ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
238
নিরবেই চলে গেলো দেবীদ্বার বাসীর প্রথম প্রতিরোধ প্রথম বিজয়ের দিনটি
এবিএম আতিকুর রহমান বাশার
Published : Tuesday, 31 March, 2020 at 6:40 PM
নিরবেই চলে গেলো দেবীদ্বার বাসীর প্রথম প্রতিরোধ প্রথম বিজয়ের দিনটি৩১ মার্চ, ঐতিহাসিক ‘ভিংলাবাড়ি-জাফরগঞ্জ শ্রীপুকুরপাড় জামে মসজিদ যুদ্ধ’ এবং আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত ১৫ জন পাকিস্তানী সেনাদলকে পরাস্ত করে দেবীদ্বারের নিরস্ত্র বাঙ্গালীর গৌরবোজ¦ল বিজয় ছিনিয়ে আনার দিন। করোনা ভাইরাস সংক্রমনের আশংকায় সামাজিক বিচ্ছিন্নতার মধ্য দিয়ে এবার নিরবেই চলে গেলো দিনটি।
১৯৭১ সালের ৩১ মার্চ কুমিল্লাা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাণবাড়িয়া থেকে অত্যাধুনিক অস্ত্রে সুসজ্জিত ১৫ সদস্যের একটি পাকিস্তানী সেনা দল পায়ে হেঁটে তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তানের প্রধান সেনা ছাউনি কুমিল্লার ময়নামতি সেনানিবাসের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। দলটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে ময়নামতি সেনানিবাসের দিকে অগ্রসর হওয়ার পথে কাকডাকা ভোরে দেবীদ্বার উপজেলার ভিংলাবাড়ি এলাকায় স্থানীয়দের দ্বারা অবরুদ্ধ হয়। হানাদার বাহিনী গুলি বর্ষন করে অবরোধ ভেঙ্গে এগুতে থাকলে ওই দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা নাগাদ ভিংলাবাড়ি থেকে জাফরগঞ্জ শ্রীপুকুরপাড় জামে মসজিদ পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার সড়ক রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। নিরস্ত্র বাঙালীরা সেদিন শত্রুসেনা নিধনে দেবীদ্বার থানার অস্ত্রাগার লুন্ঠন করে। লুন্ঠিত অস্ত্র এবং দা, লাঠি, বল্লমের সাথে মরিচের গুড়া নামক বঙ্গজ হাতিয়ারটিও ওই যুদ্ধে ব্যবহার করেছিল। শত শত জনতার প্রতিরোধ যুদ্ধে টিকতে না পেরে সেদিন পাক সেনারা জাফরগঞ্জ শ্রীপুকুর পাড় জামে মসজিদে আশ্রয় নেয় এবং জনালা দিয়ে জনতার উপর গুলি ছুড়তে থাকে। বিকাল নাগাদ জনতা শ্রীপুকুর সাতরে পেছন দিক থেকে মসজিদের ছাদে উঠে সেই ছাদ ছিদ্র করে মরিচ জ¦ালিয়ে ধোয়া দিতে থাকে, মরিচের ধোয়ার তীব্র জ¦লুনিতে টিকতে না পেরে হানাদাররা বেড়িয়ে এলে বিক্ষুব্দ জনতা তাদের হত্যা করে। মসজিদ থেকে বেড়িয়ে আসার পূর্বে পাক সেনারা তাদের সাথে থাকা টাকা-পয়সা, হাত ঘড়ি, ওয়ার্লেস, অস্ত্র-পাতি সব নস্ট করে ফেলে।
অত্যাধুনিক অস্ত্রে সুসজ্জিত পাক হায়েনাদের পুরো দলটিকে পরাস্ত করতে ৩৩ বাঙালী শহীদ হন এবং আলফু ফকিরসহ অসংখ্য জন পংগুত্ব বরন করেন। স্বাধীনতা ঘোষনার মাত্র ৫ দিনের মাথায় পাক হায়েনাদের সাথে সম্মূখ সমরে পুরো দলকে পরাস্ত করে মুক্তিকামী জনতার বিজয় ছিনিয়ে আনার গৌরব বাংলাদেশে সম্ভবতঃ এটাই ছিল প্রথম। যে যুদ্ধটি ‘ভিংলাবাড়ি-জাফরগঞ্জ শ্রীপুকুরপাড় জামে মসজিদ যুদ্ধ’ নামে পরিচিতি লাভ করেছে। পাক হায়ানাদের সাথে দিনব্যাপী যুদ্ধে পথিমধ্যে আট পাকসেনা জনতার হাতে নিহত হয়, যাদের মাটি চাপা দেয়া হয়  এবং জাফরগঞ্জ শ্রীপুকুরপাড় জামে মসজিদে আশ্রয় নেয়া অবশিষ্ট সাত জনকে হত্যাপূর্বক বস্তা বন্দি করে গোমতী নদীতে ভাসিয়ে দেয়া হয়।
স্থানীয় ও প্রত্যদর্শীদের তথ্যমতে ভিংলাবাড়ি থেকে জাফরগঞ্জ শ্রীপুকুরপাড় জামে মসজিদ পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার বিস্তৃত যুদ্ধে পাক সেনাদের গুলিতে প্রথম শহীদ হন চাঁপানগর গ্রামের নুরুল ইসলাম, তারপর বারেরা গ্রামের সৈয়দ আলী, আব্দুল মজিদ সরকার, সরু মিয়া, চরবাকর গ্রামের মমতাজ বেগম, নায়েব আলী, সফর আলী, সাদত আলী, লাল মিয়া, পৈয়াবাড়ি গ্রামের কেনু মিয়া, ঝাড়– মিয়া, বাজেবাকর গ্রামের আব্দুল মালেক, খলিলপুর গ্রামের আব্দুর রহিম, ফুলতলি গ্রামের ছফর আলী, কংশনগর গ্রামের তব্দল ড্রাইভার, ফরিদ মিয়াসহ ৩৩বাঙ্গালী শহীদ হন।
 





© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};