ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
342
 ‘ভালোবাসা দিবসের সব ভালোবাসা হোক শহর কুমিল্লাকে ঘিরে...’
Published : Friday, 14 February, 2020 at 12:00 AM
ভালোবাসা দিবসের ভালোবাসা শুধু প্রেমিক-প্রেমিকা বা ব্যক্তির মাঝে সীমাবদ্ধ না থেকে তা ছড়িয়ে দেয়া উচিত পারিপার্শ্বিক সমাজ ও পরিবেশে। এই ভালোবাসা পরিবর্তন এনে দিতে পারে একটি জরাআক্রান্ত প্রজন্মে কিংবা দূষিত পরিবেশে। এমন ভালোবাসা চাই আমাদের প্রিয় কুমিল্লা শহরের জন্যও। প্রকৃতি ও সমাজের জন্য ভালোবাসা এই শহরকে দীর্ঘ মেয়াদি ভাবে বাসযোগ্য করার জন্যও এই ভালোবাসা থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন কুমিল্লা সুধী সমাজ।
আগামী প্রজন্মের প্রতি ভালোবাসার কোন আক্ষরিক প্রমান রাখার জন্য একটি সুন্দর পরিচ্ছন্ন আর পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে আমাদের এই শহর কুমিল্লাকে। যেখানে বিষমুক্ত অনাবিল বাতাস, প্রাণখুলে হেঁটে বেড়ানোর রাস্তা, ¯্রােতস্বীনী নদী অথবা সারি সারি বৃক্ষরাজির ছায়ায় লালিত হবে এই শহরের মানুষ। ভালোবাসা দিবসের সব ভালোবাসা হোক এই কুমিল্লা শহরকে সাজানোর জন্য। আর এখনি এই শহরের জন্য প্রয়োজন পরিকল্পিত ভালোবাসা।
কালের আবর্তনে এই শহরে বেড়েছে মানুুষ, হয়েছে নগরায়ন। তুলনামূলক উন্নত জীবনযাত্রার হাতছানিতে এই শহরে দিন দিন বাড়ছে ভিড়। আমরা পেয়েছি সিটি কর্পোরেশন। পাওয়া সবকিছুই কোন না কোন ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।
নগরায়নের নামে কুমিল্লাতে বেড়েছে যানবাহন, অপরিকল্পিত ভাবে গড়ে উঠছে আবাসন, ভরাট হচ্ছে পুকুর দিঘী, বৃক্ষনিধন আর পোস্টার-ব্যানারে ছেয়ে নষ্ট হচ্ছে সৌন্দর্য্য। শব্দ দূষন, বায়ু দূষন আর অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনায়- ইতিমধ্যে হাঁশফাঁস অবস্থা এই শহরের নাগরিকদের।
তবে এসব কিছু থেকে বের হয়ে আসার পাশাপাশি সরকারি উন্নয়নের চেয়ে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নিজের শহরের প্রতি নাগরিকদের ভালোবাসা। প্রতিটি নাগরিকের সচেতন মনোভাব তৈরী করতে পারে হাজার বছরের পরিকল্পিত কুমিল্লা নগরী। অবকাঠামোগত বিশাল উন্নয়নে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার যে জোয়ার তা বাস্তবায়ন করতে সবার আগে এগিয়ে আসতে হবে সাধারণ নাগরিকদের।
নদী দখল, পুকুর দিঘী ভরাট অথবা গাছপালা কেটে কৃত্রিম বিনোদন কেন্দ্র তৈরী করা এসব বন্ধ হতে পারে ব্যক্তিগত উদ্যোগে। শহরে অবৈধ পার্কি, উচ্চস্বরে মাইক বাজানো, ছোট ছোট কারখানা থেকে কালো ধুয়া নির্গমন এসব যে যার যার জায়গা থেকেই সহজেই বন্ধ করা যেতে পারে। সামান্য সচেতনতায় তৈরী হতে পারে পরিচ্ছন্ন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। বাসা বাড়ি এবং প্রতিষ্ঠানের ময়লা আবর্জনা যেখানে সেখানে না ফেলে নির্ধারিত জায়গায় ফেললে-সেজন্য আর প্রয়োজন নেই সরকারি নির্দেশনার। নগরীর বৈদ্যুতিক খুঁটি বা গাছপালায় লাগানো প্লাস্টিকের পোষ্টার ফেষ্টুন- প্রয়োজন শেষে নিজ দায়িত্বে খুলে ফেললেই এগুলো আর অযথাই ঝুলে থেকে সৌন্দর্য্য বিনষ্ট করে না। এসবের জন্য শুধুই প্রয়োজন একটুখানি ব্যক্তিগত উদ্যোগ আর শহরের প্রতি ভালোবাসা।
