ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
2578
কুমিল্লার এমপি বাহারের বিরুদ্ধে এমপি সীমার যতো অভিযোগ
Published : Monday, 14 December, 2020 at 12:00 AM, Update: 14.12.2020 1:58:00 AM
কুমিল্লার এমপি বাহারের বিরুদ্ধে এমপি সীমার যতো অভিযোগমাসুদ আলম ||
কুমিল্লা সদর আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হাজী আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখলদারীত্ব, হত্যাকারীদের প্রশ্রয় দেওয়া ও ক্ষমতার অপব্যবহারসহ নানা অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন আওয়ামী লীগেরই আরেক এমপি আঞ্জুম সুলতানা সীমা। তিনি অভিযোগ করেন, এমপি বাহার এক রাজাকারপুত্রকে সাথে নিয়ে অপকর্ম চালাচ্ছেন। সেই সাথে তিনি কুমিল্লা মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপুকে আওয়ামী লীগের কর্মী উল্লেখ করে রাজনৈতিক বিবেচনায় মামলা প্রত্যাহার করে দেয়ার অভিযোগ করেন এমপি বাহাউদ্দিনের বিরুদ্ধে।
গতকাল রবিবার কুমিল্লা শহরের নজরুল এভিনিউ রোডস্থ কুমিল্লা মডার্ণ কমিউনিটি সেন্টারে জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আঞ্জুম সুলতানা সীমা এসব অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো অভিযোগ করেন শহরের আলোচিত ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুল, জাহিদ বাবু, ওবায়দুল হক দুলাল ও আক্তার, সাংসদের আপন ভাতিজা সুমু হত্যাসহ সর্বশেষ জিল্লুর হত্যাকা-ে জড়িত আসামীরাও এমপি বাহারের আশ্রয়প্রশ্রয়ে রয়েছেন।
এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি। আর এমপি সীমা কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি।
আঞ্জুম সুলতানা অভিযোগ করেন, কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী কুমিল্লা টাউন হলে হকারদের পুনর্বাসনের নামে টাউন হল সুপার মার্কেট নির্মাণ করার পর নিজের নামে লিজ নিয়ে রেখেছে। আর সেই মার্কেট রক্ষা করতেই ঐতিহ্যবাহী টাউন হল ভবন ভেঙ্গে নতুন ভবন নির্মাণের পায়তারা চালাচ্ছে।   
কুমিল্লা শহরে নানা কারণে আলেচিত এমপি সীমার এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন তার ভাই কুমিল্লা চেম্বার অব কমার্স এ- ইন্ডাষ্ট্রির সভাপতি ও এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক মাসুদ পারভেজ খান ইমরান ও তার ছোট ভাই ডা. আজম খান নোমান।
সংবাদ সম্মেলনে এমপি আঞ্জুম সুলতানা সীমা তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, কুমিল্লার গোমতী নদীর বালু জোরপূবর্ক উত্তোলন করা থেকে শুরু করে এলজিইডি, গণপূর্ত, সড়ক বিভাগ, কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ড, কুমিল্লা প্রেসকাব, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, কুমিল্লা সিটি কর্পোরশেন, রেজিস্ট্রি অফিস ও জেলা কারাগারসহ জেলার সকল সরকারি দপ্তরগুলোতে তার নির্দেশিত লোকজনের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। সাম্প্রতিককালে সদর সাব-রেজিস্ট্রে অফিসের একটি ঘটনাকে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, কুমিল্লা সদর সাব-রেজিস্ট্রে অফিসে প্রকাশ্যে ওই সিন্ডিকেটের সদস্যরা প্রবেশ করে অস্ত্রের মুখে সরকারি মহাফেজ খানায় ঢুকে দলিল ঘষামাজা করে। এ ঘটনায় পুরো শহরবাসী উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। এ ঘটনায় কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়। কিন্তু এই দলিল ঘষামাজার ঘটনায় মামলার বাদিসহ তিন কর্মচারীকে বদলি করা হয়েছে।
