ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
6848
কলঙ্কের চিহ্ন কুমিল্লার তিনটি বাড়ি ও ধিক্কৃত মেজর ডালিম
Published : Thursday, 15 August, 2019 at 12:00 AM
কলঙ্কের চিহ্ন কুমিল্লার তিনটি বাড়ি ও ধিক্কৃত মেজর ডালিমআবুল কাশেম হৃদয়
বাঙালি জাতির ইতিহাসে কলঙ্কের চিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে কুমিল্লার তিনটি বাড়ি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত খুনিরা থাকতেন এই বাড়িগুলোতে। কুমিল্লার দাউদকান্দির দশপাড়ায় খোন্দকার  মোশতাক আহমদের বাড়ি, চান্দিনার ছয়ঘড়িয়ায় কর্নেল আবদুর রশিদ খোন্দকারের বাড়ি আর মেজর শরিফুল হক ডালিম কুমিল্লা শহরের অশোকতলার যে বাড়িতে থাকতো সেই বাড়ি। খোন্দকার  মোশতাক আহমেদ মারা গেলেও কর্নেল আবদুর রশিদ খোন্দকার আর মেজর শরিফুল হক ডালিম কোথায় আছে তা জানে না সরকারও। কিন্ত তাদের বসবাসের এই বাড়িগুলোতে সেই সব খুনিরা বা তাদের উত্তরাধিকাররা না থাকলেও বাড়িগুলো বহন করছে অভিশাপের চিহ্ন। কুমিল্লাকে কলঙ্কিত করা এসব বাড়িগুলোকে লক্ষ্য করে মানুষ এখনো ঘৃণা জানায়। ঘৃণা জানিয়ে কুমিল্লার মানুষ জাতির জনক হত্যার কলঙ্ক যেন মোচন করতে চায়।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত সাবেক রাষ্ট্রপতি খোন্দকার  মোশতাক আহমেদের বাড়ি কুমিল্লার দাউদকান্দির সুন্দলপুরের দশপাড়ায়। চারদিকে দেয়াল ঘেরা বিশাল ঐ বাড়িতে দোতলা একটি বিল্ডিং রয়েছে। রয়েছে একটি মসজিদ ও পারিবারিক কবরস্থান। কবরস্থানের কবরগুলোতে সাইনবোর্ডে নাম পরিচয় থাকলেও  মোশতাক আহমেদের কবরে কোন সাইনবোর্ড নেই। সেটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। বাঁশ দিয়ে ঘেরা ঐ কবরের বেড়িতে রঙ করা আছে।
দোতলা ঐ বাড়ির নিচতলায় মসজিদের ইমাম ও মাজারের একজন খাদেম ছাড়া সেখানে এখন তাদের কেউ থাকে না। খোন্দকার  মোশতাক আহমেদের এক ছেলে খোন্দকার ইসতিয়াক আহমেদ আমেরিকায় এবং মেয়ে খোন্দকার শিরিন সুলতানা এবং ডা. খোন্দকার নাজনিন সুলতানা লন্ডনে থাকেন। তাদের পরিবারের সদস্যরা মাঝে মধ্যে দশপাড়ায় সেই বাড়িতে আসেন। দোতলা বাড়িটির পাশেই রয়েছে দশপাড়া হযরত কবির উদ্দিন সিনিয়র কামিল মাদ্রাসা। আত্মস্বীকৃত খুনি  মোশতাক ১৯৯৫ সালে মারা যান।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার আরেক আত্মস্বীকৃত খুনি লে. কর্নেল অব. আবদুর রশিদ খোন্দকারের কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার ছয়ঘড়িয়া গ্রামের বাড়িটি এখন জনশূন্য। তার সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সরকারের পক্ষে কুমিল্লা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হাসানুজ্জামান কল্লোলের নির্দেশে এবং চান্দিনা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উপস্থিতিতে ফাঁসির দ-প্রাপ্ত পলাতক আসামি রশিদের বাড়িসহ ৬ দশমিক ১২ একর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ৬টি সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে দিয়েছে চান্দিনা থানা পুলিশ। এর মধ্যে তার বাবার আব্দুল করিমের সম্পত্তিও রয়েছে।
আবদুর রশিদ খোন্দকারের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, জনশূন্য অবস্থায় পড়ে আছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর খুনির একতলা বাড়িটি। এই বাড়িসহ ছয়ঘরিয়া-করতলা-পানিপাড়া ও থানগাঁও মৌজার ৬ দশমিক ১২ একর সম্পত্তিতে ‘তফসিল বর্ণিত সম্পত্তি সরকারের বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি, ওই সম্পত্তিতে জনসাধারণের ‘প্রবেশ নিষেধ’ লেখা সম্বলিত সাইনবোর্ড সাঁটানো হয়েছে।
