ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
638
কুমিল্লায় ‘পেঁয়াজমাতি’
শাহীন আলম / রণবীর ঘোষ কিংকর ||
Published : Wednesday, 16 September, 2020 at 12:00 AM, Update: 16.09.2020 1:34:00 AM
কুমিল্লায় ‘পেঁয়াজমাতি’






একদিনেই দাম প্রায় দ্বিগুণভারতের রপ্তানি বন্ধের খবর শুনেই কারসাজি শুরুএকযোগে পাইকারি ও খুচরা বাজারে দাম বৃদ্ধিযথেষ্ট মজুত রয়েছে পেঁয়াজের আড়তে  

গত বারের পেঁয়াজের ঝাঁজ কাটতে না কাটতে এবারও শুরু হয়েছে পেঁয়াজ নিয়ে কারসাজি। হঠাৎ করে ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের খবর রটা মাত্রই কুমিল্লার পেঁয়াজ বাজারগুলোতে আগুন লেগে গেছে। একদিনেই পেঁয়াজের দাম লাফিয়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। পাইকারি বাজারেই সোমবার যে পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি ছিল, গতকাল মঙ্গলবার সেটা বিক্রি হয়েছে ৬৮ থেকে ৭০ টাকা। খুচরা বাজারে সেই পেঁয়াজ সাধারণ মানষ হুমড়ি খেয়ে কিনছেন আওে চড়া দামে। কুমিল্লা শহরের চকবাজার তেরিপট্টিসহ বিভিন্ন উপজেলার পাইকারি বাজারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, পেঁয়াজের দাম নিয়ে আড়ৎদার ও খুচরা বিক্রেতাদের মধ্যে চলছে এক ধরনের উত্তেজনা ও লুকোচুরি।
একাধিক খুচরা বিক্রেতা জানিয়েছেন, একদিনের ব্যবধানেই ৪০-৪৫ টাকার পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে ৬৮-৭০ টাকা দরে। তারপরও দোকানে দোকানে ঘুরে চাহিদামতো পেঁয়াজ কেনা যাচ্ছে না। তাদের সন্দেহ, আড়তদাররা আবারো পেঁয়াজ মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির পাঁয়তারা করছে। তাছাড়া কোনো পাইকারি দোকানদার পেঁয়াজ ক্রয়ের ভাউচারও দিচ্ছে না। এর কারণ হিসেবে তাদের ধারণা, খুচরা বাজারের ভাউচার সংগ্রহ করে কুমিল্লা জেলা প্রশাসন থেকে অভিযান চালানো হচ্ছে। গতকাল বিকালেও শহরের তেরিপট্টিতে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত।  
ওদিকে ৬৮ থেকে ৭০ টাকা পেঁয়াজ বিক্রির কথা অস্বীকার করে পাইকারি বিক্রেতারা বলছেন, হঠাৎ ভারত থেকে পেঁয়াজ আসা বন্ধ হওয়ায় বাজারে পেঁয়াজের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। আমরা আগের চালানের মাল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা দরেই বিক্রি করছি। জেলা প্রশাসনও পেঁয়াজের বাজার তদারকি করছেন। বেশি দামে বিক্রি করার কোনো উপায় নেই।
গত বছরও নানা অজুহাতে পাইকারি-খুচরা সব পর্যায়ের অসাধু ব্যবসায়ীদেও কারসাজিতে সারা দেশের মতো কুমিল্লার ক্রেতাসাধারণকে ২৫০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ কিনে খেতে হয়েছে। এবার ভারতের পোঁজ আসা বন্ধের খবরের সঙ্গে সঙ্গে পাইকারি ও খুচরা উভয় বাজারে একযোগে দাম বাড়িয়ে দেওয়া হলো। অথচ কুমিল্লার কোনো পাইকারি বাজারেই পেঁয়াজের কোনো ঘাটতি দেখা যায়নি। যথেষ্ট পরিমাণ মজুত রয়েছে পেঁয়াজের আড়তগুলোতে।   
গতকাল দুপুরে কুমিল্লার রাজগঞ্জ বাজারে গিয়ে দেখা যায়, সাধারণ ক্রেতারা প্রতি কেজি পেঁয়াজ কিনছেন ৭০ থেকে ৭৫ টাকা দরে। ক্রেতারা বলছেন, পেঁয়াজ নিয়ে যে হৈ চৈ শুরু হয়েছে, তাতে সবার আশঙ্কা, গতবারের মতো এবারও পেঁয়াজের দাম আকাশচুম্বী হবে। তাই তারা আগেভাগেই বাজারে বাজাওে এসেছেন বেশি করে পেঁয়াজ কিনে রাখতে। তবে, দু-চারজন বলেছেন, ‘আমাদের মতো অতি উৎসাহী ক্রেতাদের কারণেও পেঁয়াজের দাম বাড়ছে।’ কেউ কেউ বললেন, সোমবার পেঁয়াজ কিনেছি ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়। আজ হঠাৎ করে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা হয়ে গেছে। আমাদের মতো দরিদ্র মানুষের এতো দাম দিয়ে পেঁয়াজ কিনে খাওয়ার  ক্ষমতা নাই।

কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে আলমগীর হোসেন জানান, ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে, এমন অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল দুপুরে উপজেলার গৌরীপুর বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন দোকানে অভিযান চালিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এ সময় পেঁয়াজের চালান রসিদ না পাওয়াসহ নানা অভিযোগে এক দোকান থেকে ১০ হাজার ও অপর একটি দোকান থেকে ২০ হাজার করে ২ জন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মোট ৩০ হাজার টাকা অর্থদ- করেছে আদালত।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন দাউদকান্দি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সেলিম শেখ। এ সময় তাঁর সঙ্গে গৌরীপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো: সাইফুল ইসলাম ও সঙ্গীয় ফোর্স উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে সারাদেশের মতো পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধির অস্বাভাবিক ঢেউ দাউদকান্দির বাজারগুলোতে দেখা যায়। গতকাল উপজেলার সবকটি বাজারে কেজি প্রতি ৭০ থেকে ৮০ টাকা দওে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে বলে ক্রেতারা স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেন। এমন অভিযোগ পেয়ে দাউদকান্দি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্টেট মোহাম্মদ সেলিম শেখ পুলিশ নিয়ে বাজারের বিভিন্ন দোকানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। এ সময় সেলিম শেখ বলেন, কোনো অসাধু ব্যবসায়ী যেন পেঁয়াজ নিয়ে কৃত্রিম সংকট বা সিন্ডিকেট তৈরি করতে না পাওে, সে ব্যাপারে আমরা নজর রেখেছি। যারাই দাম বেরি রাখবে, তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কুমিল্লার মুরাদনগর থেকে মো. হাবিবুর রহমান জানান, ভারত থেকে আমদানি বন্ধ হওয়ার খবরে গতকাল মুরাদনগর উপজেলায় খুচরা পর্যায়ে প্রতিকেজি ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৭০-৮০ টাকায়। অথচ গত সপ্তাহে সেটা ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী ইমন খান ও শাহ আলম বলেন, ‘কোম্পানীগঞ্জ বাজার থেকে পেঁয়াজ এনে নিজ দোকানে বিক্রি করি। আড়তদাররা সিন্ডিকেট করার কারণে পেঁয়াজ কিনেছি ৬৫ টাকা কেজি দরে। এখন বিক্রি কত করতে হবে, সেটা আপনারাই বোঝেন।
আরেক ব্যবসায়ী রাকিবুল ইসলাম বলেন, চান্দিনা বাজারের আড়ত থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ কিনেছি। বিক্রি করছি ৮০ টাকা দরে। অনেক আড়তে পেঁয়াজের মুজত আছে, তবু তোরা বেশি দামে বিক্রি করছে।
নোয়াকান্দি এলাকার বাসিন্দা দুলাল আহমদ বলেন, পেঁয়াজের দাম বাড়ায় আমার ঘরে সোমবার থেকে পেঁয়াজ নাই। বাজারে যেন আগুন লেগেছে। এভাবে কতদিন থাকবে জানি না। আমরা যারা গরীব তাদের অবস্থা খুবই খারাপ।
বাঙ্গরা বাজারের ব্যবসায়ী বাবলু আলী খান বলেন, বাজারে প্রচুর পরিমাণ পেয়াজ মজুত থাকা সত্ত্বেও একটি কুচক্রি মহল লাগামহীনভাবে দাম বাড়াচ্ছে। আমি সকালে ৬৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ কিনেছি। বিকেলে শুনছি ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
তবে কোম্পানীগঞ্জ বাজারের পেঁয়াজের আড়তদার জাকির হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, পেঁয়াজের দাম বাড়ার জন্য খুচরা বিক্রেতারাই দায়ী। খোলাবাজারে তারা ৭০-৮০ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন। আমরা যারা আড়তদার, আমাদের কাছে তো খুচরা কাস্টমার আসে না। খুচরা বিক্রেতাদের কন্ট্রোল করতে পারলে পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিষেক দাশ বলেন, পেঁয়াজের দাম বাড়ার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। বিভিন্ন বাজারে মনিটরিং চলছে। স্থিতিশীল না হলে বুধবার থেকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। 
তিতাসেও চড়া দামে পেঁয়াজ
কুমিল্লার তিতাস থেকে কবির হোসেন জানান, গতকাল  উপজেলার কড়িকান্দি,বাতাকান্দি, মাছিমপুর ও আসমানিয়া বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি পেঁয়াজ পাইকারী বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজি আর খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা থেকে ৭০ টাকা দরে। কী কারণে পেঁয়াজের দাম বাড়তে পারেÑ এমন প্রশ্নের জবাবে ক্রেতারা এশবাক্যে বলেন, সিন্ডিকেটের কারণে। বাতাকান্দি বাজারের পাইকারী বিক্রেতা মালেক মিয়া বলেন, বর্তমানে আমার কাছে কোন পেঁয়াজ নাই। কেন নাই জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাজার খুব চড়া তাই আমি পেয়াজ আনতেছি না; তবে বাজারে যারা খুচরা বিক্রি করে তারা ৬৫-৭০ টাকা কেজি বিক্রি করছে। ওই বাজারের খুচরা বিক্রেতা আল-আমিন বলেন, আমি ৬৫-৭০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি করছি, কারণ আমাকে বেশি দামে কিনতে হয়েছে। তাছাড়া বস্তায় পেঁয়াজ পচে গিয়েও অনেক ঘাটতি হয়।
মাছিমপুর বাজারের খুচরা বিক্রেতা হানিফ মিয়া বলেন, সোমবার সকালেও আমি ৪৫ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রি করেছি। আজ সকালে সেটা ৬০-৬৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
 
