ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
2090
আলোচনায় গোমতীর বালুমহাল
জহির শান্ত ||
Published : Friday, 18 September, 2020 at 12:00 AM, Update: 18.09.2020 1:28:30 AM
আলোচনায় গোমতীর বালুমহাল
*সাবেক ও বর্তমান দুই ইজারাদারের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
*অবৈধভাবে তোলা হচ্ছে বালু, কাটা হচ্ছে মাটি

গোমতী নদীর বালু অবৈধভাবে উত্তোলন করা হচ্ছেÑ এই অভিযোগ করেছেন সাবেক ও বর্তমান দুই ইজারাদারই। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ থেকে জানা যায়, ইজারার বাইরে নদীর কুমিল্লা সদর উপজেলা অংশের বেশ কিছু এলাকার অন্তত ৩৭টি স্থান থেকে অবৈধভাবে বালু তোলা হচ্ছে। এ নিয়ে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলনও হয়েছে। অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসন থেকে একাধিক অভিযান চালানো হয়ছে। জব্দ করা হয় ৮-১০টি ট্রাক। ধ্বংস করা হয়েছে ড্রেজার মেশিনও । তবু থামছে না অবৈধ বালু উত্তোলন।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসন থেকে গত ১১ জুন গোমতী নদীর বালু মহাল ইজারা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলে মেসার্স এম. রহমান ও মেসার্স রিফাত কনস্ট্রাকশনসহ পাঁচটি প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশ নেয়। পরে দেড় কোটি টাকায় সর্বোচ্চ দরদাতা হওয়ায় মেসার্স এম. রহমান নদীর পাঁচটি বালুমহালের ইজারা পায়। গত ৭ জুলাই টাকা পরিশোধের পর জেলা প্রশাসন থেকে সাইনবোর্ড টানিয়ে মেসার্স এম. রহমান প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধিকারী মাহাবুবুর রহমানকে পাঁচটি বালু মহালের দখল বুঝিয়ে দেয়া হয়।
এর আগে এক যুগ ধরে গোমতী নদীর বালুমহালের ইজারাদার ছিলেন মেসার্স রিফাত কনস্ট্রাকশনের সত্ত্বাধিকারী ও কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরফানুল হক রিফাত।
জানা গেছে, আরফানুল হক রিফাত কুমিল্লা সদর আসনের এমপি ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের অনুসারী। অন্যদিকে মাহাবুবুর রহমান সংরক্ষিত আসনের এমপি ও মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আঞ্জুম সুলতানা সীমার অনুসারী। মূলত এ কারণেই কুমিল্লায় ক’দিন ধরে ‘টক অব দ্য সিটি’তে পরিণত হয়েছে গোমতীর বালুমহাল।
এই বালুমহালের বর্তমান ইজারাদার মেসার্স এম রহমান প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ মাহাবুবুর রহমান  গত ১২ সেপ্টেম্বর সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করেন, সাবেক ইজারাদার হলেও আরফানুল হক রিফাতের লোকজন এখনও নদীর অন্তত ১৩টি পয়েন্টে অবৈধভাবে বালু তুলে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ইতিপূর্বে প্রশাসন থেকে একাধিকবার অভিযান চালিয়ে বালু তোলা ও মাটি কাটার সরঞ্জামাদি ভেঙে ফেলা হলেও তারা বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছে। এভাবে বালু তুলে ও মাটি কেটে বিক্রির কারণে নদীর বাঁধ ও ব্রিজ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে সাবেক ইজারাদার আরফানুল হক রিফাত গত ১৫ সেপ্টেম্বর পাল্টা সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করেন, বর্তমান ইজারাদার মাহাবুবুর রহমান গোমতী নদীর ৫টি বালুমহাল ইজারা নিয়ে আরো ২৪টি এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু তুলছেন। তিনি বলেন, ‘গত জুনে জেলা বালুমহাল কমিটি ১ কোটি ৫৬ লাখ টাকায় সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে মেসার্স এম রহমান প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মাহাবুবুর রহমানকে গোমতী নদীর পাঁচটি বালুমহালের ইজারা দেয়। কিন্তু তাঁর ট্রেড লাইসেন্স তিন-চার বছর ধরে নবায়ন করা হয়নি। তিনি আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন না। অথচ কোন অদৃশ্য শক্তির বলে মেসার্স এম রহমান ইজারা পেল, তা বুঝতে পারছি না।’
অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রিফাত বলেন, ‘আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। বালুমহালের কোনো ঘাটে আমার কোনো লোক বা নৌকা ড্রেজার মেশিনে বালু তুলছে না। করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক শুরু হওয়ার পর থেকে সব বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেই বিরূপ প্রভাব পড়েছে। ওই সময়ে উত্তোলন শেষে স্টক (মজুদ) রাখা বালু এখন বিক্রি করছি। যারা অভিযোগ করেছে তারা কেবল নদীর বালু নয়, নদীর মাটি কেটে ফসলি জমি বিলীন করে দিচ্ছে এবং প্রতিরক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে ফেল দিয়েছে।’
অভিযোগ প্রসঙ্গে বর্তমান ইজারাদার মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘আমি বৈধভাবে ইজারা পেয়েছি। বৈধ টাকা দিয়েই ব্যবসা করছি। নির্ধারিত এলাকা থেকেই বালু তুলছি। হয়রানির উদ্দেশ্যে আমাদের বিরুদ্ধে নানা কথা রটানো হচ্ছে। কারা আমাদের হয়রানি করছে, প্রশাসন তা জানে।’
কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের অভিযানে গোমতী নদী থেকে বিভিন্ন সময়ে জব্দ করা ট্রাক ও ড্রেজার মেশিন ব্যক্তি মালিকানাধীন। গোমতীর বালুচরের ফসলি জমি থেকে অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে মাটি বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি থেকে মাটি বিক্রি বন্ধের দাবিতে সদর উপজেলার শাহপুর এলাকায় মানববন্ধন করে এলাকাবাসী। পরদিন  সেখানে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় একটি ড্রেজার মেশিন ও তিনটি ট্রাক জব্দ করা হয়।
সাবেক ও বর্তমানÑ দুই ইজাদারের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের বিষয়ে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর গণমাধ্যমকে বলেন, ‘অবৈধভাবে গোমতী নদী থেকে বালু তোলা যাবে না। বৈধ ইজারাদার গোমতী নদীর আদর্শ সদর উপজেলার নির্ধারিত এলাকা থেকে বালু উত্তোলন করবেন। এর বাইরে কারও বালু উত্তোলনের সুযোগ নেই। যারাই অবৈধভাবে বালু তুলছে, আমরা তাদেও বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এম রহমান বালুমহাল ইজারা পেয়েছে।’





© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};