ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
করোনায় একদিনেই ৭ মৃত্যু কুমিল্লায়!
Published : Sunday, 7 June, 2020 at 12:00 AM, Count : 575
উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন আরো ৮ জন...
করোনায় একদিনেই ৭ মৃত্যু কুমিল্লায়!জহির শান্ত: কুমিল্লায় মহামারী আকার ধারণ করা নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একদিনে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার (৬ জুন) রাতের মধ্যে জেলায় এসব প্রাণহানীর ঘটনা ঘটে। একইসময় জেলাজুড়ে করোনার লক্ষণ-উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন আরো অন্তত ৮ জন। কোভিড-১৯ মহামহারীর এই সময়ে একদিনে এতোজনের মৃত্যু এটাই প্রথম।
জানা যায়, শনিবার কুমিল্লায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন ফারুক (৩৫), কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার মিন্টু ধর (৮৫), লক্ষ্মীপুরের রামনগর-জাফরগঞ্জ এলাকার সহিদুল্লাহ (৭৫)। তারা তিনজন কুমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ঢাকার গ্রীণলাইফ হাসপাতালে মারা গেছেন চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক আরিফুর রহমানের মা আফিয়া খাতুন (৫৫),ঢাকা হেল্থ এন্ড হোপ কিনিকে কুমিল্লা বিএমএ র সাবেক ইসি সদস্য ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের সার্জারী বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা এবিএম খুরশীদ আলমের পিতা বিভিন্ন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের প্রাক্তণ অধ্যক্ষ মমিনুল হক ও ঢাকার গ্রীণ লাইফ হাসপাতালে কুমিল্লা নগরীর ‘আফতাব ব্রাদার্স’ এর স্বত্বাধিকারী নাসিম উদ্দিন আহমেদ দোলন।
অপরদিকে ঢাকায় করোনা আক্রান্ত হয়ে ধানমন্ডীর গ্রীণলাইফ হসপিটাল এন্ড মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন কুমিল্লার ইলিয়টগঞ্জের খন্দকার লুৎফুননাহার (৪৭)। তিনি শিপিং মন্ত্রণালয়ের সাবেক অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর মোখলেছুর রহমানের স্ত্রী। পরে গতকাল শনিবার বাদ মাগরিব তাকে ইলিয়টগঞ্জে দাফন করে আল রশীদ ফাউন্ডেশন।
এছাড়া কুমেকে হাসপাতালে সাসপেক্টেড করোনা রোগী বুড়িচং উপজেলার নিমসারের আবদুর রশিদ (৭০) মারা গেছেন। একই সময়ে করোনা উপসর্গ নিয়ে কুমিল্লা শহরে ২জন, লাকসামে দুই জন, দেবীদ্বার, বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়ায় একজন করে মারা যান বলে খবর পাওয়া গেছে।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় প্রদত্ত গতকালের তথ্যে এসব মৃত্যুর খবর না থাকলে স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও মৃতদের স্বজনদের সাথে কথা বলে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে ও উপসর্গ নিয়ে একদিনে ১৪ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
করোনায় মৃতদের তালিকা সিভিল সার্জন কার্যালয় প্রকাশ করে একদিন পর। আর উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়াদের নমুনা সংগ্রহের পর ফলাফল পজেটিভ আসলে তা তালিকাভুক্ত করা হয়।
এদিকে গতকাল ভোররাত তিনটায় করোনা উপসর্গ মারা গেছে, ভিক্টোরিয়া ডিগ্রী কলেজ রোডস্থ বাড়ির মালিক কল্যাণ সমিতির সহ-সভাপতি আলী মিয়া পাটোয়ারী। একই সময়ে নগরীর ৬নং ওয়ার্ডে শুভপুর নিবাসী বিশিষ্ট স্বর্ণ ব্যবসয়ী আলহাজ্ব আবুল কাশেম করোনা উপসর্গ নিয়ে ইন্তেকাল করেন। পরে মানবিক সংগঠন ‘বিবেক’ এর সদস্যরা তাঁর দাফনকার্য সম্পাদন করেন।
এদিন কুমিল্লার লাকসামের করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন মোঃ আবল বাশার ওরফে বাদশা (৪৮) ও মোঃ ইকরামুল ইসলাম (৪৪) নামে দুই ব্যক্তি। তাদের মধ্যে বাদশা কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর ইকরামুল কর্মস্থল চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডের বাসায় ইন্তেকাল করেন। পরে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুসারে তাদেরকে দাফন করা হয়।
লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আবদুল আলী করোনা উপসর্গ নিয়ে আবুল বাশার ওরপে বাদশা ও পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর ইকরামুল ইসলামের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তাদের নমুনার রিপোর্ট আসলে করোনা ছিল কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
একই সময়ে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা মোহনপুর ইউনিয়নের ভোলার বাড়ি নামক এলাকায় হাফেজ আবুল বাশার, বুড়িচং উপজেলার জগতপুর গ্রামের ধনু মিয়া এবং ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য আমীর হোসেন সরকার করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেন। ছাত্রলীগ নেতা আমির হোসেন কুমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন বলেন জানা গেছে।
কুমিল্লায় করোনায় একদিনে ৭ মৃত্যুর মধ্যে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে চিকিৎসকের মায়ের আইসিইউ না পাওয়ার তথ্যটি। জানা গেছে, মাকে বাঁচাতে আইসিইউর জন্য হাসপাতালের পর হাসপাতাল ঘুরেছেন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. আরিফুর রহমান। শেষ পর্যন্ত তাঁর মা আফিয়া খাতুন (৫৫) আইসিইউর অভাবেই মারা গেছেন।
জানা গেছে, নমুনা সংগ্রহ করতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. আরিফুর রহমানকে বাঁচাতে গিয়ে করোনা আক্রান্ত তাঁর মা আফিয়া খাতুন (৫৫) আইসিইউর অভাবে মারা গেছেন। ঢাকার গ্রীনলাইফ হাসপাতালে ৬ দিন ভর্তি ডা. আরিফের মায়ের আইসিইউ সাপোর্ট জরুরি ছিল। কিন্তু শুক্রবার সকাল থেকে আইসিইউর জন্য এমন কোন হাসপাতাল নেই যেখানে তিনি যাননি। কিন্তু কোথাও খালি মেলে নি আইসিইউ সাপোর্ট। পরে মায়ের অবস্থা খারাপ দেখে আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে হাসপাতালে ঘুরেছেন।
মৃত্যুর আগে ঐ চিকিৎসকের মা আফিয়া শুধু আইসিইউতে নিতে বলছিলেন। কিন্তু তা আর সম্ভব হয় নি। হাসপাতালে ফিরিয়ে আনার পর রাত সোয়া ১০টায় ঢাকার গ্রীনলাইফ হসপিটালেই মারা যান তিনি। রাতেই কুমিল্লাা দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি শাহাদাত হোসেন তসলিম প্রতিষ্ঠিত আল রশীদ ফাউন্ডেশনের তত্ত্ববধানে মরহুমার মরদেহ দাফনের জন্য চান্দিনায় নিয়ে আসা হয়।

