ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
1572
স্বাধীন বাংলায় কুমিল্লার মানুষের সামনে বঙ্গবন্ধু
৭২ সালের এই দিনে...
Published : Saturday, 4 July, 2020 at 1:06 AM
স্বাধীন বাংলায় কুমিল্লার মানুষের সামনে বঙ্গবন্ধুআবুল কাশেম হৃদয়:
১৯৭২ সালের এই দিনে ৪ জুলাই বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম কুমিল্লায় আসেন দুই দিনের সফরে। ৪ জুলাই ছিল মঙ্গলবার। পাকিস্তানি শোষণ নিপীড়নের হাত থেকে সশস্ত্র সংগ্রামে মাধ্যমে ১৯৭১এ বিজয় অর্জনের পর মুক্তিকামী লাখো কুমিল্লাবাসী সেদিন সকাল থেকেই অপেক্ষায় বাঙালি জাতির জনক, বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেতা, যাঁর হাত ধরে বীর বাঙালি ধীরে ধীরে এগিয়ে গেছে মুক্তির কাক্সিক্ষত ঠিকানায়, তাঁর জন্য। কেননা এই কুমিল্লাই জাতির জনককে জাতির জনক হয়ে উঠতে রেখেছিলো অনন্য অবদান।
৪ জুলাই কুমিল্লার পুলিশ লাইনস থেকে সার্কিট হাউস তখন লোকে লোকারণ্য। মানুষের কাছে খবর পৌঁছে গিয়েছিল তাঁদের প্রিয় নেতা ‘শেখ সাহেব’ সার্কিট হাউসে উঠবেন। দুপুর দেড়টার দিকে কুমিল্লার আকাশে যখন জাতির জনককে বহনকারী হেলিকপ্টার দেখা দেয় তখন জনতা আনন্দ উল্লাসে ফেটে পড়েন। পুলিশ লাইনস মাঠে তখন অপেক্ষায় মন্ত্রী খোন্দকার মোশতাক আহমদ, মন্ত্রী মিজানুর রহমান চৌধুরী, আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি কাজী জহিরুল কাইয়ুম, বিভাগীয় কমিশনার ও পুলিশ কর্মকর্তা, কুমিল্লার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার, সেনাবাহিনীর লে. কর্নেল খুরশীদ আলম, লে. কর্নেল তাহেরসহ কুমিল্লা জেলা আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। হেলিকপ্টার থেকে নামলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাগত জানান মন্ত্রী ও জেলা আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ। কুমিল্লা জেলা পুলিশ স্যালুট প্রদান করে। পরে জাতির জনক পুলিশ বাহিনীর কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন। কুচকাওয়াজ পরিচালনা করেন কুমিল্লা পুলিশ লাইন্সের আরআই মো: তিতুমির। সেখান থেকে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যাওয়া হয় কুমিল্লা সার্কিট হাউসে। জনতার সে কি ঢল। সার্কিট হাউসে যাওয়ার পর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও লাল বাহিনী জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে অভিবাদন জানান। সার্কিট হাউসের সামনের রাস্তায় তখন মানুষ আর মানুষ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু তাঁদের উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান।
১৯৭২ সালের ৪ জুলাই বিকালে অনুষ্ঠিত হয় সেই স্মরণাতীতকালের মধ্যে সবচেয়ে বড় জনসমুদ্র। কুমিল্লার শহরের দক্ষিণপ্রান্তে হাউজিং এস্টেটের বিশাল খোলা মাঠে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪৭ বছরেও আর কোন রাজনৈতিক দল এতো বড় খোলা মাঠে জনসভা আয়োজনের সাহস তো দূরের কথা চিন্তাও করতে পারে নি। সেখানে জনসভা আয়োজন নিয়ে আওয়ামীলীগ নেতাদের মধ্যে মতবিরোধ ছিল। অনেকে চেয়েছেন কুমিল্লা স্টেডিয়াম বা পুলিশ লাইনস্ মাঠে হোক। কিন্তু সে সময়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। সেই নেতার জনসভা শহরের মধ্যে এমন কোন স্থান নেই যেখানে আয়োজন করা সম্ভব। বর্তমান কেটিসিসিএ লিমিটেড (অভয় আশ্রম) সামনে করা হয় মঞ্চ। কথা ছিল নির্ধারিত নেতৃবৃন্দ ছাড়া অন্যরা মঞ্চে উঠবেন না। কিন্তু বঙ্গবন্ধু জনসভায় আসার আগে সেখানে জেলা ও স্থানীয় এতো বিপুল সংখ্যক নেতা উপস্থিত ছিলেন যে তাঁদেরকেও জনগণের সাথে বসতে-দাঁড়াতে হয়। হাজার হাজার মানুষে হাউজিং এস্টেটের সেই বিশাল মাঠ ভর্তি হওয়ার পরও জনসভাস্থল থেকে টমসনব্রিজ ও জনসভাস্থল থেকে বর্তমান বাখরাবাদের রাস্তা পর্যন্ত মানুষে পরিপূর্ণ ছিল। জনসভায় ভারতের ত্রিপুরারাজ্য থেকেও কয়েক হাজার লোক যোগ দেন।