ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
1109
কুমিল্লার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা বিপদে
স্কুল বন্ধ হলেও ফি মাফ নেই
Published : Thursday, 15 October, 2020 at 12:00 AM, Update: 15.10.2020 3:06:54 AM
স্কুল বন্ধ হলেও ফি মাফ নেইমাসুদ আলম ||
করোনা ভাইরাসের প্রকোপ শুরু হওয়ার পর থেকে কুমিল্লার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা বন্ধ থাকলেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টিউশন ফি আদায় বন্ধ হয়নি। করোনাকালে আর্থিক সংকটে পড়া অভিভাবকরা সন্তানের টিউশন ফি কমানোর আবেদন করেও কোনো ছাড় পাচ্ছেন না কেউ। ছলে-বলে-কৌশলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকে মাসিক বেতন বা টিউশন ফি কড়ায়-গ-ায় আদায় করে নিচ্ছে কুমিল্লার সব বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও কিন্ডারগার্টেনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অনেকে শিক্ষার্থীদের বাসায় বসিয়ে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে হোম ওয়ার্ক দিয়ে ও পরীক্ষা নিয়ে ফলাফল প্রকাশের কথা বলে ক্যাম্পাসে ডেকে টিউশন ফি আদায়ে বাধ্য করছে। অনেকে বাড়ি বাড়ি শিক্ষক পাঠিয়ে টিউশন ফির জন্য অভিভাবকদেও চাপ দিচ্ছে। অনেকে আবার ভার্চুয়াল পরীক্ষার ফিও আদায় করছে। না দিলে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে এলে জরিমানাসহ এইসব ফি আদায়ের হুমকি দিচ্ছে অনেক কর্তৃপক্ষ।
অভিভাবকদের এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ বলছে, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া মাসিক টিউশন ফির টাকা দিয়েই শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন দেওয়া হয়। তাই এই ফি আদায় না করলে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বন্ধ হয়ে যাবে। তখন  শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালানো সম্ভব হবে না।
শিক্ষার্থীদের মাঝে করোনা ভাইরাসের সংক্রামণ ঝুঁকি এড়াতে গত ১৮ মার্চ থেকে সারা দেশের মতো কুমিল্লা জেলায়ও সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। ৭ মাস পেরোলেও সরকারের সবুজ সংকেত নেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে। এ অবস্থায় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়া শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা পড়েছেন বাড়তি চাপে। কুমিল্লা জিলা স্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্র সালমান ফারসী রিপাতের মা পারভীন আক্তার কুমিল্লার কাগজকে জানান, তার বড় ছেলে কুমিল্লা জিলা স্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্র। করোনার কারণে স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। শিক্ষকরা ভার্চুয়াল কাস নিচ্ছেন। ৭-৮ মাস অতিক্রম হলেও এখন পর্যন্ত কোনো টিউশন ফি দাবি করেনি। ‘কিন্তু’, তিনি বলেন, ‘আমার ছোট ছেলে নগরীর ফৌজদারীর সেন্ট মাইকেলস প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ছে। স্কুল বন্ধের পর থেকে প্রতি মাসেই টিউশন ফি আদায়ের জন্য ফোন করছেন শিক্ষকরা। ভার্চুয়ালে পরীক্ষা নেওয়ার কথা বললেও আমি ছেলেকে পরীক্ষা দেওয়াইনি। কারণ, বাসায় বসে পরীক্ষার কোনো মূল্য দেখছি না আমি। পাশে বসিয়ে পড়ানোই যেখানে দায়, সেখানে এই দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র ভার্চুয়ালের কী বুঝবে? কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ নিয়মিত মাসিক টিউশন ফির জন্য চাপ প্রয়োগ করছে।’
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেন্ট মাইকেলসের মতো একই অবস্থা কুমিল্লার অলিগলি ও পাড়ামহল্লায় গড়ে ওঠা প্রত্যেকটি স্কুল ও কিন্ডারগার্টেনের। কিছু কিছু কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষকরা অভিভাবকদের ঠিকানা সংগ্রহ করে বাসায় গিয়ে মাসিক টিউশন ফি আদায় করছেন। অভিভাবকদের আর্থিক সংকট না থাকলেও চাপ প্রয়োগে ফি আদায়ের নজিরও রয়েছে।
কুমিল্লার টমছম ব্রিজ এলাকার ইবনে তাইমিয়া স্কুলের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র মো. সামিসহ একাধিক শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা জানান, করোনায় প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার পর থেকে প্রতিমাসের টিউশন ফি পরিশোধের জন্য চাপ দিয়ে আসছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। এছাড়া ভার্চুয়ালে মাসিক পরীক্ষা নেওয়ার কথা বলেও ফি আদায় করছে। করোনাকালে শিক্ষকরা ছাত্রছাত্রীদের সঠিকভাবে গাইডলাইন না দিয়ে অনলাইন কাসের নামে বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন।’
অভিভাবকদেও অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে ইবনে তাইমিয়া স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ শফিকুল আলম হেলালের ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তা সম্ভব হয়নি।
 এদিকে কুমিল্লা মডার্ণ স্কুলের দশম শ্রেণির (ডি-শাখা) ছাত্র তাসফিক ইসলামের মা বলেন, ‘শিক্ষকদের চাপপ্রয়োগের কারণে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬ মাসের টিউশন ফি পরিশোধ করেছি। চলতি মাসেরটাও পরিশোধ করতেও বলা হচ্ছে। স্কুল বন্ধ; কাস বন্ধ। অথচ ফি দিতে হবে পুরোপুরিÑ এটা খুবই পীড়াদয়ক।’
তিনি আরও জানান, শিক্ষার্থীদের বাসায় বসিয়ে ভার্চুয়ালে পরীক্ষা নেয় স্কুল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু আজ পরীক্ষার রেজাল্ট নেওয়ার জন্য বাধ্য করেছে স্কুলে আসতে। যদিও এখনো পরীক্ষার কোনো ফি দাবি করেনি, তবু বলবো, ‘অনলাইনে পরীক্ষা নিতে পারলে রেজাল্ট কেন অনলাইনে দেওয়া গেল না? করোনা ঝুঁকি নিয়ে কেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের স্কুল আসতে হলো? এটা টিউশন ফি আদায়েরই একটা কৌশল।’
কুমিল্লা মডার্ণ স্কুলেরই দশম শ্রেণির (ই-শাখা) আরেক ছাত্র নাফিসের মায়ের কথা, ‘করোনাকালে ছাত্রছাত্রীদের পড়ালেখা না থাকলেও শিক্ষকদের সবকিছু স্বাভাবিক রয়েছে। ছেলেমেয়ে স্কুলে ভর্তি করিয়ে আমরা যেন গলায় কাঁটা নিয়েছি। যতই করোনায় আর্থিক সংকটে থাকি না কেন, তাদের পাওনা ঠিকই মেটাতে হবে। নইলে হয়তো পরিবেশ স্বাভাবিক হলে শুনবো, ছেলের ভর্তি বাতিল হয়েছে। তাই আমরা টিউশন ফি দিতে বাধ্য।’
এমপিওভুক্ত এই প্রতিষ্ঠানের দুই অভিভাবকের অভিযোগের বিষয়ে মডার্ণ স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম বলেন, ‘করোনা মহামারীতে কমবেশি সব শ্রেণির মানুষ আর্থিক সংকটে রয়েছেন। কুমিল্লা মডার্ণ স্কুলে ১৬২ জন্য শিক্ষক রয়েছেন। তার মধ্যে এমপিওভুক্ত হয়েছেন মাত্র ৩৯ জন। সরকার থেকে যে বেতন পান, সেটিও সামান্য। শিক্ষার্থীদের মাসিক টিউশন ফি দিয়েই ১৬২ জন শিক্ষক এবং কর্মচারীদের বেতন চলে। যদি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এই টিউশন ফি নেওয়া বন্ধ করে দিই, তাহলে শিক্ষক ও কর্মচারীরা তাদের পরিবার নিয়ে এই মুহূর্তে কোথায় যাবেন?’       
পাঠদান বন্ধ থাকলেও টিউশন ফি পরিশোধে চাপ প্রয়োগের বিষয়ে কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের সচিব সহযোগী অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ বলেন, মাসিক বেতন বা টিউশন ফি পরিশোধে শিক্ষার্থী কিংবা অভিভাবকদের চাপ প্রয়োগ করা অন্যায়। আবার বেতন বা ফি না দেওয়ার জন্য সরকারও কাউকে নিষেধ করেনি। কারণ, শিক্ষার্থীদের বেতনেই বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালিত হয়।
তবে তিনি বলেন, ‘কোনো শিক্ষার্থী বা অভিভাবককে চাপ দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডেকে এনে ফি পরিশোধের নামে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিতে ফেলা যাবে না। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো।’ 








© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};