ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
দেবিদ্বারে সর্বাধিক ঝুঁকি মাথায় নিয়েও মাঠে পুলিশ
Published : Tuesday, 7 April, 2020 at 3:08 PM, Count : 1574
দেবিদ্বারে সর্বাধিক ঝুঁকি মাথায় নিয়েও মাঠে পুলিশশাহীন আলম, দেবিদ্বার।
করোনার সংক্রমণ রোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, ঘর থেকে বের না হওয়ার প্রচারণা, মাইকিং, লিফলেট বিতরণ, বেতনের একটি অংশ দিয়ে কর্মহীনদের ঘরে খাদ্য পৌছে দেয়া, ঘরবন্দিদের সাশ্রয়ীমূল্যে ঘরে ঘরে ভ্রাম্যমান দোকানের মাধ্যমে খাদ্য সামগ্রী পৌছে দেওয়া, বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিদেশ ফেরতদের খোঁজ নিয়ে ১৪দিন হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার পরামর্শ দেয়া, দোকানপাটে লোক সমাগম না করতে অনুরোধ করাসহ বর্তমান করোনা পরিস্থিতে সর্বাধিক ঝুঁকি মাথায় নিয়েও মাঠে ময়দানে কাজ করে যাচ্ছেন দেবিদ্বার থানা পুলিশ। থানা সূত্রে জানা যায়, শুধু এ বিষয়টিগুলোই নয়, জনসাধারণকে সচেতন করা থেকে শুরু করে করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া মানুষের মৃতদেহ দাফনের মতো অনেক ধরণের দায়িত্বই পালন করতেও প্রস্তুত রয়েছে দেবিদ্বার থানা পুলিশ। এরপরও নানা সীমাবদ্ধতা লেগেই থাকে। করোনা ঝুঁকিতে দেবিদ্বার থানার পুলিশের নেই উন্নতমানের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই), গ্লাভস, মাস্ক। এসব উপকরণ ছাড়াই নানা ঝুঁকি নিয়ে মাঠে ময়দানে, পাড়া-মহল্লায় সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে দিনভর কাজ করছেন পুলিশ সদস্যরা। করোনা প্রতিরোধে জেলা পুলিশ থেকে যে উপকরণ গুলো দেয়া হয়েছে তা নিতান্তই নগন্য। যা ভাইরাস প্রতিরোধে অনেকটাই দূর্বল।
দেবিদ্বারে সর্বাধিক ঝুঁকি মাথায় নিয়েও মাঠে পুলিশ
দেবিদ্বার থানার পুলিশের এক এসআই এ প্রতিবেদককে জানান, করোনায় ছুটি বাতিল। এসময় সরকারি সব দপ্তর ছুটি ভোগ করলেও আমরা পারছি না। সরকারী নির্দেশ দিনরাত মানুষের পাশে থাকতে হবে। বাসা থেকে দেড় বছরের ছোট্ট মেয়েটি বারবার ফোন করে বলছে ‘বাবা তুমি কোথায় ? বাসায় আসো না কেন ? আমি তোমার হাতে ভাত খাবো। আসার সময় পুতুল নিয়ে আসবা। আমি আসছি বাবা বলে মেয়েকে মিথ্যা সান্তনা। কলিজা সন্তানের কথা মনে পড়তেই নিরবেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। কিছুক্ষণ পর কান্না থামিয়ে আবার বলতে শুরু করলেন ওই পুলিশ সদস্য, মা খুব অসুস্থ। বাবা  বেঁচে নেই। আমি ছাড়া মায়ের খোঁজ খবর নেওয়ারও তেমন কেউ নেই। মায়ের মুখটা দেখা হয়না অনেকদিন হলো। মাও বারবার ফোন করে জানতে চাইছে কবে ছুটি পাবো ? বাড়িতে কবে আসবো। মা কতগুলো ওষধের নাম বললো, ছুটি পেলে যেন এ ওষধগুলো বাড়ি নিয়ে যাই। ঝুঁকি নিয়ে বাহিরে ঘুরাফেরা করছি বলে স্ত্রীও খুব রাগারাগি করছে। চাকরি ছেড়ে দিতে চাপ দিচ্ছে। কিন্তু দেশ রক্ষার শপথ নিয়ে কাপুরুষের মত চাকরি ছেড়ে দিব তা হয়না। বিভিন্নভাবে পরিবারের সদস্যদের মিথ্যে স্বান্তনা দিয়ে সময় পার করছি। আমাদের ভিতরের খবর কেউ রাখতে চায় না, নিতেও চায় না।
এদিকে সাধারণ মানুষ মনে করছেন, পুলিশ গণমাধ্যমের সংবাদ শিরোনাম হয় সাধারণত নেতিবাচক কর্মকা-ের কারণে। কিন্তু সেসব ছাপিয়ে এখন গণমাধ্যমেই শুধু নয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও পুলিশ বাহিনীর ভূমিকা প্রশংসিত হচ্ছে। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে বাংলাদেশের এ দুঃসময়ে দেশ রায়, দেশের মানুষকে রায় অতন্ত্র প্রহরীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে পুলিশ। এ অতন্ত্র প্রহরীর দায়িত্ব পালনে এগিয়ে রয়েছে দেবিদ্বার থানা পুলিশ।
