ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
1916
মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কি নিজেদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি নেই?
Published : Thursday, 26 March, 2020 at 9:52 PM
মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কি নিজেদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি নেই? করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে পিপিই নিয়ে বিতর্কের মাঝে এ নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেছেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ নুরুজ্জামান । তিনি তার ব্যক্তিগত ফেসবুকে এই মতামত তুলে ধরেন। তিনি লিখেছেন-রাষ্ট্রের বৃহত্তর কল্যাণে মাঠ প্রশাসনের কেউই নিজের স্বাস্থ্য ঝুঁকির কথা বলে করোনা প্রতিরোধের কাজ থেকে এখনো পর্যন্ত নিজেকে দূরে সরিয়ে নেননি। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন-এখন প্রশ্ন জাগে শুধুমাত্র মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের এত সমালোচনা কেন হচ্ছে? এসব কর্মকর্তারা কি মানুষ নয়? তাদের কি নিজেদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি নেই? তাদের কি স্বামী/ স্ত্রী, সন্তান নেই? রাতদিন তাদের নিরন্তর  পরিশ্রম কি করোনা প্রতিরোধে কোন সহায়তা করছেনা?

কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ নুরুজ্জামানের ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

করোনা প্রতিরোধে মাঠ প্রশাসন ও পিপিই বিতর্ক প্রসঙ্গে।

১। গত ৫ মার্চ থেকে সারাদেশের মতো কুমিল্লা জেলার সকল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, ১৭টি উপজেলার ইউএনও ও এসিল্যান্ডগণ পুলিশ, স্থানীয় কাউন্সিলর, চেয়ারম্যান, মেম্বার, শিক্ষক, সাংবাদিক, গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনকে সাথে নিয়ে করোনা প্রতিরোধে জেলা ও উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, রেল স্টেশন, বাস টার্মিনালসহ সকল গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণসহ ব্যাপক প্রচার প্রচারণার কাজ করছেন।

২। এই মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারাই সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা নিয়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি প্রবাসী অধ্যুষিত ও বৃহৎ এ জেলায় করোনা আক্রান্ত বিভিন্ন দেশ থেকে ফেরত আসা প্রবাসীদের আবাসস্থল চিহ্নিত করা ও তাদের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করছেন। দেশে যে কয়জন লোক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তাদের রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার আওতায় আসার আগেই তো তারা মাঠ প্রশাসন, পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সংস্পর্শে এসেছেন যেহেতু তারাই হোম কোয়ারেন্টাইন কাজের কাজে জড়িত।

৩। এইযে এত ঝুঁকিপুর্ণ কাজটি মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা ও পুলিশ করছে এর জন্য এখনো কোন বাজেট আসেনি। সরকারিভাবে কোন পিপিই বা অন্য কিছুও তাদের কাছে বরাদ্দ আসেনি। মাঠ প্রশাসন ও পুলিশ কোয়ারেন্টাইন ও সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখায় ভুমিকা পালন না  করলে করোনা সংক্রমণ যে কোন পর্যায়ে পৌছাতো সে ধারণা কি আমরা কেউ করছি! আমার তো  মনে হয় আল্লাহর অশেষ রহমত এবং প্রশাসন ও পুলিশের ভূমিকায় করোনায় সংক্রমণ ও রোগীর সংখ্যা এখনো পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে আছে।

৪। মাঠ প্রশাসনের কোন কোন উদ্যোগী কর্মকর্তা তাদের নিজের ও সহকর্মীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও বায়ো নিরাপত্তার কথা ভেবে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কিছু রেইনকোট বা স্থানীয় পর্যায়ে পিপিই সদৃশ কিছু পোশাক তৈরি করেছেন। আবার কোথাও কোথাও প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তরের একটি প্রজেক্টের অব্যহৃত কিছু পিপিই উপজেলা হাসপাতালের ডাক্তার ও নার্সসহ করোনা প্রতিরোধে গঠিত কমিটির সদস্য এবং এ কাজে নিয়োজিত অন্যান্য সহকর্মীদের নিকট বিতরণ করেছেন।

৫। কোন কোন জেলা ও উপজেলায় কিছু কর্মকর্তা আবার এই ঝুঁকিপূর্ণ কাজে তাদের সকল সহকর্মীদের নিজেদের মধ্যে ইউনিটি ও সাধারণ মানুষকে সাহস যোগাতে এবং করোনা প্রতিরোধে নিজেদের প্রস্তুতি বুঝাতে ফেসবুকে করোনা রেসপন্স টিমের কিছু ছবি আপলোড করেছেন। এটা  কিন্তু নিজ উদ্যোগেই সংগ্রহ করেছেন, কেউ তাদের দেয়নি। তাহলে কারা এত শোরগোল বাধাচ্ছে? তাদের উদ্দেশ্যই বা কি?  তারা নিজের ও পরিবারের সেফটি নিয়ে ভাবতে পারবে না?

