ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
68
মরমী সাধক রায়হানউদ্দিন
Published : Thursday, 12 September, 2019 at 12:00 AM
মরমী সাধক রায়হানউদ্দিনমোহাম্মদ আবদুল আউয়াল হেনা ||

    “বিশ্বকবির সোনার বাংলা, নজরুলের বাংলাদেশ/জীবনানন্দের রূপসী বাংলা, রূপের যে তার নেউকো শেষ”। কবিতা ও গানের ছত্রের মধ্যে বাংলার রূপের যে পরিচয় পাওয়া যায় তা শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে নয়। বাংলার গ্রামে-গঞ্জে, অজপাড়াগাঁয়ে জন্ম নিয়েছেন অসংখ্যা নাম জানা, না জানা স্বভাব কবি, সাধক ও গায়ক। যাঁরা বিভিন্ন ধর্মীয় বিশ্বাস ও উপলব্ধি হতে উৎসারিত বানী, দেশজ গানের ভাষায় ও সুরের মাধুর্যে অলংকৃত করে আমাদেরকে উপহার দিয়ে গেছেন। তার কতটাইবা আমার সংগ্রহ করতে পেরেছি। তার মধ্যেও কিছু সংগৃহীত হয়েছে যা একদিকে ধার্মিক মানুষকে ঐশী প্রেমের সাধনায় উজ্জীবিত করে আলোর পথের সন্ধান দিয়েছে, অন্যদিকে বাংলার লোক সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে। তেমনি একজন সাধকপ্রবরের কথা এখানে উল্লেখ করছি।

    কুমিল্লা জেলার অন্তর্গত চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের জামুকরা গ্রামে জন্ম নিয়েছেন সাধক রায়হানউদ্দিন। তাঁর জন্মসাল সঠিকভাবে জানা যায়নি। গরীব পিতা-মাতার সন্তান, গ্রামের প্রবীণদের সাথে আলাপ করে জানা যায় যে তাঁর দাদার নাম ছিল সাকিব মাহমুদ, পিতার নাম মুনসী রিয়াজউদ্দিন ফরাজী এবং মাতার নাম আমেনা খাতুন। তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনিই ছিলেন বাবা মায়ের বড় সন্তান। তাঁর দুই পুত্র সন্তানের মধ্যে এখন কেহউ জীবিত নেই। বিদ্যালয়ের কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাই ছিল না, এক কথায় তিনি ছিলেন নিরক্ষর। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যেল রঘুনন্দন পাহাড়েরর পাদদেশে অবস্থিত এই গ্রামের অন্যান্য লোকদের মতো তাঁর পেশা ছিল পাহাড় হতে বাঁশ, বেত, লাকড়ী, ছন ইত্যাদি সংগ্রহ করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা। বিক্রয়লব্ধ টাকা দিয়ে অত্যন্ত কায়কেশে তাঁর সংসার চলতো। এভাবে জীবনের প্রায় শেষ প্রান্তে এসে একজন সাধক পুরুষের সান্নিধ্য লাভ করেন। তাঁর নাম হযরত শাহ সুফী মাওলানা সৈয়দ জমিরউদ্দিন আহমদ প্রকাশ নূরনগরী (রহঃ)। তিনি ছিলেন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি থানার অন্তর্গত মাইজভান্ডার দরবার শরীফের মহান আধ্যাত্মিক সাধক হযরত শাহ্ সুফী মাওলানা সৈয়দ আহমদউল্লাহ (রহঃ) এবং তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র অপর আধ্যাত্মিক মহান সাধক হযরত শাহ সুফি মাওলানা সৈয়দ গোলামুর রহমান প্রকাশ বাবা ভান্ডারী (রহঃ) এর আধ্যাত্মিক প্রতিনিধি বা খলিফা। তিনি ছিলেন রায়হানউদ্দিনের গ্রাম জামুকরা হতে প্রায় দুই মাইল দক্ষিণে তৃষ্ণা পরগনার অন্তর্গত লতিফ শিকদার গ্রামের অধিবাসী। একটি বিশেষ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাওলানা জমিরউদ্দিন শাহের সঙ্গে রায়হানউদ্দিনের পরিচয় এবং পরবর্তীতে শিষ্যত্ব গ্রহণ। হযরত নূর নগরীর হাতে শিষ্যত্ব গ্রহণ করার পর হতেই রায়হানউদ্দিনের আচার-আচরণ ও ভাবের আমূল পরিবর্তন ঘটে। তথ্যানুসন্ধানের মাধ্যমে জানা যায় যে রায়হানউদ্দিন দৈনন্দিন পারিবারিক জীবন যাপনের মধ্যেই তাঁর মুর্শিদের ধ্যানে মগ্ন থাকতেন এবং আধ্যাত্মিক প্রেরণা লাভ করে গান রচনা করতেন এবং গাইতেন। তিনি নিরক্ষর ছিলেন বিধায় লেখাপড়া জানা কাউকে দিয়ে গানগুলি লিখিয়ে নিতেন। এ বিষয়ে তাঁকে বিশেষ ভাবে সাহায্য করেছেন চিওড়া নিবাসী ফখরুজ্জামান সাহেব। উল্লেখ্য, যে গানটি মনে মনে রচনা করতেন তা তিন দিনের বেশী স্মরণে থাকতো না। তাই সময়মতো না লিখতে পারার কারণে অনেক গান হারিয়ে গেছে। তাঁর রচিত গানের বইতে এমন কিছু গান গাওয়া যায় যা ৩/৪ লাইন বিশিষ্ট এবং এ রকম হওয়ার কারণ সে একটাই।

    রায়হানউদ্দিন তাঁর জীবিতাবস্থায় প্রায় ১২/১৩ বৎসর মুর্শিদ এর সান্নিধ্য লাভ করেছিলেন। এ সময়ের মধ্যে তিনি আধ্যাত্মিক সাধনার মাধ্যমে ঐশী আলোকপ্রাপ্ত হয়ে আধ্যাত্মিক জ্ঞান ও গুণের অধিকারী হয়েছিলেন। তাঁর জীবনের বেশ কিছু অলৌকিক ঘটনার বিবরণ তাঁর পরিবারের লোকজন ও গ্রামের মানুষের মুখে শুনা যায়। এভাবে ১২/১৩ বৎসর অতিবাহিত হওয়ার পর ১৩২৬ বাংলা সনের ২৯শে অগ্রহায়ণ মোতাবেক ১৯১৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর রোজ সোমবার বেলা প্রায় তিনটার সময় তাঁর মুর্শিদ হযরত নূরনগরীর (রহঃ) দরবারে এবং তাঁর কোলে মাথা রেখে একটি গান গাইতে গাইতে (এটিই তাঁর জীবনের রচিত শেষ গান) ইন্তেকাল করেন (ইন্না........... রাজেউন)। পরবর্তীতে তাঁর মরদেহ নিজ গ্রাম জামুকড়ায় এনে সমাধিস্থ করা হয়। উল্লেখ্য প্রতিবছর ২৯ অগ্রহায়ন তারিখে তাঁর ভক্তরা সমাধী প্রাঙ্গনে ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও তাঁর রচিত গানের অনুষ্ঠান করে থাকেন। জন্মসাল সঠিকভাবে জানতে না পারার কারণে তাঁর বয়স নির্ধারণ করা যায় নি। তবে কয়েকজন বয়স্ক গ্রামবাসীর সাথে আলোচনা করে জানা যায় যে, রায়হাউদ্দিন আনুমানিক ৬৩ বছর বেঁচে ছিলেন।

    আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, তাঁর রচিত গানগুলি আধ্যাত্মিক প্রেরণা ও উপলব্ধি হতে উৎসারিত যা গভীর অর্থপূর্ণ। গানগুলিতে স্থানীয় ভাষা এবং আরবী, ফার্সী ও উর্দু ভাষার সামঞ্জপূর্ণ সংমিশ্রণ বিশেষভাবে লক্ষণীয়। তাঁর মৃত্যুর প্রায় সাত বৎসর পর অর্থাৎ ১৯২৬ সালে তাঁর পীর হযরত নূর নগরী (রহঃ) এর নির্দেশে জনাব ফখরুজ্জামান সাহেব তাঁর দ্বারা লিখিত ও সংরকক্ষিত গানগুলির একটি সংকলন “প্রেম পুষ্পহার” নাম দিয়ে প্রথম সংস্করণ প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে প্রায় সত্তর বছর পর অর্থাৎ ১৯৯৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে। এটির প্রকাশক জনাব শেখ আহমদ। এতে আরো কয়েকজন মাইজভান্ডারী সাধক রচিত সাতটি গান সংযোজিত হয়েছে। রায়হানউদ্দিন রচিত ২৫৭টি সহ সর্বমোট ২৬৪টি গান নতুন সংস্করণটিতে পাওয়া যায়।