নিজের সন্তান-বন্ধুকে মাদকাসক্তি, ছিনতাই, ইভটিজিংসহ নানান থেকে সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে রেখে এই শহরকে পরিচিত করা যেতে পারে সুশৃঙ্খল শহর হিসেবে। আর শুধুমাত্র ব্যক্তিগত ভালোবাসা অনেকাংশেই দূর করতে পারে এধরনের সামাজিক সমস্যা।
কুমিল্লার বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক ড. আলী হোসেন চৌধুরী  জানান, ভালোবাসা না থাকলে জীবনে সৃষ্টিশীলতা যেমন আসে না, তেমনি গতিশীলতাও আসেনা। তাই নতুন প্রাণের সঞ্চারের জন্য শহরের প্রতি আরো আমাদের ভালোবাসা বাড়াতে হবে। ভালোবাসা থেকে যে সচেতনতা তৈরী হবে তা-ই এই শহরকে পরিবেশ ও সামাজিক দূষণ থেকে দূরে রাখবে।
বেগম রোকেয়া পদকপ্রাপ্ত নারী নেত্রী পাপড়ি বসু জানান, এই শহরের ইতিহাস ঐতিহ্য অনেক আগের। এর ধারাবাহিকতা রক্ষায় বর্তমান সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় যে উন্নয়ন হচ্ছে সেগুলো এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এই শহর তথা এই নগরীকে আমাদের আগামী প্রজন্মের জন্য তৈরী করতে হলে আমাদেরকে এই শহরকে ভালোবাসতে হবে। শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা, দূষনমুক্ত রাখা এগুলো আমাদের ব্যক্তিগত উদ্যোগ থেকেই করতে হবে। আমরা কুমিল্লাকে ভালোবাসি- কুমিল্লার প্রতি আমাদের ভালোবাসা থাকলেই নিরাপদ থাকবে আগামী প্রজন্ম।  
১৭৯০ সালে “ত্রিপুরা” নামে প্রতিষ্ঠিত জেলাটি ১৯৬০ সালে আমাদের প্রিয় “কুমিল্লা” নামে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রাচীণ এই শহরের প্রতি তৎকালীন শাসক আর অধিবাসীদের ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে আমরা পেয়েছি- শালবন বিহার, ময়নামতি রানীর বাংলো, রানীর কুঠি-ধর্মসাগর, বীরচন্দ্র মানিক্যবাহাদুর মিলনায়তন (টাউন হল), শাহসুজা মসজিদ, জগন্নাথ মন্দিরসহ আরো কত কত স্থাপনা। প্রয়োজনে কমপক্ষে ৫০টি দিঘী খনন করে সাজানো হয়েছিলো এই শহর। আর প্রকৃতির অনাবিল সৌন্দর্য্যমন্ডিত লালমাই পাহাড় আর গোমতী নদীর অববাহিকায় এই শহর হয়েছে নান্দনিক। এমন হাজারো উদাহরণ  রেখে গেছেন আমাদের উত্তরসূরীরা তাদের ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে।
মূলকথা, আমাদের উত্তরসূরীদের ভালোবাসার প্রতীক এই কুমিল্লা শহরকে পেয়েছি বাসযোগ্য নগরী হিসেবে। আমাদের আগামী প্রজন্মের জন্য এই শহরকে যদি বাসযোগ্য হিসেবেই ধরে রাখতে চাই- তাহলে শহরের প্রতি ভালোবাসাটুকু অটুট রাখতে হবে।












© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};