ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
230
কুমিল্লায় পেয়াজের কেজি ১৮০!
Published : Friday, 15 November, 2019 at 12:00 AM, Update: 15.11.2019 2:52:05 AM
কুমিল্লায় পেয়াজের কেজি ১৮০!রণবীর ঘোষ কিংকর: কুমিল্লায় লাগামহীন ভাবে বেড়েছে পেয়াজের দাম। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে কল্পনাতীত ভাবে পেয়াজের মূল্য বৃদ্ধি পেয়ে আকাশ চুম্বিতে। পাগলা ঘোড়ার মত এক লাফে বেড়ে যাওয়া পেয়াজের মূল্যে লাগাম টানতে রীতিমত হিমশীম খাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। খুচরা বাজারে পেয়াজ স্বল্পতা আর আড়তে পঁচন। এমন পরিস্থিতি নিয়ে চলছে কুমিল্লার পেয়াজ বাজার।
সারা দেশের ন্যায় কুমিল্লায় দেশের কোন আড়তে পেয়াজ নেই এমন অযুহাত দেখিয়ে খুচরা ব্যবসায়ীরা মনগড়া ভাবে নিজেদের ইচ্ছেমত প্রতিদিন পেয়াজের দাম বাড়িয়ে সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতার বাহিরে নিয়ে গেছে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে মানুষ।
২০ টাকা কেজি দরের পেয়াজ এক মাসের ব্যবধানে গত মঙ্গল ও বুধবার কুমিল্লার বিভিন্ন হাট-বাজারে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর মাত্র এক দিনের ব্যবধানে ১২০ টাকা কেজি দরের পেয়াজ কুমিল্লার বাজারে ১৮০টাকা থেকে ২শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
খুচরা বিক্রেতারা দায়ী করছেন আড়তদারদের। আর আড়তদাররা দায়ী করছেন বৈরী আবহাওয়া এবং পেয়াজের পঁচন ও সরবরাহ সহ নানা সমস্যাকে।
বৃহস্পতিবার মহানগরী রাজগঞ্জ বাজার সহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার হাটবাজার ঘুরে দেখা গেছে প্রতি কেজি পেয়াজ ১৮০ টাকা থেকে ২শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মহানগরীর বজ্রপুর এলাকার বাসিন্দা লিটন পাল জানান, আমি গত মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) পেয়াজ কিনেছি ১১০ টাকা কেজি দরে। আজ (বৃহস্পতিবার) বাজারে এসে দেখি প্রতি কেজি পেয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়। যা সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাহিরে।
চান্দিনা বাজারের রিক্সা চালক মকবুল জানান, সারা দিন রিক্সা চালিয়ে কামাই করি ৩শ থেকে সাড়ে ৩শ টাকা। চাল ও তরকার কিনে সংসার চালানোই আমাদের কষ্ট হয়। আর এক কেজি পেয়াজ ২শ টাকা দিয়ে কিনা আমরার পক্ষে সম্ভব না।
সরেজমিনে চান্দিনা পেয়াজ বাজারে গিয়ে বাজারের খুচরা ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বললে তারা জানান, আড়তে পেয়াজ নাই। যা আছে ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকার নিচে বেচে না। আমরা ১৭০ টাকায় কিনে ১৮০ টাকায় বিক্রি না করলে লোকসান হয়। তবে কোন খুচরা বিক্রেতা পাইকারী পেয়াজ কেনার কোন রশিদ দেখাতে পারেনি।
তাদের তথ্যমতে চান্দিনা-দেবিদ্বার উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা কাঠেরপুলের পেয়াজের আড়তে গিয়ে দেখা যায় এক আড়তে পেয়াজ শূন্য। হিমেল বাণিজ্যালয় নামে পেয়াজের আড়তে প্রচুর পেয়াজ। যার অধিকাংশ পঁজা। তবে মূল্য তালিকায় প্রতি কেজি পেয়াজ ১৩০ টাকা নির্ধারন করে বিক্রি হচ্ছে।
ওই আড়ৎ কর্তৃপক্ষ বলছেন, পেয়াজগুলো তুরস্কা-মিশর ও মিয়ানমার থেকে আমদানী করা। ঘুর্ণিচর বুলবুলের কারণে যথা সময়ে বন্দরে পেয়াজ খালাস করতে না পারায় পঁচন দেখা দিয়েছে। আর ওই পেয়াজ আমাদের কাছে এসেছে যার অধিকাংশই পঁচা। আমদানীকারকরা আমাদের কাছে ওই পঁচা বস্তা পাঠিয়ে কমিশনে বিক্রি করতে বলছে। আমরা কেজি প্রতি ১ টাকা লাভ পাই। আজ (বৃহস্পতিবার) খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে ১৩০ টাকায় বিক্রি করেছি।
এ ব্যাপারে চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ¯েœহাশীষ দাশ জানান, বাজার নিয়ন্ত্রণে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