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জনসমুদ্র মঞ্চে উঠে মঞ্চের এ প্রান্ত থেকে ঐ প্রান্তে ঘুরে ঘুরে উপস্থিত কয়েক লাখ জনতাকে শুভেচ্ছা জানান। তাঁদের দেখার সুযোগ করে দেন। মঞ্চের পেছনে কাপড় সরিয়ে দিয়ে তিনি মঞ্চের পেছনের জনতাকেও হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। তিনি জানতেন একনজর তাঁকে দেখার জন্য কতটা ব্যাকুল বাংলার মানুষ।৬১
জনসমুদ্রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বজ্র কঠোর কণ্ঠে ঘোষণা করে বলেন-
‘পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ভুট্টো বাংলাদেশকে স্বীকার করেন কি করেন না তাতে কিছুই আসে যায় না। সাড়ে সাত কোটি মানুষের আবাসভূমি বাংলাদেশ জানে কি করে জাতিসংঘে স্বয়ী আসন প্রতিষ্ঠা করতে হয়। আমরা পাকিস্তানকে স্বীকার করি কিনা সেটাও প্রশ্ন। ভুট্টোর চিন্তা করা উচিত যে, আমাদের স্বীকৃতিও তার প্রয়োজন। পৃথিবীর কোন শক্তিই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা থেকে আমাদের বিরত রাখতে পারবে না। এই প্রশ্নে আমরা কারো হুমকি বা চাপের কাছে নতি স্বীকার করব না। বাংলাদেশের মাটিতেই তাদের বিচার হবে। আমি বেঁচে থাকলে আমি তাদের বিচার করব। অপরাধীদের অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হতে নিবৃত হওয়ার জন্য ভুট্টোর অনুরোধে কর্ণপাত করবো না। মুক্তিযুদ্ধে যাঁরা আহত বা অক্ষম হয়ে পড়েছেন তাদের কল্যাণ বিধানে হাইকোর্টের একজন বিচারপতির নেতৃত্বে একটি টিম গঠন করা হবে। শহীদদের পরিবার থেকে সাহায্য বাবদ এই পর্যন্ত এক কোটি টাকা সাহায্য দেয়া হয়েছে এবং আরও দেয়া হবে। দেশের স্বাধীনতাকে নস্যাৎ করার জন্য যারা কাজ করছে তাদের ধুলায় মিশিয়ে দেয়া হবে। ৩০ লক্ষ লোকের চরম ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা যে কোন মূল্যে রক্ষা করা হবে।’
মজুতদারদের হুঁশিয়ার করে দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বলেন, তাদের করুণা করা হবে না। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর প্রশংসা করে বঙ্গবন্ধু বলেন, তিনি এক কোটি লোককে আশ্রয় দিয়েছেন। পার্শ্ববর্তী ত্রিপুরা রাজ্যের জনসাধারণের কাছে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ত্রিপুরা রাজ্যেও বাংলাদেশের লক্ষ লোক আশ্রয় লাভ করেছিল।
প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত জনসাধারণকে লক্ষ্য করে বলেন যে, ‘পাকিস্তানী দস্যুরা দেশের অর্থনীতিকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে। তাই অর্থনীতির পুনর্গঠনে সময় লাগবে।
কুমিল্লার হাউজিং এস্টেটের জনসমুদ্রের ধাঁধাঁ কাটতে না কাটতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যান কুমিল্লার ময়নামতি সেনানিবাসে। সেখানে তাঁকে অভিবাদন জানায় পাঁচটি ব্যাটালিয়ান সৈনিক দল। স্বাধীনতার পর প্রথম ১৯৭২ সালের ৫ জুলাই সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেখানে পৌঁছান। সেনাবাহিনীর কোন আনুষ্ঠানিক প্যারেডেও এটাই তাঁর প্রথম উপস্থিতি। ব্রিগেড কমা-ার লে. কর্নেল খুরশীদ আহমেদ জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে অভ্যর্থনা জানিয়ে অভিবাদন মঞ্চে নিয়ে যান। মঞ্চে আসেন সেনাবহিনীর প্রধান কর্নেল সফিউল্লাহ, কর্নেল জিয়াউর রহমান, কর্নেল খালেদ মোশাররফ  ও লে. কর্নেল খুরশীদ আহমেদও। মটার দল, বেঙ্গল রেজিমেন্টের ১৩ নম্বর ব্যাটালিয়ন, ১৪ নম্বর ব্যাটালিয়ন ও ১৮ নম্বর ব্যাটালিয়ন সম্মিলিতভাবে জাতির জনক ও প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অভিবাদন জানান। এই অভ্যর্থনা প্যারেড পরিচালনা করে মেজর শরিফুল হক ডালিম।