এক সময় এই বাড়িটি পাহাড়া দিতেন কেয়ারটেকার অব: সার্জেন্ট সাইফুল। এক এগারোর পটপরিবর্তনের সময় থেকে তার মেয়ে মেহনাজ রশিদ খোন্দকার ছাড়া এই বাড়িতে তার পরিবারের আর কেউ আসতো না। মেহনাজ রশিদ একেরপর এক মোবাইল এর সিম পরিবর্তন করতো। কেয়ারটেকার সাইফুল বাসভবনের পাশে অবস্থিত একতলা বিল্ডিং এ সপরিবারে বসবাস করতেন। তিনি ছিলেন ৩ হাজার টাকায় মাসিক বেতনভুক্ত কর্মচারী।
জানা গেছে, বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার পর সে সময়ে বিএনপি ও এরশাদ সরকারের সময় স্বাধীনভাবে এই বাড়িতে বসবাস করলেও ১৯৯৬ সনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ তথা জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠন করার পরপরই দেশত্যাগ করে আবদুর রশিদ খোন্দকার। এর আগে ১৯৯৬ এর ১৫ ফেব্রুয়ারি বিতর্কিত নির্বাচনে অংশ নিয়ে আবদুর রশিদ খোন্দকার সংসদ সদস্য হয়েছিলো। ১৯৯৬ এ দেশ ত্যাগ করে বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি আবদুর রশিদ খোন্দকার আর দেশে আসতে পারেনি।
তবে কর্নেল রশিদের কন্যা মেহনাজ রশিদ খোন্দকার বিদেশ থেকে বাংলাদেশে এসে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার ছয়ঘরিয়ার বাজেয়াপ্ত করা সেই বাড়িতে ওঠেছিল। দীর্ঘদিন এই বাড়িতে থেকেছে এবং মাঝে মধ্যে ঢাকার বাড়িতে থাকতো। পরবর্তী সময়ে বাড়িটিতে আর্ক কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার লিখে সাইনবোর্ড টানিয়ে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরি করে তার দখলে রেখেছিল এবং বিভিন্ন মাধ্যমে লোকবল তৈরি করে ২০০৮ এর ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে চান্দিনা আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নেয়। নির্বাচনে চরমভাবে ব্যর্থ হয়ে এলাকাছাড়া হয় সে। পরে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যায় মেহনাজ। এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার সাথে তা ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ উঠে।
কুমিল্লার প্রাক্তন জেলা প্রশাসক হাসানুজ্জামান কল্লোল জানান, আবদুর রশিদ খোন্দকারের ঐ সব সম্পত্তি এখন সরকারের বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি, ওই সম্পত্তিতে জনসাধারণের প্রবেশ নিষেধ কথা লিখে সাইনবোর্ড টানিয়ে দেয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে ঐ সম্পত্তি জনকল্যাণে ব্যবহৃত হবে।
অপরদিকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার আরেক আত্মস্বীকৃত খুনি লে. কর্নেল অব. শরিফুল হক ডালিম তার বাবার চাকরির সুবাদে কুমিল্লায় পড়াশুনা করতো। সে ছিলো কুমিল্লা জিলা স্কুল এবং কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্র। তার বাবা কুমিল্লা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ছিলেন। সে কারণে তারা থাকতেন কুমিল্লা শহরের অশোকতলা চৌমুহনীর ১৪৯ নম্বর দোতলা সরকারি রিক্ইুজিশনের বাড়িটিতে। তারপর সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়ার পর সে ছিলো কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে। অশোকতলার সে বাড়িটি দেখলে এখনো কুমিল্লা মানুষের মনে পড়ে যায় সেই ধিকৃত লে. কর্নেল অব. শরিফুল হক ডালিম ওরফে মেজর ডালিমের কথা। অশোকতলার ঐ দোতলা বাড়িতে স্বাধীনতার পর উপর তলায় মৎস্য কর্মকর্তা এবং নিচতলায় খাদ্য কর্মকর্তা থাকতেন। এখন সেখানে থাকে কুমিল্লার বিশিষ্ট শিল্পী প্রয়াত নাসির আহমেদ এর পরিবার।
