ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
905
৪০ বছর পর ঘরে ফিরলেন লিবিয়া-যুদ্ধের সাক্ষী মোবাশ্বের
Published : Sunday, 2 February, 2020 at 1:42 AM
 ৪০ বছর পর ঘরে ফিরলেন লিবিয়া-যুদ্ধের সাক্ষী মোবাশ্বেরপ্রবাস ডেস্ক ||

‘মো. মোবাশ্বের আলী। বয়স সত্তর হবে। গায়ের রং শ্যামলা। চেহারায় রোগা ভাব। বাংলা প্রায় ভুলেই গেছেন। তবে আরবি ও ইশারা ইঙ্গিতে কিছুটা কথা বলতে পারেন। দেশটিতে তার পরিচিত কোনো বাংলাদেশির নামও মনে নেই’।

‘৬ জানুয়ারি এক লিবিয়ান মোবাশ্বের নামে এই বাংলাদেশিকে সঙ্গে করে দূতাবাসে নিয়ে এসে বলেন বেশ কিছুদিন তিনি আমাদের এলাকায় অবস্থান করছেন। তিনি খুব অসুস্থ। স্থানীয়রা এই মানুষটির দেখাশোনা করছেন। সঙ্গে থাকা কাগজপত্র দেখে একটি হাতে লেখা পাসপোর্ট কপি পেলাম। ওই পাসপোর্টে তার বাড়ি সিলেটের কানাইঘাট লেখা আছে।’

‘মোবাশ্বেরের সঙ্গে অনেক চেষ্টা করি কথা বলার। কিন্তু তিনি কিছুই বলতে পারছেন না। পাসপোর্টে থাকা ফোন নম্বরে কল দিয়ে ছেলে-মেয়ের পরিচয় জানার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। বহু চেষ্টার পর জানতে পারি তিনি একটা সময় লিবিয়ার সিকেজি নামক কোম্পানিতে চাকরি করতেন। দেশটিতে অবস্থানরত বেশ কিছু বাংলাদেশির সঙ্গে কথা বলেও তার সম্পর্কে তেমন কিছু জানতে পারলাম না।’

‘উপায়ান্তর না পেয়ে সিলেটের কানাইঘাট থানার ওসির নম্বর জোগাড় করে মোবাশ্বেরের ছবি ও নাম-ঠিকানা পাঠিয়ে তার ছেলে-মেয়ে বা আত্মীয়-স্বজনের খোঁজ-খবর নেয়ার জন্য দূতাবাসের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানাই।’

‘ঘটনার দুদিন পর কানাইঘাট থানার ওসি আব্দুল লাতিফ নামে তার ছেলের মোবাইল নম্বর জোগাড় করে দেন। সঙ্গে সঙ্গে ওই নম্বরে ফোন দিই। ছেলে আব্দুল লতিফ বাবার পরিচয় নিশ্চিত করেন।’

‘মোবাশ্বেরকে দেশে পাঠানোর জন্য উদ্যোগ নেয়া হলো। ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ সম্পন্নও করা হয়। তবে তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় বেশ কিছু মেডিকেল পরীক্ষা করতেও হয়েছে। কিছুদিন চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে ছিলেন’।

ছেলে লতিফ জানান, প্রায় ৪০ বছর আগে তার পিতা লিবিয়ায় যান। এরপর থেকে তিনি আর দেশে আসেননি। ২০১০ সাল পর্যন্ত তিনি দেশে নিয়মিত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন। মাঝে মাঝে টাকাও পাঠাতেন। কিন্তু ২০১১ সালে লিবিয়ায় যুদ্ধ শুরু হলে তাদের সাথে তার যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এমনকি তাদের বাবা এতদিন বেঁচে আছেন কি-না তাও তারা জানতেন না।

জানা গেছে, তিনি লিবিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন। ২০১১ সালের লিবিয়ার যুদ্ধকালীন কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন। এরপর থেকে লিবিয়ার বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করে আসছিলেন।

দীর্ঘ ৪০ বছর পর অবশেষে দূতাবাসের সহযোগিতায় ২৮ জানুয়ারি লিবিয়া থেকে চার্টার্ড ফ্লাইটে ১৪৮ জন বাংলাদেশির সঙ্গে আইওএমের একজন ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে মোবাশ্বের আলীকে দেশে পাঠানো হয়েছে বলে জানান দূতাবাসের এ কর্মকর্তা।

ইতোমধ্যে তিনি সিলেটের কানাইঘাট থানার বিরদল গ্রামে তার ছেলের বাড়িতে পৌঁছেছেন। মোবাশ্বেরের চার মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। মোবাশ্বের বাড়িতে পৌঁছানোর পর তার ছেলে ফোন করে লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

আবেগঘন কথাগুলো ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়ে জানান, লিবিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সিহাব উদ্দিন নামের এক কর্মকর্তা।





© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};