ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
434
৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপের সুফল পাচ্ছেন কাশ্মীরিরা
Published : Wednesday, 21 October, 2020 at 5:39 PM
 ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপের সুফল পাচ্ছেন কাশ্মীরিরা আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||
বিশেষ স্বায়ত্তশাসন সংক্রান্ত ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপের সুফল পেতে শুরু করেছেন জম্মু-কাশ্মীরিরের বাসিন্দারা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমলের এই উদ্যোগ তাকে অন্যদের চেয়ে একেবারে আলাদা করেছে।

কাশ্মীরের সাধারণ মানুষের কণ্ঠেও এখন মোদির প্রশংসা শোনা যায়। কারণ সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের পর গত এক বছরে জম্মু-কাশ্মীরের বাস্তব চিত্র পাল্টে গেছে। সেখানকার বাসিন্দারা বলিষ্ঠ সরকারি পদক্ষেপের সুফল পাচ্ছেন।

শ্রীনগরের বিখ্যাত ডাল লেকের পাশে বসে মোহাম্মদ ইউসুফ শোনালেন তার নিজের অভিজ্ঞতার কথা। বললেন, ডাল লেকের এই মায়াবী চেহারাই তো ভুলতে বসেছিলাম। গত এক বছরে অনেক শান্ত হয়েছে কাশ্মীর। সেখানকার যুবকরা এখন ৫০০ টাকার জন্য ফৌজিদের পাথর ছুঁড়তে যাওয়ার বদলে চাকরি খোঁজেন।

কারা ছুঁড়তেন পাথর? ভারতের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনআইএ বলছে, পাকিস্তানিদের অর্থে কিছু বেকার যুবক এই কাজে নিযুক্ত ছিল। ২০১৬ সালে ২ হাজার ৬৫৩টি পাথর বৃষ্টির ঘটনার স্বাক্ষী কাশ্মীরের মানুষ। অথচ গত বছরের ৫ আগস্ট কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা লোপ করে দুটি কেন্দ্রশাসিত রাজ্য গঠনের পর অশান্তি কমেছে।

পুলওয়ামার গ্রাম প্রধান আলতাফ ঠাকুর বলেন, এখন কাজের মধ্যে স্বচ্ছতা এসেছে। সরকারের দায়বদ্ধতাও অনেক বেড়েছে। উন্নয়ন হচ্ছে। মানুষ খুশি। পরিস্থিতির পরিবর্তন সাংবাদিকদের চোখেও ধরা পড়েছে। স্থানীয় সাংবাদিক তারিক ভাট বললেন, জন্মের পর থেকেই শুনে এসেছি হরতাল আর হরতাল। গত এক বছরে সেই বন্ধ্যা রাজনীতির বদলে মানুষ এখন উন্নয়নের পথে হাঁটতে পারছেন। এটাই বড় প্রাপ্তি।

সম্প্রতি নরেন্দ্র মোদি সরকার কাশ্মীরের জন্য স্ট্রেন্থেনিং টিচিং-লার্নিং অ্যান্ড রেজাল্ট ফর স্টেটস প্রকল্প (স্টার্স) ঘোষণা করেছে। ৫২০ কোটি রূপির এই প্রকল্প রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটাবে। তরুণ-তরুণীদের করে তুলবে উপার্জনমুখী।

কেন্দ্র শাসিত জম্মু কাশ্মীর ও লাদাখের মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের পাশাপাশি যুবকদের স্বাবলম্বী করে তুলবে স্টার্স। দেশটির কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় প্রকল্প অনুমোদনের পর প্রধানমন্ত্রী মোদি টুইটে বলেছেন, শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত মান বাড়াবে স্টার্স। এর ফলে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের জীবন সংগ্রাম আরও সহজ হবে।

যুবকদের কর্মমুখী করে তোলার পাশাপাশি দেশটির ক্ষমতাসী বিজেপি সরকার ক্রীড়া উন্নয়নেও ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। সম্প্রতি ৪৯ কোটি ৭৮ লাখ টাকার ক্রীড়া অবকাঠামোর উদ্বোধন করেছেন জম্মু-কাশ্মীরের উপ-রাজ্যপাল মনোজ সিনহা। একইসঙ্গে তিনি ১০ কোটি ৫০ লাখ রূপি খরচ করে আরও একটি ক্রীড়া অবকাঠামোর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন।

