ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
 বরুড়ায় কার্বাইট দিয়ে পাকানো হচ্ছে কলা
Published : Tuesday, 22 October, 2019 at 12:00 AM, Count : 85
ইলিয়াছ আহমদ, বরুড়া: ফল আমাদের খাদ্য ও পুষ্টির একটি অন্যতম উৎস। কিন্তু দেশের একশ্রেণির মধ্যসত্ত্বভোগী, মুনাফালোভী ব্যবসায়ী কৃত্রিমভাবে ফল পাকিয়ে ফলের খাদ্যমান বিনষ্ট করছে। হরহামেশা ক্যালসিয়াম কার্বাইডসহ বিভিন্ন প্রকারের বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে কলা পাকানো হচ্ছে। এতে ক্রেতাসাধারণ ও ভোক্তা প্রতারিত হয়ে আর্থিক এবং স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে।
সম্প্রতি কুমিল্লার বরুড়ার বাজারে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ক্যালসিয়াম কাবার্ইট দিয়ে কলা পাকানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। বরুড়ার ৫ টি আড়তের মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রায় ৫ লক্ষ টাকার কলা আমদানি করা হয়। এসব কাচা কলা টাঙ্গাইল, যশোর, খাগড়াছরি ও বিভিন্ন এলাকা থেকে আনা হয় বলে জানা গেছে। এ সব কলা বালতির পানিতে ভিটামিনের নামে কার্বাইটসহ বিভিন্ন রাসায়নিক পর্দাথ মিশিয়ে ঐ পানিতে আস্ত কলার ছড়ি ডুবানো হয়। পরে কলার রং পরিবর্তন হওয়ার পর ঝলম, আড্ডা, পয়ালগাছা, আমড়াতলী, বাতাইছড়ি, হরিপুর, খোশবাস, রাম্মহন বাজারসহ বিভিন্ন গ্রামে গঞ্জের বাজারের দোকানী ও হকারদের মাধ্যমে ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করা হয়।
সূত্র জানায়, ক্যালসিয়াম কার্বাইড এক ধরণের রাসায়নিক পদার্থ। এটি এক ধরণের যৌগ যা বাতাসে বা জলীয় সংস্পর্শে এলেই উৎপন্ন করে এসিটিলিন গ্যাস। যা ফলে প্রয়োগ করলে এসিটিলিন ইথানল নামক বিষাক্ত পদার্থে রূপান্তরিত হয়।
বড় সমস্যা হচ্ছে, কার্বাইড বিক্রিয়ায় কলাকে কাঁচা থেকে পাকা অবস্থায় নিয়ে আসে। কলা কাঁচা, কিংবা আধাপাকা অবস্থায় থাকুক না কেন কিছু কিছু কলার বাইরে এবং ভেতরে কেমিক্যালের প্রভাব এতটাই ঘটে যে, ভেতরে বাইরে ফলটির রঙে ও স্বাদে স্বাভাবিকভাবে পাকা কলার মতো হয়ে যায়। কোনো কোনো কলার বেলায় কেবল তার বাহ্যিক বর্ণ আকর্ষণীয় হয়ে পড়ে। স্বাভাবিক পাকা কলার মতো দৃষ্টি নন্দন টকটকে হলুদ বর্ণ দেখে মানুষ আগ্রহ করে এসব কৃত্রিমভাবে পাকানো কলার পছন্দ করে কিনে নিয়ে যায়। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো তিনি হয়তো জানেন না যে, তিনি টাকা দিয়ে বিষ কিনলেন। এতে একদিকে যেমন কলার পুষ্টি গুণাগুণ নষ্ট হয় অপরদিকে কলা খেতে বিস্বাদ, পানসা, শক্ত ও তেতো স্বাদযুক্ত মনে হয়। কৃত্রিমভাবে পাকানো ফল চেনার উপায়, কলার ফলত্বক হলুদ বর্ণের থাকলেও কান্ডের অংশ গাঢ় সবুজ রঙের থাকে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভোক্তা অধিকার রক্ষায় ভোক্তা আইন আরও কঠিনভাবে প্রয়োগের নিমিত্তে বিভিন্ন সংবাদপত্র, রেডিও, টিভিতে ব্যাপক প্রচার করে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর অংশগ্রহণের মাধ্যমে শুধু কলা নয়, ফল, শাকসবজি ও খাদ্যদ্রব্যে বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ প্রয়োগ রোধের ব্যবস্থা নিতে হবে। সার্বিকভাবে ভোক্তা, ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সচেতনতার মাধ্যমেই আমরা ভেজালমুক্ত ফলমূল খেতে পারবো এবং পুষ্টির চাহিদা পূরণ হবে।
এ বিষয়ে একাধিক আড়ৎদারের সাথে কথা হলে তারা জানান, আমরা কলায় ভিটামিন দেই। এতে কলার রং সুন্দর হয় এবং কলা দ্রুত পাকে।
এ ব্যাপারে বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নিশাত সুলতানা বলেন, কেমিক্যাল মিশ্রিত কলা অথবা যে কোন ফল খেলে মানুষ দীর্ঘমেয়াদি নানা রকম রোগে বিশেষ করে বদহজম, পেটেরপীড়া, পাতলা পায়খানা, জন্ডিস, গ্যাস্ট্রিক, শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা, লিভার ও কিডনি নষ্ট হওয়াসহ ক্যান্সারের মতো জটিল রোগের সৃষ্টি হয়। এছাড়া মহিলারা এর প্রভাবে বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম দিতে পারে। শিশুরা বিষাক্ত পদার্থের বিষক্রিয়ার ফলে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

 



« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft