ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
355
আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী
Published : Friday, 30 October, 2020 at 12:00 AM, Update: 30.10.2020 2:03:02 AM
আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীস্টাফ রিপোর্টার : পবিত্র ঈদ ই মিলাদুন্নবী (সা) আজ। মহানবী হযরত মুহম্মদ (সা)-এর জন্ম ও ওফাত দিবস। মানবতার মহান এই মুক্তির দূত আজ থেকে ১৪শ’ ৩০ বছর আগে মক্কার কুরাইশ বংশে মা আমেনার গর্ভে জন্ম নেন। তাঁর জন্মের সময় পুরো আরব হেজাজ ছিল অন্ধকার এবং কুসংস্কারে নিমজ্জিত। জাহেলি ওই সমাজে গোত্রে গোত্রে যুদ্ধ, হত্যা, খুন, মারামারি ছিল নিত্য বিষয়। নারীদের ছিল না কোন মর্যাদা। কন্যা শিশুকে জীবন্ত কবর দেয়া হতো। সেই সমাজে দাঁড়িয়ে তিনি একা সত্যের অমিয় বাণী প্রচার করে বিশ্বে আল্লাহর একত্ববাদ প্রতিষ্ঠা করে গেছেন।
মাত্র ২৩ বছরের সংগ্রাম ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে জাহেলি প্রথা দূর করে পুরো আরব হেজাজে একটি আলোকিত সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন। আজ তাই বিশ্বের ১শ’ ৬০ কোটি মানুষের অনুকরণীয় বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এ দিনে বিশ্বের মুসলমানরা পরম শ্রদ্ধা ও সম্মানের সঙ্গে তাদের প্রিয় নবীকে স্মরণ করবে। কণ্ঠে ধ্বনিত হবে বালাগাল উলা বেকামালিহি, কাশাফদ্দোজা বেজামালিহি, হাসুনাত জামিয়ু খিসালিহি, সাল্লু আলায়হে ওয়া আলিহি। পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম রওশন এরশাদ পৃথক বাণী দিয়েছেন। দিনটি উদ্যাপন করার জন্য বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন কর্মসূঈ গ্রহণ করেছে।
মহানবী (সা) এমন এক সমাজে জন্ম গ্রহণ করেন, যে সমাজে লোকজন মহান সৃষ্টিকর্তাকে ভুলে পৌত্তলিকতার অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। মারামারি হানাহানি ছিল নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়। সেই সমাজের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে তিনি প্রথমে একাই লড়াই করেছেন। প্রতিষ্ঠা করেছেন ইনসাফ বা ন্যায়ভিক্তিক সমাজ ব্যবস্থা। কিন্তু অজ্ঞতার অন্ধকার দূর করে যে আলোর পথ তিনি দেখিয়েছেন তা সহজ কাজ ছিল না। বৈরী পরিবেশে প্রচ- প্রতিকূলতার মধ্যে তাকে লড়াই করতে হয়েছিল। এ কারণে অনেক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন। শেষ পর্যন্ত সমস্ত বৈরী মানসিকতাকে পরাজিত করেই সত্যের পক্ষে বিজয় লাভে সক্ষম হন।
মহানবী (সা) ছোটকাল থেকে সমাজে সবার কাছে সত্যবাদী বা আল-আমিন বলে পরিচিত ছিলেন। নবুয়াত প্রাপ্তির আগে তিনি সবার কাছে ছিলেন বিশ্বাসী ও প্রিয়পাত্র। কিন্তু নবুয়াত প্রাপ্তির পর থেকেই শত্রুর সংখ্যা বাড়তে থাকে। ফলে যে মক্কায় তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা সেখানে তিনি বেশিদিন সত্যের বাণী প্রচার করতে পারেননি। সমাজের নিয়ন্ত্রণকারীরা দিন দিন তার বিরুদ্ধাচরণ ও হত্যার ষড়যন্ত্র শুরু