ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
468
কুমিল্লায় ট্রাফিক পুলিশের স্বল্পতায় শৃঙ্খলা ফিরছে না সড়কে
অর্ধেক জনবল নিয়ে দায়িত্ব পালনে হিমশিম খাচ্ছে পুলিশ
Published : Monday, 25 November, 2019 at 12:00 AM, Update: 25.11.2019 2:24:36 AM

কুমিল্লায় ট্রাফিক পুলিশের স্বল্পতায় শৃঙ্খলা ফিরছে না সড়কেতানভীর দিপু: ট্রাফিক পুলিশের স্বল্পতায় কুমিল্লায় যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে হিমশিম খাচ্ছে পুলিশ। শহরের খুবই গুরুত্বপূর্ন ২২ টি পয়েন্টের মধ্যে ১১ টি পয়েন্টে কাজ করছে ট্রাফিক বিভাগ। বাকি ১১ টি পয়েন্টে কোন ভাবেই ট্রাফিক পুলিশের জনবল বরাদ্দ দেয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে এই বিভাগের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা।
ট্রাফিক পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, বর্তমানে শহরের ১১ টি পয়েন্টে সকাল ৭ টা থেকে দুপুর ২ টা এবং দুপুর ২ টা থেকে রাত ১০ টা এই দুই শিফটে কাজ করছে ৫২ জন পুলিশ সদস্য। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় কম জনবল দিয়ে কোন ভাবে চলছে এই ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা। যেসব এলাকায় ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন সম্ভব হচ্ছে এগুলো হল-  কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় প্রতিদিন দুই শিফটে মোতায়েন থাকে ২ জন অফিসার এবং ৪ কনস্টেবল, শাসগাছা ওভারপাসের পূর্ব ও পশ্চিম পার্শ্বে মোতায়েন থাকে মাত্র ২ অফিসার ও ৪ কনস্টেবল। রানীর বাজার এলাকায় মোতায়েন থাকে মাত্র ১ কনস্টেবল- যেখানে অন্তত ২ জন অফিসার ও  ৪ কনস্টেবল প্রয়োজন। কান্দিরপাড় লিবার্টি মোড় ও পূবালী চত্বরে মোতায়েন থাকে ২ অফিসার ও ৪ কনস্টেবল- যেখানে আরো দ্বিগুন সদস্য প্রয়োজন। আদালতের সামনে থাকেন মাত্র ১ জন কনস্টেবল- সকাল ৮টা থেকে দুপুর ৩টা, রাজগঞ্জ মোড়ে থাকেন সারাদিনে মাত্র ২ জন, চকবাজার ফয়সল হাসপাতাল ক্রসিং এবং আলিয়া মাদ্্রাসা ক্রসিংয়ে সাময়িক ভাবে থাকেন ২ জন। টমছমব্রীজ এলাকায় থাকেন ২ অফিসার ৪ কনস্টেবল, সালাউদ্দিন মোড়ে ২ অফিসার ২ কনস্টেবল।   অন্যদিকে যানজট প্রবন যেসব এলাকায় ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন সম্ভব হচ্ছে না এগুলো হল-   ধর্মপুর পূর্ব ও পশিম চৌমুহনী, ফৌজদারী মোড়, মোগলটুলী মোড়, রাজগঞ্জ দেশওয়ালীপট্টি রাস্তার মাথা, তেলিকোনা মোড়, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে, জাঙ্গালিয়া বাসটার্মিনাল, নোয়াগাও চৌমুহনী, ফয়জুন্নেছা স্কুল রোডে প্রেসক্রিপশন পয়েন্টের সামনে, বাদশাহ মিয়ার বাজার থেকে শাসনগাছা বুড়িচং রোড।
কুমিল্লার ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মোঃ কামাল উদ্দিন জানান, বর্তমানে কুমিল্লার ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত ৫২ জন কনস্টেবল র‌্যাংকের পুলিশ সদস্য রয়েছে। যার মধ্যে ৯ জন দায়িত্বপালন করছে দাউদকান্দি, দেবিদ্বার ও লাকসামে। ২ জন নিযুক্ত আছেন দাপ্তরিক কাজে। এছাড়া অন্তত ৫ জন অসুস্থতাজনিত/ অন্যান্য ছুটিতে বাইরে থাকেন। এছাড়া অন্য আরো ৫ জন যদি বিশেষ কোন কাজে ব্যস্ত থাকে তাহলে বাকি যে  ৩০ জন সদস্য থাকে- তাদেরকে দিয়ে কুমিল্লার মত বড় জনবহুল জায়গায় দুই শিফটে কাজ করিয়েও যানজট নিরসন বা সড়কে শৃঙ্খলা আনা কষ্টসাধ্য।