নাঙ্গলকোটের বাজারে পেঁয়াজের দাম দু’শ টাকা:
নাঙ্গলকোট প্রতিনিধি জানান- নাঙ্গলকোটের বাজারে পেঁয়াজের দাম বিক্রি হচ্ছে কেজি দু’শত টাকা। ফলে ক্রেতা সাধারণের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার নাঙ্গলকোট পৌর বাজার ঘুরে এবং উপজেলার বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দোকান গুলোতে পেঁয়াজ প্রতি কেজি দু’শত টাকা দামে বিক্রি করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, অধিক মূল্যে ক্রয় করতে হয় বিধায় বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। নাঙ্গলকোট পৌর বাজারের ক্রেতা কৃষক আবুল কাশেম বলেন, পেঁয়াজ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাহিরে চলে গেছে। তাই পেয়াজ নামক শব্দটি এখন বাজার খরছের খাতা থেকে মুছে ফেলতে হবে। ছয় কেজি চাল বিক্রি করে এক কেজি পেয়াজ কিনতে হয়।  উপজেলা কৃষি অফিসার জাহিদুল ইসলাম বলেন, শুরু নাঙ্গলকোট নয়, সারা দেশে পেয়াজের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পেঁয়াজ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে প্রদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

বরুড়ায় পেঁয়াজের কেজি ২০০ টাকা:
ইলিয়াছ আহমদ জানান-লাগামহীন ঘোড়ার মতোই ছুটছে পেঁয়াজের দাম। কোন কিছুতেই সেই দাম নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারছে না সরকার। আগের দিনে ১৫০ টাকার দেশি পেঁয়াজে বৃহস্পতিবার গিয়ে ঠেকল ২০০ টাকা কেজিতে।
একদিনে কুমিল্লার বরুড়া পৌরসদর বাজারে পেঁয়াজ ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছে ব্যাবসায়ীরা। বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) বরুড়া পৌরসদর বাজারে ঘুরে এমন দৃশ্য পাওয়া গেছে।
এ ছাড়াও বরুড়া উপজেলার আমড়াতলী বজার, ঝলম, রাম্মহন, খোসবাস, সুলতানপুর, একবাড়িয়া, ভাউকসার, হরিপুর, মুগুজি, বাতাইছড়ি বাজারে কিছু দোকানে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৯০ টাকা কেজিতে। তবে অধিকাংশ ব্যবসায়ীরা অধিক মূল্যের কারনে পেঁয়াজ বিক্রি করছে না।
একাধিক ক্রেতার সাথে কথা বলে জানা গেছে, ২০০ টাকা দিয়ে পেঁয়াজ কিনে খাওয়ার মতো অনেকের সামর্থ নেই। সম্প্রতি বরুড়া বাজারে অধিকমূল্যে পেঁয়াজ বিক্রির অভিযোগে দুই ব্যবসায়ী ৫ দিনের কারাভোগের ঘটনায় ব্যবসায়ীরা আতঙ্কিত হয়েও পেয়াঁজ বিক্রি করছেন না। যে কারনে অনেক ক্রেতা আছেন যারা ২০০ টাকা দিয়েও বরুড়া বাজারে পেঁয়াজ কিনতে পারছেন না।
হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেল কেন জানতে চাইলে ব্যবসায়ীরা জানান, পেঁয়াজের আমদানী একেবারেই কম। যার ফলে দামও অনেক বেশী। এত দাম দিয়ে পেঁয়াজ কিনে বিক্রি করতে গিয়ে পড়তে হয় ছরম ভোগান্তিতে। তাই আমরা আপাতত পেঁয়াজ বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে। সারা বাজার ঘুরলেও দুই একটি দোকান ছাড়া বাকী দোকানগুলোতে কোথাও পেঁয়াজ বিক্রি হয় না।









© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};