সঙ্গীত শিল্পী পল্লব জানান, ১৯৮৫ সাল থেকে তারা বাড়িটি লিজ নিয়ে সেখানে থাকেন। এর আগে সরকারি কর্মকর্তারাই থাকতেন।
কুমিল্লার এই তিনটি বাড়ি এখন ইতিহাসের ঘৃণিত সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আছে অভিশাপের বোঝা নিয়ে। বাড়িগুলো দেখে কুমিল্লার মানুষ ঘৃণা প্রকাশ করে।
ধিক্কৃত মেজর ডালিম
কুমিল্লার বাসিন্দা বা কুমিল্লায় বাড়ি না হয়েও ছাত্রজীবনে কুমিল্লায় আসা মেজর ডালিম কুমিল্লার মানুষের কাছে একটি ধিক্কৃত নাম। পুরো নাম, লে. কর্নেল অব. শরিফুল হক ডালিম। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত খুনি মেজর ডালিম মৃত্যুদ-প্রাপ্ত। বর্তমানে পাকিস্তানে পলাতক রয়েছে। ১৯৭৪ সালের ২৮ এপ্রিল আইনশৃংখলা পুন:প্রতিষ্ঠার অভিযানের সুযোগ নিয়ে কুমিল্লা আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতা ও সম্মানিত নেতাদের গ্রেপ্তার ও নির্যাতন করে সমালোচিত ও ধিক্কৃত হয়েছিলো মেজর ডালিম। কুমিল্লার ঐ বিতর্কিত অভিযানের কারণে ১৯৭৪ এর জুলাই মাসে তাকে সেনাবাহিনী থেকে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছিলো। মূলত: ছাত্রজীবনের একটি ঘটনার প্রতিশোধ নিতে গিয়ে সে ঐ অভিযানকে করে তুলেছিলো বিতর্কিত। পরবর্তিতে মেজর ডালিম বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্র করে এবং এই হত্যায় অংশ নেয়।
মেজর ডালিমের পিতা কুমিল্লায় মৎস্য কর্মকর্তা হিসেবে চাকুরিরত ছিলেন। তারা থাকতেন কুমিল্লা শহরের অশোকতলায় চৌমুহনীর দোতলা বাড়িটিতে। কুমিল্লায় থাকাকালে মেজর ডালিম কুমিল্লা জিলা স্কুলে এবং কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে পড়াশুনা করেছে। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে পড়াশুনার সময় এনএসএফ করা এবং মেয়েদের উত্ত্যক্ত করার ঘটনায় তৎকালীন ছাত্রনেতা আফজল খানের সাথে বিরোধে জড়িয়ে পড়ে। মেয়েদের উত্ত্যক্ত করায় ছাত্রদের হাতে মারও খেয়েছিলো সে। এটা ছিলো ষাটের দশকের ঘটনা। ১৯৬৪ সালে সে পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে যোগ দেয়। ১৯৬৫ সালে বিমান বাহিনী থেকে সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়।
১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের পর কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে চাকুরিরত ছিলো মেজর ডালিম। ১৯৭৪ সালের ২৮ এপ্রিল দেশব্যাপি আইনশৃংখলা পুন:প্রতিষ্ঠা ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে মেজর ডালিম ছিলো কুমিল্লার দায়িত্বে। কর্নেল হুদা ছিলেন কুমিল্লা অঞ্চলের প্রধান (কুমিল্লা নোয়াখালী সিলেট)। অভিযানের সুযোগে মেজর ডালিম কুমিল্লার শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে গ্রেপ্তার ও নির্যাতন শুরু করে। একে একে গ্রেফতার করে জেলা আওয়ামীলীগ নেতা আবদুল আজিজ খান, অধ্যক্ষ আবদুর রউফ, জেলা আওয়ামীলীগের তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আফজল খান, আওয়ামীলীগ নেতা এডভোকেট রুস্তম আলী, মাঈনুল হুদা দুলাল, কমান্ডার ইকবাল আহমেদ বাচ্চু, নাজমুল হাসান পাখির ভাই বাবু, মাঈনুল হুদা দুলালের ভাই বদরুল হুদা জেনুসহ এ বাড়ির বেশ কয়েকজন এবং আরো বেশ ক’জন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে। তাদেরকে গ্রেপ্তার করার পর নেয়া হয় শহরের শাকতলাস্থ ওয়াপদা রেস্ট হাউসে। সেখানে চালানো হয় নির্মম নির্যাতন। আবদুল আজিজ খানের মতো সম্মানিত নেতাকে শহরের রাজগঞ্জ সড়কে ক্রোলিং করানো, নির্যাতন করা এবং কোন অপরাধ না থাকায় আফজল খানকে গ্রেফতারের ঘটনা ব্যাপক সমালোচিত হয়। তাছাড়া অনেকেরই কোন অভিযোগ না থাকার পরও গ্রেফতার ও নির্যাতনের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন রাষ্ট্রপ্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আওয়ামীলীগ নেতৃবন্দকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার ঘটনা শীর্ষ নেতৃবৃন্দকেও ক্ষুব্ধ করে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে তৎকালীন সেনা কর্মকর্তা জেনারেল জিয়াউর রহমান (পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি) হেলিকপ্টারে করে এসে কুমিল্লা সেনানিবাসের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার হুদা, মেজর ডালিমকে সাথে নিয়ে ঢাকায় যান। ঢাকা সেনানিবাস থেকে সেনা প্রধান জেনারেল শফিউল্লাহ ব্রিগেডিয়ার হুদা ও মেজর ডালিম যান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িতে। সেখানে বঙ্গবন্ধু কুমিল্লার নেতাদের গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সে সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সচিব তোফায়েল আহমেদ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এসময় বেশ কয়েকজন সেনাকর্মকর্তাকে শাস্তি দেয়ার কথা বলেন এবং গ্রেপ্তারকৃতদের ছেড়ে দিতে নির্দেশ দেন। বঙ্গবন্ধু বলেন, কুমিল্লা সেনানিবাসের ক্যাপ্টেন হাই, ক্যাপ্টেন হুদা, লেফটেনেন্ট তৈয়ব এর বিরুদ্ধে অ্যাকশন নিতে হবে। কিন্তু বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নিতে চায়নি ব্রিগেডিয়ার হুদা ও মেজর ডালিম। পরের দিন সেনাপ্রধান কুমিল্লার গ্রেপ্তারকৃতদের ছেড়ে দেয়ার আদেশ দেন। ব্রিগেডিয়ার হুদা হেলিকপ্টারে কুমিল্লায় এসে গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি দেন। অনেককে ছেড়ে দিলেও ছাত্রজীবনে মারের প্রতিশোধ নিতে আফজল খানকে জেল হাজতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। প্রায় দেড়মাস জেলে থেকে মু্িক্ত পান আফজল খান। এ ঘটনার কিছুদিন পরই জুলাইয়ের শেষ দিকে সেনা বাহিনীর চাকুরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয় মেজর ডামিলকে সেই সাথে মেজর নূরকে। চাকরিচ্যুতির পর কুমিল্লায় আসতে দেয়া হয়নি মেজর ডালিমকে। সেনা প্রহরায় তার স্ত্রী নিম্মীকে কুমিল্লা থেকে বিমানে করে ঢাকায় নেয়া হয়।
ছাত্রজীবন থেকে বখাটে প্রকৃতির শরিফুল হক ডালিম বঙ্গবন্ধু পরিবারের সাথে ঘনিষ্ঠ এবং ¯েœহভাজন হয়েও বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় এবং হত্যাকা-ে  সরাসরি অংশ নেয়।
১৯৭৪ সালের ২৮ এপ্রিল বিতর্কিত অভিযান চালিয়ে কুমিল্লার মানুষের কাছে দারুণ সমালোচিত এবং বঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িত হয়ে হয় ধিক্কৃত। ২০০৯ সালের ১৫ আগস্ট এটিএন বাংলা টিভির এক টকশোতে তোফায়েল আহমেদ কথা বলতে গিয়ে কুমিল্লায় আফজল খানের উপর নির্যাতন এবং গ্রেফতারের ঘটনা বর্ণনা করে বলেন এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় বঙ্গবন্ধু হত্যার পর যে নির্যাতন চালিয়ে ছিলো সে ঘটনা তুলে ধরেন। এতে কুমিল্লার ঐ বিষয়টি কুমিল্লার মানুষের মধ্যে আলোচনায় আসে।
মেজর ডালিম তার লেখা ‘যা দেখেছি, যা বুঝেছি, যা করেছি’ বইয়ে সেসব ঘটনার বর্ণনা দিয়েছে অকপটে। স্বীকার করে লিখেছে কিভাবে সে বঙ্গবন্ধু হত্যায় অংশ নেয়। সে তার বইতে লিখেছে ১৯৭৪ সালের ২৮ এপ্রিলের বিতর্কিত অভিযানের কথাও।
(লেখক: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক ও দৈনিক কুমিল্লার কাগজের সম্পাদক)






© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};