অভিবাদনের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব প্রতিটি দল পরিদর্শন করেন। পরে সেনাবাহিনীর ব্রিগেড প্যারেড অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন। এ সময় বীর সৈনিকরা স্লোগান তোলেন- ‘বঙ্গবন্ধু জিন্দাবাদ’, ‘জয়-বাংলা’। দীর্ঘ ৪ ঘন্টা প্রখর রোদে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের পরও বঙ্গবন্ধুকে অত্যন্ত প্রফুল্ল দেখাচ্ছিল। সেনানিবাস পরিদর্শনের সময় জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাথে ছিলেন মন্ত্রিসভার সদস্য খোন্দকার মোশতাক আহমদ ও জহুর আহমেদ চৌধুরী। সেখানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি রেজিমেন্টের নাম রাখা হয়েছে ‘মুজিব রেজিমেন্ট’। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ময়নামতি ব্রিগেড হেডকোয়ার্টার প্রাঙ্গণে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধে তিনটি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। বঙ্গবন্ধু নীরবে দাঁড়িয়ে মুক্তিযুদ্ধের মহান বীরদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তাঁদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। শহীদদের পরিবারবর্গের জন্য প্রতিষ্ঠিত ‘শিশু বিদ্যালয় বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের’ জন্য বঙ্গবন্ধু তার বিশেষ তহবিল হতে ১০ হাজার টাকা দান করেছেন। জাতির জনক ও  প্রধানমন্ত্রী কেন্দ্রটি পরিদর্শনকালে শহীদ সৈনিকদের বিধবা পত্মীদের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং রাষ্ট্র তাঁদের দেখাশুনা করবে বলে আশ্বাস দেন। এ ব্যাপারে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেও নির্দেশ প্রদানও করেন।৬২
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এরপর যান কুমিল্লা সেনানিবাসের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে। সেখানে সেনানিবাসের বধ্যভূমি থেকে উদ্ধারকৃত সামরিক কর্মকর্তাদের মরদেহ উদ্ধারের পর পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় সমাহিতদের স্মৃতিচিহ্ন দেখে জাতির জনক বিমর্ষ হয়ে পড়েন এবং অশ্রু সম্বরণ করতে পারেন নি।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ময়নামতি ক্যান্টনমেন্টের ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউ-ে কুচকাওয়াজ শেষে প্রদত্ত ভাষণে দেশের সশস্ত্র বাহিনীর জওয়ানদের সব সময় জনগণের পাশে থাকার এবং কষ্টার্জিত স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করার জন্য সদা সতর্ক থাকার আহবান জানিয়ে বলেন-
‘জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা এই চারটি রাষ্ট্রীয় আদর্শের প্রতি আস্থা রেখে তাদেরকে জনগণের সেবার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে এবং জনগণের নির্বাচিত সরকারের প্রতি অনুগত হতে হবে।’  তিনি সশস্ত্র বাহিনীর জওয়ানদের স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, যে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এক গৌরবদীপ্ত স্বাধীনতা সংগ্রাম আপনারা চালিয়েছেন, সেই জনগণই হলেন এই রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক। তিনি বলেন, এখনও অনেক শত্রু আমাদের কষ্টার্জিত স্বাধীনতাকে নস্যাৎ করতে চায়। তবে তিনি এই মর্মে আস্থাশীল যে, দেশবাসীর ঐক্য এবং সশস্ত্র বাহিনী চরম ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকলে এসব হুমকিতে কোন কাজ হবে না।
