ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
1399
রওশন এরশাদের পাশে কেউ নেই
Published : Wednesday, 8 January, 2020 at 1:16 AM
রওশন এরশাদের পাশে কেউ নেইকোথাও নেই রওশন এরশাদ। জাতীয় পার্টির সর্বশেষ সম্মেলনে নতুন সৃষ্টি করা ‘ক্ষমতাহীন’ একটি পদ পেলেও সংসদের বিরোধী দলীয় এই নেতা নিজ দলে অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। এমনকি এখন পর্যন্ত দলের কোনও পদে নেই তার ছেলে সাদ এরশাদও। বিগত দিনে যারা রওশনপন্থী হিসেবে পরিচিত ছিলেন, তাদের একটি বড় অংশ এবারের সম্মেলনে বড় পদ পেয়ে সুর ও অবস্থান পরিবর্তন করেছেন। বাকিরা দলের প্রত্যাশিত পদ না পাওয়ায় অনেকটাই নিষ্ক্রিয়। এদিকে ক্ষমতা ও কর্মহীন পদ পাওয়ায় নিজেও চুপসে গেছেন রওশন এরশাদ। বের হচ্ছেন না ঘর থেকেও। জাতীয় পার্টির রওশন ও জিএম কাদেরপন্থী একাধিক নেতার সঙ্গে আলোচনা করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

এর আগে, জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর দলে পদ-পদবি নিয়ে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয় জিএম কাদের ও রওশন এরশাদের মধ্যে। পার্টির চেয়ারম্যান ও সংসদে বিরোধী দলীয় নেতার পদ নিয়ে সৃষ্ট দ্বন্দ্বের জেরে দলটিতে পাল্টাপাল্টি অবস্থান দেখা যায় নেতাকর্মীদের। পরবর্তীতে বৈঠকের মাধ্যমে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়।

তখন রওশনপন্থী ও জিএম কাদেরপন্থী উভয়ই সংখ্যা ও পদ-পদবির বিচারে সমান থাকায় দুপক্ষকেই ছাড় দিয়ে সমঝোতা করতে হয়। এক্ষেত্রে জিএম কাদেরকে দেওয়া হয় দলের চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতার পদ। অপরদিকে রওশন এরশাদকে করা হয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা, পাশাপাশি তার সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান পদটিও বহাল রাখা হয়। এছাড়া রওশনের চাহিদা অনুযায়ী ছেলে সাদকে প্রয়াত এরশাদের আসনে উপনির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়া হয়। কিন্তু গত ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত দলটির নবম সম্মেলনকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি মোড় নেয়। সম্মেলনের আগের দিন দলটির প্রভাবশালী নেতারা জিএম কাদেরের নেতৃত্বে বৈঠক করে দলে নতুন ‘প্রধান পৃষ্ঠপোষক’ নামে একটি পদ সৃষ্টি এবং সেই পদে রওশনকে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জানা গেছে, ওই বৈঠকে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, জিয়াউদ্দিন বাবলু ও মুজিবুল হক চুন্নুসহ রওশনপন্থী নেতারা দলের প্রত্যাশিত পদ পাওয়ার আশ্বাসে জিএম কাদেরের দিকে ঝুঁকে পড়েন। দলের ওই সিদ্ধান্ত জেনে রওশন এরশাদ ক্ষুব্ধ হন এবং গঠনতন্ত্রে নেই এমন পদ নিতে অস্বীকার করেন। যে কারণে তিনি পরদিন সম্মেলনেও উপস্থিত হননি।

এদিকে এসময় রওশনপন্থীদের বড় অংশ জিএম কাদেরের দিকে ঝুঁকে পড়ায় প্রকাশে ওই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও হয়নি। তবে কয়েকজন মধ্যম পর্যায়ের নেতা ২৮ ডিসেম্বর কমিটি ঘোষণার সময় প্রতিবাদ করেন। কিন্তু সেটা জোরালো ছিল না।

রওশনপন্থীরা বলছেন, রাজনৈতিক দলে ‘প্রধান পৃষ্ঠপোষক’ বলে কোনও পদ নাই। কিন্তু জাতীয় পার্টিতে ‘কর্ম ও ক্ষমতাহীন’ এই পদটি সৃষ্টি করে রওশন এরশাদকে দেওয়া হয়েছে। দলের গঠনতন্ত্রে প্রধান পৃষ্ঠপোষকের কাজ বা ক্ষমতার কথা কিছুই বলা নেই। এই কারণে পদটি নিতে চাননি এবং ২৮ ডিসেম্বর দলের নবম সম্মেলনে যাননি রওশন এরশাদ।

তবে জাপার মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রওশন ম্যাডাম অসুস্থ, এই কারণে তিনি সম্মেলনে যাননি। হয়তো অসুস্থার কারণে এখনও কোথাও যাচ্ছে না।’

নাম প্রকাশে অনচ্ছিুক জাপার এক প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, ‘‘কর্মহীন ‘প্রধান পৃষ্ঠপোষক’ পদটিতে অসন্তুষ্ট রওশন এরশাদ। এই কারণে দলের কোনও কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছে না তিনি।’’

রওশনপন্থী হিসেবে পরিচিত জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য এস এম ফয়সল চিশতী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ম্যাডামের অসুস্থার খবর আমার কাছে নেই। তবে তিনি কেন সম্মেলনে যাননি তা আমি জানি না।’

রওশন এরশাদকে চেয়ারম্যান ঘোষণার সংবাদ সম্মেলনে আনিসুল ইসলাম, মুজিবুল হক চুন্নু ও সেলিম ওসমানসহ অন্যরা
দলটির সূত্রে জানা গেছে, একসময় জাপায় রওশনপন্থী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মুজিবুল হক চুন্নু, ফখরুল ইমাম, এস এম ফয়সল চিশতী, রুহুল আমিন হাওলাদার, এ কে এম সেলিম ওসমান। এরশাদের মৃত্যুর পর রওশন-জিএম কাদেরের দ্বন্দ্বের সময় গত ৫ সেপ্টেম্বর আনিসুল ইসলামই রওশনকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ঘোষণা ঘোষণা করেন।

কিন্তু নবম সম্মেলনে সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান হন আনিসুল ইসলাম, কো-চেয়ারম্যান হন রুহুল আমীন হাওলাদার, মুজিবুল হক চুন্নু এবং সেলিম ওসমান প্রেসিডিয়াম সদস্য হয়েছের। এরপর তারা আর আগের মতো রওশন এরশাদের সঙ্গে নেই, যোগাযোগও রাখেন না। এই নেতারা এখন বিভিন্ন জায়গায় জিএম কাদের পক্ষে কথা বলেন।

রওশনপন্থী জাপার এক নেতার দাবি, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সময় থেকেই ওই চার নেতা দলের মধ্যে রওশনপন্থী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তারা সবসময় রওশনের বাসায় যাতায়াত করতেন। কিন্তু নবম সম্মেলন তারা বড় পদ পেয়ে এখন জিএম কাদের কাছের লোক হয়ে গেছেন।

জাপা নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নবম সম্মেলনের মাধ্যমে অনেকটা একঘরে হয়ে গেছেন রওশন এরশাদ। দলের কোথাও তার আধিপত্য নেই। সম্মেলনে পরে এখন পর্যন্ত চেয়ারম্যান, মহাসচিব পদ ছাড়াও ৫২টি পদের নেতার নাম ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে রওশন এরশাদের সঙ্গে কোনও আলোচনা বা পরামর্শ করেননি জিএম কাদের। তিনি চেয়ারম্যানের ক্ষমতাবলে সব করে যাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে দলের মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, ‘চেয়ারম্যান জিএম কাদের কেন রওশন এরশাদের সঙ্গে আলোচনা করছেন না, সেটা তো আমি জানি না। তিনি এর ভালো জবাব দিতে পারবেন।’

জাপা চেয়ারম্যান জিএম কাদেরকে একাধিকবার ফোনও করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে একসময় রওশনপন্থী নেতা হিসেবে পরিচিত জাপার কো-চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘রওশন এরশাদের সঙ্গে আলোচনা করে, নাকি না-করে কমিটির পদ ঘোষণা করছে এটা আমি জানি না। কারণ সম্মেলনের পরে আমি বাড়িতে ছিলাম। তবে রওশন ম্যাডাম অসুস্থ থাকার কারণে পার্টির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন না বলে শুনেছি।’  

জাপার নেতারা বলছেন, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সর্বময় ক্ষমতার মালিক এখন চেয়ারম্যান জিএম কাদের। এরপর পার্টির সবোর্চ্চ নীতিনির্ধারণী পদ হচ্ছে প্রেসিডিয়াম সদস্য। সেখানেও রওশন এরশাদকে রাখা হয়নি। তার পাশাপাশি এখন পর্যন্ত কোনও পদ পাননি ছেলে রাহগীর আল মাহি সাদ এরশাদ। তবে সাদ এরশাদকে এক নম্বর যুগ্ম মহাসচিব করা হতে পারেও বলে শোনা যাচ্ছে।

এদিকে জাপা মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, ‘জাতীয় পার্টির যে পতাকা, সেটা ব্যবহার করতে পারেন শুধু রওশন এরশাদ। সুতরাং তার তো আর প্রেসিডিয়াম সদস্য হওয়া লাগবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘সাদ এরশাদ তো এমপি আছেন। এরপরও দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হলে সেখানে তাকে রাখা হবে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলটির একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, ‘এবারের সম্মেলেনের মাধ্যমে জিএম কাদের পুরোপুরিভাবে দলের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়েছেন। তিনি এখন সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। এখন দলের মধ্যে রওশনের কোনও প্রভাব নেই। তিনি খুবই অসন্তুষ্ট।’ যে কোনও সময় দলের মধ্যে অসন্তুষ্টির প্রকাশ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।





সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};