিয়ে দেখছি।
এখন স্থানীয়দের মুখে মুখে প্রশ্ন ঘাতক হঠাৎ রক্ত খেলায় কেন মেতে উঠল ? ঘাতক মুখলেছুর রহমান(৪৫) প্রায় ১২ বছর পূর্বে পাশ্ববর্তী তালতলা গ্রাম থেকে এসে রাধানগর গ্রামের মামার বাড়িতে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। সে ১ ছেলে ও ২ মেয়ে সহ ৩ সন্তানের জনক ছিলেন। ইতিমধ্যে তার বড় মেয়ে সালমার বিয়ে হয়ে যায়। এক মাত্র ছেলে মারুফ চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ে, ছোট মেয়ে মাইস্যা বয়স তিন বছর। পেশায় রিক্সা চালক হলেও ইতিমধ্যে একতলা ভবনের মালিক বনে যাওয়ায়ও এলাকায় আয়ের উৎস নিয়ে সকলের দৃষ্টি কাড়ে। তাছাড়া মঙ্গলবার রাতে বোরখা পরিহিত মহিলা সহ কয়েকজন পুরুষ তার বাড়িতে কেন এসেছিল ? সে আগে থেকেই দোকানে দা’র অর্ডার কেন দিয়েছিল ?  যা ঘটনার দিন কিস্তি দেয়ার টাকা সংগ্রহের কথা বলে ওই দা এনে মানুষ হত্যার কাজে ব্যবহার করে ? পুলিশ বলছেন তার মাথা ব্যথা ছিল তাই প্রায়ই নাকি ঘুমের ঔষধ খেত। তার মাথায় সমস্যা ছিল। তবে মাদক বিক্রয়ের সাথে জড়িত থাকা সন্দেহ করলেও মাদক সেবনের বিষয়টি কেউ নিশ্চিত করতে পারেননি। প্রায় প্রতিদিনই জামাতের সাথে নামাজ আদায় করার বিষটিও অনেকে নিশ্চিত করেছেন। সে কি কোন জঙ্গী সংগঠনের সাথে জড়িত বা সম্প্রতি পদ¥া সেতুর অপপ্রচারে কারোর দারায় প্রভাবিত বা আর্থিক সুবিধা প্রাপ্তির আশায় এ কাজটি করেছে ? নানা প্রশ্ন এখন ঘুরে ফিরে মানুষের মাঝে লক্ষ করা যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রতিবেশী নারী জানালেন, তার পিতা সম্পত্তির ভাগ থেকে বঞ্চিত করে বোনকে কিছু সম্পত্তি লিখে দেয়ার কারনে সে মানষিকভাবে বিকারগ্রস্থ্য ছিল। অপর এক যুবক সব মিলিয়ে বলেন, যে যাই বলুক, এ হত্যাকান্ডের পেছনে অবশ্যই একটি রহস্য লোকায়িত আছে, যা তদন্ত স্বাপেক্ষে বের করা জরুরী।
বৃহস্পতিবার দেবীদ্বার উপজেলা আইনশৃংখলা মিটিংএ এ হত্যাকান্ডের বিষয়টি অগ্রাধিকার পায়। কারন সকাল বেলায় বিদ্যালয়, কোচিং, প্রাইভেট প্রায় বন্ধের পথে, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর উপস্থিতির হারও কমে গেছে। সভায় এ বিষটি গুরুত্ব সহকারে নিয়ে আলোচকরা বলেন, গুজব কান না দিতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষকদের আরো সচেতন করতে হবে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত হচ্ছে।








© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};