ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
53
ঈশপের গল্প এবং তারপরের গল্প
Published : Sunday, 18 October, 2020 at 12:00 AM
মুহাম্মদ সানাউল্লাহ ||
ঈশপের গল্প সর্বজন বিদিত। সম্ভবতো খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ট শতকে এর যাত্রা শুরু।
ঈশপের গল্পের পাখি জীব জন্তুরা কথা বলে। জাতকের গল্পেও। আমাদের পঞ্চতন্ত্র এবং হিতোপদেশ ফেবল বা নীতি গল্পের অন্তর্ভুক্ত। গল্পের আবরণে অন্য একটা শিক্ষা লুকিয়ে থাকে। ফরিদ উদ্দিন আত্তারের সি-মোরগের গল্পে রয়েছে আধ্যাতিকতার শেষ স্তরের খবর। গল্প সমূহে ব্যবহার হয়েছে অ্যালিগরি বা রূপক। সুফিদের পাখি মুক্তির গল্প পর্যন্ত। ঈশপের গল্প যেখানে শেষ হয়েছে সেখান থেকে আবার নতুন গল্প শুরু করা যায় গল্পের অ্যালিগরি ঠিক রেখে। তাতে যুক্ত হতে পারে নতুন বীক্ষা। ইতোমধ্যে পাল্টেছে যাপনের ধরণ। পাল্টেছে পোষ-নাপোষ। পাল্টে যেতে পারে-বোকা-দূর্বল-সহজের জয় বনাম চালাক-ঘৃধর-লোভীর পরাজয়। যেই কাজটি করেছেন কথা সাহিত্যিক গবেষক মুহাম্মদ সানাউল্লাহ।
সোনার ডিম পাড়া হাঁস
এক চাষীর সোনার ডিম পাড়া হাঁসের গল্প কে না জানে। লোকটি লোভে পড়ে একদিন হাঁসের পেট ছিঁড়ে সব ডিম একসাথে বের করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত হাঁসটিকেই মেরে ফেলল। আমাদের জানা গল্প ছিল এই। কিন্তু এইবার আমরা শুনব ভিন্নতর গল্প।
হানিফ মিয়া ছিল গরীব টং দোকানদার। একবার তার শখ হলো হাঁস খাওয়ার। রিয়াজউদ্দিন বাজার থেকে সে একটা হাঁস কিনে জীবিত নিয়ে আসলো বাসায়। হাঁসটির নরম পালক আর হলদে রাঙা পা দেখে তার বউয়ের মায়া জমে গেল। বউ বলল, এই হাঁসটিকে জবাই করতে দেব না। এটাকে আমি লালন পালন করব। হানিফ মিয়া বউকে ভীষণ ভালবাসতো। সে এক কথায় রাজী হয়ে গেল। একদিন সকালে হাঁসের খোপ খুলতে গিয়ে হানিফ মিয়ার বউ দেখল, আস্ত একটা সোনার ডিম। হানিফ মিয়া দেখে তো থ’। সোনার ডিমটিকে নিয়ে সে পড়ল মুশকিলে। এটাকে তো বেচতে হবে। সে নিয়ে আসল নিউমার্কেটে। যথারীতি দামদস্তুর করে বেচতেও পারল। বিপদটা আসল তারপর। থানার লোকজন গিয়ে হাজির হল তার বাসায়। ইনস্পেক্টর বলল, তুমি একজন সোনা চোরাচালানি। আর কয়টা বিস্কুট আছে বের কর। তারা যতই ইনস্পেক্টরকে বোঝানোর চেষ্টা করল যে এটা তাদের হাঁসে পেড়েছে। ইনস্পেক্টর এবং পুলিশের লোকরা ততই হাসতে লাগল। আমাদেরকে বোকা পেয়েছ নাকি? বলল একজন কনস্টেবল। তারপর হাঁস এবং হানিফ মিয়া উভয়কে থানা হাজতে নেয়া হল। পরদিন সকালে সোনার ডিম বিক্রির টাকা খরচ করে, লোকজন ধরে কোন রকম হানিফ মিয়াকে ছাড়াতে পারলেও হাঁসটিকে আর ছাড়ানো গেল না।
হানিফ মিয়া বুঝতে পারল, যেখানে সেখানে হাঁসের সোনার ডিম পাড়া উচিত নয়।
বিড়ালের গলায় ঘন্টা
একটা বিড়াল ইঁদুর ধরে ধরে খেতো। সে বিড়াল থেকে বাঁচার জন্য আয়োজিত সভায় এক ইঁদুর বিড়ালের গলায় ঘন্টা বেঁধে দেয়ার প্রস্তাব করেছিল। তার যুক্তি ছিল বিড়াল ইঁদুর ধরতে আসলে ঘন্টার ধ্বণি শুনে সবাই পালাতে পারবে। এক বয়স্ক ইঁদুর দাঁড়িয়ে বলল, প্রস্তাব ভাল; কিন্তু বিড়ালের গলায় ঘন্টাটা বাঁধবে কে? এতটুকু আমরা জানি। প্রস্তাব নাকচ হওয়ার কথাও জানি। এটা তারপরের গল্প।
ইঁদুররা আবার নতুন করে সভার আহবান করল। সে সভায়ও বিভিন্ন প্রস্তাব আসতে থাকল। কেউ বলল, হোম কোয়ারেন্টাইনে গেলে কেমন হয়? আমরা গর্ত থেকে বের হব না। কেউ বলল, বিড়ালের দাঁত ভেঙে দেয়া যেতে পারে। প্রশ্ন উঠল ভাঙবেটা কে? কারও প্রস্তাব ছিল, বিড়ালকে দাঁতভাঙা জবাব দেব। তাদের মধ্যে সবচেয়ে কম কথা বলা ইঁদুরটি এবার ধীরে সুস্থে ওঠে দাঁড়াল। সে বলল, মাননীয় সভাপতি আমার একটা প্রস্তাব আছে। সকলের মুখ তার দিকে ঘুরে গেল। সভাপতি বলল, তুমি নির্ভয়ে প্রস্তাব উত্থাপন কর।
সে বলল, বিড়ালের গলায় ঘন্টা না বেঁধে আমাদের প্রত্যেকের গলায় একটা করে ঘন্টা বেঁধে দিলে কেমন হয়?
অন্য একটি ইঁদুর তার প্রস্তাবের পক্ষে বলল, হাঁ, এটাই করা উচিত। যদি বিড়াল কাউকে ধরতে আসে তখন সে দৌড়ালে আমরা অন্যরা এসে জড়ো হতে পারব এবং আমরা একজোট হলে বিড়াল সাহস করে আমাদের ধরতে আসবে না। সবচেয়ে বুড়ো ইঁদুরটি প্রস্তাবকে সমর্থন করল। প্রস্তাব পাস হল।
ইঁদুররা বুঝতে পারল অন্যের গলায় ঘন্টা বাঁধার চেয়ে নিজের গলায় ঘন্টা বাঁধা অনেক সহজ।










© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};