এদিকে কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী  টাউনহল ভেঙ্গে ফেলার অপচেষ্টার অভিযোগ এনে এমপি সীমা বলেন, ঐতিহ্যবাহী কুমিল্লা টাউন হল হেরিটেজ ঘোষণা করার জন্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এজন্য গণশুনানির কি দরকার? হেরিটেজ নিয়ে গণশুনানি হয়- এমনটি কখনও শুনিনি। মূলত টাউন হল ভেঙ্গে পুরো পজেক্টটির অর্থায়নে নিজের লীজ নেয়া মার্কেটটি রক্ষা করতে এই অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। কারণ তিনি টাউনহলের সম্পত্তি লীজ নিয়ে বিক্রি করে বসে আছেন। যদি টাউন হল ভেঙ্গে নতুন ভবন তৈরি করা না যায়- তাহলে মার্কেটও হারাবেন এবং ইজ্জতও হারাবেন। সরকার যদি এটিকে প্রতœ সম্পদ ঘোষণা করে তাহলে বেহাত হওয়া জায়গাও উদ্ধার করবে, এতে তিনি সুপার মার্কেটটি হারাবেন। যার কারণে তিনি উঠেপড়ে লেগেছেন টাউনহল ভেঙ্গে ফেলার জন্য। ক্ষমতায় থাকতে থাকতে ঐতিহ্যবাহী ভবনটি ভেঙ্গে পুনরায় নির্মাণ করলে তার মার্কেটে হাত পড়বে না। তিনি আরও জানান, রাতের আঁধারে এই ঐতিহ্যবাহী টাউনহলটি ভেঙ্গে ফেলারও অপচেষ্টা করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিককালে কুমিল্লার আলোচিত জিল্লুর রহমান জিলানী হত্যাকা-ের আসামীদের প্রশয় এবং সহযোগিতা দেওয়ার অভিযোগ এনে তিনি বলেন, এমপি হাজী বাহার এই হত্যাকা-ে জড়িতদের বাঁচাতে নানা তৎপরতা চালাচ্ছেন। এতে জিল্লুর পরিবার ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কিত। কারণ মামলার অন্যতম আসামি কুমিল্লা মহানগর যুবলীগের সভাপতি আবদুল্লাহ আল মাহমুদ সহিদ, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি জহিরুল ইসলাম রিন্টু প্রকাশ্যে সাংসদের সাথে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এছাড়া তিনি শহরের আলোচিত ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুল, জাহিদ বাবু, ওবায়দুল হক দুলাল ও আক্তার, সাংসদের আপন ভাতিজা সুমু হত্যাসহ সর্বশেষ জিল্লুর হত্যাকা-ে জড়িতদেরও আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন।
লিখিত বক্তব্যে এমপি সীমা আরও বলেন, ওই সাংসদের বিভিন্ন অপকর্ম নিয়ে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে কথা বলায় বরেণ্য সাংবাদিক নাঈমুল ইসলাম খানকে রাজাকার পুত্র আখ্যা দিয়েছেন অথচ কুমিল্লার সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও বিএনপি নেতা মনিরুল হক সাক্কুর বাবা স্বীকৃত একজন রাজাকার নেতা হওয়ার পরও তিনি তার সাথে মিলেমিশে চলেন। মেয়র সাক্কুর সাথে বিভিন্ন কাজের ৬০%-৪০% ভাগাভাগির কমিশন মিলেমিশে ভোগ করেন। এছাড়াও তিনি ফ্রিডম পার্টি, জাতীয় পার্টি  ও বিএনপি থেকে আসা লোকজনকে কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া সংস্থাসহ বিভিন্ন গুরত্বপূর্ণ পদে বসিয়েছেন।
তিনি বলেন, এমপি বাহার বাসস্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি অব্যাহত রাখার জন্য দীর্ঘদিন টমছমব্রিজ বাসস্টেশনটি কিভাবে আটকে রেখেছিলেন তা এই জনপদের মানুষ দীর্ঘকাল প্রত্যক্ষ করেছে। যে কোনো ব্যবসা বাণিজ্য থেকে কমিশন খাওয়ার ব্যাপারে তার মেয়ে জামাইটি (সাইফুল আলম রনি) পাকিস্তানের আসিফ আলী জারদারির মতো নাম করেছে।
এমপি সীমা বলেন, নিঃসন্তান ক্ষীতি বাবুর কৈলাশ ধাম কেমন করে সোনালী টাওয়ার হয়ে গেল? ২০০৮ সালে ঋণখেলাপী, কর্মীদের কাছ থেকে চাঁদা তুলে ঋণ এডজাস্ট করে নমিনেশন টিকিয়ে রাখা মানুষটি যখন দম্ভ ভরে নিজেকে সর্বোচ্চ করদাতা জাহির করেন- তখন মনে কি এই প্রশ্ন জাগাটা স্বাভাবিক নয়, যে মানুষটি ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত কপর্দকহীন, তিনি কোন্ যাদুবলে আজ এতো সম্পদের মালিক? কালের কণ্ঠে প্রকাশিত অটোবাইক থেকে চাঁদা তোলার গল্পটি কি তবে সত্য? মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নামে বরাদ্দকৃত জমি নিজের নামে করে ব্যাপক চাঁদাবাজির মাধ্যমে গড়ে তোলা মহানগর আওয়ামী লীগ অফিসে নিজের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ‘সোনালী-২’ গড়ে তোলার অথরিটি তিনি কোথায় পেলেন? হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে লাল-নীল বাতি শোভিত, সবচাইতে অরুচিকর একটি সিটি কর্পোরেশন গড়ে তোলার মহান কারিগর মেয়র মনিরুল হক সাক্কু সাহেবের অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি কথাও তিনি বলেছেন বলে আপনারা শুনেছেন কখনো? বরঞ্চ ৬০%-৪০% ভাগাভাগির গল্পই আমরা বিভিন্ন মিডিয়ার কল্যাণে দেখতে পেয়েছি।
লিখিত বক্তব্যে নারী সাংসদ আরও বলেন, কুমিল্লার বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ অধ্যক্ষ আফজাল খান অ্যাডভোকেট তিলেতিলে কুমিল্লা মডার্ণ হাইস্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেন। অথচ হাজী বাহার এমপি হয়ে সেই প্রতিষ্ঠানটি দখলে নিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করে উল্টো আফজাল খান পরিবারকে দোষারোপ করছেন, যা কোনভাবে সত্য নয়।
এছাড়াও তিনি সাংসদ বাহারের একটি সংবাদ সম্মেলনে সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ ও তার বাবা অধ্যক্ষ আফজাল খানসহ পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিথ্যা কাল্পনিক ও মানহানিকর বক্তব্য প্রদানের প্রতিবাদও জানান।
উল্লেখ্য, কুমিল্লার-৬ আসনের সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের সংবাদ সম্মেলন করার ১০ দিন পর পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেন নারী সাংসদ সদস্য আঞ্জুম সুলতানা সীমা। তিনি কুমিল্লা জেলা আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা অধ্যক্ষ আফজল খান এডভোকেটের মেয়ে।
এমপি আঞ্জুম সুলতানা সীমা বলেন, এমপি বাহার কিভাবে ২০০৮ সালে নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন এবং নৌকার মনোনয়ন পেয়ে কিভাবে নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন, তা হয়তো এমপি বাহার ভুলে গেছেন। সেদিন আমার বাবা বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ অধ্যক্ষ আফজল খানের পায়ে ধরে সহানুভূতি ভিক্ষা চাওয়া, আমার ভাই ইমরানকে ফোনে অনুনয়-বিনয় করা ও নোমানকে বুকে জড়িয়ে ধরে কান্না করা এবং এই বলে ওয়াদা করা ‘এবার আমাকে সুযোগ করে দাও আমি আফজল ভাইকে প্রাপ্যসম্মান দেব ও মূল্যায়ন করবো।’ অথচ নির্বাচনের আগের দিনও এমপি বাহারের অনুসারী ও খুব কাছের লোক তারা আমার বাবাকে বলেছিলেন যে, আপনি তাঁর নির্বাচনে কাজ করবেন না। যদি করেন তাহলে তা হবে জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল। তখন আমার বাবা অ্যাডভোকেট আফজল খান উত্তরে বলেছিলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। সেই প্রেক্ষাপটে বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ অ্যাডভোকেট আফজল খানের রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও সাহসী সিদ্ধান্তের আলোকে নৌকার প্রতীক নিয়ে এমপি বাহারকে বিজয়ী করে আনেন। সেই হাজী বাহার নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পরপরই অ্যাডভোকেট আফজল খান ও তাঁর পরিবারের রাজনীতি, অর্থনীতি ও সামাজিকভাবে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। যা আজও চলছে। এমপি বাহার আমার বাবা আফজল খানকে মূল্যায়ন করেছেন তাঁর ৩ (তিন) ছেলেকে মামলার আসামি করে এবং তার শ্রম-ঘাম ও অর্থে গড়া প্রতিষ্ঠান দখল করে।










সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};