ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
197
যাত্রা-যাত্রী-যাত্রিক কথা
Published : Tuesday, 14 January, 2020 at 12:00 AM
যাত্রা-যাত্রী-যাত্রিক কথাশান্তিরঞ্জন ভৌমিক ||
‘যাত্রা’র আভিধানিক অর্থ হলো ১. গমন, প্রস্থান, নির্গমন, বের হওয়া। ২. উৎসব বিশেষ-যেমন রথযাত্রা। ৩. দৃশ্যপটহীন মঞ্চে নাট্যাভিনয় বা গীতাভিনয় বিশেষ-যেমন যাত্রাদল।
‘যাত্রী’ শব্দের আভিধানিক অর্থ সাধারণত যাতায়াত করে এমন, মুসাফির। যেমন তীর্থযাত্রী।
‘যাত্রিক’ শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো যাত্রাকারী, গমনকারী, পথিক, অন্যঅর্থে যাত্রাসংক্রান্ত, যাত্রার উপযুক্ত বা যাত্রার যোগ্য।
    কুমিল্লা শহরে যাত্রা, যাত্রী ও যাত্রিক এই তিন নামে তিনটি সংগঠন রয়েছে। ‘যাত্রা’ কোনো সংগঠনের নাম নয়। কালিপদ মেমোরিয়েল সংসদের একটি ঘোষিত আত্মপ্রকাশের দৃশ্যমান অভিযাত্রা। সংসদের প্রতীক হিসেবে ‘যাত্রা’ নামটি গ্রহণ করা হয়েছে। ‘যাত্রা’র যাত্রা বেশিদিনের নয়। সীমিত পরিসরে নিজস্ব পরিম-লে অনেকটা ঘরোয়া পরিবেশে তাদের কর্মকা- চালিয়ে যাচ্ছে। উদ্যোগটা মহৎ এবং পরিকল্পনায়, জানা মতে, কিছু সৃজনশীলতাও রয়েছে। কিন্তু কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা বছর গণনায় অধিক হলেও প্রশিক্ষণগত ধারাবাহিকতায় ঘাটতি রয়েছে। সার্বিক তত্ত্বাবধান করার মতো নির্ভরশীল নেতৃত্ব দিবার লোক বা ব্যক্তির উপস্থিতি আছে কি না, তা আমার জানা নেই। প্রতিষ্ঠানের প্রাণপুরুষ ডা: মৃণালকান্তি ঢালী, পেশায় চক্ষুরোগের ডাক্তার হিসেবে তাঁর অবস্থানটি অনেকটাই মজবুত। ব্যক্তি হিসেবে সজ্জন, ডাক্তার হিসেবে জনপ্রিয়, পেশার প্রতি আন্তরিক, রোগীবান্ধব। আয়-রোজগারের বিষয়টির আড়ালে তাঁর সহৃদয়তার কথা সকলের মুখে মুখে। তিনি একজন উঠতি কবিও। এককভাবে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন, সকলের জন্য দরজা-জানালা খুলে দিয়েছেন-সুবাতাস-কুবাতাস সবই দরজা-জানালা দিয়ে প্রবাহিত। কথাটা কঠিন বা বির্তকের জন্ম দিলেও বলতে বাধা নেই-ডা: ঢালী তাঁর স্বাপ্পিক প্রতিষ্ঠান বিনির্মাণে অর্থের যোগানদার, আশ্রয় কেন্দ্রের মালিক, সহযোগিদের সহায়ক-ঠিকানা। এ বিষয়ে তাঁর কান্তি নেই। এই অভিধায় বাঙালি সংস্কৃতির অন্যতম ‘যাত্রা’ শিল্পকে শিরোধার্য করে আত্মপ্রকাশের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। তিনদিনের একটি কর্মপরিকল্পনা-তাতে উদ্বোধন, যাত্রাবিষয়ক আলোচনা এবং যাত্রা প্রদর্শনের আয়োজন ছিল। ৩,৪,৫ জানুয়ারি ২০২০ সালের নির্ধারিত