ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
456
প্রিয় কবি নজরুল ইসলাম হল
সৌম্য সালেক
Published : Friday, 16 October, 2020 at 1:30 AM, Update: 16.10.2020 1:45:36 AM
প্রিয় কবি নজরুল ইসলাম হল কুমিল্লার যে স্থানগুলোতে অনেক সময় পার করেছি; আড্ডা, ঘুরাঘুরি ও অবস্থানের ফলে যে জায়গাগুলো একসময় প্রিয় হয়ে উঠেছে টাউন হল, ধর্মসাগরপাড়, গোমতী নদীপাড়, ভিক্টোরিয়া ক্যাম্পাস, রেল স্টেশন এবং অশোকতলা ম্যাচের সেই দিনকাল নানা স্মৃতিকথায় আজও-- আমায় যে পিছু ডাকে। এরবাইরে কুমিল্লার যে স্থানটি হৃদয়ের স্বর্ণস্মরণে আমৃত্যু দোলা দেবে, সেটি কবি নজরুল ইসলাম হল। ২০০৯ থেকে ২০১৩ এর মাঝামাঝি পর্যন্ত হলে ছিলাম। ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত হলটি দীর্ঘসময়ের ধকলে বাহ্যিকভাবে কিছুটা মলিন হলেও চারশত ছাত্রের অবস্থান ও ক্রিয়াকলাপে সব সময় মুখর থাকত । দেখা যায়, মাঝরাত্তিরেও একদল হল থেকে রেল স্টেশনে আল আমিন বাবরি কিংবা ছন্দু মিয়ার হোটেলে খেতে যাচ্ছে, কয়েকবার এই অভিজ্ঞতা আমারও হয়েছে। হলে একটি লাইব্রেরি ছিল, পত্রিকা রুমের বিপরীত দিকে, বিভিন্ন বিষয়ের পুস্তকে সেটি মোটামুটি সমৃদ্ধও ছিল কিন্তু কোন অজানা অচেনা কারণে সেটি বন্ধ হতে দেখেছি, সেটি আবার চালু হয়েছে কিনা জানা নেই। 

