ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
আদালতেই বাদি-আসামির বিয়ের পরদিন বরের মুক্তি
Published : Thursday, 26 November, 2020 at 12:00 AM, Count : 339
নিজস্ব প্রতিবেদক: বিচারকের নির্দেশে কুমিল্লার আদালত প্রাঙ্গণেই ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলার বাদির সঙ্গে আসামির বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। গত মঙ্গলবার আপোষের শর্তে বিয়ে হলেও বরকে যেতে হয় কারাগারে আর স্বজনদের সাথে কনে চলে যান বাড়িতে। তবে বিয়ের একদিন পর গতকাল বুধবার কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন বর। গতকাল সব আইনী প্রক্রিয়া শেষে সকাল ১১টার দিকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান বর সজীব হোসেন (৩০)। তাঁর মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহজাহান আহমেদ।
কুমিল্লার আদালত প্রাঙ্গণে এই বিয়ের খবরে বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। বর-কনেকে দেখতে সেখানে ভিড় করে উৎসুক মানুষ।
বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে আসামি পরে আইনজীবী অ্যাডভোকেট তারেকুল আলম রাসেল মঙ্গলবার রাতে জানান, কুমিল্লার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. আতাব উল্লাহ আপোষের শর্তে আসামিকে জামিন দেন এবং আদালত আঙিনায় বিয়ের নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনামতেই ১০ লাখ টাকা দেনমোহরে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর সেখানে উপস্থিতদের মাঝে খেজুর বিতরণ করা হয়।
গতকাল বিকেলে তিনি জানান, আইনি কার্যক্রম শেষে আজ (বুধবার) আসামি (বর সজিব হোসেন) কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান। এসময় কারাগার প্রাঙ্গণে তার স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। পরে তারা সজিবকে সাথে নিয়ে গ্রামের বাড়ি চৌদ্দগ্রামে চলে যান।’
আদালত সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ভাঙ্গাপুস্করনী গ্রামের এক তরুণীর বিয়ে হয় ওই উপজেলার এক সৌদি প্রবাসীর সাথে। তাদের চার বছরের একটি ছেলে রয়েছে। ২০১৫ সালে ওই প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে মোবাইলফোনে পরিচয় হয় একই উপজেলার পারুয়ারা গ্রামের সজিব হোসেন লিটনের। এক পর্যায়ে সজীব ওই গৃহবধূর অনিচ্ছায় তার সাথে দৈহিক সম্পর্ক করে। সেই ছবি তুলে তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে ওই গৃহবধূর কাছ থেকে বিভিন্ন সময় ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। আরো টাকা চাইলে গৃহবধূ তা দিতে রাজি না হওয়ায় ওই অশালীন ভিডিও তার স্বামীর পরিবারেও পাঠায়। এতে প্রবাসী স্বামী ওই তরুণীকে ডির্ভোস দেন। এর পরও তার কাছে সজীব আবারো পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে। এবার ওই তরুণী গত অক্টোবর মাসে চৌদ্দগ্রাম থানায় সজীবের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ আসামিকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়।
মামলার বাদী পরে আইনজীবী অ্যাডভোকেট সরকার গিয়াস উদ্দিন মাহমুদ কুমিল্লার কাগজকে বলেন, বাদির দাবি অনুযায়ী আসামি তাকে ফাঁদে ফেলে ছবি তুলেছে। সেই ছবি প্রবাসী স্বামীর নিকট পাঠানোর কারণে তাকে ডির্ভোস দিয়েছে। বাদী ও আসামি প এলাকায় বিয়ের শর্তে আপোষ করে আসে। আদালত আপোষের শর্তে আসামিকে জামিন দেন। এছাড়া আদালত আঙিনায় বিয়ের নির্দেশনা দেন। মঙ্গলবার বিকেলে জেলা জজ আদালতের পিপির কক্ষে মামলার আসামি ও বাদির বিয়ে সম্পন্ন হয়।




« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩
ই মেইল: [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft