ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
127
আনিস স্যারের জীবনীগ্রন্থ লেখা হলোনা আর
Published : Wednesday, 20 May, 2020 at 12:00 AM
আনিস স্যারের জীবনীগ্রন্থ লেখা হলোনা আরড. আলী হোসেন চৌধুরী ||
স্যারের জীবনী নিয়ে একটি গ্রন্থ প্রকাশের ইচ্ছেটা আমার ই ছিলো। আমি তখন ঢাকায় ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটিতে জব করি।
স্যার প্রতি বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্যারের কক্ষে থাকেন।বুধবারেই যেতাম। স্যার কে নিয়ে প্রকাশিত লেখা বই/ ম্যাগাজিন / সাক্ষাৎকার এসব কিছু কিছু যা পাওয়া যেত নিতাম। কথা হতো স্যারের জীবনের নানা বিষয়গত তথ্য নিয়ে। কিন্তু কাজ বেশি দূর আগানো যায়না। কখনো শিক্ষক কখনো ছাত্র কখনো কবি -সাহিত্যিক -সাংবাদিকদের আগমন ঘটে। কাজ করা যায়না। পরে ঠিক হলো স্যারের বাসায় দু / একদিন গিয়ে সব তথ্য ছবি নিয়ে আসবো। তারপর কিছুদিন স্যার অসুস্থ কিংবা দেশের বাইরে যাওয়া বা অন্য কি কারণে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিলাম। তারপর আমি ঢাকা ছেড়ে আসি। ফলে কাজটা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। স্যার কে না পাওয়ার আরো কি কি কারণ ছিলো এখন মনে নেই। তবে আমি কাজ শুরু করে দিয়েছিলাম কিছুটা এগিয়ে গিয়েছি। পরে স্যারের সাথে কথা বলেছিলাম ঠিক হলো দুতিন দিন ঢাকা থেকে তথ্য সহ ছবি সব নেবো পুরো কাজটা গুছিয়ে নেবো কিন্তু তাও আর হয়নি কেন যেন কি কি অসুবিধা ছিলো।
স্যারের সাথে পরিচয় ১৯৭৩ সালে আমি তখন ভিক্টোরিয়া কলেজে সদ্য বাংলার ছাত্র। কবিতা শিল্প সাহিত্য নিয়ে আমাদের মত্ততা অবিরাম। তখন চারজন শ্রদ্ধেয় স্যার ড. আনিসুজ্জামান, ড. আহমদ শরীফ স্যার, ড. আবু হেনা মোস্তফা কামাল স্যার, ও ড. আবদুল আওয়াল স্যার। তাঁরা এসেছিলেন ভিক্টোরিয়া কলেজ ও কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে বাংলা বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক কাজে। তখন কুমিল্লায় এক গুচ্ছ তরুণের শিল্প সাহিত্য বিষয়ক আমাদের কর্ম চঞ্চল সংগঠন ছিলো " আমরা জ্যোৎস্নার প্রতিবেশী" সেই সংগঠনের পক্ষ থেকে স্যার দের সংবর্ধনা আয়োজন করা হয় (খুব সক্রিয় না হলেও সংগঠনটি এখনো আছে)।
মনে আছে স্যারেরা এ অনুষ্ঠানের আয়োজনে মুগ্ধ হয়েছিলেন। তাঁরা খুব প্রশংসা করেছিলেন। বিস্তারিত মনে নেই। অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়েছিলো কুমিল্লা কো- অপারেটিভ কারখানা রেস্ট হাউসে।সেই থেকে যোগসূত্র আনিস স্যারের সাথে। এরপর চিটাগাং, কুমিল্লা, ঢাকা স্যারের সাথে দেখা হয়েছে না না অনুষ্ঠানে। তারপর কিভাবে জানিনা স্যারের ভক্ত অনুরক্ত হয়ে পড়েছিলাম। হয় স্যারের বক্তব্য শুনে নাহয় স্যারের লেখা পড়ে আবার চট্রগ্রাম বিশ্ব বিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ছাত্র বাকের ভাই, আনোয়ার, হাবিবুল্লাহ, কবির,এহতেশাম, নির্মল, ফটিক, মোস্তফা, নীরু, কলি, শিখা, এবং শিক্ষক শ্রদ্ধেয় ড.মাহবুবুল হক, শিক্ষক বন্ধু গোলাম মুস্তাফা, তাদের কাছে গল্প শুনেও হয়তো স্যারের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার পূর্ণ রূপ গড়ে ওঠেছিলো। স্যার কে আমার দেবদূত এর মতো মনে হতো। স্যারের প্রতি এ অসীম ভালোবাসা প্রকাশের সুযোগ কম শুধু মনের মধ্যেই লালন করি।
