ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
320
‘কারসাজিতে’ এবারও হতাশ কুমিল্লার মৌসুমী ব্যবসায়ীরা
Published : Thursday, 6 August, 2020 at 12:00 AM, Update: 06.08.2020 2:46:41 AM
‘কারসাজিতে’ এবারও হতাশ কুমিল্লার মৌসুমী ব্যবসায়ীরারণবীর ঘোষ কিংকর: পশু কোরবানীর মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয় পবিত্র ঈদ-উল আযহা। যে কারণে ওই ঈদকে কেউ কেউ কোরবানীর ঈদও বলে থাকেন। আর এই ঈদে কোরবানীর পশুর চামড়া কিনে পাইকারী ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করতে প্রতিটি গ্রাম, পাড়া মহলায় অনেক মৌসুমী ব্যবসায়ী মাঠে নামেন।
ধর্মীয় বিধি মোতাবেক কোরবানীর পশুর চামড়া বিক্রির টাকা হতদরিদ্রদের মাঝে বিতরণের কথা থাকায় কোরবানীর পশুর চামড়াকে গরিব ও মিসকিনের হকও বলা হয়। প্রায় প্রতিবছরই চামড়ার ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় গরীব তার হক থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
২০১৯ সালের কোরবানীর ঈদে সারা দেশের ন্যায় কুমিল্লার সহ¯্রাধিক মৌসুমী ব্যবসায়ী চামড়া কিনে কেনা দামে বিক্রি করতে না পেরে ওই চমড়া কেউ খালে, কেউ নদীতে আবার কেউবা মাটিতে পুতে দেয়।
গত বছরের কথা চিন্তা করে সরকার এবছর চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়ার পর জেলার চামড়ার আড়ৎদার ও স্থায়ী চামড়া ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে এবারও মৌসুমী ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনে বিপাকে পড়েছেন।
চলতি মৌসুমে সরকার ঢাকার বাহিরে লবনযুক্ত গরুর চামড়া ২৮-৩২ টাকা ফুট নির্ধারণ করে। সেই হিসাব মতে প্রতিটি গরুর চামড়া গড়ে ৬শ টাকা হওয়ার কথা। মৌসুমী ব্যবসায়ীরা গত বছরের লোকসানের কথা মাথায় রেখে এ বছর আড়াইশ থেকে তিনশ টাকা দরে চামড়া কিনে। কিন্তু বিকেলের পর থেকে চামড়ার স্থায়ী ব্যবসায়ীরা মৌসুমী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৩শ টাকার বেশি দরে কেউ চামড়া না কেনায় বিপাকে পড়ছে হাজারও মৌসুমী ব্যবসায়ী।
এদিকে, সকালের পর থেকে দুপুর পর্যন্ত কুমিল্লার মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা পাড়া-মহল্লা থেকে কম দরে চামড়া কিনায় গরিব তার ন্যায্য হক থেকে যেমন বঞ্চিত হয়েছে অপরদিকে মৌসুমী ব্যবসায়ীরাও সারাদিন পরিশ্রম করে লাভের মুখ না দেখায় হতাশ হয়েছেন।
মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ী চান্দিনার ছায়কোট গ্রামের আমান জানান- আমি সকাল থেকে এলাকা ঘুরে ৩৪টি চামড়া কিনি। প্রতিটি চামড়া আড়াইশ থেকে ৩শ টাকায় কিনে সারা দিন বসে থেকেও বিক্রি করতে পারিনি। সর্ব শেষে আর কোন উপায় না পেয়ে রাত ১২টার সময় ২৯০ টাকা করে বিক্রি করেছি। এতে আমি লাভ থাক দূরের কথা খরচ বাদ দিয়ে পূঁজিও উঠে আসেনি।
ওই মৌসুমী ব্যবসায়ী আরও জানান- গত বছর ৪শ থেকে ৫শ টাকা করে ৭০টি চামড়া কিনেছিলাম। সারা রাত অপেক্ষা করেও বিক্রি করতে না পেরে পরদিন মাটিতে পুঁতে দেই। গত বছরের লোকসানের কথা ভেবে এবার আড়াইশ থেকে ৩শ টাকা দরে চামড়া কিনেছিলাম কিন্তু তাতেও কোন লাভ হলো না!
একই কথা জানালেন শ্রীমন্তপুর গ্রামের অপর এক মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ী আবুল হাসেম। তিনি জানান- এবছর আমি ৭৪টি চামড়া কিনে বিপাকে পড়েছিলাম। রাত ১০টার পর বিক্রি করে কোন রকমে পূঁজি উঠিয়েছি।
একাধিক মৌসুমী ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন- সরকার লবন যুক্ত প্রতিটি চামড়া ৬-৭শ টাকা মূল্য নির্ধারণ করেছে। কিন্তু যারা স্থায়ী ব্যবসায়ী তারা সিন্ডিকেট করে এমন দরপতন করেছে।
মৌসুমী ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান জানান- মধ্যস্বত্বভোগী স্থায়ী ব্যবসায়ীরা আড়াইশ থেকে ৩শ টাকায় চামড়া কিনে তাতে ৫ টাকা খরচ করে ৬-৭শ টাকায় বিক্রি করবে। কিন্তু আমরা ঈদের দিনে পরিবার নিয়ে ঈদের আনন্দ না করে লাভের আশায় ঘুরে ঘুরে চামড়া কিনে লাভ থাক দূরের কথা পূঁজি উঠানোই কষ্টদায়ক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কুমিল্লার চান্দিনা ও দাউদকান্দি উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা ইলিয়টগঞ্জে রয়েছে চামড়ার বিশাল আড়ত। ওই আড়তের ব্যবসায়ী আজহারুল ইসলাম জানান- আমরা মৌসুমী ব্যবসায়ীদের আগেই বারণ করেছি ২ থেকে আড়াইশ টাকার চেয়ে বেশি দরে চামড়া না কিনতে। কারণ আমাদের প্রচুর খরচ। এতো পুঁজি ব্যয় করে ট্যানারীতে চামড়া দিতে না পারলে আমাদের অবস্থা কি হবে সেটাও ভেবে দেখতে হবে।










© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};