করে। ফলে প্রিয় জন্মভূমি ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন। মদিনায় গিয়ে সেখান থেকেই আল্লাহর একত্ববাদী ধর্ম প্রচার করতে থাকেন। ২৩ বছরের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও সাধনায় পুরো আরব সমাজে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন। দূর করেন জাহেলি যুগের সব ইসলামবিরোধী প্রথা। অকান্ত পরিশ্রম ও চেষ্টার মাধ্যমে বৈরী সমাজকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন। একদিন যেখান থেকে তিনি বিতাড়িত হয়েছিলেন, কোন ধরনের রক্তপাত ছাড়াই বিনা বাধায় তিনি সেই মক্কা বিজয় করেন। বিদায় হজের ভাষণে তিনি ঘোষণা দেন আজ এই মক্কা শহর যেমন পবিত্র, জিলহজ মাস যেমন পবিত্র, তেমনই পবিত্র মানুষের জীবন, সম্পদ ও তাদের মর্যাদা। এছাড়া মহানবী (সা) বলেন, যতদিন মানুষ আল্লাহর বাণী কোরান এবং তার রাসুলের সুন্নাহ অনুসরণে করবে ততদিন বিপথে চালিত হবে না।
বিদায় হজের ভাষণে তিনি বলেন, আজ থেকে অনারবের ওপর আরবের কোন শ্রেষ্ঠত্ব নেই। তেমনি শ্রেষ্ঠত্ব নেই কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর অকৃষ্ণাঙ্গদের। কোন হাবশি কৃতদাসও যদি তোমাদের নেতা হয় তাকেও মেনে নেবে। এর মাধ্যমে তিনি মানবতার এক জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত প্রতিষ্ঠা করেন বিশ্বের বুকে। সর্বকালের এই সর্বশ্রেষ্ঠ মানব ৫৭০ সালে মক্কার কুরাইশ বংশে জন্ম গ্রহণ করেন। জন্মের ৬ মাস আগে পিতা আব্দুল্লাহ এবং ৬ বছর বয়সে মাতা আমেনার মৃত্যু হয়। আরবের প্রথা অনুযায়ী দুধমাতা হালিমার কাছে দীর্ঘ সময় লালিত-পালিত হন। পিতা-মাতা মারা যাওয়ার পর তিনি দাদা আব্দুল মুত্তালিবের কাছে বড় হন। শেষ পর্যন্ত দাদা মারা গেলে চাচা আবু তালিব নবীর কিশোর বয়সে দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করেন। ২৫ বছর বয়সে মক্কার ধনাঢ্য বাবসায়ী খাজিদার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। পরিণত বয়সে তিনি প্রায়ই হেরা পর্বতের গুহায় ধ্যানে মগ্ন থাকতেন। তাঁর বয়স যখন ৪০ বছর তখন ফেরেস্তা জিবরাইল (আ)-এর মাধ্যমে নবুয়াত প্রাপ্তির সুসংবাদ পান। ধ্যানে মগ্ন থাকাকালে ফেরেস্তার মাধ্যমে তিনি প্রথম বাণী শ্রবণ করেছিলেন; হে নবী পড় তোমার প্রভুর নামে, যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন এক ফোঁটা রক্তবিন্দু থেকে। আর শিক্ষা দিয়েছে কলমের দ্বারা। আর এভাবেই তাঁর ওপর অবতীর্ণ হয় সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্মগ্রন্থ কোরান মাজিদ। যা মুসলমানদের একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান।
হযরত মুহম্মদ (সা)কে প্রেরণ করা হয়েছিল সমগ্র মানবজাতির রহমত স্বরূপ। তাঁর আগমনে মানব জাতি লাভ করেছে কল্যাণময় পথের পরিপূর্ণ দিকনির্দেশনা, মানবিক মূল্যবোধ ও মর্যাদার গভীরতম চেতনা। ৬৩২ সালে দীর্ঘ ৬২ বছর বয়সে আজকের এইদিনে তিনি পৃথিবী থেকে চির বিদায় নেন।







© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};