ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
2807
কুমিল্লায় বাড়ছে ছিনতাই টার্গেট ব্যাংকের টাকা
Published : Saturday, 26 September, 2020 at 12:00 AM, Update: 26.09.2020 1:59:47 AM
কুমিল্লায় বাড়ছে ছিনতাই টার্গেট ব্যাংকের টাকামাসুদ আলম।। কুমিল্লায় ছিনতাইয়ের ঘটনা আশংকাজনকহারে বেড়েছে। ব্যাংক, বীমা, বিকাশসহ নগদ টাকা লেনদেনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের টাকা তোলার বিষয় আড়াল থেকে লক্ষ্য করে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। হরহামেশাই এসব ঘটলেও পুলিশ লুট হওয়া টাকা উদ্ধার কিংবা ছিনতাইকারীদের দ্র”ত আটক-গ্রেফতার করতে না পারায় এ রকম ঘটনা বেড়েই চলেছে। পাশাপাশি আতঙ্ক তৈরি হয়েছে ব্যাংক, এজেন্ট ব্যাংকসহ নগদ টাকা লেনদেন করা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। উৎকন্ঠা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে কুমিল্লার ব্যবসায়ী ও ব্যাংকের গ্রাহকদের মধ্যে।
সর্বশেষ গত বুধবার কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকার হাজারি পেট্রোল পাম্পের সামনে আবারো ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের বিজয়পুর শাখার ম্যানেজারকে ধরে নিয়ে ৫ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এর আগের দিন মঙ্গলবারও মুরাদনগরে আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের দারোরা এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার ম্যানেজারের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে ৭ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত এই দুটি ঘটনায় ছিনতাই হওয়া টাকা উদ্ধার কিংবা কেউ গ্রেফতার হয়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ৩ মাসে কুমিল্লার মুরাদনগর, দেবিদ্বার, দাউদকান্দি ও সদর দক্ষিণে পৃথক ৫টি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এগেুলোর অধিকাংশই ঘটানো হয়েছে ডিবি তথা গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে। এর মধ্যে গত ১২ আগস্ট কুমিল্লার দেবিদ্বারে ইসলামী ব্যাংক শাখার এক গ্রাহককে গাড়িতে তুলে মারধর করে ১২ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় গত ২২ সেপ্টেম্বর ৪ ডাকাত সদস্যকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই ডাকাতদের জিজ্ঞাসাবাদে বিকাশ ব্যবসায়ীর সাড়ে ৫ লাখ টাকা ছিনতাইসহ আরও দুটি ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করে গ্রেফতাররা।
সর্বশেষ গত বুধবার ইসলামী ব্যাংক কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার শাখা থেকে ওই ব্যাংকের বিজয়পুর এজেন্ট ব্যাংকিং শাখা ম্যানেজার এ এইচ এম শফিকুল ইসলাম ৫ লাখ টাকা তুলে শাহ আলী সুপার পরিবহনের একটি বাসে বিজয়পুরের উদ্দেশে রওয়ানা করেন। বাসটি পদুয়ার বাজার সংলগ্ন হাজারি পেট্রোল পাম্পের সামনে এলে পেছন থেকে একটি প্রোবক্স প্রাইভেটকার এসে বাসের সামনে দাঁড়ায়। বাসটি থেমে গেলে প্রাইভেটকার থেকে কয়েকজন নেমে বাসে উঠে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে শফিকুল ইসলামকে ‘মামলা আছে’ বলে টাকা ব্যাগসহ নামিয়ে প্রাইভেটকারে তুলে নিয়ে যায়। পরে তার সাথে থাকা ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে তাকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি এলাকায় রাস্তায় পাশে ফেলে দিয়ে চলে যায়। পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুরে শফিকুল ইসলাম সদর দক্ষিণ থানায় মামলা দায়ের করেন। 
ওই থানার ওসি নজর”ল ইসলাম জানান, ‘থানায় টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। টাকা উদ্ধার এবং ছিনতাইকারীদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। তবে এতোগুলো টাকা নিয়ে একা একটি গণপরিবহনে ওঠা ওই ম্যানেজারের উচিত হয়নি। সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে। চাইলে যে কেউ বেশি টাকা বহনের ক্ষেত্রে পুলিশের সহযোগিতা নিতে পারেন।’
এর আগে গত মঙ্গলবার মুরাদনগর উপজেলার আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক কোম্পানীগঞ্জ শাখা থেকে ৭ লাখ টাকা তুলে দারোরা এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার ম্যানেজার ইব্রাহিম খলিল সিএনজি অটোরিকশাযোগে দারোরা যাওয়ার পথে মুরাদনগরের রায়তলা-দারোরা সড়কের পদুয়া নামক স্থানে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন। অস্ত্রধারী ছিনতাইকারীরা খলিলের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে টাকাভর্তি ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। শুক্রবার পর্যন্ত চার দিনেও ওই টাকা উদ্ধার কিংবা ছিনতাইকারীদের কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
মুরাদনগর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদৗল্প) নাহিদ আহমেদ কুমিল্লার কাগজকে বলেন, ছিনতাইকারীদের ব্যবহৃত অটোরিকশাটি আটক রয়েছে। টাকা উদ্ধার ও ছিনতাইকারীদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলছে। মোবাইল ফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে আমরা কয়েকজনকে সন্দেহের তালিকায় এনেছি। তবে তদন্তের স্বার্থে সন্দেহভাজনদের নাম-পরিচয় বলা যাচ্ছে না।
ব্যাংক থেকে টাকা তুলে বহনের ক্ষেত্রে পুলিশের সহযোগিতা চেয়েছিলেন কি না জানার জন্য বিজয়পুর এজেন্ট ব্যাংকিং শাখা ম্যানেজার এ এইচ এম শফিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি। পরে সদর দক্ষিণ থানার ওসি নজর”ল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওই ম্যানেজার বা ব্যাংকের অন্য কেউ পুলিশের সহযোগিতা চাননি। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ব্যাংক থেকে বেশি পরিমাণ টাকা তুলে বহনের ক্ষেত্রে পুলিশি নিরাপত্তার প্রয়োজন মনে করলে আমরা সর্বদা নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত আছি। কিন্তু কেউ যোগাযোগ না করলে সেটা দেওয়া সম্ভব হয় না।’
এদিকে পুলিশি নিরাপত্তা চাওয়ার বিষয়ে মুরাদনগর দারোরা এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার ম্যানেজার ইব্রাহিম খলিল বলেন, ‘ব্যাংকে টাকা লেনদেনের বিষয়ে আমরা কখনও পুলিশি নিরাপত্তার বিষয়টি প্রয়োজন মনে করিনি। আগেও আমরা এভাবেই টাকা নিয়ে ব্যাংকে যাওয়া-আসা করতাম। কিন্তু ওইদিন এমন ঘটনা ঘটবে, তা কল্পনাও করিনি। তবে ভবিষ্যতে বিষয়টি মেনে চলতে চেষ্টা করবো।’
এরও আগে গত ১২ আগস্ট কুমিল্লার মুরাদনগরে ইসলামী ব্যাংক কোম্পানীগঞ্জ শাখা থেকে হানিফ শামীম নামে এক ব্যক্তি ১২ লাখ টাকা তুলে সিএনজিযোগে পাশের উপজেলা দেবিদ্বার ইসলামী ব্যাংক শাখায় জমা দিতে রওনা হন। তিনি কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের দেবিদ্বার পৌরসভা পৌঁছলে মের”ন রঙ্রে একটি প্রাইভেটকার সিএনজির গতিরোধ করে। তিন ব্যক্তি ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে শামীমকে প্রাইভেটকারে তুলে গামছা দিয়ে ওই তার হাত-পা, চোখ-মুখ বেঁেধ ফেলে কিল, ঘুষি ও লাঠি দিয়ে মারধর করে। পরে তার মোবাইল ফোনের সিম খুলে ১২ লাখ টাকা কেড়ে নিয়ে তাকে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নাজিরাবাজার এলাকায় সড়কের পাশে ফেলে যায়। পরে ভুক্তভোগী  হানিফ শামীম দেবিদ্বার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
ওই মামলার সূত্র ধরে মঙ্গলবার ঢাকা, সাভার ও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই ঘটনার সাথে জড়িত চার ডাকাত সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। আসামীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ওই ঘটনার পর গত ২১ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার দাউদকান্দির গৌরীপুরে একই কায়দায় একজন বিকাশ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ২১ জুলাই কুমিল্লার সদর দক্ষিণ পদুয়ার বাজার এলাকায় তৈয়ব হোসেন নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৫ লাখ ৮ হাজার টাকা ছিনতাই করেছে তারা।
ঘন ঘন ছিনতাইয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লার পুলিশ সুপার সৈয়দ নজর”ল ইসলাম কুমিল্লার কাগজকে বলেন, ব্যাংক কিংবা নগদ টাকা লেনদেন করা প্রতিষ্ঠানে টাকা তোলার বিষয় আড়াল থেকে লক্ষ্য করে ছিনতাইকারীরা। এরপর পথের মধ্যে অভিনব কায়দায় ছিনতাইকারীরা কখনও ডিবি পুলিশ পরিচয়ে আবারও কখনও খেলনা পিস্তল দিয়ে ভয় দেখিয়ে ছিনতাই করে। তিনি বলেন, ছিনতাই রোধে ব্যাংকসমূহে পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে। এছাড়া বেশি পরিমাণ টাকা বহনে পুলিশের সহযোগিতা নেয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানান। তিনি আরও বলেন, মুরাদনগর ও সদর দক্ষিণে এক সপ্তাহে ছিনতাই হওয়া টাকা উদ্ধার ও অভিযুক্তদের গ্রেফতারে সংশ্লিষ্ট থানা এবং জেলা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) কাজ করছে।





© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};