    রায়হানউদ্দিন রচিত গানের কথায় অত্যন্ত গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ আধ্যাত্মিক জ্ঞানের সন্ধান পাওয়া যায়। প্রথম সংস্করণ ছাপা হওয়ার সময় তাঁর পীর হযরত নূর নগরী (রাঃ) এর নির্দেশে রায়হানউদ্দিনের মৃত্যুর মুহুর্তে গাওয়া সর্বশেষ গানটিকে প্রথমে (১নং গান) স্থান দেয়া হয়েছে। গানের কথাগুলো হল- “জুল্লু শান ও রহমান গাওছ পদে হামকো মিলা/গাওছ পদে হামকো মিলা, দেখা তার কুদ্রুতির লীলা/মিলাবে কিছু তওর মিলা, মধ্যে যেনা থাকে জিলা, যেমন জলের সঙ্গে জল মিলা, তাতে নয় মন ছিদ্র জিলা/আতশে আতশ মিলা, রঙ্গে রঙ্গ মোকাবিলা ইত্যাদি। তাঁর মুর্শিদের প্রত্মি আনুগত্য, ভক্তি ও বিশ্বাসকে নিবেদন করেছেন এভাবে-“জানের পেয়ারা, মুর্শিদ হামারা, ছাহেবে গঙ্গানগরী হো, আবদালে গঙ্গানগরী হো” ইত্যাদি। “শীঘ্র চল দাসগণ, গঙ্গানগর মুর্শিদ আছে দেখবা নুরী তন/প্রভু, বানাইয়াছে নুরের মেলা, নুরের সঙ্গে করে খেলা/নুরের নুরে মিশামিশি মিলা গাউছ ধন” এবং ‘বলি ছাহেবে নগরী, আহ্লাদে হামারি/তেরে কদম মে ইয়ে আরজ হো/ মোরা বেটা বেটির জান, কমিনার পরান/ কবুল করহ পদে কোরবানী হো।” উল্লেখ্য যে, রায়হানউদ্দিনের পীরের বাড়ীর এলাকাটিকে গঙ্গানগর সাতবাড়ীয়াও বলা হয়ে থাকে। এজন্য উপরে উল্লেখিত গানসহ আরো অন্যান্য গানেও গঙ্গানগর শব্দটির লক্ষ্য করা যায়। হিংসা-নিন্দা, কলহমুক্ত এটি সুস্থ-সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন সমাজের কথা তিনি ভেবেছেন যা এভাবে ব্যক্ত হয়েছে- “অবোধমন আমার, ভারতবাসী থাকিও হুশিয়ার/ পরহিংসা গৃহীত কার্য-কর্ম শাস্ত্রে লেখা যার/ যদি হীন জনে হিংসা-নিন্দা, করে কোন দুরাচার/অঘোর নারকি হবে, জাহান্নামের এক্তিয়ার” ইত্যাদি। শুধু তাই নয়, তাঁর আপন মাতৃভাষা বাংলার প্রতি অকৃত্রিম দরদ ও চর্চার গুরুত্বের বিষয়টি ব্যক্ত করেছেন এভাবে- “তোরে কে বুঝাইতে পারে ও মন পাগলা/ বঙ্গবাসী হইয়ে কর মন নিন্দা কর বাঙ্গালা/ আরবেতে আরবী, পারস্যতে ফার্সী/ হিন্দুস্থানে হিন্দি বাত, বঙ্গে করে বাঙ্গালা/ আরবী, ফার্সি, হিন্দি দেশে, তারা বাঙ্গালা না ভালবাসে/যাদের দেশে বুলি এয়ছা দেশের রেছালা/ হীন দাসের নত ছের, তোফায়েলে ভান্ডারের/ বাঙ্গালাতে গজল গুনাই গালি দেও ভান্ডারীর চেলা ইত্যাদি। তাঁর এই গানের কথার সাথে মধ্য যুগীয় কবি আবদুল হাকিম এর কথার সাদৃশ্য লক্ষণীয়, যথা : ‘যে জন বঙ্গেতে জন্মি হিংসে বঙ্গবানী/ সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি”। অথচ আবদুল হাকিম এর সাহিত্য চর্চার বিষয়টি সম্পর্কে অজপাড়াগাঁচবাসী নিরক্ষর রায়হানের কোন ধারণাই ছিল না। তাঁর মুর্শিদের মধ্যে আধ্যাত্মিক আলোর সন্ধান ও তার উন্মোচন বা প্রকাশ করার আকুল মিনতি জানিয়েছেন এভাবে- ‘ছুরতের পর্দা খুলে দেও/ জামাল দেখাই খুশী কর নয়তো জীবন নেও/ ছাপাইয়া বাতেনী রূপ, নকল রূপ দেখাইছ খুব/ আর চিত্তে মানে নারে দুঃখ এবার ঘরে নেও/ প্রাণান্তের আর কিবা বাকী, আর দাসে দিওনা ফাঁকি/ তুমি হও কাওছারে ছাকি, জল কেনে না দেও/ দুগ্ধ রাখি মাতৃস্তনে, না দিলে ছাওয়ালগনে/ যত দেখি ত্রিভুবনে বাঁচিতনা কেও” ইত্যাদি। যে মানুষের অন্তর ঐশী প্রেমের দ্বারা উজ্জীবিত তাঁর উপলব্ধিকে তিনি প্রকাশ করেছেন এভাবে- “প্রেমের মর্ম বুকে কে/ তন প্রেমে মজে যারা, সে হয় মাওলার পেয়ারা/ প্রেম রসে মত্ত হয়ে ডুবে রয়েছে/ মিছকিন রায়হানে কয়, প্রেম করা সামান্য নয়, মজনুরে হারাইছে প্রাণ লাইলীর পিরীতে।” যাদের মধ্যে ঐশী প্রেমের কোন অনুভূতি বা উপলব্ধি নেই তাদের নি®প্রাণ অন্তরকে লক্ষ্য করে তিনি পেয়েছেন- “ভাবুক বিনা ভাবের মর্ম জানবে কেমনে/ ভাবুক যারা, বুঝে তারা, আখেরী শানে প্রেমিক জানে প্রেমের বোল, অপ্রেমিকের গন্ডগোল/ কালে কালে প্রেমের কথা চলছে গোপনে/ ডাক্তারে করে ডাক্তারী, রোগ চিনি লয় শিরা ধরি/ সেতো কলিজায় চালাইলে শলি, মরবেনা প্রাণে/ কহে দাস রায়হানে, ভাবুক বিনা ভাব কি জানে/ ভাবুক বিনা ভাবের মর্ম সাধবে কেমনে।”

