যুদ্ধবিধ্বস্ত
দক্ষিণ গাজার ভেতরে নতুন করে একটি নিরাপত্তা করিডোর তৈরির ঘোষণা দিয়েছে
ইসরাইল। এরইমধ্যে দক্ষিণের রাফাহ শহরকে বাকি গাজা থেকে বিচ্ছিন্ন করতে
মোরাগ করিডোর স্থাপন করেছে ইসরাইল।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত
মানচিত্র অনুযায়ী, করিডোরটি গাজার পূর্ব দিক থেকে পশ্চিম পর্যন্ত বিস্তৃত।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহ গত বুধবার নতুন এই করিডোরের
ঘোষণা দেন। তিনি জানান, এটি রাফাহ শহরকে গাজার বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন
করবে।
মিডল ইস্ট আই-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, মোরাগ ছিল একটি ইহুদি বসতি,
যা রাফাহ ও খান ইউনিসের মাঝামাঝি অবস্থান করত। নেতানিয়াহু ইঙ্গিত দিয়েছেন,
করিডোরটি এই দুই শহরের মধ্য দিয়ে যাবে।
শনিবার ইসরাইলি সেনাবাহিনী
জানিয়েছে, দক্ষিণ গাজার নতুনভাবে গঠিত একটি নিরাপত্তা করিডোরে তাদের ৩৬তম
ডিভিশনের সেনাদের মোতায়েন করা হয়েছে।
তবে করিডোরটি ঠিক কোথায় এবং কত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে গাজার বিভিন্ন জায়গায় ইসরাইলের বোমা হামলা অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সাংবাদিক, শিশুসহ অন্তত ৪৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
অন্যদিকে
দক্ষিণ গাজায় ১৫ জন জরুরি কর্মী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইসরাইলের সেনাবাহিনী
ভুল করেছে বলে স্বীকার করেছে ইসরাইল। ২৩ মার্চ এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
রোববার
(৬ এপ্রিল) বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ওই সময় রাফার কাছে ফিলিস্তিনি
রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির (পিআরসিএস) অ্যাম্বুলেন্স, জাতিসংঘের একটি গাড়ি এবং
গাজার সিভিল ডিফেন্সের একটি দমকলের গাড়ির উপর গুলি চালানো হয়।
ইসরাইল
প্রথমে দাবি করেছিল যে হেডলাইট না থাকায় অন্ধকারে গাড়িবহরটিকে
‘সন্দেহজনকভাবে’ এগিয়ে আসতে দেখা যায়। এ কারণে সৈন্যরা গুলি চালায়। এছাড়া
ইসরাইল বলেছে যে যানবাহনগুলো আসার আগে সেনাবাহিনীর সাথে সমন্বয় করেনি বা
সম্মতিও নেয়নি।
তবে নিহত একজন প্যারামেডিকের তোলা মোবাইল ফোনের ফুটেজে দেখা গেছে, গাড়িগুলোতে আলো জ্বলছিল।
২৪ ঘণ্টায় ৪৬ ফিলিস্তিনিকে হত্যা:
গাজায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৬
ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরাইল। গত ১৮ মার্চ যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের পর থেকে
এক হাজার ৩০৯ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে দেশটি। আহত করা হয়েছে তিন হাজার ১৮৪
জনকে। খবর আল-জাজিরার।
উপত্যকাটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে,
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এই পর্যন্ত ৫০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনির প্রাণ
কেড়ে নিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। দেশটির বোমা ও ড্রোন হামলায় এ সময়ে আহত হয়েছেন
অন্তত এক লাখ ১৫ হাজার ২২৫ মানুষ।
আল-জাজিরার প্রতিবেদন বলছে, রোববার ভোর থেকে গাজায় হামলা চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যা করা হয়েছে। আর খান ইউনিসে নয় জনকে হত্যা করা হয়েছে।
গাজার জাবালিয়া এলাকায় ইসরাইলের আর্টিলারি শেলের আঘাতে দুই ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে।
রাতভর
ইসরাইলি ড্রোন হামলায় গাজা সিটিতে অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে
এক বাবা ও মেয়েও রয়েছেন। গাজার দক্ষিণাঞ্চলে একটি তাঁবুতে বিমান হামলায়
কমপক্ষে ছয়জন নিহত হয়েছেন।
ইসরাইলি হামলায় গাজায় ১৫ চিকিৎসক হত্যার নতুন
একটি ফুটেজে ভাইরাল হয়েছে। এতে দেখা যাচ্ছে, ওই গাড়িতে স্পষ্ট চিহ্ন থাকার
পরও গুলি চালানো হয়েছে।