ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
73
আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ান
Published : Friday, 22 May, 2020 at 12:00 AM
আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানমরণঘাতি করোনাভাইরাসের সংক্রমণকালে তীব্র বাতাস, ভারী বৃষ্টিপাত ও উঁচু জলোচ্ছ্বাস নিয়ে উপকূলজুড়ে তা-ব চালিয়েছে ঘূর্ণিঝড় আম্পান। ফলে বিধ্বস্ত হয়েছে ঘরবাড়ি, ভেঙে গেছে বাঁধ, বাড়িঘর-গাছপালা, প্লাবিত হয়েছে বিস্তীর্ণ অঞ্চল। বিদ্যুত ব্যবস্থায়ও বিপর্যস্ত। ঘটেছে প্রাণহানির ঘটনাও। এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে হবে। উপকূলবাসী যেন দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে নিশ্চিত করতে হবে সেটি।
দুঃখজনক যে, সুপার সাইকোন আম্ফানের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন জেলায় অন্তত নয়জন মারা গেছে। এর মধ্যে যশোরে দুজন, পটুয়াখালীতে দুজন, ভোলায় দুজন, পিরোজপুরে একজন, সন্দ্বীপে একজন ও সাতক্ষীরায় একজন রয়েছেন। জানা যায়, সাতক্ষীরা থেকে পটুয়াখালী উপকূল পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাব ছিল সবচেয়ে বেশি। গতকাল বুধবার রাত নয়টায় ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রটি ঘণ্টায় ১৫১ কিলোমিটার গতিবেগে সাতক্ষীরা উপকূলে আঘাত করে। এ সময় ১২ থেকে ১৫ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস ছিল। এর আগে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপে প্রথম আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড়টি। সুন্দরবন দিয়ে অতিক্রম করার কারণে আম্পানের তা-ব কিছুটা কম হয়েছে। তবে দুর্বল হওয়ার আগেই চালিয়েছে তা-ব। ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তা-বে ল-ভ- হয়ে গেছে সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চল। ইতোমধ্যে শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। উপকূলীয় এলাকার বাঁধগুলোর অর্ধশত পয়েন্ট ভেঙে গেছে। জনপদে প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করছে। এছাড়াও ঝড়ের কবলে পড়ে সাতক্ষীরা শহরের কামালনগর এলাকায় এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। বিধ্বস্ত হয়েছে কাঁচা ঘরবাড়ি, উপড়ে পড়েছে গাছপালা।
সারারাত এটি ঘূর্ণিঝড় রূপে থেকেই দেশের দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তা-ব চালিয়েছে। সারারাত তা-ব চালানোর পর আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টার পর এটি স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়। এরপর স্থল নিম্নচাপ হিসেবে রাজশাহীতে অবস্থান করছিল আম্ফান। আবহাওয়া অধিদফতর বলছে ‘আম্ফান এখন রাজশাহী অঞ্চলে আছে। আম্ফান ঘূর্ণিঝড় (বাতাসের গতি ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটারের ওপরে থাকলে ঘূর্ণিঝড় বলে) থেকে একধাপ নিচে নেমেছে। এটা এখন স্থল নিম্নচাপ হিসেবে আছে।’ আম্ফান অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় হিসেবে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৫১ কিলোমিটার গতিতে আঘাত হানে সাতক্ষীরায়। এটি ছিল বাংলাদেশে আম্ফানের সর্বোচ্চ গতি।
আম্ফান একই অঞ্চলে কিছু সময়ের বিরতিতে দুইবার আঘাত হানে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। তাদের মতে- ‘একটা ঘূর্ণিঝড়ের ব্যাসার্ধ থাকে ৩০০ থেকে ৪০০ কিলোমিটার। আর ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্র থাকে ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার। ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রে বাতাস থাকে কম, আকাশ থাকে পরিষ্কার। ঘূর্ণিঝড়ের ব্যাসার্ধের সম্মুখ অংশ প্রথমে আঘাত হানে। তারপর যখন কেন্দ্রের অংশে যায়, তখন বাতাস কমে যায়। কেন্দ্র অংশ অতিক্রম করার পর ঘূর্ণিঝড়ের পেছনের অংশ আবার আঘাত করে প্রবল গতিতে। গত সারারাতে বাংলাদেশে এভাবে আঘাত করেছে ঘূর্ণিঝড়টি। সুতরাং আম্ফানের প্রথম ও শেষ আঘাতে বাতাস বেশি ছিল, মাঝখানে বাতাস কম ছিল।’
ঘূর্ণিঝড় আম্ফান থেকে বাঁচতে লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়। কোথাও কোথাও দেখাতে বলা হয় ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত। লোকজনকে সতর্ক ও সচেতন করা হয়। কিন্তু এরপরও প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো যায়নি। বাংলাদেশের সুনাম রয়েছে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনসহ দুর্যোগ মোকাবিলায়। এবারের আম্ফানের আঘাতও কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী। এজন্য পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলবাসীর পাশে দাঁড়াতে হবে। জরুরি ত্রাণ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। একজন মানুষও যেন কষ্টে না থাকে সেটি দেখতে হবে।






সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};