ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
508
দেবিদ্বারে কলেজছাত্রের মৃত্যু ঘিরে রহস্য
Published : Friday, 24 July, 2020 at 12:00 AM, Update: 24.07.2020 12:30:54 AM
 
দেবিদ্বারে কলেজছাত্রের মৃত্যু ঘিরে রহস্যশাহীন আলম. দেবিদ্বার ||
কুমিল্লার দেবিদ্বারে মহিন নামে এক কলেজ ছাত্রের মৃত্যুকে ঘিরে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে। প্রেমিকার বাবা ও ভাইয়েরা মিলে তাকে হত্যা করেছে বলে ঘটনার চার দিন পর এমন দাবি করেছে মুহিনের পরিবার। তবে প্রেমিকার পরিবারের দাবি সে বিষপানে আত্মহত্যা করেছে।
নিহত মুহিন ওই ইউনিয়নের চুলাশ গ্রামের সৌদি প্রবাসী আবুল হাশেমের ছেলে। সে স্থানীয় রাজামেহার ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী কলেজ থেকে এইচএসসি’তে এক বিষয় ফেল করায় এবার ওই বিষয়ের পরীক্ষার্থী ছিলো। অপরদিকে প্রেমিকা স্থানীয় একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী।
বৃহস্পতিবার বিকালে মহিনের মা সুরাইয়া বেগম জানান, ‘আমার ছেলে মুহিনকে তারা মেরে ফেলেছে। আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার চাইতে এবং মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য আগামী রোববার আবেদন করবো, আশা করি ন্যায় বিচার পাব।’
মহিনের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে  জানা যায়, দীর্ঘ দিন ধরে মহিন এবং ওই স্কুলছাত্রীর মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিল। গত শনিবার (১৮ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টায় উপজেলার রাজামেহার ইউপি’র বেতরা গ্রামের প্রেমিকার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটেছে। প্রথমে প্রেমিকার পরিবার দু’জনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্কের কথা অস্বীকার করেন ও এটিকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেন। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী নিহত মুহিনের স্বজনদের ভয়ভীতি দেখিয়ে লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করতে বাধ্য করান। পরে মৃত্যুর চারদিন পর মুহিনের ফোন থেকে মুহিন ও তার প্রেমিকার একান্ত মুহূর্তের কিছু ছবি ও বিভিন্ন সময়ে ম্যাসেজের স্ক্রীনশট্ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তাদের প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ঘটনা এখন নতুন করে ভিন্ন দিকে মোড় নিচ্ছে।
গতকাল বিকালে মুহিনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, মুহিনের মা সুরাইয়া বেগম মুহিনের এসএসসি পাশের সার্টিফিকেট ও কিছু ছবি নিয়ে আহাজারি-বিলাপ করছেন। পাশেই হাউমাউ করে কাঁদছেন বড় বোন আয়েশা আক্তার। তারা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বারবার বলেছেন’ আমাদের মুহিন আত্মহত্যা করেনি। তাকে মেরে ফেলা হয়েছে। আমরা এ হত্যার বিচার চাই।    

নিহত মুহিনের বন্ধু মিনহাজ জানান, গত ৫/৬ মাস আগে রিয়ার ভাইয়েরা রিয়াকে ইভটিজিং এর অভিযোগে এনে মরিচা ছায়েদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়ে মুহিনকে বেদম মারধর করেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় লিখিত একটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর রেখে মুহিনকে ছাড়িয়ে আনেন তার মা। এরপর থেকে রিয়ার ভাইয়েরা তাকে বিভিন্ন সময়ে মারধরের হুমকি দিয়ে আসছিল।     
নিহতের পরিবার ও মুহিনের বন্ধুরা জানান, গত শনিবার রাতে মহিন ও তার প্রেমিকা পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করে মেয়েটির বাড়ির আঙ্গিনায় মিলিত হয়। পরে রাত পৌনে ১০টার দিকে প্রেমিকার বড় ভাই মেহেদি হাসান মুহিনের খালাতো ভাই আবু তাহেরের কাছে ফোন করে বলেন, ‘তোর ভাই এখানে বিষ খেয়েছে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাও’। নিহতের খালাতো ভাই আবু তাহের জানান, মেহেদির ফোন পেয়ে দ্রুত তাদের বাড়িতে আসি। এসে দেখি মুহিন বাড়ির পেছনের পাকা সড়কে দুই পা হাটু ঘেরে  মাথা নিচের দিকে ঝুঁকে বসে আছে, এ সময় তাকে খুব অসুস্থ দেখা গেছে। পাশে মেয়েটির বাবা ও দুই ভাই মেহেদি, জামাল দাঁড়িয়ে আছে। সিএনজিতে মুহিনকে উঠানোর জন্য মেহিদি ও তার বাবাকে বলার পরও তারা কেউ এগিয়ে আসেননি। হাসপাতালে নেয়ার পথেই মুহিনের মৃত্যু হয়। মুত্যুর সময় তার মুখে বিষের কোন গন্ধ পাওয়া যায়নি। মুহিনের লাশ কাফনকারী মাও. আবদুল জলিল এ প্রতিবেদককে জানান, মুহিনের অ-কোষ লাল ফুলা ছিলো। তার মুখ থেকে বিষের গন্ধ বা মুখ থেকে লালা বের হয়নি। শরীরের অন্য কোথায়ও আঘাত দেখা যায়নি।
এদিকে মুহিনের প্রেমিকা ওই স্কুলছাত্রী মুহিনের সাথে প্রেমের সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছে। সে জানায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে ছবিগুলো পাওয়া গেছে ছবিগুলো তার ও মুহিনের। মুহিন তাকে বাড়ি থেকে পালানোর জন্য বিভিন্ন সময়ে চাপ দিতো। আমি তার সাথে না পালালে সে আমার বাড়িতে এসে সুইসাইট করবে বলে আমাকে একাধিকবার বলেছে।
ওই রাতে কি ঘটেছে- এমন প্রশ্নের উত্তর সে এড়িয়ে যায়।
মেয়েটির এক সহপাঠি জানায়, তাদের মধ্যে গভীর প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। তারা একে অপরকে ভালোবাসতো।
মেয়েটির বাবা আবুল হাশেম বেপারী বলেন, তাদের প্রেমের সম্পর্কের কথা আমার জানা নেই। তবে মুহিন তাদের বাড়িতে এসে বিষ পান করে আত্মহত্যা করেছে।
বৃহস্পতিবার বিকালে মহিনের মা সুরাইয়া বেগম জানান, ‘আমার ছেলে মুহিনকে ওই মেয়েটির বাবা - ভাইয়েরা মিলে হত্যা  করেছে। ঘটনার পর দিন হুমকি দিয়ে ময়নাতদন্ত ছাড়াই এবং পুলিশকে না জানিয়ে লাশ দাফনে বাধ্য করে। আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার চাইতে এবং মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য আগামী রোববার আবেদন করবো, আশা করি ন্যায় বিচার পাব।
দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মো. জহিরুল আনোয়ার বলেন, মহিনের মৃত্যুর খবর কেউ থানায় জানায়নি, জানালে ময়নাতদন্ত করা হতো। এ ঘটনার ব্যাপারে নিহতের পরিবার থেকে আমি কোন অভিযোগ পাইনি। আদালত থেকে কোন নির্দেশনা আসলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।  








সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};