ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
101
উদীচী’র পথচলা ৫২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী
Published : Thursday, 29 October, 2020 at 12:00 AM
উদীচী’র পথচলা ৫২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীশেখ ফরিদ আহমেদ ।  । 
আজ ২৯ শে অক্টোবর। উদীচীর ৫২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী এবং ৫৩তম প্রতিষ্ঠাতা দিবস। ৬৯,র গণ অভ্যূত্থানের প্রাককালে অর্থ্যাৎ পাকিস্তান আমলে ১৯৬৮ সালের ২৯ শে অক্টোবর উদীচী প্রতিষ্ঠা লাভ করে। পাঁচজন সমমনা মানুষ এক সাথে মিলিত হয়ে উদীচী প্রতিষ্ঠা করেন। প্রখ্যাত সাহিত্যিক, সাংবাদিক, রাজনৈতিক তথা, সুরকার, গীতিকার ও শিল্পী সংগ্রামী সত্যেন সেন ছিলেন উদীচীর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। উদীচীর পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হওয়ার পূর্বে যে আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। তার আহবায়ক ছিলেন কামরুল আহসান খান। সদস্যবৃন্দ ছিলেন, সত্যেন সেন, গোলাম মোহাম্মদ ইদু, মোস্তফা ওয়াহিদ খান, ইকরাম আহমেদ, আখতার হোসেন, বদরুল আহসান খান, রাজিয়া বেগম, মঞ্জুর মোরশেদ প্রমূখ।
উদীচী শুধু একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন নয়। উদীচী একটি আন্দোলন। উদীচী কেবল সাংস্কৃতিক চর্চা করে না। গণ-মানুষের সাংস্কৃতিক চর্চার পথ নির্দেশ ও করে। সত্যেন দা খুব চিন্তা করেই নামটি নির্বাচন করেছিলেন। ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন, উদীচী অর্থ উত্তর দিক বা  ধ্রুবতারা। দিক হারা নাবিকেরা যখন ঘোর অন্ধকারে সাগরে জাহাজ বা মাস্তল চালায় তখন তারা ধ্রুবতারার দিকে তাকিয়ে দিক নির্নয় করে। ধ্রুবতারা সাধারণত উত্তর দিকের থাকে।
তখন তারা ধ্রুব তারার দিকে তাকিয়ে তাদের নিজ নিজ অবস্থান নির্ণয় করে। তেমনি এ দেশের সংস্কৃতিক তথা গণমানুষের সংস্কৃতিক আন্দোলন সব কিছু উদীচীকে দেখে তার পথ চলার পথ চিনতে পারে । এ জন্যই উদীচী অন্য সংগঠন থেকে আলাদা। তাই তো উদীচী সমাজে জ¦ালিয়ে রেখেছেন একটি আলোর দ্বীপ।
সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই। সত্যেন সেন ও একই কথা বলেছেন “মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই”।
এই ক্ষীন র্জীন কায়া মানুষটি সারা জীবন সমাজের কথা দেশের নিযাতিত, নিপিড়িত বঞ্চিত মানুষের জন্য লড়াই সংগ্রাম করে গেছেন। তিনি জীবনকে উৎসর্গ করে ছিলেন মানুষের সেবায়।
সারা জীবন তিনি অনেক আন্দোলন সংগ্রাম করে যা বুঝেছিলেন তা হল রাজনীতিবিদদের মধ্যে মতভেদ আর্দশহীন রাজনীতি, কথার বরখেলাপ এরকম আরো অনেক কিছুমিলে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন এসবের কোন মূল্য নেই। তাই তিনি এমন একটি সংগঠনের প্রয়োজন অনুভব করলেন যেখানে আদর্শ হবে একটি বড় হাতিয়ার যেখানে থাকবে গরীব কৃষক, মজুর খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষের কখা শোষণ, বঞ্চনা ও নির্যাতিত মানুষের পক্ষে কথা বলার একমাত্র হাতিয়ার।
পাকিস্তানী শাসক শোষণের বিরুদ্ধে মানুষ যখন দিশেহারা স্বাধীনতারমন্ত্রে মানুষ উজ্জীবিত ঠিক তখনই উনসত্তরে গণঅভ্যুথানের প্রাক্কালে এমনি সময় তথা গোটা বঙ্গদেশের গণসংগীতের অন্যতম পথিকৃৎ বিশিষ্ট সাংবাদিক, উপন্যাসিক সত্যেন সেনের নেতৃত্বে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হলো উদীচী। যা স্বাধীনতার পরবর্তীতে সময়ে “বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী” নামে পরিচিত। (২৯শে অক্টোবর ১৯৬৮) সেই থেকে উদীচীর যাত্রা শুরু।
