কুমিল্লার লাকসামে জামায়াতের কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৯ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গোবিন্দপুর ইউনিয়ন শাখার উদ্যোগে গোবিন্দপুর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও কুমিল্লা জেলা দক্ষিণ আমীর মুহাম্মদ শাহজাহান অ্যাডভোকেট বলেন, কুমিল্লা-৯ আসনে ডক্টর সৈয়দ সরোয়ার সিদ্দিকীকে জামায়াত প্রার্থী ঘোষণা করেছে। অন্য সকল দলের, সকল প্রার্থীর তুলনায় শিক্ষায়, মেধায়, যোগ্যতায়, নেতৃত্বে, সাংগঠনিক সফলতায় আমাদের প্রার্থীই সেরা ইনশাআল্লাহ। এখন থেকেই আমাদের প্রার্থীকে জয়ী করতে জামায়াতের কর্মীদের কাজ করতে হবে। যখনই নির্বাচন হয়, সকল কেন্দ্রে সর্বাধিক ভোটে জামায়াতের প্রার্থীকে বিজয়ী করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
তিনি বলেন, দেশ গভীর ষড়যন্ত্রের দিকে যাচ্ছে। এজন্য সকলকে সজাগ থাকতে হবে। একাত্তর সালে ভারত আমাদের অস্ত্র দিয়েছে, আশ্রয় দিয়েছে। বিনিময়ে তেপ্পান্নটি বছর ধরে এদেশের সম্পদ লুটেপুটে খেয়েছে। চব্বিশ সালে আমরা কারো সহযোগিতা ছাড়াই আল্লাহর রহমতে স্বাধীন হয়েছি। এ জাতি মাথা তুলে দাঁড়াবেই ইনশাআল্লাহ।
অ্যাডভোকেট শাহজাহান বলেন, জামায়াতের একজন কর্মীকে পাঁচটি গুণের অধিকারী হতে হয়। জামায়াতের কর্মীদের চেতনা হচ্ছে আকিমুদদ্বীন (দ্বীন কায়েম করা)। দ্বীন প্রতিষ্ঠার চেতনায় আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের অনুভূতি নিয়ে যে কাজের ময়দানে সদা সচেষ্ট থাকে সেই জামায়াতের কর্মী।
তিনি বলেন, আমরা এখলাসপূর্ণ দ্বীনি আন্দোলনের কর্মী হবো। আমাদের প্রথম পরিচয় আমরা আব্দুল্লাহ (আল্লাহর দাসত্ব করা), দ্বিতীয় দা-ই ইল্লাল্লাহ (কথা, কাজ, মননে, চাল-চলনে আল্লাহর দিকে ডাকা), তৃতীয় খোলাফাউল্লাহ (আল্লাহর প্রতিনিধিত্ব করা), চতুর্থ ফানাফিল্লাহ (আল্লাহর রাহে বিলীন হওয়া)।
কর্মী সম্মেলনে প্রধান বক্তা জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য, কুমিল্লা জেলা দক্ষিণ সেক্রেটারি ও কুমিল্লা-৯ লাকসাম-মনোহরগঞ্জ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যাপক ডঃ সৈয়দ একেএম সরওয়ার উদ্দিন সিদ্দিকী বলেন, পাঁচ তারিখের পট পরিবর্তনের পর জনগণের মাঝে যে জোয়ার এসেছে এতে বুঝা যাচ্ছে ইসলামী আন্দোলন বিশ বছর এগিয়ে গেছে।
তিনি বলেন, নব্বই ভাগ মুসলমানের এ দেশে ইসলাম কায়েমে বড় বাধা মুসলমানরাই; অন্য ধর্মের কেউ নয়। এদেশের সকল ভোট রাতে হয়নি। কিন্তু তারা ইসলামী দলকে ভোট দেননি। দেশের একান্ন ভাগ মুসলমান চাইলে এদেশে ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠা হবে ইনশাআল্লাহ।
ডঃ সরওয়ার বলেন, একজন মুসলমানের জন্য দ্বীন কায়েমের আন্দোলন করা ফরজ। জিহাদ যে 'ফরজ' মুসলিমরা তা ভুলতে বসেছে। ১৮৩১ সালে বালাকোটের অসম যুদ্ধে পরাজয়ের পর ইসলামী আন্দোলন হিমাগারে চলে যায়। দীর্ঘদিন পর আমাদের আলেম সমাজ বুঝতে পেরেছেন যে ইসলামী রাজনীতি হারাম নয়; বরং ফরজ।
গোবিন্দপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাওলানা ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও মাওলানা খলিলুর রহমানের পরিচালনায় কর্মী সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, কুমিল্লা জেলা দক্ষিণ সহ-সেক্রেটারি ডাঃ মোঃ আব্দুল মুবিন, লাকসাম পৌরসভা জামায়াতের আমীর মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন পাটোয়ারী, লাকসাম উপজেলা জামায়াতের আমীর হাফেজ জহিরুল ইসলাম, কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজন, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মুহাম্মদ জোবায়ের ফয়সাল, পৌরসভা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মুহাম্মদ শহিদ উল্যাহ, গোবিন্দপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ আবুল বাশার।
সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন, মৈশাতুয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মু. মহিউদ্দিন পৌরসভা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মোঃ আবুল হাশেম, মোঃ আব্দুর রহিম, লাকসাম শহর ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোঃ জাহিদুল ইসলাম প্রমুখ। সম্মেলনে ইউনিয়ন জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।