ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
603
সবকিছুকে ছাপিয়ে ইয়াবার আগ্রাসন কুমিল্লায়
Published : Thursday, 20 February, 2020 at 12:00 AM, Update: 20.02.2020 2:03:24 AM
সবকিছুকে ছাপিয়ে ইয়াবার আগ্রাসন কুমিল্লায়তানভীর দিপু ||
মরণনেশা ইয়াবার আগ্রাসন বেড়েছে কুমিল্লায়। ১০৫ কিলোমিটার ভারতীয় সীমান্তঘেরা এ জেলায় একসময় ফেনসিডিল-বিয়ার কিংবা ভারতীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদ, গাঁজাসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্যের আধিপত্য দেখা গেলেও ইদানিং সবকিছুকে ছাপিয়ে গেছে ইয়াবা। কক্সবাজার থেকে বিভিন্ন পরিবহনে অথবা সীমান্তবর্তী ভারত থেকে আসা এসব ইয়াবা কুমিল্লা হয়ে পাচার হচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। বহনে সহজ ও ‘বাড়তি চাহিদা’ থাকায় ইয়াবায় আগ্রহ বেড়েছে কারবারীদের। পাচারে জড়িয়ে পড়ছে তরুণ-যুবারাও। আর এ বিষয়টি ভাবিয়ে তুলছে আইশৃঙ্খলা বাহিনীকেও।
ইয়াবার আগ্রাসনের বিষয়টি লক্ষ্য করা গেছে বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনীর হাতে উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্যের পরিমাণ দেখে। গেলো একবছরে (জানুয়ারি ১৯-জানুয়ারি-২০) জেলায় যে পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার হয়েছে; এর দুই-তৃতীয়াংশই ইয়াবা। এসব ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় আটক হওয়াদের অধিকাংশই বয়সে তরুণ। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, মাদক উদ্ধারে তৎপরতা বেড়েছে। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার চেয়ে সামাজিক ভাবে মাদকের বিরুদ্ধে আন্দোলন জোরদার করা জরুরি।
জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ২০১৯ সালে বিভিন্ন বাহিনীর উদ্ধার করা মাদক দ্রব্যের মধ্যে অন্যতম হল ইয়াবা। ওই বছরই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর ৩ হাজার ৫ শত ৪৩ পিস, পুলিশ বিভাগ ৩ লাখ ৯১ হাজার ৮শ’৪৪ পিস, বিজিবি ২ লাখ ৩১ হাজার ৫১ পিস, র‌্যাব ৮৯ হাজার ৩শ’২০ পিস এবং রেলওয়ে পুলিশ ৩ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করে।
গত বছরের নভেম্বর থেকে এই বছরের ফেব্রুয়ারির ১৮ তারিখ পর্যন্ত র‌্যাবের ৭৫ টি অভিযানে ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে ৪৫ হাজার ১শ’৬৪ পিস। অন্যান্য মাদকদ্রব্য সহ এসব ঘটনায় আটক হয়েছে  ৫২ জন।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)র অভিযানে গত বছরের জুলাই থেকে এই বছরের ফেব্রুয়ারি ১৯ তারিখ পর্যন্ত ৮৮ হাজার ৭ শত ৪০ পিস ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে। যা অন্যান্য উদ্ধারকৃত মাদকের তুলনায় বেশি।
জানা গেছে, ইয়াবা চালান অন্যান্য মাদকদ্রব্যের তুলনায় সহজ হওয়ায় ব্যবসায়িরা বেশির ভাগই ইয়াবাই ভ্রাম্যমান হয়ে সরবরাহ করে। মায়ানমার অথবা ভারত থেকে আসা ইয়াবা চোরাচালান জেলা শহরে বিচ্ছিন্ন ভাবে কেনাবেচা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোঁখ ফাঁকি দিতে ইয়াবাবহনে ব্যবহার করছে অভিনব পদ্ধতি। ইতিমধ্যে পাকস্থলিতে ইয়াবা বহনের সময় দুই মাদকব্যবসায়ী আটক করে র‌্যাব। গাড়ীর পিছনের অংশে অতিরিক্ত চাকায় চুম্বক দিয়ে আটকিয়ে ইয়াবা চালানের সময় গাড়ীসহ একজনকে আটক করে ডিবি পুুলিশ। এছাড়া নারিকেলের ভেতরে, মোটরসাইকেলের সিটের নিচে, মহিলাদের ব্যবহার করেও ইয়াবা চালানের চেষ্টা করে মাদকব্যবসায়িরা। মায়ানমার থেকে কক্সবাজার হয়ে ঢাকায় যাবার জন্য রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, এই মহাসড়কের অধিকাংশই কুমিল্লা জেলায়। এছাড়া কুমিল্লার পার্শ্বে বিশাল ভারতীয় সীমান্ত। ভারত থেকেও চোরাচালানের মাধ্যমে প্রবেশ করে ইয়াবা। এসব ইয়াবার অংশ বিশেষ বিক্রি হয় কুমিল্লার বিভিন্ন স্থানে। যে কারনে আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় উদ্ধার হওয়া বেশির ভাগ মাদকদ্রব্যই ইয়াবা।
জানা গেছে, কুমিল্লা থেকে প্রতিমাসেই ইয়াবাসহ বিপুল পরিমান মাদকদ্রব্য উদ্ধার হয়। আটক হয় অনেক মাদক ব্যবসায়ি। তবে তারা কোন না কোন ভাবে আবার ছাড়া পেয়ে মাদক ব্যবসায় জড়িত হয়। ব্যবসায়িদের মধ্যে বেশির ভাগ সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা। আশংকার বিষয় তাদের বেশির ভাগই তরুন।  তাদের মধ্যে মাদকের কুফলের সচেতনতা তৈরী করেই এই ব্যবসায় লাগাম টানা সম্ভব। এছাড়া যারা আটক হয়ে বিচারের মুখোমুখি হচ্ছে, তাদেরকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া গেলেই মাদক ব্যবসা নির্মূল সম্ভব।
মাদকব্যবসায়ীদের অধিকাংশই এই ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে পারিবারিক ভাবে। তারা মূলত অন্যান্য ব্যবসার আড়ালে এসব করে থাকে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেই মিশে এসব করছে। সামাজিকভাবে যদি মাদকব্যবসায়ীদের বয়কট করেও এই ব্যবসায় বন্ধে অবদান রাখতে পারে সাধারণ মানুষ।
র‌্যাব-১১ সপিসি-২ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর তালুকদার নাজমুছ সাকিব জানান, মাদক এবং মাদক ব্যবসায়ীদের তথ্য দিন। আমরা নাম গোপন রাখবো। ইয়াবা সহ সব ধরনের মাদকের ব্যাপারে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করছে। আমাদের অভিযান সব সময় চলবে। তবে দেশের তরুন প্রজন্মকে রক্ষায় এই অভিযানে সবার অংশগ্রহন নিশ্চিত করতে হবে। সামাজিক ভাবে আন্দোলন বেশি কাজে আসবে এই মাদকবিরোধী অভিযানে।







© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};