তাই যখন কোনো অনুষ্ঠানে দেখা হতো স্যারের পায়ে ধরে সালাম করতাম। মাঝে মাঝে স্যার অস্বস্তির মধ্যে পড়ে যেতো কাছে ডেকে দু/একবার না ও করেছিলো এভাবে সালাম না করতে। কে শোনে, আমি স্যারকে বলেছিলাম স্যার" কিছু কিছু মানুষকে পা ধরে সালাম না করলে মনের প্রশান্তি আসেনা , শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার পরিপূর্ণ তৃপ্তি আসেনা" স্যার হেসে ছিলেন।
পরে যখনি দেখা হতো কোনো অনুষ্ঠানে পরিবেশ থাকলে পা ছুঁয়েই সালাম করতাম। পা ধরে সালাম করার ব্যাপারটা সবার বেলায় যে ছিলো তা নয়। পিতা মাতা নিকট আত্মীয় ছাড়া কয়েকজন শ্রদ্ধেয় স্কুল শিক্ষক ও কলেজ শিক্ষকের বেলাতেই আমার জন্য প্রযোজ্য ছিলো।
স্যার কুমিল্লাতে বহুবার এসেছেন কখোনো উদীচীর প্রোগ্রামে কখনো রবীন্দ্র সংগীত সম্মিলন পরিষদ , অলক্ত সাহিত্য পরিষদ কিংবা অন্যকোনো সাহিত্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে। দেখেছি তাঁর অধিক উচ্চতায় অপূর্ব এক ব্যক্তিত্ব। স্যারের সান্নিধ্যে যত গেছি তত তাঁর অন্তর্গত বিপুল সৌন্দর্যকে উপভোগ করেছি, অনুধাবন করেছি। তাঁর দর্শন, জীবন ও জগত ভাবনা, বঙ্গবন্ধু ও বাঙালিত্ব, মুক্তিযুদ্ধ, মুক্ত বুদ্ধির অনাবিল আকাশ, অনুপম সৌন্দর্য উপলব্ধি। সব মিলিয়ে স্যার ছিলেন আমার কাছে অসামান্য উচ্চতার একজন মানুষ। স্যার যখন ভারতে "পদ্মভূষণ" সম্মাননা লাভ করেন তখন ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি থেকে সংবর্না দেয়া হয়। অনুষ্ঠান টির সঞ্চালনায় ছিলাম আর স্যার কে নিবেদন করে আমার লেখা একটা কবিতা পাঠ করে উপহার দিয়েছিলাম। ঢাকায় থাকা কালে স্যারের সাথে অনেক অনুষ্ঠানে দেখা হয়ে যেতো কখোনো কথা হতো। এমন হয়েছে আয়োজকদের সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই শুধু স্যারের নাম দেখেই অনুষ্ঠানে চলে গেছি শুধু স্যারের কথা শোনার জন্য।
বাংলা একাডেমি তে বিভিন্ন অনুষ্ঠানতো আছেই তাছাড়া প্রতি বছর বাংলা একাডেমি বার্ষিক অধিবেশনে তো দেখা হতোই। সন তারিখ মনে নেই হয়তো-২৫/৩০ বছর আগে স্যার একবার কুমিল্লা এসেছিলেন। কয়েকদিন বার্ডে ছিলেন একটা লেখা শেষ করবেন বলে। তখন দেখা করেছি কোনো কাজে প্রয়োজন আছে কিনা জানতে চেয়েছি। কোনো কাজে এসেছিলাম কিনা এখন মনে নেই। তখন স্বপনাদি ( ভিক্টোরিয়া কলেজে বাংলার শিক্ষক স্বপ্না রায় ) স্যারের গাইডেন্সে পি,এইচ-ডি করছিলেন, ফলে স্যারের দেখা শুনা, খোঁজ খবর নেয়া সবটাই দিদির ওপর ছিলো। (আজ স্বপ্নাদি ও নেই, চলে গেছেন অনেক আগে ) আরো কত কথা কত স্মৃতি কিছু হারিয়ে গেছে, কিছু মনে আছে। এখানে শুধু স্যারের জীবনী লিখতে না পারার আক্ষেপটা জানাবার জন্য লেখা। আর হয়তো কিছুটা শ্রদ্ধা জানানো। হয়তো কথা প্রসংগে অনেক কথা চলে আসছে। স্যারের অসুস্হতার খবর পেলে স্বাভাবিক সময় হলে ঢাকায় চলে যেতাম। যাওয়া হয়নি, স্যারের মৃত্যু সংবাদ জেনেও জানাজায় অংশ নিতে পারিনি। অনেক কষ্ট বুকের ভেতর চেপে ছিলো। বুকের ভেতর চাপা রয়েই গেলো। কী দুর্ভাগ্য করোনা স্যারকে কিভাবে পেলো বুঝে ওঠতে পারিনা। স্যার চলে গেলেন আমাদের ভালোবাসার মানুষ, আমাদের পরম শ্রদ্ধার মানুষ, উদ্দীপনার উৎস কেন্দ্র, প্রশান্তির আশ্রয়, আমাদের নির্ভরতা।
এ লেখার মধ্যদিয়ে স্যার কে শেষ অভিবাদন জানাবার ইচ্ছে শুধু আর তো কিছু করার নেই। করোনা মুক্ত হলে হয়তো স্যার কে নিয়ে কিছু করার আছে। চাই আরো আনিসুজ্জামান আরো মুক্ত ও স্বচ্ছ চিন্তার মানুষ। আলোয় আলোয় অনির্বাণ শিখায় হেসে ওঠুক বাংলাদেশ।







© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};