তিনি আরো জানান, যেসব এলাকাগুলোতে ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করা সম্ভব হচ্ছে না, এসব এলাকাগুলোতে দিন দিন সমস্যা আরো প্রকট হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাথ দখল এবং রাস্তার পাশে পথচারীদের হাঁটার পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় সড়কে বিশৃঙ্খলা আরো বাড়ছে। একদিকে যেমন ট্রাফিক পুলিশের যেমন স্বল্পতা তেমনি- সড়কের বেহাল দশার কারনে নাগরিকরা ট্রাফিক পুলিশের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তারপরও আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।
এদিকে নগরীতে যানবাহন চলাচলে বিশৃঙ্খলা এবং যানজটের নিত্যদিনের ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে শুরু এবং ছুটির সময় স্কুল ও কলেজের সামনে যানবাহনের যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় তা নগরবাসীর অনেকটা গা সওয়া হয়ে গেছে। নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়, ওয়াই উব্লিউ সি এ স্কুল, ফরিদা বিদ্যায়তন, মডার্ণ স্কুল, ইবনে তাইমিয়া স্কুল এন্ড কলেজ, কুমিল্লা হাই স্কুল শুরু এবং ছুটির সময় সামনের রাস্তায় যানজট তৈরি হয়। অন্যদিকে বাদুরতলা থেকে পুলিশ লাইন্স মোড় পর্যন্ত, রেইসকোর্স থেকে শাসনগাছার বিভিন্ন হাসপাতালের সামনে যানজটের দৃশ্য নিত্য নৈমত্তিক। এছাড়া লাকসাম রোডে কুমিল্লা টাওয়ার হাসপাতাল, নজরুল এভিনিউতে ট্রমা সেন্টার এবং ঝাউতলার মুন হাসপাতালের সামনে যানবাহনে জটলা নগরবাসীর জন্য দীর্ঘদিনের ভোগান্তি। প্রশাসনের বিভিন্ন সভায় ট্রাফিক পুলিশ এসব প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট সমিতি প্রধানদের কাছে নিজ দায়িত্বে যানজট নিরসনের ব্যবস্থা করার কথা বারবার জানালেও তা মোটেও কাজে আসেনি। এ ব্যাপারে ট্রাফিক পুলিশের ভূমিকা অনেকটা নিরুপায়ের মতো।
সচেতন নাগরিক কমিটি কুমিল্লার সভাপতি বদরুল হুদা জেনু বলেন, কুমিল্লা নগরীর সড়কে বিশৃঙ্খলা দূর করতে পুলিশকেই সবার আগে এগিয়ে আসতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে ট্রাফিক  পোস্ট তৈরি করতে হবে যেন ট্রাফিক পুলিশকে চালকরা তার নির্দেশনা অনুযায়ী যানবাহন চলাচল করতে পারে। এছাড়া সিএনজি চালিত অটোরিক্সা ও ইজি বাইক স্ট্যান্ডগুলো নিয়ে সিটি কর্পোরেশনকে ভাবতে হবে।
কুমিল্লা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পদোন্নতি প্রাপ্ত) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, কুমিল্লার জন্য যে পরিমান ট্রাফিক পুলিশের সদস্য বরাদ্দ রয়েছে তা খুবই নগণ্য। কুমিল্লার মতো অগ্রসরমান নগরীতে মাত্র কয়েকজন ট্রাফিক পুলিশ দিয়ে সড়কে যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা ধরে রাখা খুবই কষ্টসাধ্য বিষয়। তবে আমরা পুলিশ সদর দপ্তরে বরাদ্দ পত্র পাঠিয়েছি। আশা করি খুব শীঘ্রই নতুন ট্রাফিক সদস্য বরাদ্দ পাব।
তিনি আরো জানান, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রয়োজনীয় যেসব বিষয় দরকার তার মধ্যে ট্রাফিক পুলিশ একটি অংশ মাত্র। ট্রাফিক পুলিশের সদস্য বাড়ানোর পাশাপাশি ‘ট্রাফিক এডুকেশন ও রোড ইঞ্জিনিয়ারিং’ বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।





© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};