৬। এ সুযোগে মুখোশধারী হেটার্সরা তাদের দীর্ঘদিনের জমিয়ে রাখা ক্ষোভ উদগীরণের এক মোক্ষম সুযোগ পেয়ে গেছেন এবং অলস ছুটির দিনে কোন কাজকর্ম না থাকার সুবাদে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফাটিয়ে ফেলছেন। আরো দুঃখজনক বিষয় হলো কিছু কিছু মিডিয়াও এ নিয়ে নেগেটিভ নিউজ করছে এবং অনেক তথাকথিত দায়িত্বশীল লোকজন এমন কি সরকারি চাকরিজীবি তা উদ্দেশ্যমূলকভাবে ফেসবুকে শেয়ার করে ঘৃণা ছড়াচ্ছেন।

৭। এখন সকল সরকারি অফিস ছুটি হলেও মাঠ প্রশাসনের এসব কর্মকর্তারা সেনাবাহিনী ও পুলিশকে সাথে নিয়ে সামাজিক দুরত্ব মেইনটেইন নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন। এ কাজ রাষ্ট্রের বৃহত্তর কল্যাণে, তাই মাঠ প্রশাসনের কেউই নিজের স্বাস্থ্য ঝুঁকির কথা বলে করোনা প্রতিরোধের কাজ থেকে এখনো পর্যন্ত নিজেকে দূরে সরিয়ে নেননি।

৮। এদেশের আমজনতা আবেগ বেশি খায়, যুক্তি দিয়ে বিচার করে কম। এই যে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা নিজেদের এবং স্ত্রী সন্তানের চিন্তার উর্ধ্বে গিয়ে করোনা সন্দেহভাজনদের খোঁজে মাঠে ঘাটে কাজ করে চলছে, সামাজিক দুরত্ব মেইনটেইন করার জন্য আর্মি, পুলিশ, জন প্রতিনিধিদের নিয়ে নিরন্তর পরিশ্রম করছে। তাদের এ ঝুঁকিপুর্ণ কাজের প্রসংশার বদলে কিছু মুখোশধারী অন্যদের জন্য মায়াকান্নার আদলে এসব নির্ভীক কর্মীদের নিউজ ভাইরালের মহান দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

৯। যেহেতু  সবাই মানুষ এবং স্বাস্থ্য ঝুঁকি  সবারই সমান সেহেতু মাঠ পর্যায়ে ডিসি,এডিসি, ইউএনও,এসিল্যান্ড, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশের  সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা- কর্মচারী, স্বাস্হ্য বিভাগের ডাক্তার, নার্স ও সংশ্লিষ্টরা, ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার, গ্রামপুলিশ যারা করোনা প্রতিরোধে কাজ করছেন সবারই পিপিই দরকার।

১০।  সরকারের পাশাপাশি আমরা ব্যক্তিগত পর্যায়েও চেস্টা করছি পিপিই সংগ্রহ করতে। সম্ভব হলে ডাক্তার, নার্স, পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেট, জন প্রতিনিধি যারা এ কাজে জড়িত সবাইকেই পিপিই সরবরাহ করবো। করোনা ভাইরাস দ্রুত জেনেটিক মিউটেশনের মাধ্যমে যেভাবে জীনগত পরিবর্তন হচ্ছে তাতে বিজ্ঞানীরাও এর ছড়িয়ে পড়ার সকল পদ্ধতি সম্পর্কে এখনো অবগত নয়। আমরা যারা এসব কাজে জড়িত তারা যে কতটা রিস্কে আছি তা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না,  তিনিই সবাইকে রক্ষা করুন। প্রিয় ভাইয়েরা, জীবনে পিপিই কখনো পরিধান করিনি, কোনদিন যাতে করতেও না হয়  এজন্য আপনাদেরও দোয়া চাই।

১১। এখন প্রশ্ন জাগে শুধুমাত্র মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের এত সমালোচনা কেন হচ্ছে? এসব কর্মকর্তারা কি মানুষ নয়? তাদের কি নিজেদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি নেই? তাদের কি স্বামী/ স্ত্রী, সন্তান নেই? রাতদিন তাদের নিরন্তর  পরিশ্রম কি করোনা প্রতিরোধে কোন সহায়তা করছেনা? এর ফলে কি আপনার করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কিছুটা হলেও কমছে না? তাহলে তাদের প্রসংশা না করুন অন্তত সমালোচনা করে নিজের দেওলিয়াত্ব প্রকাশ করবেন না প্লিজ।

১২। করোনা প্রতিরোধের কাজ কিন্তু এখনই শেষ না।করোনা যাবার পরও এর রেশ কারা টানবে! এই মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারাই। এই যে সামাজিক  দুরত্ব মেইনটেইন করার ফলে যেসব হকার, রিকশা-ভ্যান- অটো চালক, দিন মজুর, পরিবহন শ্রমিক, নির্মাণ শ্রমিক ও খেটে খাওয়া মানুষ সাময়িকভাবে কাজ হারিয়েছে তাদের মধ্যে প্রাথমিকভাবে ৫০০০ জনকে চিহ্নিত করে আগামীকালের মধ্যেই চাল,মুড়ি, আলু, ডাল, লবণ, তেল, সাবান পৌঁছানোর জন্য এখনো আমি অফিসে কাজ করছি। গত দেড়মাস ধরে আমার স্ত্রী ও ছোট দুই সন্তানের সাথে দেখা হয়না এটা ভাবারও ফুরসৎ নেই।

১৩। আমাদের দুঃখ এক জায়গায় আমরা শুধুই শুনি, কাউকে অসভ্যভাবে আক্রমণ করতে পারিনা। যে সব শ্রদ্ধেয় ও প্রিয় ভাইবোনেরা মাঠ প্রশাসনের অযথা সমালোচনায় লিপ্ত আছেন, আসুন অহেতুক সমালোচনায় সময় নষ্ট না করে দেশের এ ক্রান্তিলগ্নে কাজে নেমে পড়ি। তাতে দেশ ও মানুষের মঙ্গল হবে।





© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};