সংস্কারে এক বছর মেয়াদী তিন কমিটির সিদ্ধান্ত মার্কেটের টাকা যাবে টাউন হলের একাউন্টে
বীরচন্দ্র
গণ পাঠাগার-কুমিল্লা টাউন হলের সকল কমিটি বিলুপ্ত করে এক বছরের জন্য একটি
অ্যাডহক কমিটি ও দুটি উপকমিটি করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এক বছর পর টাউনহলের
কার্যকরী কমিটির নির্বাচন দেবে এড হক কমিটি। এছাড়া সংস্কার ও সম্পদ
ব্যবস্থাপনা উপ কমিটি এবং সংবিধান সংশোধন ও সদস্য গ্রহন উপ কমিটি একই সাথে
কাজ করবে। বুধবার বিকালে টাউন হল মিলনায়তনে জরুরী সাধারণ সভায় এসব
সিদ্ধান্তের কথা জানান টাউন হলের সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোঃ আমিরুল কায়ছার।
সভায় টাউনহলের সদস্য ও কাঙ্খিত সদস্যবৃন্দ ছাড়াও সুশীল সমাজ ও রাজনৈতিক
নেতৃবৃন্দ, ছাত্র ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বিশিষ্ট
ব্যক্তিবর্গের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক তাঁর সিদ্ধান্তের কথা
জানান। তবে কমিটির সদস্য কারা হবেন এ বিষয়ে পরে জানানো হবে বলে জেলা
প্রশাসক জানান। সভা মঞ্চে জেলা প্রশাসক মোঃ আমিরুল কায়ছার ছাড়াও আরো
উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক পঙ্কজ বড়ুয়া, অতিরিক্ত জেলা
ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ শামসুল তাবরেজ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ফাহমিদা মোস্তফা,
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোমেন শর্মা।
সভার শেষে জেলা প্রশাসক
মোঃ আমিরুল কায়ছার জানান, সঙ্গত কারণে বীরচন্দ্র গণ পাঠাগার টাউন হলে
কার্যকরী পরিষদ বিলুপ্ত ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। টাউন হল সুপার
মার্কেট হতে প্রাপ্ত সকল অর্থ বীরচন্দ্র গণ পাঠাগারের একাউন্টে জমা হবে।
সম্পদ ব্যবস্থাপনা, সদস্য অন্তর্ভুক্তি ও গঠনতন্ত্র সংশোধনের জরুরী
ভিত্তিতে দাবি রাখে বিধায় এড হোক কমিটি ছাড়াও দুটি উপকমিটি কাজ করবে। এছাড়া
টাউনহলের স্থাপত্য শৈলী একই রেখে এর সংস্কার কাজ পরিচালনার জন্য একটি
বিশেষজ্ঞ টিম কাজ করছে। এছাড়া পাঠাগারের পুনঃ সংস্কারে দ্রুত যথাযথ
ব্যবস্থা নেয়া হবে। বীরচন্দ্র গণ পাঠাগার টাউনহলের সাধারণ সদস্যের ফি এক
বছরের জন্য ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
জেলা প্রশাসকের সকল সিদ্ধান্তে
উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন উপস্থিত সকলে। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের আওয়ামী লীগ
সরকার পতনের পর বিক্ষুব্ধদের রোষের শিকার হয় ঐতিহাসিক কুমিল্লা টাউন হল।
এরপর এই প্রথম জরুরী সভার মাধ্যমে টাউন হল সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হলো।
এদিকে
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে যারা বক্তব্য রাখেন তাদের মধ্যে দৈনিক কুমিল্লার
কাগজের সম্পাদক সাংবাদিক আবুল কাশেম হৃদয় বলেন, এতদিন আমরা দানবের রাজত্বে
আমরা বসবাস করেছি এবং দানবের দোসররা এখনো আছে। কুমিল্লা শিক্ষা সংস্কৃতির
পাদপীঠ। কিন্তু হৃদ্যতাপূর্ন সম্পর্ক নষ্ট হয়েছে গত ১৫ বছর। টাউনহলের
সম্পত্তি কিভাবে বেহাত হল সেই জবাবও দিতে হবে। টাউন হল মার্কেট ভাঙতে হবে,