অনুষ্ঠানসূচি কুমিল্লা টাউনহল মাঠে উন্মুক্ত মঞ্চে হওয়ার কথা থাকলেও শীতকালে অসময়ে বৃষ্টির কারণে তা বীরচন্দ্র নগর মিলনায়তনের ভিতরে গৃহবন্দী করতে হয়। তারপরও সবই ঠিকঠাক মতো চলেছিল। প্রথমদিন উদ্বোধন-আলোচনা-যাত্রা পালা অনুষ্ঠিত হলো, লোক সমাগমও উল্লেখ করার মতো, দ্বিতীয় দিনে যখন যাত্রা-পালা চলছিল, অভিনয় শিল্পী ডা: মৃণালকান্তি ঢালী, তিনি পালার কেন্দ্রিয় চরিত্র, সংলাপ বলতে বলতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় কিনিক এবং অবস্থার অবনতি বিবেচনায় লাইফসাপোর্ট দিয়ে ঢাকায় স্থানান্তর এবং ত্বরিতগতিতে বুকে দুটি রিং বসানো হলো, নিবিড় তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে, শঙ্কা মুক্ত বলেই শুনেছি। একজন ডা: ঢালীর গুণগ্রাহী হিসেবে বিচলিত হয়ে পড়েছিলাম। ঈশ্বরের কাছে তাঁর আরোগ্যলাভের জন্য প্রার্থনা জানিয়েছি। ঈশ্বর এতটা নিষ্ঠুর হবেন না, এটা আমি বিশ্বাস রাখি।
এসব বিবেচনায় মনে হয়েছে-‘যাত্রা’র যাত্রাটা শুভ হলো না। তৃতীয় দিনের অনুষ্ঠান স্থগিত করতে হলো। দৈবের উপর কারো হাত নেই, প্রকৃতির উপর শাসন নেই, আকাক্সক্ষারও সীমা নেই।
একজন ডাক্তার, তাঁর পেশাগত ক্ষেত্রটি বিশাল এবং অত্যন্ত মানবিক। এ পেশাটি দিয়ে ঈশ্বরকে স্পর্শ করা যায়, ঈশ্বরের সৃষ্টি মানুষকে সেবা করা যায়, নিজেকে উজাড় করে দিয়ে মহামানবে পরিণত হওয়া যায়। ব্যক্তিটির মধ্যে যে সৃজনশীলতা রয়েছে, তা পরিপূর্ণভাবে তাঁর যাপিত পেশার মধ্যে-আত্মনিয়োগ করলেই দ্বিতীয় ঈশ্বর হওয়া যায়। তারপরও কেন মানুষ বহু ঈশ্বর হতে চায়, তা অন্তত আমার কাছে বোধগম্য নয়।
‘যাত্রী’ কুমিল্লা শহরের একটি সাহিত্য-সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানে কোনো একক প্রাণ পুরুষ নেই, সামষ্টিকভাবে প্রতিষ্ঠানের নাম ‘যাত্রী’। তাদের নিজস্ব কিছু প্রকাশনা রয়েছে। তন্মধ্যে গুণিজনের উপর স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ, নিয়মিত ‘যুতি’ নামে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে সাহিত্য পত্রিকা ও যাত্রীর সদস্যদের লেখা কবিতা নিয়ে ‘কবিতাপত্র’ প্রকাশ। ‘যাত্রী’ প্রতি বছর গুণিজনকে সম্মাননা প্রদান করে থাকে, এগার বছর হলো যাত্রীর পথচলা। নিয়মিত সংস্কৃতিচর্চা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং জাতীয় দিবসগুলো যথামর্যাদায় পালন করা হয়। এছাড়া ‘যাত্রী’ তার ঘোষণাপত্র অনুযায়ী একটি নীতি আদর্শে পরিচালিত হওয়ার অঙ্গীকারের কাছে দায়বদ্ধ। এসময়ের মধ্যে ‘যাত্রী’ কুমিল্লায় একটি বিশেষ অবস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে।