আমার হল-জীবনের সাড়ে চার বছরই কেটেছে ২১৪ নম্বর কক্ষে। খায়রুল ভাই, ফখরুল ভাই, ছোটভাই দেলোয়ার ও আমি, চারজন দীর্ঘদিন ছিলাম রুমটিতে; ইসমাইল ও আব্দুর রহমানসহ আগে-পরে আরও অনেকে এসেছে এবং চলে গেছে। কত স্মৃতি কত গল্পকথার সাক্ষ্য যে বহন করছে এই কক্ষ তার অনেক বৃত্তান্ত আজ ভুলে গেছি। হয়ত এটাই সত্য যে, যা আমরা অতিক্রম করি তার সব ইতিহাস কেবল সময়ের সচল সরণিতেই সংরক্ষিত থাকে, প্রয়োজনের জান্তবতায় মানুষের সেসব দরকার পড়ে না, তাই ভুলে যেতে হয় কিংবা সব মনে রাখা অসম্ভব! কক্ষের নামকরণ নিয়ে আমরা লটারি করেছিলাম, ভাগ্যক্রমে লটারিতে আমার প্রদত্ত 'ত্রিকাল' নামটি উঠেছিল। আজ আমাদের জীবনে-- 'প্রলয় দোলায় দুলিছে ত্রিকাল', সেই ত্রিতাল ও কালের করাল চালে হয়ত কক্ষের সামনে এঁটে দেয়া নামটি আর অবশিষ্ট নেই। বছর তিনেক আগে গিয়েও সেটি দেখেছি, অক্ষর মুছে যাচ্ছে, পাতাটা আংশিক উঠে গেছে। এক নজরুল জয়ন্তীর দিনের ঘটনা, তখন আমি হলের বাজার কমিটির উপদেষ্টা, সেদিন মাসিক হিসাব-নিকাশের সভা ছিল। রাত ৯.৩০ এর মধ্যে সভায় যোগ দেয়া আবশ্যক কিন্তু শিল্পকলা একাডেমিতে চলমান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছেড়ে উঠতে পারছিলাম না, চরম দোটানায় পড়লাম, ঠিক সেসময় সদ্য প্রয়াত আবৃত্তি শিল্পী কাজী আরিফ 'বিদ্রোহী'-কবিতা আরম্ভ করলেন, সেকি অস্থির উন্মাদনা বুক-চেপেছিল ! কবিতাটা শোনা শেষ হতে না হতেই দিলাম এক দৌড়, সাত-আট মিনিটে শিল্পকলা থেকে ধর্মপুর দৌড়াতে দৌড়াতে হলে পৌঁছলাম, উত্তেজনায় থরথর দেহমনে। আমাদের কক্ষের সামনে ছিল শিউলি ফুলের একটি গাছ, শরতসকালে দেখতাম সাদা ফুল বিছিয়ে রয়েছে, পুষ্পপ্রেমীদের কেউ কেউ ফুল কুড়াতো। শিউলি নিয়ে একদিন কবিতা লিখেছি, সেটি ছাপাও হয়েছে রূপসী বাংলা পত্রিকায়, আজ আর সবটা মনে নেই, শেষ দুটো চরন ছিল : ' অচপল শুভ্রহেসে প্রতিদিন হলের বাগানে/ আনত আশ্বিনে এই শিউলি ঝরছে কার প্রেমে!'
প্রিয় কবি নজরুল ইসলাম হল হলের ছাদের পশ্চিমদিকে পানির ট্যাঙ্কের নিচের জায়গাটা আমার সবচেয়ে প্রিয় ছিল। সেখানে পত্রিকা বিছিয়ে শুয়ে-বসে রোদ-বৃষ্টি দেখেছি, কবিতা পড়েছি, গান শুনেছি, ফোনে কথা বলেছি বন্ধু-বান্ধবীদের সাথে; মধ্যদিনে অনুপম সময়-যাপনের সে স্মৃতি আজও একান্ত মুহূর্তে সমতটের সুদূর প্রাঙ্গণে আমার প্রাণ কাড়ে। হলে খেলা দেখার সম্মিলিত আয়োজন আর মাঝে মধ্যে স্থানীয়দের সাথে বিভিন্ন কারণে উত্তেজনার সেই উদ্দাম সময়গুলোও মনে পড়ে । বন্ধুদের মধ্যে নজরুল ইসলাম সুমন ও সজিব সরকারের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে বিতর্ক হলেও, তা ছিল যুক্তি তর্কের মধ্যেই সীমিত এবং অনেকক্ষেত্রে নতুন ভাবনার প্ররোচকও। মধুমাসে সমবর্ষের ছাত্রেরা মিলে ফলচক্র হতো, মৌসুমী ফলের মিঠে গন্ধ এলে আজও বন্ধুদের সাথে কাটানো সে মুহূর্ত আমার মনে পড়ে। 
হলের বারান্দা দিয়ে কয়েকবার মিছিল হয়েছে, এমন দুএকটি ভালো না লাগার মতো বিষয়ের বাইরে বাকি সব ছিল সুন্দর শোভাময়। নির্মাতা ও নাট্যজন আলম ভাইকে পেয়েছি এখানে, আফসার ভাই, রাশেদ ভাই এর মতো বড় ভাইদের দেখে শিখেছি অনেক; সতীর্থ সঙ্গদের কথা বলতে আরম্ভ করলে এ লেখা শেষ হবে না, বন্ধুদের সবার জন্য প্রীতি অফুরান। হলে শিক্ষকদের জন্য বরাদ্দকৃত একটি কক্ষে গল্পকার অধ্যাপক আনোয়ারুল হক স্যারের সাথে অনেক মূল্যবান সময় কেটেছে, প্রভোস্ট থাকাকালে পেয়েছি অধ্যাপক জহিরুল ইসলাম পাটোয়ারি স্যারের সান্নিধ্য, এসব নন্দিত করেছে আমার হৃদয়কে।
তবে ছোট-বড় ভাইদের সাথে পরিচয় ও মতবিনিময়ের যে সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছি, সেটিই হলজীবনের বড় প্রাপ্তি বলে মনে করি। তার বাইরে, কুমিল্লা বেতারে তালিকাভূক্তি, ক্যাম্পাস হিরো, ভিক্টোরিয়া কলেজ থিয়েটার, কবিতা চার্চা, লিটলম্যাগ- চাষারু প্রকাশ এবং আবৃত্তি চর্চা-সহ আমার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের ক্ষেত্রে কবি নজরুল ইসলাম হল উদ্দীপনা লাভের অন্যতম পটভূমিরূপে কাজ করেছে। হলের কাছে ঋণের শেষ নেই। 
সর্বশেষ গেল বছর একবার হলে গিয়েছিলাম, নিচ তলায় পানি নিষ্কাশন সংক্রান্ত কিছু সমস্যা দৃশ্যমান হয়েছে। সহসা সব সমস্যা দূর হোক, আগের মতোই প্রাণবন্ত হোক প্রিয় ছাত্রাবাস। সৃষ্টিশীল ও জ্ঞান অন্বেষামুখী ছাত্রদের জন্য কবি নজরুল ইসলাম হল আবারও হয়ে উঠুক মাতৃতুল্য অভিনব আনন্দনিকেতন, এটুকুই আমার প্রত্যাশা।

প্রিয় কবি নজরুল ইসলাম হল
সৌম্য সালেক
কবি ও কালচারাল অফিসার,
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। 
০১৯১৮৭১০৭৭৩





© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};