চান্দিনায় নমুনা সংগ্রহ করতে গিয়ে ডা. আরিফুর রহমান করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে ২৬ মে রাত তিনটায় কোন অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে তাঁর এই মা আফিয়া খাতুন একটি রিকশায় করে ছেলে ডা. আরিফকে নিয়ে চান্দিনা থেকে কুমিল্লার আড়াইওরাস্থ ফোরটিস হাসপাতালে আসেন। ডা. আরিফ সুস্থ হয়ে উঠলেও মা আফিয়া খাতুন করোনা আক্রান্ত হন। একই কারনে ডা. আরিফের বাবাও করোনায় আক্রান্ত হন। এখন তিনি ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

গত ৬জুন ভোরে ৮৪ বছর বয়সে ঢাকা হেল্থ এন্ড হোপ কিনিকে কুমিল্লা বিএমএ র সাবেক ইসি সদস্য ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের সার্জারী বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা এবিএম খুরশীদ আলমের পিতা বিভিন্ন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের প্রাক্তণ অধ্যক্ষ মমিনুল হক কোভিড আক্রান্ত হয়ে মারা যান। কুমিল্লা বিএমএ এর সভাপতি ডা. আব্দুল বাকী আনিস ও সাধারণ সম্পাদক ডা. আতাউর রহমান জসীম শোক প্রকাশ করেছেন।

কুমিল্লা শহরের আফতাব ব্রাদার্সের আফতাব আহমেদ জানান, আমার ভাই নাসিম আহমেদ ঈদের আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হন। পরে তাকে ঢাকার গ্রীণ লাইফ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসার পর ভালোর দিকে ছিলো। পরে পরীক্ষা করে তার করোনা পজেটিভ পায়। ঐ হাসপাতালের আইসিইউতে থাকার পর অবস্থা ভালো হওয়ায় তাকে আবার কেবিনে দেয়। পরে আবার হৃদরোগে আক্রান্ত হন। এরপর আমাদের জানানো হয় সে মারা গেছে। পরে আমরা কুমিল্লার বিষ্ণপুর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এদিকে কুমিল্লায় কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হতে থাকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জেলার ডেপুটি সিভিল সার্জন ও জেলা করোনাবিষয়ক ফোকাল পারসন মো. সাহাদাত হোসেন বলেন, কুমিল্লার কমিউনিটিতে করোনা দ্রুত সংক্রমিত হচ্ছে। ব্যক্তি, দল, পাড়া-মহল্লা, গ্রাম-ইউনিয়ন কিংবা পৌরসভা-উপজেলা, সিটি করপোরেশনের বাসিন্দা- সবাইকেই নিজের ও অন্যের সুরক্ষার জন্য স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। এটা না মানলে পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। লাফিয়ে লাফিয়ে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft