ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
396
লাকসাম-নোয়াখালী রেলপথে ১২টি স্টেশনের ৬টিই বন্ধ!
Published : Thursday, 28 November, 2019 at 12:00 AM, Update: 28.11.2019 1:23:10 AM
লাকসাম-নোয়াখালী রেলপথে ১২টি স্টেশনের ৬টিই বন্ধ!মুজিবুর রহমান দুলাল:
লাকসাম-নোয়াখালী রেলপথে ১২টি স্টেশনের মধ্যে ৬টি স্টেশন বন্ধ রয়েছে। স্টেশনগুলো হচ্ছে দৌলতগঞ্জ, খিলা, বিপুলাসার, বজরা, মাইজদি ও হরিনারায়ণপুর। রেলওয়ে কতৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, জনবলের চরম সংকটের কারণে ওইসব স্টেশনগুলোর কার্যক্রম দীর্ঘ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। এদিকে স্টেশনগুলো বন্ধ থাকায় রাতের বেলায় সেখানে মাদকসেবীদের জমজমাট আড্ডা বসে। চলে অসামাজিক কার্যক্রম। স্থানীয় বাসিন্দাদের এমন অভিযোগও রয়েছে।
লাকসাম উপজেলার অত্যন্ত প্রাচীনতম দৌলতগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের কার্যক্রম লোকবল সংকটের কারণে দীর্ঘ দুই বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। ফলে ট্রেনের টিকেট বিক্রি এবং মালামাল পরিবহণে বুকিং কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এই স্টেশন থেকে যাত্রীরা বিনা টিকেটে ভ্রমন এবং বুকিং ছাড়াই মালামাল পরিবহণ করছে। এতে একদিকে যাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন, অন্যদিকে প্রচুর পরিমান রাজস্ব হারাচ্ছেন রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
দৌলতগঞ্জ স্টেশনে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, স্টেশন মাষ্টারের কক্ষে একটি তালা ঝুলছে। আশ-পাশে কোনো কর্মচারি নেই। এই স্টেশনের অনেক পুরনো কর্মচারী (পোর্টার) মো. সেলিম মিয়া। স্টেশনের প্লাটফরমে একটি বেঞ্চে বসে আছেন। কথা হয় তাঁর সঙ্গে। তিনি বলেন, দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশী সময় ধরে তিনি এই স্টেশনে চাকুরি করেছেন। ২০১৭ সালে তিনি অবসর গ্রহণ করেন। বাড়িতে বসে থাকতে ভাল্লেগা না। তাই প্রতিদিন স্টেশনে এসে বসে থাকেন। পুরনো লোকজনের দেখা পেলে নানা গল্প করে সময় কাটান।
সেলিম মিয়া জানান, ২০০৮ সালের ৫ জুলাই এখানের স্টেশন মাষ্টার অন্যত্র বদলী হয়। ফলে এই স্টেশনে টিকেট বিক্রিসহ মালামাল বুকিং কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৩ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর এই রুটে ডেমু ট্রেন চালু হওয়ায় কেবলমাত্র ওই ট্রেনেরই টিকেট বিক্রি করা হতো। এ্খন তাও হয় না। এ ছাড়া, অন্যান্য ট্রেনের টিকেট বিক্রি এবং মালামাল পরিবহণে বুকিং কার্যক্রম ওই সময় থেকে বন্ধ রয়েছে। ফলে এ স্টেশন থেকে যাত্রীরা বিনা টিকেটে ভ্রমন এবং বুকিং ছাড়াই মালামাল পরিবহণ করছে। এতে একদিকে যাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন, অন্যদিকে প্রচুর পরিমান রাজস্ব হারাচ্ছেন রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
লাকসাম রেলওয়ে জংশনের স্টেশন মাষ্টার (এসএম) মো. কামরুল হাসান তালুকদার জানান, লাকসাম থেকে নোয়াখালীর দূরত্ব ৫২ কিলোমিটার। ওই রেলপথে মোট ১২টি স্টেশন রয়েছে। তারমধ্যে দীর্ঘ বছর ধরে ৬টি স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। প্রতিদিন ওই রুটে দু’টি আন্তঃনগর, দু’টি এক্সপ্রেস, দু’টি লোকাল ও চারটি ডেমুসহ ১০টি ট্রেন চলাচল করে।  
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ১৮৯১ সালে চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত রেলপথ স্থাপিত হয়। ১৮৯৫ সালে উদ্বোধন করা হয় লাকসাম রেলওয়ে জংশন (তৎকালীন বড়তুপা)। অতঃপর পর্যায়ক্রমে লাকসাম থেকে নোয়াখালী ও চাঁদপুরে দু’টি রেল লাইন সম্প্রসারিত হয়।
সূত্র আরও জানায়, লাকসাম-নোয়াখালী রেলপথ প্রতিষ্ঠার সময় দৌলতগঞ্জ স্টেশনটি স্থাপন করা হয়। এ স্টেশনটি ডাকাতিয়া নদীর তীরে অবস্থিত হওয়ায় নদী পথে আসা মালামাল ট্রেনে আনা-নেওয়ার জন্য এটিকে ব্যবহার করা হতো। ওই সময় তিনজন স্টেশন মাষ্টার (এসএম), তিনজন সহকারী স্টেশন মাষ্টার (এএসএম), গুডস কার্ক, বুকিং কার্ক, টালী কার্ক পদে একজন করে এবং নিরাপত্তা বাহিনী পদে তিনজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু ওই সব গুরুত্বপূর্ণ সবগুলো পদ এখন শূন্য। পোর্টার পদে দু’জনের মধ্যে একজনও নেই। এ ছাড়া, পয়েন্টসম্যান পদে পাঁচজন কর্মচারি। সব গুলো পদই শূন্য। ফলে লোকবলের সংকটে স্টেশনটি বন্ধ হয়ে যায়। অন্য ৫টি ষ্টেশনেরও  একই অবস্থা।
লাকসাম ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. তাবারক উল্লাহ কায়েস জানান, দৌলতগঞ্জ অত্যন্ত প্রাচীন এবং একটি বিশাল বানিজ্যিক শহর। এখানে বিভিন্ন কল-কারখানাসহ ছোট বড় প্রায় তিন হাজার ৮০০ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ব্যবসায়িক কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে এখানের ব্যবসায়ীদের যোগাযোগ খুব বেশী। কিন্তু দৌলতগঞ্জ স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধের কারণে মালামাল পরিবহণের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন।
এই ব্যাপারে পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) মো. নাসির উদ্দিন বলেন, স্টেশন মাষ্টার, বুকিং সহকারী এবং পয়েন্টসম্যানের অত্যন্ত সংকট রয়েছে। এ ব্যাপারে বিভাগীয় বানিজ্যিক কর্মকর্তার (ডিসিও) সঙ্গে কথা বলুন। তিনি ভালো বলতে পারবেন।
রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় বানিজ্যিক কর্মকর্তা (ডিসিও) মো. আনসার আলী মুঠোফোনে এই প্রতিনিধিকে বলেন, ষ্টেশনগুলো বন্ধ রয়েছে এটি আমার জানা নেই। আপনার ফোনের মাধ্যমেই এখন জানতে পারলাম। ষ্টেশনগুলো বন্ধ তো আমি কী করবো। এ ভাবেই একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা তাঁর দায় এড়ালেন।
এই ব্যাপারে চট্টগ্রাম বিভাগীয় রেলওয়ের ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, আইনী জটিলতার কারণে অনেকগুলো নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ থাকায় ষ্টেশনগুলোর কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে লোকবল সংকটসহ অন্যান্য সমস্যা নিরসনে শিগগিরই উর্দ্ধতণ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনাক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};