ব্রাহ্মণপাড়া থেকে ইসমাইল নয়ন জানান, উপজেলার পাইকারি বাজারে এক দিনের ব্যবধানেই গতকাল পেঁয়াজের কেজি ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা ৭০ থেকে ৭৫ টাকায় বিক্রি করছেন পেঁয়াজ। এখানকার খুচরা বাজারে সপ্তাহ চারেক আগেও পেঁয়াজ বিক্রি হতো ২৩ থেকে ২৫ টাকা কেজি। তারপর ধাপে ধাপে পেঁয়াজের দাম বাড়তে বাড়তে গতকাল একলাফে ৭৫ টাকায় উঠেছে।
ব্রাহ্মণপাড়া সদর বাজারের ব্যবসায়ী আলী মিয়া জানান, আমরা খুচরা বিক্রেতারা প্রতি কেজি পেঁয়াজে সর্বচ্ছো ৫ টাকা লাভ করে থাকি। আমাদেরকে বেশি দাম দিয়ে কিনে বেশি দামেই পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে।
বাজারে আসা একজন ক্রেতা বলেন, প্রতি বছর দেশে একটি ব্যবসায়িক সিন্ডিকেট পেঁয়াজের দাম নিয়ে কারসাজি করে আসছে। দেশে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ মজুদ থাকার পরও পেঁয়াজ সিন্ডিকেটরা হুটহাট করে দাম বাড়িয়ে বাজারকে অস্থির কওে তোলে। এতে সাধারণ ক্রেতারা চরম বিপাকে পড়েন। এ বিষয়ে সরকার যথাসময়ে পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে অসাধু ব্যবসায়ীরা আরো লাগামহীন হয়ে পড়বে এবং সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়বেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফৌজিয়া সিদ্দিকা বলেন, পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আমি উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছি। যেসব ব্যবসায়ী ক্রেতাদের কাছ থেকে নির্ধারিত দামের চেয়ে বাড়তি দাম নিয়েছে, তাদেরকে অর্থদ- করে ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করা হয়েছে। প্রশাসনের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
 
