ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
386
কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনে হোল্ডিং ট্যাক্সের জুলুম
আপিলে হতাশা, দালালে হয়রানি
Published : Friday, 9 October, 2020 at 12:00 AM, Update: 09.10.2020 1:27:43 AM
আপিলে হতাশা, দালালে হয়রানিমাসুদ আলম।।
কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের (কুসিক) মাত্রাতিরিক্ত হোল্ডিং ট্যাক্সের বোঝা কমানোর আপিল করতে এসে সেখানেও চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন বাড়িওয়ালারা। তাদের মাথায় চাপিয়ে দেওয়া ট্যাক্সের বোঝা আপিলেও কমছে না। ট্যাক্স কমানোর জন্য গঠিত কমিটিও কোনো সমাধান দিতে পারছে না। উল্টো ট্যাক্স কমাতে ছুটে আসা বাড়িওয়ালারা পড়ছেন ফায়দা লুটার জন্য ওঁৎ পেতে থাকা কুসিকের কিছু অসাধু কর্মীর ফাঁদে। ট্যাক্স কমিয়ে দেওয়ার কথা বলে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে তারা।
হঠাৎ কওে কুমিল্লা সিটির হোল্ডিং ট্যাক্স অস্বাভাবিক মাত্রায় বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে অভিযোগ আর প্রতিক্রিয়া নিয়ে বাড়িওয়ালারা হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন কর্পোরেশনের ট্যাক্স শাখায়। ২০ টাকা মূল্যের একটি আবেদন ফরম ছাড়া সেখানে মিলছে না কোন সমাধান। হোল্ডিং ট্যাক্স সমতায়নের জন্য গঠিত কমিটি থাকলেও তাদেরও নেই কোন ভূমিকা। ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে মেয়রের জন্য। কারণ কমিটি করা হলেও মেয়র ছাড়া হোল্ডিং ট্যাক্সের এই বোঝা কমানোর দায়িত্ব কাউকে দেয়া হয়নি। এদিকে মাত্রাতিরিক্ত হোল্ডিং ট্যাক্সের বিরুদ্ধে আপিল কওে যে ক’জন ট্যাক্স কমাতে পেরেছেন, তারাও আছেন হতাশায়। কারণ, মেয়রের সমঝোতায় ট্যাক্স কমানোর পরও ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে পরিশোধ করা ট্যাক্সের তুলনায় তা অতিরিক্তই থেকে গেছে।
এদিকে ট্যাক্স শাখায় বাড়িওয়ালাদের ভিড়ে ধাক্কাধাক্কিতে বয়স্ক ও নারীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন সবচেয়ে বেশি। তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে আবেদনপত্র সংগ্রহেই।
দালালের দৌরাত্ম্য
কুসিকের ১১ নং ওয়ার্ডের মনোহরপুরে ৪৪০/১ নম্বর হোল্ডিংয়ের বাড়ির মালিক মো. ইব্রাহিম হোসেন কর্পোরেশনের বাড়ানো মাত্রাতিরিক্ত ট্যাক্স কমানো জন্য গতকাল বৃহস্পতিবার ট্যাক্স শাখায় যান। ভিড়ে দাঁড়িয়ে অনেক চেষ্টার পর আপিলের জন্য ২০ টাকা দিয়ে ফরম কেনেন। তার বার্ষিক হোল্ডিং ট্যাক্স ২০১৮ সালে এসেছে ৯ হাজার ২৩৩ টাকা; ২০১৯ সালে এসেছে ৯ হাজার ৩৫০ টাকা; কিন্তু এবার একলাফে বেড়ে এসেছে ৩০ হাজার ২৬০ টাকা। কথা বলার ফাঁকে হোল্ডিং ট্যাক্স শাখার পাশের ১৩০ নম্বর কক্ষ থেকে আক্তার হোসেন নামে এক ব্যক্তি বেরিয়ে আসেন। পরিচয় দেন তিনি সিটি কর্পোরেশনের কর্মী বলে। বাড়িওয়ালা ইব্রাহিমের ট্যাক্সের বিল দেখে আক্তার বলেন, ‘আপনার হোল্ডি ট্যাক্স ৩০ হাজার থেকে কমিয়ে ১০ হাজারে নামেয়ে দেবো’Ñ এই বলে তিনি ওই বাড়িওয়ালাকে অন্য একটি কক্ষে নিয়ে যান। তাদেও অনুসরণ কওে সেখানে গিয়ে দেখা গেল, নারীসহ আরও দুইজন ট্যাক্স কমানোর আবেদন ফরম পূরণ করে বসে আছেন আক্তারের অপেক্ষায়। পরে জানা গেল, আক্তার আসলে একজন দালাল। তার এই পরিচয় পেয়ে বাড়িওয়ালা ইব্রাহিম সেখান থেকে কৌশলে সওে পড়েন।
জানা গেল, সিটি কর্পোরেশনে ছুটে আসা অধিকাংশ বাড়িওয়ালাই এ ধরনের অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হচ্ছেন। 
সমতায়নেও হতাশা
কমিল্লা সিটির দক্ষিণ চর্থা এলাকার বাড়িওয়ালা (হোল্ডিং নম্বর ৩২০/৩) সহিদুল ইসলাম ওরফে সহিদের বাড়ি বলতে টিনশেডের একটি ঘর। আগের বছরগুলোতে তার হোল্ডিং ট্যাক্স এসেছে ১৭০ টাকা করে। এবার সেটা বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৮৬২ টাকা। পরে তিনি হোল্ডিং শাখায় ২০ টাকা দিয়ে আবেদন করার পর মেয়রের সমতায় সেটা ৪২৫ টাকা হয়েছে।
বাড়িওয়ালা সহিদুল ইসলাম বলেন, ‘পুরান একটা টিনশেডের ঘরে পরিবার নিয়ে বসবাস করছি আমি। ভাড়া দেওয়ার মতো জায়গা বা ঘর আর নেই। গত কয়েক বছর ধরে এই বাড়ির হোল্ডিং ট্যাক্স দিয়ে আসছি ১৫০ থেকে ১৭০ টাকার মধ্যে। এবার হঠাৎ করে সিটি কর্পোরেশন ১ হাজার ৮৬১ টাকার ট্যাক্স ধরিয়ে দিয়েছে। পরে মেয়রের কাছে আবেদন করে ৪২৫ টাকায় নামিয়ে এসেছি। তারপরও বলবো, এই বিলও আমার জন্য জুলুম।’
কুসিকের ১৮ নং ওয়ার্ডের নূরপুরের ১০১ নম্বর বাড়ির মালিক হাবিব উল্লা নামে একজন বয়স্ক ব্যক্তি। তিনি বার্ষিক হোল্ডিং ট্যাক্স দিতেন ৩৪০ টাকা। চলতি বছর তা বেড়ে হয়েছে ৪ হাজার ৬৪১ টাকা। পওে তিনি কুসিকে গিয়ে ভিড়ের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে ২০ টাকার আবেদপত্রের মাধ্যমে ওই ট্যাক্স ১ হাজার ৫০০ টাকায় কমিয়ে আনেন।
হাবিব উল্লা কুমিল্লার কাগজকে বলেন, ‘ভোগান্তির শেষ নাই। ট্যাক্স পরিশোধ করতে আগে এ ধরনের ভোগান্তিতে কখনও পড়তে হয়নি। এত কিছু সহ্য করেও আমাকে ট্যাক্স দিতে হবে ১ হাজার ৫০০ টাকা।
এছাড়া রাজগঞ্জের ৩১৮ নম্বর বাড়ির মালিক জিয়াউল ইসলামের ৬১২ টাকার হোল্ডিং ট্যাক্স এবার একলাফে বেড়ে হয়েছে ৭ হাজার টাকা। মেয়রের সমতায় ১ হাজার ১৯০ টাকায় নেমেছে। অন্যদিকে নগরীর বাগিচাগাঁওয়ের হোল্ডিং ১৯০/১ নম্বরের বাড়ির মালিক নাজনীন আক্তার ট্যাক্স দিতেন ১ হাজার ২২৪ টাকা। কিন্তু এবার বেড়ে হয়েছে ১২ হাজার ৫৮০ টাকা। পরে মেয়রের মাধ্যমে কমিয়ে করতে পেরেছেন ৪ হাজার ৮০ টাকা।  তারা দুজনই নাখোশ ও হতাশ বলে কুমিল্লার কাগজকে জানয়েছেন। কারণ, তারপরও তিন-চারগুণ বেশি ট্যাক্স গুনতে হবে তাদের।

ভোগান্তি চরমে:
সরেজমিনে দেখা যায়, কর্পোরেশনের হোল্ডিং ট্যাক্স শাখায় বাড়িওয়ালাদের উপচে পড়া ভিড়। ভিড়ে নারী, পুরুষ এবং বয়স্কদের ভোগান্তি চরমে উঠেছে। যদিও এই শাখায় কোন কাজ নেই ২০ টাকা দিয়ে ফরম কিনে পূরণ করে জমা দেওয়া ছাড়া। তারপরও কর্পোরেশনের শৃঙ্খলা মানতে কুমিল্লা সিটির ৪০ হাজার বাড়িওয়ালা ২০ টাকা দিয়ে ফরম কিনে ট্যাক্স কমানোর জন্য মেয়রের কাছে আবেদন করছেন।
হোল্ডিং শাখার কর নির্ধারণ কর্মকর্তা মো. জামাল খাঁ বলেন, ট্যাক্সের বিষয়ে যে বাড়িওয়ালা অভিযোগ নিয়ে আসেন, আমরা তার আবেদনপত্র গ্রহণ করি। অভিযোগ যাচাই করার জন্য একটি কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়েছে। আমরা সব ওয়ার্ডের আবেদনপত্র জমা নিচ্ছি। পর্যায়ক্রমে এক একটি ওয়ার্ড করে ডেকে সিটি মেয়র আবেদন যাচাই করে ট্যাক্স কমিয়ে দিচ্ছেন। মেয়র ছাড়া ট্যাক্স কমানোর ক্ষমতা কারও নেই।  

বেড়েছে ট্রেড লাইসেন্স ফি :
কুমিল্লা নগরীর প্রায় ৪০ হাজার বাড়িওয়ালা ২০ টাকা করে আপিল করলে সিটি কর্পোরেশনের বাড়তি আয় হচ্ছে ৮ লাখ টাকা। এই হোল্ডিং ট্যাক্সের সাথে বেড়েছে ট্রেড লাইসেন্সের ফিও। ফলে বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মালিকরা ফি পরিশোধ করতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন। কারণ চলমান করোনা মহামারির কারণে ব্যবসায়-বাণিজ্য বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। তারপরও ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করতে অতিরিক্ত ফি দিতে হচ্ছে। কুমিল্লা নগরীর চকবাজারের মামুন ট্রেডার্স-এর মালিক মো. মামুন জানান, চকবাজারে তার একটি ছোট্ট টং দোকান রয়েছে। এই দোকানের ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করতে ২০১৮ সালে ১ হাজার ৭০০ টাকা, ২০১৯ সাথে ২ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে এসেছেন। কিন্তু এবার হঠাৎ করে বেড়ে হয়েছে ৪ হাজার টাকা।
এই বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের লাইসেন্স শাখার কর্মকর্তা আতিকুর রহমান বলেন, ২০১৬ সালে গেজেট অনুসারে এই বছর ট্রেড লাইসেন্সের ফি বাড়নো হয়েছে। কারণ এবার যেকোন দোকান নবায়ন করতে ফি-এর সাথে ২ হাজার টাকা আয়কর দিতে হচ্ছে।
হোল্ডিং ট্যাক্সের সার্বিক বিষয় এবং কর্পোরেশনের কর্মীদের দালালির বিষয়ে কথা বলার জন্য কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মরিরুল হক সাক্করু মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তা সম্ভব হয়নি। ##
  







সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};