না হয় মার্কেটের ভাড়া যেন টাউন হল পায় তা নিশ্চিত করতে হবে। সবাইকে সদস্য
হিসেবে নিতে হবে। পাঠাগার ডিজিটালাইজেশন করতে হবে। গঠনতন্ত্র সংশোধন করতে
হবে।
সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম বলেন, টাউন হলের মার্কেটসহ বিভিন্ন স্থাপনা
থেকে আয়ের হিসাব দিতে হবে। মাঠে যে হকাররা বসে তাদের কাছ থেকে আদায় করা
চাঁদা কোথায় যায় জানতে হবে।
সাংবাদিক শাহজাদা এমরান বলেন, টাউন হল
সুপার মার্কেটের কত টাকা ভাড়া আদায় হয়েছে তার জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করে ৭
দিনের মধ্যে প্রতিবেদন প্রকাশ। গত ১৬ বছর নতুন সদস্য নেয়া হয় নি, প্রকাশ্যে
ক্যাটাগরি অনুসারে সদস্য যাচাই করে নিতে হবে।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের
সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, অ্যাড হক কমিটিতে সরকারি
চাকরিজীবীদের কয়েকজন রাখতে হবে, যাদের দায়িত্ব হবে সদস্য দেয়া। টাউন হলের
মাঠ সবুজায়ন করতে হবে।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডি দক্ষিণ সভাপতি
বীর মুক্তিযোদ্ধা ওবায়দুল কবির মোহন বলেন, বিরোধীদলের কাউকে হল ভাড়া দেওয়া
হয়নি। চোরের দোসরদের বাদ দিতে হবে।
এডভোকেট গোলাম ফারুক বলেন, বাহার
মার্কেট নামটা কুমিল্লার জন্য কলংক। বইগুলো উদ্ধার করে পাঠাগার পুণঃসংস্কার
করা যায়। রামমালার বই কপি এবং বনেদী পরিবারের কাছ থেকে বই নিয়ে সংগ্রহ
বাড়ানো যেতে পারে।
এ্যাডভোকেট শহিদুল হক স্বপন বলেন, দখল এবং আধিপত্য
দিয়ে যে সামাজিক অবস্থান কুক্ষিগত করে রাখতে চায় তাহলে তা বেশি টিকে না।
পাঠাগার হবে গণ মানুষের পাঠাগার। রাজনৈতিক দল যার যার সামাজিক প্রতিষ্ঠান
হবে সবার- দায়িত্ব সবার নিতে হবে। গঠনতন্ত্র সংশোধন ও পাঠাগারে পাঠাভ্যাস
চালু করতে হবে।
বিএনপি নেতা আমিরুজ্জামান আমির বলেন, দুর্নীতির সাথে
জড়িত ছিলো তাদের ধরেন এবং শাস্তি দেন। আর আমরা যারা আবেদন করেছি তাদের কেউ
যেন বাদ না যায়, আমরা সকলে সহযোগিতা করবো।
জামায়াত নেতা সাবেক কাউন্সিলর
মোশাররফ হোসেন বলেন, অতীতের কুচক্রী মহলের বিচার হওয়া দরকার। সকল
রাজনৈতিক, সামাজিক ও ছাত্র জনতার প্রতিনিধিরা নতুন কমিটিতে থাকবেন বলে আাশা
করছি।
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বাক এডভোকেট আলী আক্কাস বলেন, ২০০৩ সালে
সদস্য হয়ে এই প্রথম আসলাম। দ্রুত সময়ের মধ্যে পাঠাগার সংস্কার করতে হবে।
৮০'র
দশকের ছাত্র নেতা শাহ মোহাম্মদ সেলিম বলেন, সবার জন্য দরজা খোলা রাখতে
হবে। পূর্ব কমিটি বাতিল এবং নতুন সদস্য নিতে হবে। তদন্ত কমিটি গঠন করুন।
দোষীদের আজীবনের জন্য বাতিল করুন। কুমিল্লাকে নতুন করে সাজানোর প্রক্রিয়া
টাউন হল সংস্কার দিয়ে শুরু হোক।
ব্যাংকার রেজওয়ানুর রহমান রেজা বলেন, সদস্য আইডি কার্ড লাগবে।
যুবদল নেতা সাজ্জাদুল কবির বলেন, আমরা খুশি টাউন হল উন্মুক্ত হয়েছে। কোন মামলা বা জিডি হয় নি। টাকা কোথায় গেল - বের করতে হবে।
বিএনপি
নেতা আতাউর রহমান ছুটি বলেন, সুশীল সমাজও ফ্যাসিবাদের দানবকে সহযোগিতা
করেছে, না হয় দানব তো দানব হতে পারতো না। বিশেষ প্রোফাইল দিয়ে ব্যক্তি দিয়ে
টাউন হল চলবে না। কমিটি বাদ অথবা যাচাই বাছাই করেন। নির্বাচনবিহীন ইসি
কমিটি বাদ দিতে হবে- সকল ইজারা বাতিল করতে হবে।