ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
প্রত্ন-পর্যটনের ক্যানভাস কুমিল্লা হতে পারে
Published : Sunday, 27 September, 2020 at 12:00 AM, Update: 27.09.2020 2:05:02 AM, Count : 314
প্রত্ন-পর্যটনের ক্যানভাস কুমিল্লা হতে পারেতানভীর দিপু ||
সুপ্রাচীনকাল থেকে ধারাবাহিক মানব সভ্যতার ইতিহাসের সাক্ষর ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে পুরো কুমিল্লা জেলায়। এসব ঐতিহাসিক ক্ষেত্রগুলোকে সাজিয়ে গুছিয়ে এই জেলাকে দক্ষিণ এশিয়ার আকর্ষনীয় প্রতœপর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা যেতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া কুমিল্লা শহরে পুরোনো ও নতুন গোমতী নদীকে কেন্দ্র করে নাগরিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে তোলার আহ্বান কুমিল্লাবাসীর।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতœতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মোঃ সোহরাব উদ্দিন জানান, প্রতœক্ষেত্র সমৃদ্ধ লালমাই-ময়নামতিকে নিউকিয়াস হিসেবে কেন্দ্র করে পুরো কুমিল্লা জেলাকেই প্রতœ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।  এই অঞ্চলটি দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষনী এবং ইতিহাস সমৃদ্ধ পর্যটন এলাকা হতে পারে।  বাংলাদেশে যেসব প্রতœতাত্ত্বিক গুরুত্ব সম্পন্ন এলাকা রয়েছে তার মধ্যে সুপ্রাচীণ কাল থেকে ঔপনিবেশিক কালের ধারাবাহিক ইতিহাসের চিহ্ন রয়েছে কুমিল্লা অঞ্চলে। তাই এই এলাকাটির পর্যটন গুরুত্ব নিয়ে কাজ করার সময় এখনি।
প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তর চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, লালমাই-ময়নামতি প্রতœস্থলে ৭ম থেকে ১২শ শতকের প্রতœতাত্ত্বিক স্থাপনা রয়েছে। ১৯৫৫ থেকে ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত এই অঞ্চলে পরিচালিত জরিপ ও অনুসন্ধানে শনাক্ত ৫৪টি প্রতœক্ষেত্রের মধ্যে ২৫টিকে সংরক্ষিত করা হয়। এর মধ্যে এতবছরে শুধু ১৩টি প্রতœক্ষেত্রে অসম্পূর্ন খনন কাজ চালিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এগুলোর মধ্যে শালবন বৌদ্ধ বিহার, ইটাখোলামুড়া, রূপবানমুড়া, কোটিলামুড়া, ভোজবিহার, হাতিগাড়ামুড়া, টিপড়ামুড়া, মাদারমুড়া, রানী ময়নামতির প্রাসাদ অন্যতম। হাত দেয়াই হয়নি উজিরপুর মুড়া, পাক্কামুড়া, ঝিলামুড়া, বালাবাজিমুড়া, বৈরাগীমুড়া, কর্নেলমুড়াসহ ১২ টি প্রতœক্ষেত্রে। এর মধ্যে ১৯৫৫ সাল থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিক খনন এবং পরবর্তীতে বিক্ষিপ্ত খননের মাধ্যমে উন্মোচন করা হয় শালবন বিহারকে। যা এখনো অসম্পূর্ন বলে মনে করছেন প্রতœতত্ত্ববিদরা। সর্বশেষ ২০১৬ সালে এই বিহারে একটি কূপ উন্মোচিত করা হয়।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতœতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মোঃ সোহরাব উদ্দিন জানান, গত ৭ বছরে কুমিল্লার প্রতœক্ষেত্রগুলোর খননের কোন রিপোর্ট আমরা প্রকাশিত হতে দেখিনা। আর যেহেতুলালবাগ কেল্লার পর কুমিল্লার শালবন বিহার থেকে সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আয় হয়তাই এই জায়গাটি পরিকল্পিত খননরে মাধ্যমে পূর্নাঙ্গভাবে উন্মোচন করা জরুরি। 