৬৯ সত্তর থেকে ৭১ উদীচীর জন্য কঠিন সময়। উদীচীর ভাই বোনেরা মুক্তিযোদ্ধে অংশ গ্রহণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্যাম্পে যেয়ে গানের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা যোগাত। ৭৫-এ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সারা দেশে যখন বঙ্গবন্ধুর নামটি পযর্ন্ত উচ্চারণ করতে পারেনি, ঠিক তখনই উদীচী অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে স্বাধীনতার সংগ্রাম ৭ই মার্চের ভাষণ লোকজ ফর্মে ও সুরে গীতি আলেখ্যের ভিতর দিয়ে ‘ইতিহাস কথা কও’ প্রথম মঞ্চন্থ হয় ১৯৭৬ সালে ১৬ ডিসেম্বর মাসে, এর পর ১৯৭৭ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মঞ্চস্থ হয় রমনার বটমূলে। তারপর থেকে উদীচী সারা দেশে প্রায় সহ¯্রবার মানুষকে উজ্জীবিত করার জন্য ইতিহাস কথা কও মঞ্চস্থ করে।
স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে উদীচীর ভুমিকা ছিল সবচেয়ে বেশী। উদীচীর নেতৃত্বে সম্মিলিত সাংকৃতিক জোট গঠন। সকল  সাংস্কৃতিক আন্দোলন ৯০ এর গণ অভ্যুত্থানে উদীচীর ভূমিকা ছিল অগ্রণী। বিশেষ করে ১৯৯০ সালে জনতার মঞ্চে উদীচী সক্রিয় ভুমিকা পালন করে। ১৯৯৯ সালে ৬ই মার্চ যশোর উদীচীর উপর বোমা হামলা সারাদেশে উদীচীর কর্মীদের উপর নির্যাতন কোন কিছুই উদীচীকে দাবিয়ে রাখতে পারেনি। উদীচীর প্রতিষ্ঠাতার পর থেকে সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিশেষ করে এ দেশের মুক্তিকামী মানুষের কল্যাণের জন্য যে আন্দোলন, সংগ্রাম হয়েছে, সব গুলোতে উদীচী সক্রিয় ভুমিকা রেখেছে। অনেক লড়াই, সংগ্রাম, চড়াই উৎরাই পেরিয়ে আজ মানুষের কাছে উদীচী একটি সংগ্রামী লড়াকু গণমুখী সাংস্কৃতিক সংগঠন, প্রতিবাদের সংগঠন, প্রতিরোধের সংগঠন হিসাবে পরগণিত।
উদীচী শুধু প্রতিবাদ-প্রতিরোধের মধ্যেই তার সাংকৃতিক কর্মকা-কে সীমিত রাখে না, নবসৃষ্টির প্রেরণায় জনগণকে সে উদ্ধুদ্ব করে তুলতে চায়। ‘আলো দিয়ে আলো জ¦ালা’র সামাজিক দায়িত্বই উদীচী তার কাঁধে তুলে নিয়েছে। বর্তমানে যে ভাবে  সারা দেশে নারী নিযার্তন ও ধর্ষণ এর মহোৎসব চলছে উদীচী তার প্রতিবাদ করছে। উদীচী মনে করে ধর্ষণকারীরা কোন দলের বা গোষ্টীর নয়। তারা সুযোগ সন্ধানী। সময়ে সময়ে বিভিন্ন দলের নাম ব্যবহার করে।
সরদার ফজলুল করিমের ভাষায় “মুক্তিযোদ্ধ ছিল” একটি স্বাধীন ও অসাম্প্রাদায়িক রাষ্ট্রর জন্য, আজ রাষ্ট্র আছে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য। এ রাষ্ট্র জনগণের মুক্তির জন্য কতটুকু করেছে তা তো বুঝতে পারছে জনগণ। এ দেশের স্বাধীনতার যুদ্ধ শেষ হয়েছে, কিন্তু মানুষের মুক্তির লড়াই শেষ হয়নি। হ্যাঁ আমাদেরকে মুক্তিকামী মানুষের জন্য মৌলবাদের করাল গ্রাস থেকে নতুন প্রজন্মকে রক্ষার জন্য সাম্প্রদায়ীক সম্প্রীতির জন্য একটি সুন্দর দেশ গড়ার জন্য আরো বেশী সংগ্রাম করতে হবে।
উদীচীর জন্মের অঙ্গিকার হোক শোষণমুক্ত সমাজ আমরা গড়বোই। লড়াই আমাদের চলবে। জয় আমদের সু-নিশ্চিত। জয় হোক মেহনতী মানুষের।





















© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};