    আত্ম বা রুহের প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্যকে তিনি দেখেছেন এভাবে- “মন পাখী তোরে ধরতে চাইলে ধরতে নারি কদাচন/ পাখীরে আর সইতে নারি প্রেমের জ্বালাতন/ পাখির মেদিনীপুর স্থানখানি রঙ্গ গুরুর পদছানি/ তাতে পাখি ঐ নূরাণী দেবালয় সিংহাসন/ পাখি, সোনার পিঞ্জিরায় রাখি, খাওয়াই মধু মিশ্রী মাখি/ আমার হৃদ মন্দিরে বসি করে অন্য প্রেমের আলাপন/ পাখির ভয় নাই কুল-কেলেংকারী, ভজে নর ভজে নারী/ নিজের জাত দেখলে পাখি পিঞ্জিরা কাটি হয় মিলন।” একই গানের মধ্যে তিনি তাঁর জ্ঞান অর্জন ও সকল প্রাপ্তির বিষয়টিকে মুর্শিদের প্রতি ভালবাসা, আনুগত্য ও সঠিক অনুসরণের মাধ্যমে প্রাপ্ত হয়েছে মর্মে অকপটে স্বীকার করেছেন এভাবে- ‘আহারে নুরানী পাখি, না বুঝি তোর ফাঁকি নাকি/ কিবা সেকি কিবা নেকি সব নগরীর চরণ/ লোকের এলেম বীর্য্যশালী, কেতাব-কোরান কাগজ-কালি/আহম্মক রায়হানের এলম নগরীর চরণ ধন।”

    অন্যান্য ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ধর্মীয় বিশ্বাস এর প্রতি ছিল তাঁর অত্যন্ত উদার ও অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি। তাঁর ধর্মীয় বিশ্বাস ছিল সকল গোঁড়ামীর উর্ধে যা এভাবে ব্যক্ত হয়েছে- “করুণা করগো মা, মাগো করুণা কালি/ মাগো, তোমার লীলা, তোমার ধ্বনি, তুমি সতী, না হওচাঁদাচরণী/ তোমায় সত্যে পূজে জটাধারী, দ্রাপরে সে বনমালি, রামচন্দ্র ব্র‏হ্ম আত্মা, পুজে তোমার যুগ ক্রেতা/ কলিতে গৌরাঙ্গে পুজে, প্রেম অগ্নি দিল জ্বালি” ইত্যাদি।

    এভাবে তিনি অসংখ্য গান রচনা করেছেন যেখানে সাধকের বিশ্বাস উপলব্ধি হতে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক অসংগতির বিষয়গুলিও ব্যক্ত হয়েছে। তাঁর গানের রচনা কাল ১৯০৬-১৯১৯ খ্রীষ্টাব্দের মধ্যে। লালন শাহের (মৃত্যু: ১৮৯০খ্রী:) অব্যাবহতি পরেই রায়হানউদ্দিনের সাধন জীবন ও সাধনার ফসল ও গানগুলির আত্মপ্রকাশ যা সাধক মনমোহন দত্ত ও সাধক হাছান রাজার সমসাময়িক কালে রচিত হয়েছে। তথ্যঅনুসন্ধানকালে তাঁর গানের সুরের মধ্যেও একটি বিশেষ স্বকীয়তা, নিজস্বতা বা স্বাতন্ত্র সুষ্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যায় যা লালন নীতি, মনমোহন দত্তের গান ও হাছন রাজার গানের সুরে শুনা যায়। তাই রায়হানউদ্দিনকে অনুসন্ধানের মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টির চর্চার শুরু করতে পারলে বাংলার গানের ভান্ডার আরো সমৃদ্ধ হবে। রবীন্দ্র, নজরুল ও জীবনানন্দের বাংলার লোক-সংস্কৃতিতে ও রূপে একটি অভূতপূর্ব ধারার সংযোজন ঘটবে যা নিশ্চিতভাবে বলা যায়।








 











© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};