শ্রী নগরে বহুদিন ধরেই ফুটবলার ও কোচদের দাবি ছিল একটি আধুনিক ফুটবল স্টেডিয়ামের। কাশ্মীরি ফুটবলাররা ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে সুনামের সঙ্গে খেলে বেড়ালেও নিজের রাজ্যে উন্নত অবকাঠামো না থাকায় সমস্যায় পড়তেন।

শ্রীনগরের জেলাশাসক শহীদ চৌধুরী বলেছেন, ৫ কোটি রূপি খরচ করে গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক ফুটবল স্টেডিয়াম। ফলে উঠতি ফুটবলাররাও খুশি। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য না নেয়ায় ধুঁকছিল বিশ্বনন্দিত কাশ্মীরি সিল্ক। এক বছর আগে কেন্দ্রীয় সরকার কাশ্মীরের উন্নয়নের দায়িত্ব সরাসরি কাঁধে তুলে নিতেই সেই সিল্ক শিল্পও বর্তমানে ঘুড়ে দাঁড়িয়েছে।

সাম্বা জেলার বারিব্রহ্ম এলাকায় রেশম শিল্পের বিকাশে আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। এজন্য প্রায় ২৫ কোটি রূপি খরচ করে ভারত সরকার। মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ আয় নিশ্চিত যোজনা প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামের মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয়েছে। গড়ে উঠছে একাধিক অবকাঠামো।

রাজৌরি-সহ বিভিন্ন এলাকায় গ্রামের মানুষই গড়ে তুলছেন রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে ফৌজি বাঙ্কারও। তাদের যেমন উপার্জন হচ্ছে, তেমনই উন্নয়ন হচ্ছে পরিকাঠামোরও। আগে গ্রামের উন্নয়নের টাকা লুটপাট হতো। এখন সেই টাকা পৌঁছে যাচ্ছে গ্রামবাসীদের হাতে।

৩৭০ ধারা বিলোপের আগে শুধুমাত্র খাতা কলমেই ছিল পঞ্চায়েত রাজ। তবে বর্তমানে সক্রিয় হয়েছে পঞ্চায়েত ব্যবস্থা। গ্রামের মানুষ স্বচ্ছ স্থানীয় প্রশাসন পেয়েছে। গত এক বছরে কেন্দ্রীয় সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপে কাশ্মীরে আপেলের উৎপাদন বেড়েছে অন্তত ৪০ শতাংশ। করোনা মহামারির সময়েও জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখের সবচেয়ে অর্থকরী ফসলের গায়ে যাতে কোনও ধরনের কালিমা না লাগে সেদিকে সজাগ ছিল স্থানীয় প্রশাসন।

উৎপাদনের পাশাপাশি আপেল রফতানির বন্দোবস্ত করা হয়েছে। গড়ে তোলা হয়েছে ফল প্রক্রিয়াকরণ শিল্প। আপেলের উপযোগী পরিকাঠামোগত পরিবর্তনের হাত ধরে চাষীরা পাচ্ছেন ন্যায্য দাম। রাজনৈতিক স্বার্থে অনেকেই কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিলের বিরোধিতা করছেন।স্বাভাবিক।

কিন্তু কাশ্মীরের সাধারণ মানুষ মোদি-সরকারকে বাহবা দিচ্ছেন। কারণ তারা উপকৃত হয়েছেন। জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখের পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় দিকটি হল ভারতীয় সংবিধান মেনে সেখানকার বাসিন্দারা উন্নয়নের রাস্তাকে মন থেকে মেনে নিয়েছেন। সরকারও দেশের অন্যান্য প্রান্তের মতো অনগ্রসর শ্রেণির শিক্ষা, চাকরিতে কোটা, সামাজিক বিভিন্ন বিষয়ে সুবিধার ব্যবস্থা করেছে।

জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখের মানুষও পাচ্ছেন তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইন-১৯৫৪, হুইসেল ব্লোয়ার্স প্রোটেকশন অ্যাক্ট-২০১৪, জাতীয় সাফাই কর্মচারী আইন, জাতীয় প্রগতিশীল আইন, সংখ্যালঘুদের জন্য জাতীয় কমিশন আইন এবং শিশুদের বিনামূল্যে ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা অধিকার আইন-২০০৯ এর মতো আইনের সুবিধা।