তিনি বলেন, বিপুল ত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ জন্ম হয়েছে। অতএব, আমাদের স্বাধীনতাকে হরণ করার ক্ষমতা কারও নেই। স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের যে মহান ঐতিহ্য তাঁরা প্রদর্শন করেছেন, সেনাবাহিনী তা থেকে বিচ্যুত হবে না।
বঙ্গবন্ধু বাঙ্গালীদের বীরত্ব ও যুদ্ধ-ক্ষমতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন যে, সেনাবাবাহিনী, বাংলাদেশ রাইফেলস, মুক্তিবাহিনী, পুলিশ ও জনসাধারণ স্বাধীনতার সংগ্রামে যে বীরত্ব ও আত্মত্যাগের নজির রেখে গেছেন, ইতিহাসের পাতায় তা স্বর্ণাক্ষরে লিখিত থাকবে।
বঙ্গবন্ধু সেনাবাহিনীর বর্তমান অসুবিধাগুলির উল্লেখ করে বলেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থার দরুন এগুলি দূর করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি জওয়ানদের গ্রামাঞ্চলে বসবাসকারী তাদের পিতা-মাতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন যে, তাঁরা এখন দুঃখ-কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। অতএব প্রথমে তাঁদের দুঃখ-দুর্দশাই লাঘব করতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দেশের সম্পদ যথাযথভাবে আহরিত হলে এই দেশ আবার সোনার বাংলায় পরিণত হবে।’
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু সৈনিকদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন,
‘নিয়মানুবর্তিতা ছাড়া বিশেষ কোন জাতিই তাদের মহত্ব অর্জন করতে পারেনি। বিশেষ করে সেনাবাহিনীতে নিয়মানুবর্তিতা একান্তভাবে প্রয়োজন। নিয়মানুবর্তিতা ছাড়া জাতির ঐক্য-সংহতি বিপন্ন হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, পাকিস্তানিরা বাঙালিদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে গণ্য করত আর বাঙালি জাতিকে দাস হিসাবে ব্যবহার করত।
১৯৫৮ যে বাঙালিরা ব্যারাকপুরে প্রথম বিদ্রোহের পতাকা উড্ডীন করেছিলেন, সেই যোদ্ধা বাঙালিদের সম্পর্কে ভীতি ব্রিটিশ সা¤্রাজ্যবাদকে শত শত বছর আতঙ্কগ্রস্ত করে রাখে। আর পুরাতন প্রভুদের পদাঙ্ক অনুসারী ক্ষমতাসীন পাকিস্তানি চক্রের অবস্থাও দাঁড়ায় তাদের প্রভুদেরই মতো। বাঙালিরা যোদ্ধা জাতি নয়, এ ভাঁওতা তুলে তারা উভয়েই বাঙালিদের সেনাবাহিনী হতে দূরে সরিয়ে রাখে। কিন্তু গত যুদ্ধে যে ভাঁওতা চিরদিনের মতো নির্মূল হয়ে গেছে। তাই, তিনি চান যে, এখন থেকে সশস্ত্রবাহিনী জনগণকে সেবা করার ঐতিহ্য গড়ে তুলবে।
বঙ্গবন্ধু উল্লেখ করেন, পাকিস্তানিরা চেয়েছিল, বাঙালিরা আগামী ২৫ বছরের মধ্যে নিজেদের পায়ের উপর দাঁড়াতে পারবে না। গত ছয় মাসকালেই তাদের এ গর্ব যে শুধু ভুল প্রমাণিত হয়েছে, তাই নয়, পাকিস্তানের অবস্থাই বরং তদ্রƒপ দাঁড়িয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।’৬৩
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিকালে কুমিল্লা সেনানিবাসের প্যারেড গ্রাউন্ড থেকে হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। তার সাথে ছিলেন সেনাপ্রধান কর্নেল সফিউল্লাহ। কুমিল্লার আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ ও সামরিক কর্মকর্তারা তাঁকে বিদায় জানান।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দ্বিতীয়বার কুমিল্লার ময়নামতি সেনানিবাসে আসেন ১৯৭৪ সালের ১১ মার্চ। সেবার তিনি কুমিল্লায় বাংলাদেশের প্রথম সামরিক একাডেমি উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রী  সেনানিবাসে নবনির্মিত শহীদ স্মৃতিস্তম্ভও উদ্বোধন করেন এবং সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করেন।





© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};