কুমিল্লার লাকসাম থেকে ফারুক আল শারাহ জানান, পাইকারি ও খুচরা বাজারে কেজি প্রতি পেঁয়াজের দাম ৩০-৪০ টাকা বেড়েছে। ভারত রফতানি বন্ধ করায় দাম বৃদ্ধির কথা ব্যবসায়ীরা জানালেও ক্রেতারা তা মানতে নারাজ। একদিনের ব্যবধানে দাম প্রায় দ্বিগুণ হওয়ায় ক্ষুব্ধ তারা। বৃহত্তর লাকসামের (লাকসাম, মনোহরগঞ্জ, নাঙ্গলকোট ও লালমাই) অঞ্চলের সর্ববৃহৎ ব্যবসায়িক কেন্দ্র দৌলতগঞ্জ বাজারে পেঁয়াজের অসংখ্য পাইকারি মোকাম রয়েছে। এসব মোকামে দাম বাড়ার সাথে সাথেই খুচরা বাজারে প্রভাব পড়ে। কিন্তু এবার সমানতালে পাইকারি ও খুচরা বাজারে হঠাৎ দাম বেড়ে গেছে। দৌলতগঞ্জ বাজার ঘুরে এবং নাঙ্গলকোট ও মনোহরগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোতে খবর নিয়ে জানা গেছে, বাজারে প্রচুর পরিমাণে পেঁয়াজ মজুদ থাকলেও পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা নিজেদের খেয়াল খুশিমতো দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। সেপ্টেম্বরের শুরুতে সর্বোচ্চ ৩৫ টাকা দরে বিক্রি হলেও এখানে ক্রমাগত বাড়তে থাকে পেঁয়াজের খুচড়া দাম। সোমবার  দৌলতগঞ্জ বাজারে সর্বোচ্চ ৫০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও একদিনের ব্যবধানে গতকাল পেঁয়াজ কেজি প্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকা হারে বেড়ে যায়। কোন কোন বিক্রেতা দ্বিগুণ হারেও বাড়িয়ে দিয়েছেন। দৌলতগঞ্জ বাজারের পাইকারি মোকামে গিয়ে জানা যায়, ওই বাজারের রেদোয়ান ষ্টোরে কেজি প্রতি ৬৫ থেকে ৭০ টাকা, জাহাঙ্গীর ব্রাদার্স, মা ট্রেডার্স, আমান এন্ড সন্স ও সাদ্দাম ট্রেডাসে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা হারে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন। তবে কেউ কেউ আরো বেশি দামেও বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। খুচরা বিক্রেতারা পাইকারি মোকাম থেকে কিনে এনে ৭০, ৮০, ৯০ আবার কেউ কেউ ১০০ টাকা দরেও পেঁয়াজ বিক্রি করছেন।
খুচরা বাজারের একাধিক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, করোনাভাইরাসে এমনিতেই মানুষ চরম অর্থনৈতিক সমস্যায় পড়েছে। পেঁয়াজসহ নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল না থাকলে মানুষকে আরো বেশি সমস্যায় পড়তে হবে। এজন্য তারা স্থানীয় বাজারসমূহে প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের পাশাপাশি জাতীয়ভাবে বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে কার্যকর উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
এদিকে, দৌলতগঞ্জে পাইকারি মোকাম ও খুচরা বাজাওে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির সংবাদ শুনে গতকাল তাৎক্ষনিক ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান শুরু করেন লাকসাম উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উজালা রাণী চাকমা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ কে এম সাইফুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

লাকসামে ৯০ হাজার টাকা জরিমানা:
কুমিল্লার লাকসামের প্রসিদ্ধ ব্যবসায়িক কেন্দ্র দৌলতগঞ্জ বাজারে পিয়াজের পাইকারি মোকামে হঠাৎ দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। লাকসাম উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উজালা রাণী চাকমা অভিযান পরিচালনা করে ৭ ব্যবসায়ীকে এ অর্থদন্ড করেন। অভিযানকালে পৌর মেয়র অধ্যাপক আবুল খায়ের সহ উপজেলা, পুলিশ ও পৌর প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাৎক্ষনিক এ অভিযান ব্যাপক প্রশংসিত হয়।
জানা যায়, মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে হঠাৎ লাকসাম দৌলতগঞ্জ বাজারে পিয়াজের পাইকারি ও খুচরা দোকানে দাম বেড়ে যায়। কোন কোন ব্যবসায়ী পূর্বের দিনের তুলনায় দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেন। পাইকারি মোকামে সর্বোচ্চ ৭০ থেকে ৮০ টাকা ও খুচরা দোকানে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তাৎক্ষনিক ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে পাইকারি মোকাম মেসার্স মা ট্রেডার্স ৩০ হাজার টাকা, সৈয়দ ষ্টোর ২০ হাজার টাকা, রহমান এন্ড সন্স ২০ হাজার টাকা, মেসার্স বারেক ষ্টোর ৫ হাজার টাকা, কামরুল ষ্টোর ৫ হাজার টাকা, সজল ষ্টোর ৫ হাজার টাকা ও মেসার্স সুশীল ষ্টোরকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করে। ওই সময় ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে অভিযানের কথা শুনে ব্যাংক রোডের রেদোয়ান এন্ড ব্রাদার্স সহ পিয়াজের পাইকারি মোকামের কয়েকজন মালিক দোকান বন্ধ করে সটকে পড়ে।
দৌলতগঞ্জ বাজারে ৭টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ৯০ হাজার টাকা জরিমানের বিষয়টি নিশ্চিত করে লাকসাম উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উজালা রাণী চাকমা জানান, পিয়াজসহ নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।





সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};