দীর্ঘদিন ধরে কাশ্মীরিরা এসব আইনের সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। কাশ্মীরিরা এখন বুঝেছেন, গত এক বছরে তাদের জনকল্যাণে অনেক কাজ হয়েছে এই উপত্যকায়। স্থানীয় সরকারের ১০ হাজার কাশ্মীরিকে চাকরিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তফসিলি উপজাতি, ওবিসি এবং অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল শ্রেণির মানুষজন চাকরিতে কোটা সুবিধা ভোগ করছেন। ৩৭০ ধারা তুলে নেয়ার পরই কাশ্মীর উন্নয়নের মহাসড়কে যুক্ত হয়েছে। হাসপাতাল, স্কুল, কলেজ, পর্যটন কেন্দ্র, রাস্তা, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার কাজ চলছে।

এসব কিছু চলছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায়। পাহাড়ি দুর্গম এলাকায়ও পৌঁছে যাচ্ছে পানীয় জল, বৈদ্যুতিক সংযোগ। উন্নয়নের কারণে সেখানে জেগে উঠেছে ভারতীয় বোধ। স্থানীয়রা প্রাণ খুলে উড়াচ্ছেন দেশটির ত্রিবর্ণ জাতীয় পতাকা। কাশ্মীরে বসবাসকারী মুসলমান নারীরাও খুশি। তিন তালাক নিয়ে মোদি সরকারের সিদ্ধান্ত নারীদের আত্মমর্যাদা বাড়িয়ে দিয়েছে। অশান্তির অবসান দিয়েছে জীবনের নিরাপত্তা।

রেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে খাদ্যশস্য। কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা লোপ এবং বর্তমান কর্মযজ্ঞ প্রসঙ্গে ভারতের দূরদর্শন ও আকাশবাণীর নিয়ন্ত্রক সংস্থা প্রসার ভারতীর সাবেক চেয়ারম্যান এ সূর্য প্রকাশ বলেন, সাত দশক ধরে উপত্যকায় যে লজ্জাজনক, বৈষম্যমূলক এবং অগণতান্ত্রিক নীতি চলেছে তার অবসান হয়েছে। উন্নয়ন প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে কাশ্মীরে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আগেই বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করেছিলেন এ দুই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের উন্নয়নে।

উপ-রাজ্যপাল মনোজ সিনহা বলেছেন, এক হাজার ৩৫ কোটি রূপির প্রশাসনিক প্যাকেজ। এছাড়া কাশ্মীরের বাসিন্দাদের পানি ও বিদ্যুতের বিলে ৫০ শতাংশ ছাড় দেয়া হচ্ছে। কাশ্মীরের এই উপ-রাজ্যপাল জম্মু-কাশ্মীরের জন্য নতুন শিল্পনীতির ঘোষণার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত স্ট্যাম্প ডিউটি মওকুফ করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ব্যবসাক্ষেত্রে ঋণের সুদে ৬ মাস ধরে ৫ শতাংশ ছাড় দেয়ার কথা বলছে। এতে ব্যবসায়ীরা লাভবান হবেন।

৩৭০ ধারা বিলোপের ফলে কাশ্মীরে ফিরে আসতে শুরু করেছে বহুল আকাঙ্ক্ষিত শান্তি। গত এক বছরে এই উপত্যকায় নাশকতামূলক ঘটনা কমেছে ৫৪ শতাংশ। এক বছরে সন্ত্রাসী হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর মৃত্যুর হার কমেছে ৭৪ শতাংশ।

ভারতের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জি কিষাণ রেড্ডি বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট ২০২০ সালের ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত কাশ্মীরে প্রাণ হারিয়েছেন ২২ জওয়ান। এর আগে, ২০১৯ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে একই বছরের ৪ আগস্ট পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছিলেন ৮২ জওয়ান। একই সময়ের মধ্যে ৩২ জন বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত হয়েছেন। অর্থাৎ ৩৭০ ধারা বিলোপের পর জম্মু-কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদ কমেছে।

৩৭০ ধারা বিলোপ করে আত্মনির্ভর হওয়ার ডাক দিয়ে ভূ-স্বর্গকে তার পুরনো ছন্দে ফিরিয়ে নিতে মরিয়া ভারত সরকার। এজন্য উন্নয়নকে হাতিয়ার করে কাশ্মীরের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চাইছে কল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মসূচির সুফল। তবে এসবের বিরুদ্ধে অপপ্রচারও চলছে; কাশ্মীরের মানুষ সেটা বুঝেছেন। পাহাড় হাসছে। উড়ছে ভারতের ত্রিবর্ণ জাতীয় পতাকা।





© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};