সমমনা লোকের অভাব, ব্যক্তিবিশেষের ধ্যান-ধারণাও আলাদা, এজন্য পরিকল্পনাও ভিন্ন। কাজেই সংগঠনের ঐক্যশক্তি হলো তার প্রণীত সংবিধান। আমিও এ সংগঠনের জন্ম লগ্ন থেকেই জড়িত আছি, সেজন্যই বুঝতে পারি-আদর্শ ও দিক নির্দেশনার বিষয়টি যদি সাংবিধানিক কঠোরতায় উদযাপন করা যায়, একক ব্যক্তির নেতৃত্বের পরিবর্তে সংঘশক্তির মৌলিক অবস্থানটি মান্যতায় চলার পথকে সুগম করা যায়, তাহলে যে কোনো প্রতিষ্ঠান কালের বিচারে দীর্ঘদিন টিকে যায়। এ ক্ষেত্রে আপসকামিতা নেই, মান-অভিমানও চলে না, ছোট-বড় ভাবনাও মনকে পীড়া দেয় না। যে কোনো অবস্থানে থেকে কাজ করার উদ্যোগ-আগ্রহই আনন্দ লাভের চারণক্ষেত্র হয়ে দাঁড়ায়। যাত্রীর এ বিষয়টি এখনও অটুট আছে। তবে নতুনকর্মীদের আকৃষ্ট করা না গেলে, তাদের সুযোগ ও অংশগ্রহণের হাতটি প্রসারিত না হলে ভবিষতের জন্য একটু তো ভাবতে হয়। কারণ, এধরনের সংগঠনে শ্রম দিতে হয়, এ শ্রমের কোনো বিনিময় নেই।
উপর্যুক্ত বিবেচনায় কুমিল্লায় ‘যাত্রিক’ সংগঠনটি ঈর্ষণীয়ভাবে ৪৫ বছর অতিক্রম করেছে সগৌরবে এবং আপন বৈশিষ্ট্যে। যদিও এ সংগঠনটি একটি বিশেষধারা অর্থাৎ নাটক মঞ্চায়ন নিয়েই তাদের সকল কর্মকা-, তারপরও অনুকরণীয় সৃজনশীল নাটক উপস্থাপন করে কুমিল্লাবাসীকে আনন্দ বা বিনোদন দিয়ে আসছে। এজন্য যাত্রিক-এর প্রতিষ্ঠাকালীন নয়জন সদস্য এবং এ ধারাবাহিকতায় বর্তমানে যারা ঐতিহ্যটিকে সমুন্নত রেখেছেন, তাঁদেরকে ধন্যবাদ জানাই। নাটক শুধু বিনোদনের সামগ্রী নয়, নাটক সময়ের কথা বলে, মানুষের কথা বলে, স্বাধীনতার কথা বলে এবং মানুষের মগ্নচৈতন্যকে জাগিয়ে তুলতে ভূমিকা রাখে। ‘যাত্রিক’ ৫০তম নাটক মঞ্চায়ন করে ইতিহাসের খাতায় নাম লিখে নিয়েছে।
আমরা থিয়েটার বলি, নাটক বলি-সবই কিন্তু শাশ্বত বাংলার একসময়ের যাত্রা শিল্পের হাত ধরেই বিকশিত হয়েছে। যাত্রার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এখনও সীমিতভাবে যাত্রাপালা কোনো কোনো এলাকায় প্রচলিত আছে, তবে যে অকৃত্রিম ধারা ছিল, তার অনেকটাই আধুনিকতার ছোঁয়ায় কৃত্রিম হয়ে গেছে। পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে যখন গ্রামবাংলায় যাত্রা দেখেছি, তার চিত্রটি আজও মনে জাজ্বল্যমান হয়ে আছে।
মঞ্চটি হতো আসরের মাঝে। আসরের চারদিকে মাটিতে বসে দর্শকরা তা উপভোগ করত। মঞ্চের সন্নিকটে বাদ্যকর-দোহারি, প্রবেশ পথে প্রোমটার এবং ম্যানেজার বসে থাকতেন। মঞ্চের এককোণ দিয়ে ম্যানেজার বাঁশী বাজালে পর্যায়ক্রমে নট-নটীরা আসত, যাত্রার কুশীলবরা উচ্চ কণ্ঠেই সংলাপ বলত, প্রোমটার সংলাপ স্মরণ করিয়ে দিতেন, যাত্রার জন্য ছিল জমকালো পোষাক, ম্যানেজারই যাত্রা পাটির প্রধান কর্তাব্যক্তি। তিনি একাধারে অর্থয়ানের কর্ণধার, যাত্রাপালার পরিচালক, চুক্তিবদ্ধ হওয়ার মাধ্যম। যাত্রাপালার দুটি অসাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো- যাত্রা শুরু হওয়ার আগে এক বিশেষ ধরনের কনসার্ট বাজানো হতো, তা অত্যন্ত উপভোগ্য ও মনোমুগ্ধকর। এছাড়া যাত্রা পালায় সংশ্লিষ্টহীন একটি চরিত্র, তাকে বলা হতো ‘বিবেক।’ এ চরিত্রটি আবিশ্যিক, কিন্তু কাহিনিবন্ধে সংশ্লিষ্ট নয়, অথচ যাত্রা পালাকে গতি সৃষ্টিতে মুখ্য ভূমিকা পালন করে থাকে। তার সংলাপ হলো গানের মাধ্যমে রহস্যজনক মায়াজাল সৃষ্টি করা এবং ঘটনাপ্রবাহকে বেগবান ও এগিয়ে নেয়ার পথ নির্দেশনাসূচক। তাকে সুকণ্ঠী হতে হয়, তার পোষাকও ব্যতিক্রমধর্মী। যাত্রাপালা সাধারণত রাতের বেলা অনুষ্ঠিত হতো। আরম্ভ হতে বিলম্ব হতো, শেষ হতে হতে সকালের সূর্য উঠে যেত। যাত্রার কোনো কোনো চরিত্র, কোনো কোনো সংলাপ, কোনো কোনো গান-দীর্ঘদিন পর্যন্ত দর্শকের মনকে, স্মৃতিকে জাগরুক রাখত। আমি যে সময়ের কথা বলেছি, তখন নারী চরিত্রের ভূমিকায় ছেলেরা অভিনয় করত, তাদেরকে এমনভাবে সাজানো হতো, তাদের অভিনয় দেখে নয়, নারী হিসেবে তখন অনেকেই উত্তেজিত হতো, তাদের সঙ্গসুখ প্রত্যাশা করতো, পেছনে পেছনে ঘুরত, এমনকি ‘দোস্তী’ সম্পর্ক স্থাপন করতে চাইত। এ মজাটা অন্যরকম, ভালোবাসাও উপভোগ্য।
আমি যে কথাটা বলতে চাই- ‘যাত্রা’র একটি আলাদা স্বাদ আছে, আমেজ বা আমোদ আছে, যা একজন মুক্তমনের মানুষ তাঁর নিজের পেশাকে নিষ্ঠার সাথে আঁকড়িয়ে ধরেও নির্মল বিনোদন দেয়ার জন্য একটি যাত্রা শুরু করেছিলেন, আমি ডা: মৃণালকান্তি ঢালীর কথাই বলছি, জানি না তাঁর মহৎ যাত্রা ভবিষ্যতে কতটুকু এগিয়ে যাবে। তার সংগঠনের অন্যদের তেমন কে কে আছে তাও জানি না। এমুহূর্তে ডা: ঢালী সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসুন- এটাই প্রার্থনা। আমার বিশ্বাস তিনি ডাক্তার হিসেবে বেঁচে থাকবেন অনেকদিন, যাত্রার শিল্পী হিসেবে ততদিন হয়ত নয়। তাঁর ক্ষেত্রটি বিনোদনের জন্য, নিজে বিনোদনের যাপনের প্রয়াস হয়ত থাকতে পারে, মূলত তার ক্ষেত্রটি অকৃত্রিম সেবা-সেবা এবং সেবা। এ ক্ষেত্রে আমাদের কাছে বেঁচে থাকবেন অনেকদিন। আমি নট মৃণালকান্তি ঢালীর চেয়ে ডা: মৃণালকান্তি ঢালীকে বেশি ভালোবাসি, ¯েœহ করি।











© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};