ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
3273
সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়ছে কুমিল্লায়
এক সপ্তাহে করোনা আক্রান্ত দুই শ, মোট মৃত্যু ১৫
Published : Thursday, 21 May, 2020 at 12:00 AM, Update: 21.05.2020 1:16:14 AM
সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়ছে কুমিল্লায়জহির শান্ত ||
মহামারী কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ ও প্রাণহানির তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে কুমিল্লায়। জেলার ১৭টি উপজেলায় এ পর্যন্ত নভেল করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩৫৩ জন। মারা গেছেন এক নারীসহ ১৫ জন। প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। সেই সাথে ‘নিয়মিতই’ ঘটছে প্রাণহানি। গতকালের আগ পর্যন্ত টানা চার দিনই কুমিল্লায় একজন করে করোনা আক্রান্ত রোগী মারা গেছেন। সেই সাথে উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর মিছিলও দীর্ঘ হচ্ছে।
যদিও করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে শঙ্কিত নয় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। কর্মকর্তারা বলছেন, শনাক্তের হারে আতংকিত হওয়ার কিছু নেই। বরং রোগী চিহ্নিত হলেই ওই এলাকায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে। নতুবা অজান্তেই কমিউনিটিতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা থাকে। এজন্য সবাইকে সচেতন হয়ে লকডাউন মেনে চলার আহবান তাদের।
কুমিল্লায় ক্রমেই কোভিড-১৯ সংক্রমণ বাড়তে থাকার বিষয়টি উঠে আসে গেলো এক সপ্তাহের তথ্যে। নতুন প্রাণঘাতি এ ভাইরাসে সাতদিনেই সংক্রমিত হয়েছেন দুই শ জন। যা মোট আক্রান্তের অর্ধেকেরও বেশি। এর মধ্যে সংক্রমণ বেশি ছড়িয়ে পড়েছে জেলার উত্তরের জনপদ দেবীদ্বার ও মুরাদনগরে। এ দুই উপজেলার মধ্যে দেবীদ্বারে ১১০ জন, মুরাদনগরে ৭১ জন কোভিড-১৯ সংক্রমিত হয়েছেন।
মৃত্যুর তালিকাতেও সবার উপরে আছে দেবীদ্বার। এ উপজেলায় এক নারীসহ ৯জন করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। আর মুরাদনগরে মারা গেছেন দুইজন। সর্বশেষ মঙ্গলবার প্রাপ্ত রিপোর্ট থেকে জানা যায়, উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া এক ব্যক্তি করোনা আক্রান্ত ছিলেন।
দেবীদ্বার, মুরাদনগর ছাড়াও কুমিল্লায় করোনায় প্রাণ হারিয়েছেন আদর্শ সদর উপজেলার দুই জন, চান্দিনা উপজেলার একজন ও মেঘনা উপজেলার একজন ব্যক্তি। এছাড়া জেলায় করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের তালিকাটাও বেশ বড়। নমুনা সংগ্রহের পর তাদের অনেকের রিপোর্টই পজেটিভ এসেছে।
সবশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী করোনার উপসর্গ নিয়ে কুমিল্লা শহরে তিন জন মারা গেছেন। এর মধ্যে শহরের বজ্রপুর ইউসুফ হাইস্কুল এলাকার বিশিষ্ট সিমেন্ট ব্যবসায়ী আব্দুল কুদ্দুস মঙ্গলবার দিনগরাত আড়াইটায় মারা যান। তাঁর কাশি জ্বর ও এজমা-শ্বাসকষ্ট ছিল। একই রাতে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশনে ভর্তির এক ঘন্টা পর (পৌনে ৫ টার দিকে) মারা গেছেন শহরের চকবাজারের ধনেশ্বর হাউসের ৫৩ বছর বয়সী ওবায়দুল হাসান। তার আগেরদিন দুপুরে হাসপাতালটির একই ওয়ার্ডে মারা যান শহরের চকবাজারের সফিক নামে ৮০ বছর বয়স্ক একজন।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মুজিবুর রহমান আইসোলেশনে থাকাদের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তার আগে গত সোমবার বিকেলে ও সন্ধ্যায় জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলায় উপসর্গ নিয়ে মারা যান দুই ব্যক্তি।পরে তাদের নমুনা সংগ্রহ করে কোভিড স্বাস্থ্য বিধি মেনে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লামইয়া সাইফুল।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য মতে কুমিল্লায় গত ৯ থেকে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত প্রথম ১৯ দিনে করোনা শনাক্ত হয় ৫২ জনের। ২৯ এপ্রিল থেকে ১৯ মে পর্যন্ত ২১ দিনে শনাক্ত হলেন ৩০১ জন। এই ২১ দিনের মধ্যে শেষ সাতদিনেই (১৪ থেকে ২০ মে) সংক্রমিত হয়েছেন দুই শ জন। এর মধ্যে ১৪ মে জেলায় একদিনে সর্বোচ্চ ৪৯ জনের শরীরে কোভিড-১৯ ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। আর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৫জন আক্রান্ত হয়েছেন ১৯ মে (মঙ্গলবার)। এছাড়াও ১৮ মে ২৫ জন, ১৭ মে ১৭ জন, ১৬ মে ১৬ জন, ১৫ মে ২৮ জন এবং গতকাল ২০ মে বুধবার এ জেলায় আক্রান্ত হয়েছেন ২০ জন।
জেলায় মোট আক্রান্তদের মধ্যে দেবীদ্বারে ১১০ জন, মুরাদনগরে ৭১ জন, আদর্শ সদর উপজেলায় ৩৭ জন (সিটি করপোরেশনে ২৮, গ্রামাঞ্চলে ৯ জন), লাকসামে ২৪ জন, চান্দিনায় ২১, তিতাসে ১৪, দাউদকান্দিতে ১৬ জন, বরুড়ায় ১০ জন, বুড়িচংয়ে ১৬ জন, ব্রাহ্মণপাড়ায় ১১ জন, নাঙ্গলকোটে ১৪ জন, মনোহরগঞ্জে ৭ জন, হোমনায় ২জন, সদর দক্ষিণে ৪ জন, লালমাইয়ে ৩ জন, মেঘনায় ৩জন, চৌদ্দগ্রামে ৩ জন এবং কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৬ জন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৬১ জন।
জানতে চাইলে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ কুমিল্লা জেলার সমন্বয়ক ডা. নিসর্গ মেরাজ চৌধুরী জানান, বাড়তে থাকা কোভিড-১৯ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সবার আগে আক্রান্তদের চিহ্নিত করতে হবে। তাই অতিরিক্ত শনাক্তের কারণে আতংকিত হবার কিছু নেই। বরং রোগী চিহ্নিত হলেই ওই এলাকায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে। তাই আমরা চেষ্টা করছি কুমিল্লা থেকে আরো বেশি পরিমাণে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করার।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে কুমিল্লার সিভিল সার্জন মো. নিয়াতুজ্জামান বলেন, দেবীদ্বার ও মুরাদনগরের কমিউনিটিতে করোনা ব্যাপক করোনা সংক্রমিত হয়েছে। এ পর্যন্ত এই দুই উপজেলায় ১১ জন মারা গেছেন। এ জনপদে সংক্রমণ ঠেকাতে সর্বোচ্চ কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।  কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে। দুই উপজেলাবাসীকে ঘরে থাকতে হবে। লকডাউন মানতে হবে। ঘর থেকে বের হওয়া যাবে না।’






সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};