দেবিদ্বারে সর্বাধিক ঝুঁকি মাথায় নিয়েও মাঠে পুলিশ সরেজমিনে দেখা যায়, দেবিদ্বার থানা পুলিশ করোনা বিস্তার ঠেকাতে মানুষকে ঘরে রাখতে সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপণ্য খাদ্যসামগ্রী নিয়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি ভ্রাম্যমান দোকান নিয়ে যাচ্ছেন। সদস্য ফেরত প্রায় ৯৬৪ জন প্রবাসীর বাড়ি খুঁজে বের করে তাদের সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্ট থাকবে বলা হচ্ছে। দোকানপাট বন্ধ রেখে যত্রতত্র লোকসমাগম না করতে বিভিন্ন প্রচারণা অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। এ ছাড়াও কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রাইভেট কিনিকে রোগী ভর্তি না নেওয়ায় পুলিশের সহায়তা চেয়েছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী পরে পুলিশের সহায়তা নিয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করার নজীর স্থাপন করেছেন দেবিদ্বার থানা পুলিশ। আইন শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রেণের পাশাপাশি জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশের স্বার্থে কাজ করতে হয় পুলিশকে। মাঠপর্যায়ে এসব কাজ করতে যেয়ে বেশিরভাগ পুলিশ সদস্যই ন্যুনতম সুরা সরঞ্জাম ছাড়াই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন তারা। এতে করে অল্পসময়েই যেকোন পুলিশ সদস্যের শরীরে করোনা ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়তে পারে। নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক এক পুলিশ সদস্য জানান, ‘এক সপ্তাহ আগে আমাকে দুটি সাধারণ মানের মাস্ক ও একটি রেইনকোট দেওয়া হয়েছে। তবে এগুলোতে ভাইরাস আটকানো যাবে না সেটি আমরা বুঝতে পারছি। তবুও মানুষের জন্য কাজ করতে প্রতিদিন ডিউটিতে যাচ্ছি। আবার সরঞ্জাম না থাকায় কিছুটা ভয়ও লাগে। আমাদের জন্য একটু ভালো মানের সরঞ্জাম দেওয়া হলে আমরা স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করতে পারতাম।
এ ব্যাপারে দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জহিরুল আনোয়ার কুমিল্লার কাগজকে জানান, সর্বাধিক ঝুঁকি নিয়ে মানুষকে নিরাপদে রাখতে কাজ করছে দেবিদ্বার থানা পুলিশ। পুলিশ সদস্যদের নিরাপদে দায়িত্ব পালন করার জন্য যে ধরণের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা উপকরণ প্রয়োজন তা একেবারেই সীমিত। তবে উর্ধতন কর্তৃপক্ষ এ বিষয়টি খুব গুরুত্বসহকারে দেখছেন। খুব শীঘ্রই এর একটা সমাধান হবে। পুলিশের অনেক পারিপাশি^ক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তারপরও পুলিশ চেষ্টা করছে আইন শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে যেন শতভাগ নিরাপত্তা দিতে। এই কঠিন পরিস্থিতেও দেবিদ্বারের সর্বসাধারণের জন্য পুলিশী সেবার দরজার সব সময়ে খোলা রয়েছে। যেকোন মানুষ এ  সেবার দরজায় এসে নির্ভয়ে তার সমস্যার কথা বলতে পারবেন। পাশাপাশি করোনায় সম্পর্কে যেকোন তথ্য আমাদের কাছে সরবরাহ করতে পারবেন।  


 


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft