ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
খনন না হওয়ায় উন্মোচিত হচ্ছে না নতুন ক্ষেত্র
‘ছাত্রজীবনে ঘুরতে এসে যা দেখেছি, কর্মজীবনে এসে সেই একই দৃশ্য। পরিবর্তন হয়নি কিছুই’
Published : Saturday, 19 September, 2020 at 12:00 AM, Update: 19.09.2020 2:11:55 AM, Count : 531
খনন না হওয়ায় উন্মোচিত হচ্ছে না নতুন ক্ষেত্রতানভীর দিপু ||
ভ্রমণপ্রিয় পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন তথা পুরাকীর্তি। দেশের প্রতœতাত্ত্বিক স্থানগুলোর মধ্যে পুরান ঢাকার লালবাগ কেল্লার পরেই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায়কারী স্থানটি হলো কুমিল্লার শালবন বিহার। আবার প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তর চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের আঞ্চলিক কার্যালয়টিও কুমিল্লায়। অথচ এই কুমিল্লার কোটবাড়ি, ময়নামতি ও লালমাই পাহাড়ে প্রাচীন নিদর্শন পাওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা থাকলেও দীর্ঘদিন কোনো  খনন কাজ হচ্ছে না। ফলে নতুন কোনো প্রতœ নিদর্শন তথা পর্যটন ক্ষেত্রও উন্মোচিত হচ্ছে না। পর্যাপ্ত খনন না হওয়ায় ১৪ শ বছরের পুরোনো ইতিহাস জানা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রাচীন নিদর্শনের খোঁজে আসা পর্যটকেরা। এছাড়া কর্তৃপক্ষের নিয়মিত অনুসন্ধান ও পর্যবেক্ষণের অভাবে অরক্ষিত থাকছে পুরাকীর্তিগুলো।
জানা গেছে, ১৯৫৫ থেকে ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত এই অঞ্চলে পরিচালিত জরিপ ও অনুসন্ধানে শনাক্ত ৫৪টি প্রতœক্ষেত্রের মধ্যে ২৫টিকে সংরক্ষিত করা হয়। এর মধ্যে এত বছরে শুধু ১৩টি প্রতœক্ষেত্রে অসম্পূর্ণ খনন কাজ চালিয়েছে কর্তৃপক্ষ। হাত দেয়াই হয়নি উজিরপুর মুড়া, পাক্কামুড়া, ঝিলামুড়া, বালাবাজিমুড়া, বৈরাগীমুড়া, কর্নেলমুড়াসহ ১২টি প্রতœক্ষেত্রে। এর মধ্যে ১৯৫৫ সাল থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিক খনন এবং পরবর্তীতে বিক্ষিপ্ত খননের মাধ্যমে উন্মোচন করা হয় শালবন বিহার, যা এখনো অসম্পূর্ণ বলে মনে করছেন প্রতœতত্ত্ববিদরা। সর্বশেষ ২০১৬ সালে এই বিহারে একটি কূপ উন্মোচিত করা হয়। এরপর এখানে আর হাত দেয়া হয়নি।
প্রতœতত্ত্ববিদদের ধারণা, শালবন বিহারের পশ্চিম ও উত্তর পাশে মন্দিরটির আশেপাশে খনন করলে নতুন নিদর্শন পাওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া উন্মোচিত কূপটির পশ্চিম পাশে ছোট মন্দির থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব পুরোপুরি উন্মোচিত করতে আন্তরিকভাবে অন্তত ৩টি সেশন খনন কাজ চালাতে হবে।
২০১৭ সালে হাতিগাড়া মুড়ায় খনন চালিয়ে ৭ম-৮ম শতকের ২৩ বর্গফুটের একটি মন্দিরের ভিত উন্মোচিত হয়। এছাড়া ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ময়নামতি রানীর বাংলোর উত্তরাংশে খনন করা হয়। এসবই অসম্পূর্ণ খনন বলেই মনে করেন প্রতœতত্ত্ববিদরা। 
শালবন বিহারে ঘুরতে আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র ও ব্যাংক কর্মকর্তা আহমেদ রাজু জানান, ছাত্রজীবনে ঘুরতে এসে যা দেখেছি, কর্মজীবনে এসে সেই একই দৃশ্য। পরিবর্তন হয়নি কিছুই। শুধুমাত্র ফুলবাগান ও ভেতরে হাঁটার পথ উন্নয়ন হলেও যা দেখতে মানুষ আসে, সেই পুরাকীর্তির নতুন কোনো উন্মোচন নেই। সিলেট থেকে কক্সবাজারÑ পুরো এলাকার আঞ্চলিক অফিস কুমিল্লায়, কিন্তু কুমিল্লায় নতুন কিছু উন্মোচন না হবার বিষয়টি বোধগম্য নয়।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতœতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. সোহরাব উদ্দিন জানান, গত ৭ বছরে কুমিল্লার প্রতœক্ষেত্রগুলোর খননের কোনো রিপোর্ট আমরা প্রকাশিত হতে দেখি না। আর যেহেতু ঢাকার লালবাগ কেল্লার পর কুমিল্লার শালবন বিহার থেকে সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আয় হয়, তাই এই জায়গাটি পরিকল্পিত খননের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গভাবে উন্মোচন করা জরুরি। 
গত দুই বছরে কুমিল্লায় কোনো কাজ করতে পারেননি স্বীকার করে প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তর চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক ড. আতাউর রহমান কুমিল্লার কাগজকে বলেন, ‘আমি কক্সবাজার, সুনামগঞ্জ, কুমিল্লায় নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের বিষয়ে চিঠি দিয়েছিলাম। এর মধ্যে কক্সবাজারে কাজ করা শুরু করি। পরবর্তীতে কুমিল্লায় করা হবে। আমি থাকা অবস্থায়  কুমিল্লায় কিছু একটা কাজ করে যাবো বলে ইচ্ছা আছে।’





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft