ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
4852
একদিনের বর্ষণে জল থৈ থৈ কুমিল্লা
জহির শান্ত / বশিরুল ইসলাম ||
Published : Wednesday, 22 July, 2020 at 12:00 AM, Update: 22.07.2020 1:22:51 AM
একদিনের বর্ষণে জল থৈ থৈ কুমিল্লাশ্রাবণের একদিনের বৃষ্টিতে জল থৈ থৈ হয়ে পড়েছে কুমিল্লা। পানি জমেছে নগরীর প্রায় প্রতিটি সড়কে। নি¤œাঞ্চলের কোথাও কোথাও পানি জমে ঘর বন্দী হয়ে পড়েছেন মানুষজন। পানি জমেছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য স্থানেও। সব মিলিয়ে সোমবার মধ্য রাত থেকে শুরু হওয়া বর্ষণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে কুমিল্লার জনজীবন। বিপাকে পড়েছেন দৈনিক খেটে খাওয়া মানুষ ও ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা।
কুমিল্লা নগরী ছাড়াও ভারী বর্ষণে জেলার ব্রাহ্মণপাড়া, বুড়িচং, দেবীদ্বার, চান্দিনাসহ বিভিন্ন উপজেলায়ও জনজীবন ব্যাহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। কোথাও কোথায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। পানি জমেছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অফিস-কার্যালয়ে। সবমিলিয়ে দীর্ঘদিন পরে লাগাতার শ্রাবণধারায় থমকে গেছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন।
এদিকে কুমিল্লা শহরের পুরনো চৌধুরী পাড়ার হোমিও কলেজ থেকে শাহসুজা মসজিদ যাওয়ার সড়কে সিটি করপোরেশনের নিমার্ণাধীন ড্রেনের ঢাকনা না থাকায় তাতে পড়ে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। হতভাগ্য এই ব্যক্তির নাম আনু মিয়া (৮০)। মঙ্গলবার বিকাল ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
একদিনের বর্ষণে জল থৈ থৈ কুমিল্লাজানা যায়, সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ১২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে কুমিল্লায়। এতে নগরীর প্রাণ কেন্দ্র কান্দিরপাড় থেকে শুরু করে স্টেডিয়াম এলাকা, রাজগঞ্জ, চকবাজার, রানীর বাজার, শাসনগাছা, ঝাউলতার, বাদুরতলা, রেইসকোর্স, টমসনব্রিজ, কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এলাকাসহ আশপাশের এলাকায় পানি জমে যায়।

এতে বিপাকে পড়েন এসব এলাকার সাধারণ মানুষসহ ব্যবসায়ী ও খেটে-খাওয়া লোকজন।এদিকে বর্ষণে পানি জমে গেছে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ আশপাশের এলাকায়। পানি জমেছে করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য স্থাপিত কোভিড-১৯ ওয়ার্ডের সামনেও। এর ফলে বিপাকে পড়তে হয়েছে চিকিৎসক, রোগী ও তাদের স্বজনসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে।
একদিনের বর্ষণে জল থৈ থৈ কুমিল্লাজানা গেছে, কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনের ড্রেনের কারণে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। জানতে চাইলে কুমিল্লা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুছ ছাত্তার জানান, হাসপাতালের ড্রেনের জন্য টেন্ডার করা আছে।

বর্ষা মৌসুমের কারণে কাজ করতে পারছিনা। বর্ষা কেটে যাওয়ার সাথে সাথে অতি দ্রুত কাজ করবো। হাসপাতালের কম্পাউন্ডের চেয়ে সিটি কর্পোরেশনের ড্রেনের লেবেল উচু হওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি।  হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, চারপাশে পানি আর পানি। পানির কারণে রোগী ও রোগীর স্বজনরা হাসপাতালে প্রবেশ করতে পারছেনা। পানিতে হাসপাতালের ফোর ডুবে গিয়েছে। প্রধান ফটক দিয়ে কাপড় উচু করে আসা যাওয়া করছে। জরুরী বিভাগে গাড়ী ছাড়া রোগী প্রবেশ করতে পারছেনা।

করোনা ওয়ার্ডে গাড়ীসহ রোগী প্রবেশ করতে পারছেনা। হাসপাতালের রান্না ঘরে পানি প্রবেশ করেছে। জরুরী বিভাগের  উত্তর পাশের গেইটে কয়েকদিন ধরে পানি আর পানি। পানির কারণে হাসপাতালের পরিবেশ নষ্ট হয়েছে।একদিনের বর্ষণে জল থৈ থৈ কুমিল্লাঅভিযোগ রয়েছে হাসপাতালের পানি চলাচলের প্রধান ড্রেনটিতে ছোট কালভার্ট করার কথা থাকলেও সিটি কর্পোরেশন কালভার্ট না করে সেখানে সরু ড্রেন করায় পানি সরতে পারছেনা। সরু ড্রেনটি রাস্তার নিচে হওয়ায় সেটি পরিস্কার করতে পারছেনা হাসপাতালের স্টাফরা। ফলে সরু ড্রেনটি এখন ময়লা আবর্জনায় ভরে গিয়েছে।
পরিচালকের বাংলোর সামনে গণপূর্ত বিভাগ বিদ্যুতের লাইন ও লাইট দেওয়ার সপ্তাহের মধ্যে সব অকেজো। যার কারণে বাংলোর সামন দীর্ঘদিন অন্ধকার। হাসপাতালের স্টাফরা প্রতিনিয়ত এই অন্ধকারে চলাফেরা করছে। করোনা ওয়ার্ডের সামনে লাইট দেওয়ার  কথা থাকলেও এখনো সবগুলো  লাইট দেওয়া হয়নি। করোনা ওয়ার্ডের জন্য মোটা অংকের বিল আসলেও তা সঠিকভাবে কাজে লাগানো হচ্ছেনা। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করোনা ওয়ার্ড ও ওয়ার্ডের সামনে কাজ করার কথা থাকলেও তা করা হচ্ছেনা। করোনা ওয়ার্ডের সামনে কোন সাইনবোর্ড নেই। দেখে চেনার কোন উপায় নেই এটি করোনা ওয়ার্ড না অন্য কিছু।
এ বিষয়ে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মুজিবুর রহমান জানান, সিটি কর্পোরেশনের ড্রেন না হওয়া পর্যন্ত এই সমস্যা থাকবে। হাসপাতালের কম্পাউন্ড লেভেল চারপাশের লেভেলের চেয়ে নিচু হওয়ায় পানি সরতে পারছেনা যার কারণে এ সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।

ব্রাহ্মণপাড়ায় লাগাতার বৃষ্টি:
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় গত কয়েক দিনের লাগাতার বৃষ্টিতে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পরেছে। রাতে থেমে থেমে বৃষ্টি হলেও দিনভর থাকছে কখনো ভারি, কখনো হালাকা, কখনো অতি ভাড়ি এবং মাঝারি বৃষ্টি। এতে একদিকে ভাড়ছে পানির চাপ অন্যদিকে হুমকীতে পরেছে ফসলি জমি।
এদিকে মঙ্গলবার দিনব্যাপী একটানা বৃষ্টিপাতে ব্যহত জনজীবনে চিত্র দেখা গেছে পুরো উপজেলায়। কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন ব্রাহ্মণপাড়ায় বিগত কয়েকবছরে এরকম বৃষ্টিপাত হয়নি কখনও। অন্যদিকে কয়েক দিনের লাগাতার বৃষ্টিতে উপজেলার কয়েকটি গ্রামীণ সড়কে বিভিন্ন অংশে ভাঙ্গণ দেখা দিয়েছে এবং সড়কের মাঝে বৃষ্টির পানি জমে ছোট বড় গর্ত হয়ে যানবাহন ও মানুষজন চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পরেছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, একটানা প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। এরকম অবস্থা দীর্ঘ হলে বন্যার আশংকাও করছেন অনেকেই। উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের নাগাইশ গ্রামের ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বলেন, গত কয়েক বছর যাবত এরকম বৃষ্টিপাত আর দেখা যায়নি।
সাহেবাবাদ ইউনিয়নের জিরুইন গ্রামের ফরিদ মিয়া বলেন, সকাল থেকে বিরামহীন বৃষ্টির কারণে জনজীবন অতিষ্ঠ। বন্যার সম্ভাবনাও রয়েছে। উপজেলার মহালীপাড়ার জুয়েল আহমেদ বলেন, বৃষ্টিতে একঘেয়ে হয়ে উঠেছে জীবন। আমি মানুষের জমিতে দৈনিক হাজিরায় কাজ করি। কিন্তু বৃষ্টির কারনে দৈনন্দিন ইনকামের পথও বন্ধ হয়ে আছে। ঘর থেকে বের হতে পারছিনা। এতে সংসার চালাতে কষ্ট হচ্ছে।
এদিকে আগামী তিনদিন প্রায় সারাদেশে হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে এবং দেশের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও মনে করছেন আবহাওয়া অধিদপ্তর।





© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};