এসব অতি প্রাচীণ স্থাপনা ছাড়াও কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে মধ্যযুগ ও ঔপনিবেশিক আমলের মসজিদ মন্দির। অন্তত ২০০টি জমিদার বাড়ি আছে কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলায়। ত্রিপুরার রাজাদের রাজত্বকালীন সময়ে নির্মিত বিভিন্ন স্থাপনাও ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে কুমিল্লা নগরীসহ বিভিন্ন এলাকায়। এরমধ্যে ধর্মসাগর, রাণীর কুঠি, বীরচন্দ্রনগর মিলনায়তন ও গণপাঠাগার অন্যতম। এছাড়াও এখানে আছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাধি সৌধ ওয়ারসিমেট্রি, শাহ্ সুজার মসজিদ, পাঁচ পীরের মাজার, চান্ডিমুড়া মন্দির, রাজ্যেশ্বরী কালী বাড়ি, নবাব ফয়জুন্নেসার বাড়ী, সংগীতজ্ঞ শচিন দেব বর্মণের বাড়ী, রাজেশপুর বন বিভাগের পিকনিক স্পট, কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতি বিজড়িত মুরাদনগরের দৌলতপুর-নজরুল এভিনিউ, বিশ্বকবির স্মৃতিধন্য কেটিসিসিএ লিঃ-অভয়াশ্রম, জোড়কানন দীঘি, জগন্নাথ দীঘিসহ বিভিন্ন স্থাপনা ও এলাকা।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন কুমিল্লা আঞ্চলিক সভাপতি ডা. মোসলেহ উদ্দিন জনান, কুমিল্লায় পুরাতন ও নতুন গোমতী নদীকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত নগর পর্যটন কেন্দ্র গড়া তোলা উচিত। তাহলে কুমিল্লা শহরের অধিবাসীরা খুব সহজেই সতেজতা নিতে ঘুরে আসতে পারবে এসব এলাকা থেকে। অন্যদিকে লালমাই ময়নামতি এলাকার প্রতœক্ষেত্রগুলোর আরো বেশি প্রচার প্রচারণা করা প্রয়োজন। কুমিল্লায় উন্নত আবাসিক হোটেল বা আরামদায়ক যাতায়াত না থাকায় দূর দূরান্ত থেকে পর্যটকরা এসেও বেশি ঘুরোঘুরি করতে চায় না।
প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তর চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের আঞ্চলিক ড. আতাউর রহমান জানান, কুমিল্লার প্রতœ পর্যটন এলাকা বেশি বেশি প্রচার-প্রচারণা করা প্রয়োজন বলে মনে করি। এলক্ষ্যে আমরা কাজ করেও যাচ্ছি। কুমিল্লায় আমরা একটি পর্যটন মেলা করতে চেয়েছিলাম, যা করোনার কারনে স্থগিত আছে। এই ডিসেম্বরের মধ্যেই কুমিল্লায় এক সপ্তাহ ব্যাপি পর্যটন মেলা করা হবে।
কুমিল্লার কোটবাড়ি ময়নামতি ও লালমাই পাহাড়ে প্রাচীণ নিদর্শণ পাওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা থাকলেও দীর্ঘদিন খনন না হওয়ায় নতুন কোন ক্ষেত্র উন্মোচিত হচ্ছে না। দেশের অন্যান্য পর্যটন ক্ষেত্রের তুলনায় রাজস্ব বেশি আদায় বেশি হলেও- গত ২ বছরে এই অঞ্চলের কোন প্রতœক্ষেত্রে খনন কাজ করতে পারেনি অধিদপ্তরটির কুমিল্লা কার্যালয়। পর্যাপ্ত খনন না হওযায় ১৪ শ বছরের পুরোনো ইতিহাস জানা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রাচীণ নিদর্শনের খোঁজে আসা পর্যটকেরা । এছাড়া নিয়মিত কর্তৃপক্ষের অনুসন্ধান ও পর্যবেক্ষনের অভাবে অরক্ষিত থাকছে। প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তর চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের আঞ্চলিক কার্যালয় কুমিল্লায় হলেও কার্যক্রমে কুমিল্লা জেলা পিছিয়ে আছে বলে মনে করেন পর্যটকরা।

 



« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft